
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) শুরু হয়েছে ‘আন্তঃহল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি হলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা চলবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
‘এক হল, এক দল, এক গর্ব’ প্রতিপাদ্যে রোববার (১ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় থাকছে মোট সাতটি ক্রীড়া ইভেন্ট। ইভেন্ট গুলো হলো: ফুটবল, দাবা, ক্যারম, ১০০ মিটার স্প্রিন্ট, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন ও ম্যারাথন। সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করছে রুয়েট প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর এবং হলগুলোর প্রভোস্ট। এ লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন আহ্বান করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রতিযোগিতা কমিটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতার প্রতিটি ম্যাচ ও প্রতিটি পয়েন্ট সামগ্রিক ফলাফলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাতটি ইভেন্টে অর্জিত পয়েন্ট যোগ করে হল গুলোর সামগ্রিক অবস্থান নির্ধারণ করা হবে। সব ইভেন্ট মিলিয়ে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারী হলকে ‘আন্তঃহল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’ এর চূড়ান্ত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
এদিকে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (২৫ সিরিজ) শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে অনুষদ ও বিভাগের ভিত্তিতে হল সংশ্লিষ্টতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সিরিজটির সিভিল অনুষদের শিক্ষার্থীরা টিনশেড হলে, তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল (ইসিই) অনুষদের শিক্ষার্থীরা ছাত্র হল-৩ এ এবং যন্ত্রকৌশল (এমই) ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা হামিদ হলে অংশ নিতে পারবেন। অন্যদিকে, শহীদুল হলের জন্য নির্ধারিত বিভাগগুলো হলো: ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই), মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (এমটিই), সিরামিক অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএমই) এবং ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (এমএসই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
এ বছরের আয়োজন নিয়ে রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক এবং ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফ বলেন, আন্তঃহল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও দলগত মনোভাব গড়ে তোলার একটি সুবর্ণ সুযোগ। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাও শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমরা চাই, প্রতিটি হলের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করুক এবং আনন্দমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রতিযোগিতাটি সম্পন্ন হোক। জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে সবাই মিলে সুন্দর ক্রীড়া আয়োজন উপভোগ করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
‘আন্তঃহল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’ এর মূল লক্ষ্য শুধু ব্যক্তিগত বা দলীয় সাফল্য অর্জন নয়। বরং হলগুলোর মধ্যে ঐক্য, দলগত সহযোগিতা ও ক্রীড়াসুলভ প্রতিদ্বন্দ্বিতার চর্চা বাড়ানো। আয়োজকরা প্রত্যাশা করেন এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর এবং পারস্পরিক সম্পর্ক ও হলভিত্তিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।
আরটিভি/এমএম




