ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

৭ বছর বেতন পান না শিক্ষক-কর্মচারী, তবু চলছে গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১০ এএম
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে পিটিতে শিক্ষার্থীরা । ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির পাশে মনোরম পরিবেশে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু হয়। ওই সময় ১৬ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথম বছর ৬৭৫ শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও কলেজ শাখা আর চালু হয়নি।

তবে ২০১৯ সালের পর থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। ২০২০ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে বিদ্যালয়টি পাঠদানের অনুমোদন পায়। পরে বিদ্যালয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের পাশে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকেই বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত নানা সংকট দেখা দিতে থাকে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। নেই নিরাপদ খাবার পানি ও পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। পরিবহন ও খেলার মাঠেরও সংকট রয়েছে। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষের টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে। এসব সমস্যার কারণে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে গেছে। বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাত্র ১৬০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুকাইয়া খানম জানায়, সে প্লে শ্রেণি থেকে এই বিদ্যালয়ে পড়ছে। বিদ্যালয়ে ওয়াশরুম ও নিরাপদ খাবার পানির সমস্যা রয়েছে। উপাচার্য এসব সমস্যা সমাধান করবেন বলে সে আশা করে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফরিদুজ্জামান আহসাফ জানায়, ওয়াশরুমের পাশে ঝোপ-জঙ্গল রয়েছে। সেখানে সাপ থাকে। এ কারণে তারা ভয় পায়। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষের টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়ান জানায়, প্রচণ্ড গরমে কষ্ট করে ক্লাস করতে হয়। বৃষ্টি হলে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে ভিজে যেতে হয়। বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। শ্রেণিকক্ষের অবস্থাও ভালো নয়। সে বিদ্যালয়ের জন্য খেলার মাঠ ও নতুন ভবন চায়।

প্রাক-প্রাথমিকের তাইবুল্লাহ রোহান ও প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী আশিকুল্লাহর মা তাসলিমা বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করেন এবং শিশুদের যত্ন নেন। শিক্ষকদের কারণেই তিনি তার দুই ছেলেকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করেননি।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুর রহিমের মা সায়লা জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে সহায়তা করে। এ কারণে তিনি সন্তানকে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছেন। তবে বিদ্যালয়ে অনেক সমস্যা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. নাজমুল ইসলাম নাহিদ বলেন, তিনি এই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছেন। বর্তমানে গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে পড়ছেন। তার ভাষ্য, শিক্ষকরা বিদ্যালয়টিকে নিজের সন্তানের মতো করে গড়ে তুলেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। বিষয়টির দ্রুত সমাধান চান তিনি।

আরেক সাবেক শিক্ষার্থী ঈমান আলী বর্তমানে গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও ব্যাংকিং বিভাগে পড়াশোনা করছেন। তিনি বলেন, তাদের সময় বিদ্যালয়ের অবস্থা ভালো ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বর্তমানে বিদ্যালয়টি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বিদ্যালয়টিকে একটি আদর্শ বিদ্যালয়ে পরিণত করার দাবি জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাদিম আহমেদ বলেন, ২০১৯ সালে উপাচার্য চলে যাওয়ার পর থেকেই তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। লাইব্রেরির পাশ থেকে বিদ্যালয়টি উপাচার্যের বাসভবনের পাশে স্থানান্তরের পর সংকট আরও বেড়েছে। এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।

সহকারী শিক্ষক আলেয়া বেগম বলেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে তারা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া বেতন এবং শিক্ষকদের নিজেদের অর্থ দিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবার নিয়ে চলতে তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। খুলনা, কোটালীপাড়া ও বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে কয়েকজন শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন। তাদের ভোগান্তি আরও বেশি। সদ্য যোগ দেওয়া উপাচার্য বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করবেন বলে আশা করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, বিদ্যালয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে নেই। তবে সেখানে বিদ্যালয়, শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টিকে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে। বিদ্যালয়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তিন দিনের সফরে চীন গেলেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তিন দিনের সফরে চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন।
তিন দিনের সফরে চীন গেলেন শিক্ষামন্ত্রী
প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ‘বড় পরিকল্পনা’ সরকারের
সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ‘বড় পরিকল্পনা’ সরকারের
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ভর্তি নীতিমালায় যা আছে
আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ভর্তি নীতিমালায় যা আছে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা
দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকের কুফল, কিশোর গ্যাং রোধ, ইভটিজিং ও ‘র‌্যাগ ডে’-র নামে বিশৃঙ্খলা বন্ধ এবং রাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। 
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা
স্কুলে ভর্তিতে বয়স নির্ধারণ, কোন শ্রেণিতে কত বছর হতে হবে
সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এতে প্রতিটি শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বয়স নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ নীতিমালা প্রকাশ করে। এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস। নীতিমালার ২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বয়স ছয় বছর বা তার বেশি ধরে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীর সর্বনিম্ন বয়স পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ বয়স সাত বছর পর্যন্ত হতে পারবে। নীতিমালায় উল্লেখ করা বয়সসীমা অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ছয় বছর এবং সর্বোচ্চ আট বছর হতে হবে। তৃতীয় শ্রেণিতে সাত থেকে নয় বছর, চতুর্থ শ্রেণিতে আট থেকে ১০ বছর এবং পঞ্চম শ্রেণিতে নয় থেকে ১১ বছর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বয়স হতে হবে ১০ থেকে ১২ বছর। সপ্তম শ্রেণিতে ১১ থেকে ১৩ বছর, অষ্টম শ্রেণিতে ১২ থেকে ১৪ বছর এবং নবম শ্রেণিতে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর বয়স যাচাইয়ের জন্য ভর্তির আবেদনপত্রের সঙ্গে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া যাবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে ১ জানুয়ারি এবং শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর। এ ছাড়া প্রতিটি শ্রেণির একটি শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশ শ্রেণি অর্থাৎ প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে এ নীতিমালার আওতায়। আরটিভি/এসকে
স্কুলে ভর্তিতে বয়স নির্ধারণ, কোন শ্রেণিতে কত বছর হতে হবে
আরও পড়ুন
লাইভে ব্যস্ত সাংবাদিকের ব্যাগের দিকে চোখ যায় চোরের, অতঃপর...
পোস্টার সাটানোর সময় ধরা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা
গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে ৩ যুবক ধরা, দিলেন ‘বিশেষ পরিচয়’