
মাত্র ১ টাকা জরিমানা, অথচ তা পরিশোধ করতে যেতে হলো ব্যাংকে, দাঁড়াতে হলো লাইনে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগার থেকে বই জমা দিতে দেরি হওয়ায় এক শিক্ষার্থীর এমন অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাবিলা হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এক টাকা জরিমানা হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
জানা গেছে, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো নিয়মে এখনো ব্যাংকের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। তবে এ প্রক্রিয়া অনলাইনে চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার পরিচালক।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাবিলা হক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ঢাকা ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি একটা বই ৮-৯ দিন দেরিতে জমা দেওয়ার কারণে আমাকে ১ টাকা জরিমানা করেছে! এখন আমাকে টিএসসি জনতা ব্যাংকে যেতে হবে, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, আর তারপর একটা মাত্র কয়েন দিয়ে সেই জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।
তিনি লেখেন, আমি পূজার ছুটির আগে বিজ্ঞান গ্রন্থাগার থেকে বই নিয়েছিলাম। বই ফেরত দেওয়ার শেষ সময় ২২ তারিখ থাকলেও আমি পরের মাসের ৩ তারিখে বই জমা দিতে যাই। তখন ২২ তারিখ থেকে হিসাব করে আমাকে ১ টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি আরও লেখেন, আমার হল কাছে, তাই ব্যাংকে টাকা দিতে আমার অতটা প্যারা হয়নি। কিন্তু জিনিসটা বেশ অদ্ভুত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আসলে আমারও জানা ছিল না এক টাকা হলেও ব্যাংকে দিতে হয়। এই জরিমানায় নিয়ম অনেক পুরোনো। আমি কাগজ ঘেঁটে দেখলাম ১৯৭৫ সাল বা স্বাধীনতার আগ থেকেই এই নিয়ম রয়েছে। আমাদের সামনে লাইব্রেরি কমিটির মিটিংও আছে, আমি কথা বলব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। এটা যেহেতু সামান্য অর্থ, আমরা হয়তো অনলাইনে নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।
তিনি বলেন, গ্রন্থাগারে বই নির্ধারিত সময়ের পর জমা দেওয়া কিংবা হারিয়ে ফেললে বিভিন্ন নিয়ম আছে। বইটা যদি খুব সাম্প্রতিক হয়, তাহলে বইয়ের দাম দিলেই হয়। কিন্তু বইটা যদি ১৯৬০ সালের হয়, ওখানে দাম লেখা আছে ৫০ পয়সা। তাহলে এইটার জন্য আমাদের ভিন্ন নিয়ম আছে।
আরটিভি/টিআর



