
দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট ও ক্রান্তিলগ্নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তার আদর্শের অনুসারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, এই দেশ যখনই কোনো ক্রান্তিলগ্নে উপনীত হয়েছে, তখনই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তাঁর দর্শনের অনুসারীরা জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময়ও আমরা তা দেখেছি। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর বর্তমান সময়েও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনুসারীরা দেশ পরিচালনা করছেন।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের যথাযথ সম্মান ও জাতীয় বীর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়েই জাতীয় সত্তার বিকাশ ঘটাতে হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে উপাচার্য বলেন, এই দিবসটি যাতে মানুষ ভুলে যায় তাই বিগত সরকার ৭ নভেম্বরের সরকারি ছুটি বাতিল করেছি। এ দিবস উপলক্ষে কোনো ধরনের অনুষ্ঠানও পালন করতে দেওয়া হয়নি। আমি মনে করি, বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা থাকলে ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো ধারণ করতে হবে। এসব ইতিহাস ও চেতনাকে লালন করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে দেশকে ধ্বংস করেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনা করা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। অনেকেই অনেক সময় বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করেন। তবে জাতীয় স্বার্থে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানান উপাচার্য। এ জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রয়োজনীয় ঐক্য ও শক্তি অর্জনের তৌফিক কামনা করেন তিনি।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
আরটিভি/এসআর




