ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

৪৪তম বিসিএসে আনসার, ৪৫তমে পুলিশ ক্যাডার হয়েও গেজেটে বাদ রাবি শিক্ষার্থী নূরে আলম

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. নূরে আলম। ছবি: আরটিভি

৪৪তম বিসিএসে আনসার ক্যাডারে গেজেটভুক্ত হলেও ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারের চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন বলে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. নূরে আলম।

সম্প্রতি ৪৫ তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশ হওয়ার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্টাটাসে কেন তাকে চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে কী তথ্য উঠে এসেছে এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ কেন পাননি—এসব প্রশ্ন তুলেন।

মো. নুরে আলম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্ট্যাটাসে নূরে আলম লিখেছেন, ‘৪৪তম বিসিএসে আনসার ক্যাডারে গেজেটভুক্ত হলাম, অথচ ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়লাম! প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পরও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন কী তথ্য উঠে এল, যার কারণে আমাকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হলো? কী এমন তথ্য ছিল, যা আমাকে রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করার কারণ হয়ে দাঁড়াল? হয়তো গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আমাকে ছাত্রলীগের অনেক বড় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে!

তিনি লেখেন, কলেজে পড়ার সময় দেশে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তুমুল আন্দোলন চলছিল। ২০-দলীয় জোট একের পর এক কর্মসূচি পালন করছিল। তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোটাধিকারের দাবিতে বর্তমান সরকারের কৃষিমন্ত্রী হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসিন ভাইয়ের নেতৃত্বে শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড, কান্দিরপাড় ও পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে নয়া পল্টনেও গিয়েছি। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রীর বক্তব্য পল্টনে খুব কাছ থেকে শোনার সুযোগ হয়েছিল। সেই সময়ের আন্দোলনের অনেক সহযোদ্ধা এখনো আমার ফেসবুক বন্ধুদের তালিকায় রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আবাসিক হলে থেকেছি। হলে থাকার কারণে ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিতে হয়েছে। তৎকালীন ক্যাম্পাসের বাস্তবতা সম্পর্কে যারা অবগত, তারা নিশ্চয়ই বিষয়টি জানেন। ক্যাম্পাসে কিংবা আবাসিক হলে কারও সঙ্গে কখনো উচ্চস্বরে কথা বলেছি—এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ আজ আমাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন আমি ছাত্রলীগের অনেক বড় কোনো নেতা! অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও ১৬ জুলাই থেকে অংশগ্রহণ করেছি। সেই আন্দোলনে আমার অংশগ্রহণের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক সচেতনতা অর্জনের পর থেকে আমি সব সময় গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মানুষের ভোটাধিকারের পক্ষে থাকার চেষ্টা করেছি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলাম। ভেবেছিলাম, এবার হয়তো পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন হবে। কিন্তু আজও যদি সেই পুরোনো ধারারই পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে পরিবর্তনের প্রকৃত অর্থ কোথায়?

তিনি লেখেন, “আমি জানি না, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কেন আমাকে ৪৫তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারের গেজেট থেকে বাদ দিল। আমার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ঠিক কী তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, কিংবা কোন যুক্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—তা আমার জানা নেই। যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তবে সেই অভিযোগ সম্পর্কে জানার এবং তার জবাব দেওয়ার সুযোগ কি আমার প্রাপ্য নয়? প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পরও আমাকে কেন এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হলো, যাকে রাষ্ট্রের জন্য হুমকি মনে করা হতে পারে? আমার অপরাধটা ঠিক কোথায়? কার কাছে চাইব এই প্রশ্নগুলোর উত্তর?”

তিনি আরও বলেন, “আমি কারও প্রতি বিদ্বেষ ছড়াতে চাই না। শুধু জানতে চাই, আমার বিরুদ্ধে কী তথ্য ছিল, কী মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হলো এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ কেন পেলাম না। আমি প্রতিশোধ চাই না, চাই প্রশ্নের উত্তর। আমি বিশেষ কোনো সুবিধা চাই না, চাই ন্যায়সংগত মূল্যায়ন। ধন্যবাদ সরকারের নীতিনির্ধারকদের। আশা করি, রাষ্ট্রের একজন নাগরিক ও প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার মতো দায়িত্বশীল কেউ থাকবেন।”

জানতে চাইলে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক মো. নূরে আলম আরটিভিকে বলেন,'আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। কোন মামলা নেই। এক বিসিএসে গেজেটেড অন্য বিসিএসে বাদ দেয়া হয়েছে। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্বে ছিলাম। কোটা বিরোধী আন্দোলন করেছি। জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ছিলাম। এছাড়াও একটি সরকারী চাকরীতে কর্মরত আছি তারপরও আমাকে বাদ দেওয়া হলো।’

উল্লেখ্য, গতকাল ১৪ অক্টোবর ৪৫তম বিসিএসে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এর মধ্যে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেটের তালিকা থেকে বাদ পড়েন ১০৫ জন। ২ হাজার ৩০৯টি শূন্য পদের বিপরীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বরে ৪৫ বিসিএসের সার্কুলার প্রকাশ করেছিল। সেসময় চলমান জটের কারনে তিন ধাপের; প্রিলিমিনারি, লিখিত, মৌখিক পরীক্ষা শেষ হতে সময় লেগে যায় ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত। পরে গত বছরের ৬ নভেম্বর ক্যাডার পদে মোট ১ হাজার ৮০৭ জনকে সাময়িকভাবে সুপারিশ করে ফলাফল প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। এদের মধ্যে বুধবার ১ হাজার ৭০২ জনের গেজেট প্রকাশ করে সরকার।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি অটুট রাখতে জবিতে গরু সঙ্গে কেনা হল খাসিও
হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার বার্তা দিতে গরুর পাশাপাশি খাসিও কিনেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। 
হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি অটুট রাখতে জবিতে গরু সঙ্গে কেনা হল খাসিও
মাভাবিপ্রবিতে ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্পে বিনামূল্যে ৩০০ পশুর চিকিৎসা
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) বিনামূল্যে পশু চিকিৎসা ও টিকাদান ক্যাম্পে প্রায় ৩০০ পশুকে সেবা দেওয়া হয়েছে।
মাভাবিপ্রবিতে ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্পে বিনামূল্যে ৩০০ পশুর চিকিৎসা
অধ্যক্ষ সম্মেলন ২৯ নভেম্বর, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ২ হাজার ৩১৮টি কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে আগামী ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘অধ্যক্ষ সম্মেলন-২০২৬’। রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামের এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অধ্যক্ষ সম্মেলন ২৯ নভেম্বর, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী
রাবির আইন বিভাগের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ৩০ অক্টোবর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন। আগামী ৩০ ও ৩১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ো সিনেট ভবনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
রাবির আইন বিভাগের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ৩০ অক্টোবর
যোগদান না করেই ফিরে গেলেন জামালপুর নার্সিং কলেজের নতুন অধ্যক্ষ
জামালপুরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কলেজে যোগদান করতে পারেননি জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ মাকসুদা ইয়াসমিন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয়সংলগ্ন জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, অধ্যক্ষ মাকসুদা ইয়াসমিন দীর্ঘদিন শেরপুর নার্সিং কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অগণতান্ত্রিক বিচার, শিক্ষার্থীদের হুমকি প্রদানসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। পরে শেরপুর নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। শেরপুর নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের টানা এক মাসের আন্দোলনের পর গত ১২ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাকসুদা ইয়াসমিনকে শেরপুর নার্সিং কলেজ থেকে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে যোগদানের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষার্থীরা তার যোগদানের প্রজ্ঞাপন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কলেজের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাকসুদা ইয়াসমিন জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে যোগদান করতে আসেন। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে দেখে ‘ভুয়া’, ‘দুর্নীতিবাজ’, ‘লোভী’, ‘ধান্দাবাজ’, ‘মিথ্যাবাদী’ ও ‘ফ্যাসিস্ট’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি তাকে কলেজে প্রবেশে বাধা দেন তারা। শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে দীর্ঘ সময় কলেজের সামনে অবস্থান করতে হয় মাকসুদা ইয়াসমিনকে। পরে দুপুর ২টার দিকে কলেজে প্রবেশ করতে না পেরে গেট থেকেই ফিরে যান তিনি। এ বিষয়ে জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এখন তার বদলির বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। আরটিভি/টিআর
যোগদান না করেই ফিরে গেলেন জামালপুর নার্সিং কলেজের নতুন অধ্যক্ষ
আরও পড়ুন
রাবির আইন বিভাগের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ৩০ অক্টোবর
ক্যাম্পাসে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
মাদরাসায় মামাকে দিয়ে প্রক্সি ক্লাস করান জীবন, নেন অর্ধেক বেতন
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: চিহ্নিত হলেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ