ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

জবির সমাবর্তন ফি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

জবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনে স্নাতক পর্যায়ে নিবন্ধন ফি প্রায় ৬৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। স্নাতক ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর সঙ্গে মূল সনদের জন্য ৫০০ টাকা যুক্ত হওয়ায় একজন স্নাতককে দিতে হবে ৫ হাজার ৫০০ টাকা।

ফি বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ফি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, বাড়তি খরচের কারণে চাকরিপ্রত্যাশী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল অনেক শিক্ষার্থী সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এ অবস্থায় ফি কমানোর দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, স্নাতকোত্তর ও এমবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৪ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের ক্ষেত্রে ফি ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৫০০ টাকা। আর প্রফেশনাল প্রোগ্রামের অংশগ্রহণকারীদের নিবন্ধন ফি ৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি শ্রেণিতেই নিবন্ধন ফি বেড়েছে ২ হাজার টাকা। নিবন্ধন ফির বাইরে সনদ ফি ও প্রযোজ্য সার্ভিস চার্জও দিতে হবে।

ফি বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা দেখা যায়। তাদের অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে কি না। বিশেষ করে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির অপেক্ষায় থাকা স্নাতকদের জন্য এ ব্যয় বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। একইসঙ্গে নিয়মিত ও প্রফেশনাল প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

ফি বৃদ্ধির সমালোচনা করে জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ তার ফেসবুক পোস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ফির সঙ্গে জবির ফির তুলনা করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে, জবিতে সনদ ফিসহ স্নাতক পর্যায়ে ৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৬ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি জানানোর পরও প্রশাসন ফি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করবে কি না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে ফি শিক্ষার্থীবান্ধব পর্যায়ে নির্ধারণের আহ্বান জানান জকসুর জিএস।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল ইসলাম আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফি নির্ধারণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চান, সমাবর্তনে অংশ নিতে ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের ভিত্তি কী। অন্যদিকে, জকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা এ আয়োজনকে ‘এলিট সমাবর্তন’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, সমাবর্তনের আয়োজন করতে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আর্থিক বাস্তবতা উপেক্ষা করা হচ্ছে।

ফি বৃদ্ধির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন বলেছেন, প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এবার অনুষ্ঠান আয়োজনের সার্বিক ব্যয় বেড়েছে। বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি সমাবর্তনের গাউন ও অন্যান্য পোশাকের খরচও বেড়েছে। তার ভাষ্য, সফলভাবে সমাবর্তন আয়োজন করতে হলে এসব ব্যয় বিবেচনায় নিতে হয়। শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক চাপের বিষয়টি স্বীকার করে উপাচার্য বলেন, ফি কম রাখা গেলে ভালো হতো, তবে প্রশাসনিক ব্যয়ের কারণে এ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীদের একাডেমিক গাউন ও পোশাক তাদের দিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই উপলক্ষে গত ১৫ অক্টোবর থেকে অনলাইন নিবন্ধন শুরু হয়েছে, যা চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সরকারি ছুটিতেও কবি নজরুল কলেজের উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান
সরকারি ছুটির দিনেও কবি নজরুল সরকারি কলেজের চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের অগ্রগতি দেখতে কলেজে এসে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
সরকারি ছুটিতেও কবি নজরুল কলেজের উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান
রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি স্থগিত
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঁচ দফা দাবিতে চলমান ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে এ সিদ্ধান্ত নেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি স্থগিত
পাঠদান ও গবেষণা তথ্য পেতে রুয়েট শিক্ষার্থীর উদ্যোগ ‘ফ্যাকাল্টি রিভিউ’
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণার ক্ষেত্র ও অর্জন সম্পর্কে তথ্য এক জায়গায় পাওয়া এবং পাঠদান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে।
পাঠদান ও গবেষণা তথ্য পেতে রুয়েট শিক্ষার্থীর উদ্যোগ ‘ফ্যাকাল্টি রিভিউ’
মাভাবিপ্রবি দিবসে থাকছে দিনব্যাপী নানা আয়োজন
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) আগামী ২৭ অক্টোবর ‘মাভাবিপ্রবি দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এবারের আয়োজনে শিক্ষা-গবেষণার উৎকর্ষ, উদ্ভাবন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাভাবিপ্রবি দিবসে থাকছে দিনব্যাপী নানা আয়োজন
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ পেরিয়ে সুস্থতার পথে বাকৃবি শিক্ষার্থী জীম
গত ১ মার্চ ভারতের ট্রেনযাত্রায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী তানিউল করিম জীম। এরপর দেশে ও বিদেশে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দীর্ঘদিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ সাত মাস ধরে তার সুস্থতা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তবে বর্তমানে কথা বলা, মুখ দিয়ে খাবার খাওয়া ও দাঁড়ানোর সক্ষমতা ফিরে পাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতিতে স্বস্তি ফিরেছে স্বজনদের মধ্যে। বর্তমানে নাটোরে পরিবারের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন জীম। পরিবারের সদস্যরাই তাঁর দেখাশোনা করছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি চাচার চিকিৎসার জন্য তার সঙ্গে মেডিকেল ভিসায় ভারতে যান জীম। চিকিৎসা শেষে ১ মার্চ বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় ফেরার পথে ট্রেনের ভেতর নিখোঁজ হন তিনি। প্রায় ১২ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর ট্রেনের শৌচাগার থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে ট্রেনটি কলকাতায় পৌঁছালে তাকে প্রথমে হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় তার মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ধরা পড়ে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কলকাতার মণিপাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার পর প্রথমে পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয়। এ সময় তার সুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগে ছিলেন পরিবারের সদস্য, সহপাঠী, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি জানিয়ে জীম বলেন, এখন আমি কথা বলতে পারি। কিন্তু কথায় জড়তা আছে। আমি এখন মুখ দিয়ে খাবার খেতে পারি। নাক-মুখ দিয়ে নিশ্বাস নিতে পারি। একজন ধরলে দাঁড়াতে পারি। সবই নাড়াতে পারি। কিন্তু শক্তি কম। ডান দিকের চেয়ে বাম দিকে শক্তি কিছুটা বেশি। ডান দিক কিছুটা দুর্বল। আগের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে গলায় ট্র্যাকিওস্টমি ছিল। ট্র্যাকিওস্টমি দিয়ে নিশ্বাস নিতাম। নাকে নল দিয়ে খাবার খেতাম। কিছুই নাড়াতে পারতাম না। দাঁড়াতে পারতাম না, কথা বলতে পারতাম না। শক্তি ছিল না বললেই চলে। জীমের সুস্থতার জন্য শুরু থেকেই দোয়া ও সহযোগিতা করে আসছেন তার বন্ধু, সহপাঠী, সাংবাদিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আমার পরিস্থিতি শোনার পর সবাই দোয়া করেছেন। বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আবারও সবার মাঝে ফিরে যেতে পারি, এ জন্য দোয়া চাই। তানিউল করিম জীম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জ্যেষ্ঠ সদস্য। তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জীম বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের থিসিস শিক্ষার্থী। আরটিভি/টিআর
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ পেরিয়ে সুস্থতার পথে বাকৃবি শিক্ষার্থী জীম
আরও পড়ুন
এক বছরেও শুরু হয়নি ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হত্যার বিচার
জবিতে জিমনেসিয়ামের জন্য জায়গা বরাদ্দ, সরঞ্জাম কিনবে জকসু
রাজধানীর মাতুয়াইলের গ্যারেজে জবির বাসে আগুন
জবিতে পশু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে গরু জবাইয়ের ঘোষণা