
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ছাত্র হল-২ এ চালু হয়েছে হল ফি পরিশোধের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর ফলে এখন থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে হলের মাসিক ও আনুষঙ্গিক ফি পরিশোধ করতে পারবেন। পাশাপাশি, আসন্ন দুর্গাপূজার ছুটির পর হলের ডাইনিং ব্যবস্থাপনাকেও অটোমেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আলাল হোসেনের নির্দেশনায় হলটিতে পোর্টাল উদ্বোধনের পর এ দিন শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। উদ্বোধন করেন হলটির সহকারী প্রভোস্ট প্রভাষক মো. জুনায়েদ হোসেন ও প্রভাষক রেদওয়ানুল হক। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। একজন শিক্ষার্থীর মাসিক হল ফি পরিশোধের মাধ্যমে ব্যবস্থাটির বাস্তবিক কার্যকারিতা সফলভাবে পরীক্ষা করা হয় এবং তা ব্যবহারের জন্য সচল করা হয়েছে।
নতুন এ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা ‘রুয়েট স্টুডেন্ট পোর্টাল’ (https://www.students.ruet.ac.bd) এ প্রবেশ করে হল ফি পরিশোধের সেবা নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে হল ফি প্রদানের প্রচলিত প্রক্রিয়ার পরিবর্তে অনলাইন ভিত্তিক সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হলো।
সার্বিক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আলাল হোসেন বলেন, রুয়েট প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করছে। এরই অংশ হিসেবে মেল হল-২ তে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে হল ফি পরিশোধ করতে পারবে। পরের পদক্ষেপে পূজার ছুটির পর ডাইনিং পরিচালনাকে অটোমেশনে আনার পরিকল্পনা করেছি আমরা। পুরো ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষার্থীরা ঝামেলা ছাড়াই নিজ কক্ষ থেকেই হলের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবে। পাইলটিং এ কিছু ত্রুটি দেখা দিলেও দ্রুতই তা সমাধান করে ব্যবস্থাটি আরও শিক্ষার্থী বান্ধব করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে যারা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডাইনিং ব্যবস্থাপনা অটোমেশনের আওতায় এলে খাবারের টোকেন সংগ্রহ ও খাবার গ্রহণের সময় টোকেন প্রদর্শন—দুই প্রক্রিয়াই সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এতে ডাইনিং পরিচালনা ও হিসাব সংরক্ষণ আরও সুশৃঙ্খল করার পাশাপাশি ম্যানুয়াল পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট রুয়েটে ‘ইন্টিগ্রেটেড হল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ উদ্বোধন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক সফটওয়্যারটির উদ্বোধন করেন। এ সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় হলের ফি প্রদান, বকেয়া ব্যবস্থাপনা, ডাইনিং, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কর্মচারীদের বেতন, সিট বরাদ্দ, অভিযোগ ও নোটিশসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সফটওয়্যারটির উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে এবং দপ্তরটির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি দল কাজ করছে। ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক সহকারী অধ্যাপক আবু ইসমাঈল সিদ্দিকী সাইফের নেতৃত্বে দলটি এ কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। এর আগে আরও কয়েকটি হলে এ ব্যবস্থার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। এবার ছাত্র হল-২ এ ডিজিটাল পেমেন্ট চালুর মাধ্যমে উদ্যোগটির পরিধি আরও বিস্তৃত হলো।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে বাকি আবাসিক হল গুলোতেও সমন্বিত হল ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি হলের অন্যান্য সেবাও দ্রুত অটোমেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আবাসিক হলগুলোর প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সেবার মান বাড়বে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আরটিভি/এমএম


