ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

তিন মাস ধরে বেতনহীন বুটেক্সের আউটসোর্সিং কর্মীরা

বুটেক্স সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ৪৯ জন কর্মী তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া ও সরকারি নীতিগত পরিবর্তনের কারণে বেতন পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বেতন না পেয়ে ঋণ করে সংসার চালাচ্ছেন অনেক কর্মী। আসন্ন পূজার আগে বকেয়া বেতন পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সামাইরা জবস ব্রিজ লিমিটেড ও আল মোমেন আউটসোর্সিং লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে এসব কর্মী কাজ করছিলেন। তাদের মধ্যে নিরাপত্তারক্ষী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন। আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে তারা দাবি করে। তবে বেতন পরিশোধের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত পাননি কর্মীরা।

সামাইরা জবস ব্রিজ লিমিটেডের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২টি পৃথক চুক্তির অধীনে মোট ১৪ জন কর্মী কাজ করছিলেন। এর মধ্যে একটি চুক্তির মেয়াদ গতবছর জুনে শেষ হয় যার অধীনে ৫ জন কর্মী ছিল। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এক বছরের বেতন নিজস্ব অর্থায়নে পরিশোধ করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় সেই বিল এখনো পরিশোধ করেনি। বাকি ৯ জন কর্মীর ক্ষেত্রে চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের জুনে শেষ হয়।

অন্যদিকে সামাইরা জবস ব্রিজ লিমিটেডের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তির অধীনে মোট ৩৫ জন কর্মী কাজ করছিলেন যেটার মেয়াদ চলতি বছরের জুনে শেষ হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা নীতিমালা, ২০২৫ এর সংশোধিত অনুচ্ছেদ ৫ এর (খ) (২) অনুযায়ী, “সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক সেবা ক্রয়কারী মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দপ্তরসমূহ সরাসরি ব্যক্তির সেবা ক্রয় করতে পারবে। এছাড়াও অর্থ বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত কোন বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠান হতেও সেবা ক্রয় করা যাবে। এছাড়া নতুন সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা ক্রয় করা যাবে না। তবে ইতোমধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পাদিত চুক্তির অধীনে ক্রয়কৃত সেবার মেয়াদ চুক্তির মেয়াদকাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।”

বেতন বন্ধ থাকায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন কর্মীরা। জিএমএজি ওসমানী হলের গেটে দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারী মো. শফিউল বাশার বলেন, “তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না, এখন চতুর্থ মাস চলছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, ইউজিসির চিঠি এলেই বেতন দেওয়া হবে। কিন্তু এভাবে আর কত দিন চলব, বুঝতে পারছি না। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বাসায়ও সবকিছু খুলে বলতে পারি না। কীভাবে চলছি, সেই কষ্ট কাউকে বোঝানোও কঠিন। সব মিলিয়ে খুব সমস্যার মধ্যে পড়ে গেছি।”

একই দায়িত্বে থাকা কর্মী শুভাস সরকার বলেন, “টাকার অভাবে পরিবার নিয়ে বিভিন্ন পূজা-পার্বণ ও অনুষ্ঠানেও থাকতে পারিনি। সামনে আবার পূজার ছুটি, কিন্তু বাড়ি যাব কীভাবে, সেই চিন্তায় আছি। পরিবারকে কীভাবে বোঝাব যে বেতন না পাওয়ায় বাড়ি যেতে পারছি না? সব মিলিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে আমাদের।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তারক্ষী বলেন, “১৫ দিন আগেও আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে বেতন দেওয়া হবে। কিন্তু এখনো বেতন পাইনি। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলো চুক্তি নবায়নের বিষয়ে বারবার আকবর স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি বলে আমাদের মনে হয়েছে। বিভিন্ন অজুহাতে চুক্তি নবায়নের বিষয়টি ঝুলে ছিল।”

ওই নিরাপত্তারক্ষী আরও বলেন, “ইউনূস সরকারের সময় বৈশাখী ভাতাসহ আরও কিছু ভাতা পাওয়ার কথা থাকলেও আমরা সেগুলো পাইনি। আমরা কাজ করছি, অথচ তিন-চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। এখন সরকারি নিয়মের কথা বলে আমাদের বেতন আটকে রাখা হচ্ছে। তাহলে ভাতার ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি কেন?”

চুক্তি নবায়ন না করার বিষয়ে সামাইরা জবস ব্রিজ লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্তের কথা প্রতিষ্ঠানটিকে আগেই জানানো হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তাদের জানিয়েছিলেন, আগের পদ্ধতিতে চুক্তি নবায়ন না করে সরাসরি দরপত্রের মাধ্যমে সেবা নেওয়া হতে পারে। একারণে পরবর্তী চুক্তি নবায়নের জন্য তারা আর আবেদন করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অ্যান্ড সিকিউরিটি অফিসের স্টেট অফিসার মো. বাবুল আক্তার বলেন, “আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ৪৯ জন কর্মীর বেতন গত তিন থেকে চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। তাদের মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দুই বছর মেয়াদি চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া ২৫ জন নিরাপত্তারক্ষীর চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের জুনে শেষ হয়েছে। সরকারি নীতিগত পরিবর্তনের কারণে আগের আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে বেতন পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখনো সমাধান হয়নি।” কর্মীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিকভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “কর্মীদের বেতন পরিশোধে সরকারি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনো তহবিল থেকে অর্থ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পূজার ছুটির আগে বা ছুটির মধ্যে অন্তত একটি বিল পরিশোধের চেষ্টা চলছে, যাতে কর্মীরা পূজা ভালোভাবে কাটাতে পারেন। তবে পরবর্তী বিলগুলো কবে পরিশোধ করা যাবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত জানাবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ মো. মামুন কবির বলেন, “বর্তমানে কর্মরত কর্মীদের বেতন তৃতীয় পক্ষের পরিবর্তে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে কর্মীদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে সাময়িকভাবে অর্থ দিয়ে কর্মীদের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব কি না, জানতে চাইলে অধ্যাপক শেখ মো. মামুন কবির বলেন, “নির্দিষ্ট খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ নেই। এতে নিরীক্ষার সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বেরোবিতে ‘জার্নাল অব লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস’-এর মোড়ক উন্মোচন
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে ‘জার্নাল অব লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস (ভলিউম ২, ডিসেম্বর ২০২৪)’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সিন্ডিকেট সভাকক্ষে আয়োজিত মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোছা. সিফাত রুমানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষদ ও বিভাগে গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে এবং নিয়মিত জার্নাল প্রকাশনা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু অভ্যন্তরীণ প্রকাশনা নয়, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে গুণগত গবেষণা ও সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে গবেষকদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। তিস্তা অববাহিকার জীবিকা ও পরিবেশগত বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার বিশেষ সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ধরনের উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোছা. সিফাত রুমানা অনুষদের গবেষণা কার্যক্রম আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। আলোচনা শেষে অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে জার্নালটির মোড়ক উন্মোচন করেন। আরটিভি/টিআর
বেরোবিতে ‘জার্নাল অব লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস’-এর মোড়ক উন্মোচন
বেরোবিতে ‘অ্যাডভান্সড রিসার্চ মেথোডোলজি’ শীর্ষক কর্মশালা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ‘ওয়ার্কশপ অন অ্যাডভান্সড রিসার্চ মেথোডোলজি’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এ কর্মশালার আয়োজন করে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। এ ছাড়া কি-নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বেরোবি আইকিউএসি-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম। কর্মশালায় গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত গবেষণাপদ্ধতি, কৌশল এবং আধুনিক মানদণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় আইকিউএসি-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. আবদুর রাকিব এবং ড. মো. সজিব মিয়া উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
বেরোবিতে ‘অ্যাডভান্সড রিসার্চ মেথোডোলজি’ শীর্ষক কর্মশালা
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রভাবশালী মহলের প্রভাব খাটিয়ে মানহীন কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার (৪ নভেম্বর) বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিইনি। এতে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে চাপ আসছে। কিন্তু মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কাউকে মেডিকেল কলেজ করতে দেওয়া হবে না। হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল কলেজ হবে আর রোগী না দেখে কেউ চিকিৎসক হয়ে যাবে, এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না। দেশে চিকিৎসা শিক্ষার বৈষম্য ও ভৌগোলিক অসম বণ্টন তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজই ঢাকা বিভাগে পুঞ্জীভূত। অথচ বাকি সাতটি বিভাগে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট। সংসদ বা রাজনৈতিক বক্তৃতায় যখন-তখন নিজ জেলা বা উপজেলায় মেডিকেল কলেজ চাওয়ার মতো জনপ্রিয় হওয়ার প্রবণতা পরিহার করে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের নিয়ম মেনে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন না করলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়বে। চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও আস্থা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এখন বাধ্যতামূলক। বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সম্প্রতি বিদেশ থেকে পাস করে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছেন। সন্তানদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান যাচাই করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আরটিভি/টিআর
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
যবিপ্রবিতে তারিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। যশোরে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ, তা বাস্তবে রূপ দিতে স্থান নির্বাচন, আইনি জটিলতা নিরসন এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যবিপ্রবির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দোয়া মাহফিলে ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীরা এবং বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশনের (বাআজাকফ) কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. জসীম উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিলে মরহুম তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। আরটিভি/টিআর
যবিপ্রবিতে তারিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
রাবিতে চার দিনব্যাপী পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী চতুর্থ ‘পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। কেক কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অনুষ্ঠানে পর্যটন, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় খাবারের সমন্বয়ে নানা আয়োজন রাখা হয়েছে। মেলায় রয়েছে বাহারি খাবারের স্টল, দেশীয় হস্তশিল্প, উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন উদ্যোগ ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে মেলা চলবে। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলকাপ, গম্ভীরা, সংগীতানুষ্ঠান এবং আরইউ ড্যান্স ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনা থাকছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মোনতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ‘পর্যটন বিভাগে কেউ বেকার থাকে না। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা বিকাশের সুযোগ করে দেয়। ট্যুর গাইড, মেন্টর, ট্যুর অপারেটর ও হসপিটালিটি অপারেটর হিসেবে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগে ট্যুরিজম বোর্ড সব সময় পাশে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটনশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি সেসব স্থানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে হবে। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর প্রচারের মাধ্যমে এ খাতের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব।’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের দক্ষতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ পায়। পাশাপাশি দেশের পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ একটি দেশ। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও শিক্ষা, গবেষণা ও বাস্তবমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে পর্যটনশিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখতে চায়। আমি আশা করি, শিক্ষার্থীরা অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে অবদান রাখবে।’ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষ ট্যুর গাইড, ট্যুর অপারেটর, হসপিটালিটি ব্যবস্থাপক ও পর্যটন উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং নিজেদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা দিয়ে এ খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখেই বিভাগটি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।’ এ সময় মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম এবং কোষাধ্যক্ষ (অব.) অধ্যাপক মতিয়ার রহমান। আরটিভি/টিআর
রাবিতে চার দিনব্যাপী পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন
আরও পড়ুন
চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ পেলেন বুটেক্সের পাঁচ শিক্ষার্থী
বুটেক্সের আন্ত:বিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন টিএমডিএম
বুটেক্সে গ্রাফিতি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
বুটেক্সে অনুষ্ঠিত হলো আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টেক্সটাইল উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা ‘টেক্সভার্স ২.০’