
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ক্যাম্পাসে কুকুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে কুকুরের ধাওয়ায় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনই এক ঘটনার শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরামিক অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪-২৫ সিরিজের শিক্ষার্থী ফাতিমাতুজ্জোহরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে আনুমানিক ৯টার দিকে টিউশনের উদ্দেশ্যে হল থেকে ভদ্রা গেটের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় দুটি কুকুর তার পিছু নেয়। তিনি দাঁড়িয়ে গেলে কুকুর দুটি তাকে ধাওয়া করে। ভয়ে দৌড় দিতে গিয়ে পড়ে যান তিনি। এতে তার হাঁটু ও পায়ের বিভিন্ন বেশ কয়েক জায়গায় আঘাত লাগে এবং জখম হয়। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে কুকুর দুটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার আকস্মিকতায় ফাতিমাতুজ্জোহরা বলেন, এর আগেও ক্যাম্পাসে কুকুরের ধাওয়ার শিকার হওয়ার ঘটনা শুনেছেন তিনি। তবে এসব ঘটনায় সাধারণত কারও হাতে খাবার থাকলে কুকুর ধাওয়া করত। কিন্তু ঘটনার সময় তার হাতে কোনো খাবার ছিল না। বর্তমানে ক্যাম্পাসে কুকুরের সংখ্যা বাড়ার সাথে ওদের আচরণও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।
এদিকে, ক্যাম্পাসে কুকুরের উপদ্রব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সম্পর্কে রুয়েট তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাব্বির আহমেদ বলেন, রুয়েটে কুকুরের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঝেমধ্যেই কুকুরের আক্রমণের শিকারের কথা, ব্যাগ বা খাবার ছিনিয়ে নেয়ার কথা অনেকেই জানাচ্ছেন। ২টি ফিমেল হল, মেল হল ৩ চালু হওয়ার পর ভদ্রা যেতে ভদ্রা পকেট গেট ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু এ রাস্তাতেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কুকুর লক্ষ্য করা যায়। আমি নিজেও রাতে অতিথি হোটেল থেকে আসার সময় কুকুর তাড়া করেছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ সিটি কর্পোরেশন অথবা অন্য সংস্থার মাধ্যমে অতি দ্রুত অতিরিক্ত কুকুর অপসারণ করা এবং সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করবেন।
এ বিষয়ে রুয়েট নিরাপত্তা কমিটির সভাপতি ও ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, পূর্বেও এরকম কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে আমরা দুসপ্তাহ পূর্বে সিটি করপোরেশন কে এ বিষয়ে ব্যবস্হা নিতে আবেদন দিয়েছিলাম। কিন্তু পশু নিধনে আইনের বাত্যয় ঘটবে বলে তারা অপারগতা জানান। আজকের দূর্ঘটনাটিও আমি জানতে পেরেছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হবে যাতে তারা গুরুত্বের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে চলাচল করতে পারেন সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে কি করা যায় তার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ক্যাম্পাসে কুকুরের উপদ্রব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক শিক্ষার্থী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি ক্যাম্পাসের পথপ্রাণীদের নিয়মিত খাবার দেয়া হলেও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। এছাড়াও কুকুরের ভয়ে মানসিকভাবে আতঙ্কিত হওয়ার পাশাপাশি শারীরিকভাবে আহত হওয়ার বিষয়টি আশঙ্কাজনক।
একইভাবে শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত কুকুরের প্রয়োজন নেই। কেউ কুকুর পোষায় আগ্রহী হলে নিজ বাড়িতে নিয়ে পালতে পারেন; তবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে হল থেকে ভদ্রা গেটের সংযোগ সড়কে কুকুরের উপস্থিতি তাদের নিয়মিত যাতায়াতে ঝুঁকি তৈরি করছে। কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ ও ক্যাম্পাসে নিরাপদে চলাচলের নিরাপত্তায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান শিক্ষার্থীরা।
আরটিভি/জেএমএ



