ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ইবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন অবশ্যই দিতে হবে: এস এম ফরহাদ

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
এস এম ফরহাদ : ছবি আরটিভি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বলেছেন, ডাকসু, রাকসু, জাকসু ও জকসুর মেয়াদ শেষ হলো, কিন্তু তফসিল দেওয়া হচ্ছে না। কারণ, তারা জানে, তাদের চাঁদাবাজ বাহিনী, তাদের রক্ষীবাহিনী এই নির্বাচনে আগের মতো গোহারা হারবে। সুতরাং, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কমিটমেন্ট নিতে হবে যে, ক্ষমতায় যে-ই থাকুক বা না থাকুক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অবশ্যই দিতে হবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ছাত্র সংসদগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার বিষয়ে এস এম ফরহাদ বলেন, হয় ডাকসু, রাকসু, জাকসু ও জকসু নির্বাচন দেবেন, নয়তো ক্ষমতা ছাড়ার পথ নিজ দায়িত্বে বেছে নেবেন। যেকোনো একটি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নষ্ট করে, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে সংসদে গণতন্ত্রের বয়ান দেবেন—এ বক্তব্য আমরা মেনে নেব না।

সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, সরকার দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তার প্রথম কয়েকটি ধাপে তারা ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ বিসিএসে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু চাকসু, জাকসু, ডাকসু ও রাকসু যখন রাস্তায় নেমেছে, তখন তারা সেখান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা পাঁয়তারা করছে, কীভাবে নানা কারিকুলামের মাধ্যমে সেখানে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, এখানকার ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতেই হবে। বিএনপি ১৯৯০ সালে ক্ষমতায় এসে পাঁচ বছর বাংলাদেশে কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়নি। কেন দেয়নি? কারণ, তারা শিক্ষার্থীদের ভোটকে ভয় পায়। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ভোটকে তারা ভয় পায়, তরুণ প্রজন্মের ভোটকে তারা ভয় পায়।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি আবু সাদিক কায়েম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি, ঢাকা ৪-এর এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবু মুসা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
খুবিতে র‍্যাগিং, মারপিট ও মাদকের দায়ে ৩০ শিক্ষার্থীর শাস্তি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) র‍্যাগিং, মারধর, হয়রানি ও মাদকসেবনের অভিযোগে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ৩০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
খুবিতে র‍্যাগিং, মারপিট ও মাদকের দায়ে ৩০ শিক্ষার্থীর শাস্তি
১০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছে সমাবর্তন ‘শুধুই গল্প’
প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে ২১ বছরে পদার্পণ করেছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘ এই পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র একবার।
১০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছে সমাবর্তন ‘শুধুই গল্প’
শিক্ষাঙ্গনগুলো জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত হোক: ডা. শফিকুর
বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতে শিক্ষাঙ্গনগুলো গণরুম, গেস্টরুম কালচার ও অপসংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলো জ্ঞান চর্চা এবং গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত হোক। আমরা এগুলাকে স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে চাই। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে আয়োজিত পথসভায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে আমির বলেন, আগস্টের পর বাংলাদেশের পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। তার ধারে কাছেও অন্যরা আসতে পারে নাই। ​কেন ছাত্রশিবিরকে এতো ভালোবাসে ছাত্রজনতা? তার একমাত্র কারণ হচ্ছে— ছাত্রশিবিরের জ্ঞানকে, শিক্ষাকে, প্রজ্ঞাকে সম্মান করে। ইবিতে নির্বাচনে হলে কি চিত্র হতো? নিশ্চয় একই চিত্র দেখা যেত। ষড়যন্ত্র করে এখানে নির্বাচন দেওয়া হয়নি। ডা. শফিকুর বলেন,​যে সমস্ত জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন হয়েছে, সব জায়গা থেকে সারা জীবনের জন্য গণরুম বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। ​এখন ছাত্র-ছাত্রীরা শান্তিতে, মেধার ভিত্তিতে— তারা হলে সম্মানের সহিত নিরাপত্তা ও গৌরবের সাথে থাকতে পারে। এখন তারা লেখাপড়ায় মনোযোগ দেয়, কারণ মিছিলে যাইতে কাউকে বাধ্য করা হয় না। শফিকুর রহমান বলেন, সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাই যেখানে সুশিক্ষা হাতে নিয়ে আমাদের সন্তানেরা একদিন এক মুহূর্তও বেকারের দুঃখ বুঝবে না, বরঞ্চ দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করবে— সেই শিক্ষাটাই আমরা আমাদের সন্তানদেরকে দিতে চাই।​যারা এটা চায় না, তারাই গণভোটের পুনরাবৃত্তি মানতেও চায় না। অন্যায় ও আধিপত্যবাদের কাছে তারা কখনো মাথা নত করবেন না এবং মাথা সোজা করেই এ জাতি সামনে এগিয়ে দাঁড়াবে। আরটিভি/এসআর  
শিক্ষাঙ্গনগুলো জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত হোক: ডা. শফিকুর
কুবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) রসায়ন বিভাগের সহযোগী সংগঠন ‘রসায়ন সমিতি’র উদ্যোগে ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের প্রার্থমিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কুমিল্লা অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।  শিক্ষার্থীদের রসায়নবিষয়ক জ্ঞান বৃদ্ধি, এ বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি এবং মেধার বিকাশে এ ধরনের আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়।  জানা যায়, প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা অঞ্চল থেকে মোট ৬৮০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। তাদের মধ্যে ৬৩৮ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। প্রাথমিক পর্বের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রমে প্রথম থেকে দশম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। আগামী ২৮ নভেম্বর ২০২৬ (শনিবার) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাথমিক পর্বে নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ পর্বে অংশগ্রহণ করবে। অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ কে এম রায়হান উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুবির রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অলিম্পিয়াডের সদস্যসচিব সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। অলিম্পিয়াডে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থী মোন্তাছির ভূঁইয়া বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কখনোই পড়াশোনায় প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় হওয়ার মতো অবস্থানে ছিলাম না। নিজেকে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী মনে করি। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময় ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থীদের ভালো করার সম্ভাবনাই বেশি মনে হয়েছিল। নিজের অবস্থান নিয়ে খুব বেশি প্রত্যাশা ছিল না। কিন্তু ফলাফলে দ্বিতীয় হওয়ার পর অনুভূতিটা ছিল অসাধারণ। বাবা-মাকে যখন বিষয়টি জানাই, তখন আবেগ ধরে রাখতে পারিনি।’ অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘রসায়ন শুধু ল্যাবের বিভিন্ন বিক্রিয়া বা পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের সঙ্গে রসায়ন জড়িত। সকালে আমরা যে খাবার খেয়ে থাকি, তার উপাদান থেকে শুরু করে সুস্থ থাকার জন্য কী পরিমাণ খাবার গ্রহণ করা উচিত, সবকিছুতেই রসায়নের ভূমিকা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আজকের অলিম্পিয়াডের মূল উদ্দেশ্য শুধু প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা নয়, বরং রসায়নকে জনপ্রিয় করা এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করা। এবারের অলিম্পিয়াডে কুমিল্লা অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৬০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। এটা প্রমাণ করে, রসায়নের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ রয়েছে।’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘রসায়নের মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া খুবই প্রশংসনীয় এবং এটি মেধা বিকাশে দারুণ ভূমিকা রাখবে। তবে বর্তমান পরীক্ষার ফলাফল আসলে খুবই হতাশাজনক, যা শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থাকেই প্রকাশ করে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন হলো বর্তমানে পড়ালেখার প্রধান শত্রু। আমি একে “শয়তানের বাক্স” বলি। এটি পড়ালেখা ও ভালো ফলাফল থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব হলো মোবাইল ফোন ব্যবহারে সচেতন হওয়া।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রথমে ভালো টেক্সটবই এবং দ্বিতীয়ত ভালো শিক্ষক প্রয়োজন, কারণ তাঁরা হলেন জ্ঞানের বাতিঘর। এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটিয়ে প্রতিদিন তোমাদের নিয়মিত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করতে হবে। তবেই তোমাদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল আসবে।’ অনুষ্ঠানে সদস্যসচিব সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে রসায়ন ও বিজ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং তাদের সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তির বিকাশে কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। পাঠ্যবইয়ের প্রচলিত শিক্ষার বাইরে এসে শিক্ষার্থীরা যেন রসায়নকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারে এবং রসায়নের নতুন কিছু জানার ও আবিষ্কারের আগ্রহ অর্জন করে এ আয়োজনের মাধ্যমে আমরা সেই সুযোগ তৈরি করতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। এ আয়োজন সফল করতে বাংলাদেশ রসায়ন সমিতি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষকবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক এবং আয়োজক কমিটির সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি, এ অলিম্পিয়াডের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মতো মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি হবে।’ আরটিভি/এসআর  
কুবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড
স্কোপাস-ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে শীর্ষে যবিপ্রবি 
আন্তর্জাতিক গবেষণা ডাটাবেজ ‘স্কোপাস’ (Scopus)-এর ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী যবিপ্রবির গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ১৩৭৪ টি। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের শেষে স্কোপাসের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনুসন্ধানের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী রিসার্চ হাবে প্রকাশিত তালিকা হতে এ তথ্য জানা যায়। তালিকায় দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের মোট ১৬৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এই শীর্ষ তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে দেশের সকল সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে যবিপ্রবির অবস্থান ১৬তম। এ তালিকায় সারাদেশে প্রথম স্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। প্রকাশিত এ তালিকায় পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মোট গবেষণা প্রকাশনায় ৬০ শতাংশ, মোট উদ্ধৃতিতে ২০ শতাংশ, প্রতি প্রকাশনায় গড় উদ্ধৃতিতে ১০ শতাংশ, গবেষণায় আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের হার ৫ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক এইচ-ইনডেক্সে ৫ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তালিকার তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন বছরে যবিপ্রবির গবেষকদের মোট ১৩৭৪টি গবেষণা প্রকাশনা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এসব গবেষণাপত্র মোট ১৮ হাজার ৬১৯ বার উদ্ধৃত (সাইটেশন) হয়েছে। প্রতি গবেষণাপত্রে গড় উদ্ধৃতির সংখ্যা ১৩.৬ এবং গবেষণায় আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের হার ৫৮.৬ শতাংশ। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাতিষ্ঠানিক এইচ-ইনডেক্স ৫৬। এ বিষয়ে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড.ইয়ারুল কবীর বলেন, আমাদের শিক্ষকদের প্রচেষ্টা ও গবেষণার প্রতি আন্তরিকতার কারণেই স্কোপাস ইনডেক্সড জার্নালে গবেষণা প্রকাশনার আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এ অর্জনের জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ‘গবেষণার অগ্রগতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি সুবিধা ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আমরা আশাবাদী, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশের মাধ্যমে আগামীতে যবিপ্রবি গবেষণায় আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে।’ উল্লেখ্য, স্কোপাস হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক গবেষণা তথ্যভান্ডার, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ের গবেষণাপত্র, বই ও সম্মেলনে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য সংরক্ষিত থাকে। বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণাসেবা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ার পরিচালিত এই তথ্যভান্ডারে গবেষণাপত্রের সারসংক্ষেপ, লেখক, প্রকাশনার বিবরণ এবং সেগুলো অন্য গবেষণায় কতবার উদ্ধৃত হয়েছে, তার তথ্য পাওয়া যায়। গবেষণাপত্র প্রকাশনায় ২০২৬ সালের এই র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নির্ধারণে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্কোপাসে সূচিবদ্ধ ইংরেজি ভাষার গবেষণাপত্রের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। আরটিভি/এসআর
স্কোপাস-ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে শীর্ষে যবিপ্রবি 
আরও পড়ুন
ইবিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের দাবি ছাত্রদলের 
শিক্ষার্থীদের চাকরির তথ্যের ডাটাবেজ তৈরি করা হবে: ইবি ভিসি
ইবিতে ৩ দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড ফেজ উইক’ শুরু
ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন নিয়োগ