
রাজধানীর প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবি নজরুল সরকারি কলেজে প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। অথচ পুরো ক্যাম্পাসে নেই বর্জ্য ফেলার কোনো নির্ধারিত স্থান বা ডাস্টবিন। ফলে একাডেমিক ভবন, ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণ, প্রশাসন ভবন এবং খেলার মাঠের আশপাশে যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকছে প্লাস্টিকের বোতল, কাগজের কাপ, পলিথিন ও উচ্ছিষ্ট খাবার। এতে একদিকে পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কবি নজরুল সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায় এক জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর চিত্র। কলেজের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ছড়াছড়ি। প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন এবং ঐতিহ্যবাহী লাল ভবনের কোণগুলোতে জমে আছে পলিথিন, অপচনশীল প্লাস্টিক বোতল, চিপসের প্যাকেট ও কাগজের কাপ।
ক্লাসের বিরতিতে বা অবসরে শত শত শিক্ষার্থী এখানে নাশতা বা চা-পান করলেও বর্জ্য ফেলার জন্য একটি ডাস্টবিনও খুঁজে পান না। বাধ্য হয়ে অনেকেই ওয়ানটাইম গ্লাস, চায়ের কাপ ও খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ খোলা জায়গায় বা ড্রেনের ওপর ফেলে রাখছেন। বাতাস প্রবাহিত হলে এসব উচ্ছিষ্ট ও কাগজ পুরো মাঠ ও হাঁটার রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে এক নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি করছে।
একই দৃশ্য দেখা গেছে কলেজের শ্রেণিকক্ষগুলো ও বাইরের বারান্দায়। কোথাও স্থায়ী তো দূরের কথা, অস্থায়ী বা প্লাস্টিকের কোনো আবর্জনা ফেলার পাত্র বা ড্রামও চোখে পড়েনি। বিশেষ করে বর্ষার দিনে ড্রেনের মুখে জমা প্লাস্টিকের কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং জমে থাকা পচা ময়লা থেকে মশা ও মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এদিকে ক্যাম্পাসের এই বেহাল দশার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চরম অবহেলাকে দায়ী করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা থাকলেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় না।নির্দিষ্ট কিছু স্থানে আবর্জনার স্তূপ জমে থাকলেও তা অপসারণে পরিচ্ছন্নতাকর্মী কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় বাজেট থাকা সত্ত্বেও কেবল দায়িত্বহীনতার কারণে ক্যাম্পাসের সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা আজ হুমকির মুখে পড়েছে।
ক্যাম্পাসের এই পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, আমরা প্রতিদিন ক্লাসে আসি, কিন্তু কোথাও একটা ময়লা ফেলার ডাস্টবিন পাই না। চা বা নাশতা খাওয়ার পর বাধ্য হয়েই কাপ বা প্যাকেট মাটিতে ফেলতে হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবহেলা আর পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় পুরো ক্যাম্পাসের আশেপাশে ময়লা পড়ে থাকে।আমি মনে করি, এর একটি স্থায়ী সমাধান জরুরি।
এ বিষয়ে কবি নজরুল কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী শরীফ হোসেন বলেন, প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থীর এই ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নেই, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক সময় আবর্জনা যত্রতত্র ফেলতে হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়মিত দেখা মেলে না। একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এটি অত্যন্ত মৌলিক একটি সুবিধা। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর ক্যাম্পাস নিশ্চিতে অবিলম্বে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপনের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, কলেজে তো বেশ কয়েকটি ডাস্টবিন ছিল, সেগুলো এখন কোথায়? যাইহোক, ক্যাম্পাস ছোট হওয়ার কারণে ডাস্টবিন বসানোর পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তবে তোমরা যেহেতু বিষয়টি আমাদের অবগতির জন্য করছো, তাই আমরা কলেজের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় একটি ডাস্টবিন স্থাপনের ব্যবস্থা করে দেব।আর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের অবহেলার বিষয়টি নিয়ে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব।
আরটিভি/জেএমএ



