ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

যবিপ্রবিতে নানা আয়োজনে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত

যবিপ্রবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
যবিপ্রবিতে নানা আয়োজনে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত। ছবি: যবিপ্রবি সংবাদদাতা

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী ফ্রি ফিজিওথেরাপি ক্যাম্প, রক্তদান কর্মসূচি, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তার শিক্ষা দর্শন: প্রেক্ষিত ৭ নভেম্বর’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলসহ নানাবিধ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সূর্যোদয়ক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়।

সকাল সাড়ে ৯ টায় যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে ডা. এম. আর. খান মেডিকেল সেন্টারে দিনব্যাপী ফ্রি ফিজিওথেরাপি ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। র‌্যালি শেষে অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারীতে শুরু হয় ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তাঁর শিক্ষা দর্শন: প্রেক্ষিত ৭ নভেম্বর’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, “১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক ঐক্য আমাদের জাতীয় রাজনীতি ও মুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। ৭ই নভেম্বরের মূল শিক্ষা হলো- জাতীয় ঐক্য, সংহতি, দেশপ্রেম, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার। ইতিহাসের সঠিক ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের সম্মিলিত প্রত্যয় হওয়া উচিত। শিক্ষার উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি আরও উল্লেখ করে বলেন, কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর জাতীয় অগ্রগতি নির্ভর করে না; এর জন্য জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব বিকাশ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। যবিপ্রবি জ্ঞানভিত্তিক, বিজ্ঞানমনস্ক এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যতবারই দেশ ও মেহনতী মানুষ বিপদে পড়েছে, ততবারই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সামনে এসে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমেই মূলত দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নতুনভাবে সুরক্ষিত হয়েছিল এবং সেদিন সিপাহী-জনতা তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছিল। বিগত দিনগুলোতে ৭ই নভেম্বরকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হলেও সঠিক ইতিহাস জেনে নতুন প্রজন্মের সামনে তা সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের মানুষকে ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-এর স্বতন্ত্র পরিচয় ও দর্শন উপহার দিয়েছিলেন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো সংকট মোকাবিলায় দলীয় মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।”

‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তাঁর শিক্ষা দর্শন: প্রেক্ষিত ৭ নভেম্বর’ শীর্ষক আলোচনা সভার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি, তাৎপর্য, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের দর্শন, মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনসহ নানা দিক স্লাইড আকারে উপস্থাপন করেন।

আলোচনা সভা শেষে বাদ জোহর বিশ্বাবদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়াসহ সকল শহিদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্বাবদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মো. আকরামুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল আমিনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সালেক খান ও আলেয়া জোয়ার্দ্দার। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, দপ্তরপ্রধানগণসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন।

আরটিভি/ এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন জিয়াউর রহমান ও তার অনুসারীরা: জবি উপাচার্য
দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট ও ক্রান্তিলগ্নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তার আদর্শের অনুসারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন।  শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উপাচার্য বলেন, এই দেশ যখনই কোনো ক্রান্তিলগ্নে উপনীত হয়েছে, তখনই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তাঁর দর্শনের অনুসারীরা জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময়ও আমরা তা দেখেছি। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর বর্তমান সময়েও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনুসারীরা দেশ পরিচালনা করছেন। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের যথাযথ সম্মান ও জাতীয় বীর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়েই জাতীয় সত্তার বিকাশ ঘটাতে হবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে উপাচার্য বলেন, এই দিবসটি যাতে মানুষ ভুলে যায় তাই বিগত সরকার ৭ নভেম্বরের সরকারি ছুটি বাতিল করেছি। এ দিবস উপলক্ষে কোনো ধরনের অনুষ্ঠানও পালন করতে দেওয়া হয়নি। আমি মনে করি, বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা থাকলে ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো ধারণ করতে হবে। এসব ইতিহাস ও চেতনাকে লালন করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে দেশকে ধ্বংস করেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনা করা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। অনেকেই অনেক সময় বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করেন। তবে জাতীয় স্বার্থে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানান উপাচার্য। এ জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রয়োজনীয় ঐক্য ও শক্তি অর্জনের তৌফিক কামনা করেন তিনি। এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ‎ আরটিভি/এসআর  
প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন জিয়াউর রহমান ও তার অনুসারীরা: জবি উপাচার্য
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কেবল রাজনৈতিক পরিচয় নয়, এটি একটি দর্শন: চবি উপাচার্য
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে একটি দর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।  শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় মুখ্য আলোচক ও সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ কেবল একটি রাজনৈতিক পরিচয় নয়, এটি একটি দর্শন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত এই দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল ধর্মীয় মূল্যবোধ, বহুদলীয় গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা। এই দর্শনের মূল কথা হলো কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। তিনি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমি এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করে উপাচার্য বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সুন্দর, সমৃদ্ধ ও গতিশীলভাবে এগিয়ে নিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে মতভেদ, ভুল বোঝাবুঝি ও অভিমান দূরে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে একটি হল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি। উপাচার্য বলেন, জিয়াউর রহমানের অবদান ও দর্শনের যথাযথ মূল্যায়ন করা আমাদের দায়িত্ব। আলোচনা সভায় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই জাতি ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনাকে স্মরণ করেছে। ২০২৪ সালেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে এ চেতনা মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ, ছাত্র, জনতা ও সৈনিক ঐক্যবদ্ধ হলে বড় পরিবর্তনের সূচনা ঘটে। ৭ নভেম্বরের ইতিহাস স্মরণ করতে গেলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও অনিবার্যভাবে উঠে আসে। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর সাধারণ সৈনিক ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। ওই ঘটনাপ্রবাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতের অনুসারীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রতিষ্ঠা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর, শাহজালাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জহুরুল আলম, চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক ও ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী এবং চবি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু নছর মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন চবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়, সহসভাপতি আহসান হাবিব, চবি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ছবুর, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পক্ষে মো. ওসমান গণী এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পক্ষে আবদুল মালেক। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি, পরিচালক, শিক্ষক, প্রক্টর, প্রশাসক, সহকারী প্রক্টর, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর  
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কেবল রাজনৈতিক পরিচয় নয়, এটি একটি দর্শন: চবি উপাচার্য
রুয়েটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও আপ্যায়নের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।  শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর মতিহার থানার বিনোদপুরের দাওয়াতুল ইসলাম ইয়াতিমখানা বালিকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, রচনা প্রতিযোগিতা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে দিবসটি যথাযথ ভাবে পালিত হয়। এর আগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে রুয়েট প্রশাসন কর্মসূচি সহ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও হল গুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় দিবসটি উদযাপন। এরপর দাওয়াতুল ইসলাম ইয়াতিমখানায় ৫০ জন নারী শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এসব শিক্ষা উপকরণের মাঝে ছিল খাতা, কলম, পেনসিল, রাবার ও স্কেলসহ প্রয়োজনীয়  উপকরণ। এতিমখানা কর্তৃপক্ষ রুয়েট প্রশাসনের এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সময়োপযোগী এ উপহার গুলো শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি এ ধরনের সহযোগিতা ধারাবাহিকতা কামনা করেন তারা। এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ এম রাসেল, পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নিয়ামুল বারী এবং ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী। এ সময় উপস্থিত রুয়েট প্রশাসন প্রতিনিধি ও অতিথিবৃন্দ জানান রুয়েট প্রশাসন ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবকল্যাণ মূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। ছাত্রকল্যাণ দপ্তর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন,"জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রকৃত মর্ম হলো মানুষের মাঝে ভালোবাসা, সংহতি ও সমতা প্রতিষ্ঠা। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই দিবসটির শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ। এতিম শিশু-কিশোরীরা আমাদের সমাজেরই অংশ; তাদের শিক্ষায় এগিয়ে নিতে আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত।" দিনের মধ্যাহ্নে রুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় এ দিবসটির আনুষ্ঠানিক ভাবে উদযাপন সম্পন্ন হয়। এ সময় উপস্থিত মুসল্লিরা দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে দোয়া কামনা করেন।  উল্লেখ্য রুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য ‘৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-শিক্ষা, ঐক্য ও প্রগতি’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ১০০০-১২০০ শব্দে নির্ধারিত বিষয়ে রচনা আগামী ১৪ নভেম্বরের মধ্যে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক বরাবর [email protected] ই-মেইলে রচনা পাঠাতে বলা হয়েছে। আরটিভি/এসআর  
রুয়েটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
রাবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উদ্যোগে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করা হয়েছে।  শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. সাবিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ফরিদুল ইসলাম ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. আব্দুল আলিম। সভায় সমাপনী বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম রাবির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. গোলাম ছাদিক। আলোচনা সভায় বক্তারা ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।  এসময় প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।  আরটিভি/এসআর  
রাবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন
পাবিপ্রবিতে চুরির অভিযোগে বৃদ্ধা আটক
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) চুরির অভিযোগে এক বৃদ্ধাকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাবনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম কালু মালিথা (৬০)। তিনি পাবনা সদর উপজেলার আটুয়া মহল্লার লাইব্রেরি বাজার এলাকার বাসিন্দা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ ও ৩-এর বিভিন্ন বিভাগের ওয়াশরুম থেকে পানির ট্যাপ চুরির ঘটনা ঘটছিল। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কালু মালিথাকে শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।  গত বুধবার (৪ নভেম্বর) একাডেমিক ভবন-৩-এর নবম তলায় ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ওয়াশরুম থেকে পানির ট্যাপ চুরির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চুরির ঘটনা তদন্তে বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। পরে তার ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরে সরবরাহ করা হয় এবং পুনরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় ছুটির সুযোগে আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে অভিযুক্ত কালু মালিথা পুনরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাঁকে শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আটক করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনসার সদস্যদের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) মো. হান্নান বলেন, ট্যাপ চুরির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা হাসিব স্যার আমাদের নিরাপত্তা জোরদার এবং সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। আনসার সদস্যদের নিয়ে আমাদের যে গ্রুপ রয়েছে, সেখানে অভিযুক্তের ছবি শেয়ার করি এবং সবাইকে সতর্ক থাকতে বলি। আজ তাঁকে গেটে আটক করার পর নিরাপত্তা কর্মকর্তা হাসিব স্যারকে ফোনে বিষয়টি জানাই। পরে তিনি এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা এস এম হাসিবুর রহমান বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন বিভাগের ওয়াশরুম থেকে পানির ট্যাপ চুরির অভিযোগ পাচ্ছিলাম। বিষয়টি তদন্ত করে আমরা ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হই। আজও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে আমাকে ফোন দিলে আমি ক্যাম্পাসে আসি। পরে ঘটনার তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, আমি এই মুহূর্তে পাবনায় নেই। তবে কিছুক্ষণ আগেই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। এর আগেও বেশ কয়েকবার ট্যাপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরটিভি/এসআর  
পাবিপ্রবিতে চুরির অভিযোগে বৃদ্ধা আটক
আরও পড়ুন
প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন জিয়াউর রহমান ও তার অনুসারীরা: জবি উপাচার্য
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কেবল রাজনৈতিক পরিচয় নয়, এটি একটি দর্শন: চবি উপাচার্য
রুয়েটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
নেপালস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন