
ঢালিউডের এ প্রজন্মের অভিনেত্রী শিরিন শিলা। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘বীরাঙ্গনা ৭১’। মূলত মুক্তিযুদ্ধে বীরাঙ্গনা নারীদের আত্মত্যাগের গল্পে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। পর্দায় নিজেকে একজন বীরাঙ্গনার রূপে মেলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।
শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) সারাদেশের ১৫টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘বীরাঙ্গনা ৭১’। শহিদুল ইসলাম শহিদের গল্পে ছবিটির সংলাপ, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন এম সাখাওয়াত হোসেন। এতে মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শিলা। তার বিপরীতে রয়েছেন টিভি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা শাহেদ শরীফ খান।
এর আগে সিনেমা মুক্তি উপলক্ষে (২৮ ডিসেম্বর) একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে চলচ্চিত্রের সংশ্লিষ্টরা। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিলা সহ সিনেমার সকল কলাকুশলীরা। এদিন গণমাধ্যমে সিনেমায় নিজের চরিত্র এবং শুটিংয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন এই অভিনেত্রী।
বীরাঙ্গনা চরিত্রে অভিনয়ের ব্যাপারে শিলা বলেন, এই প্রথম আমি বীরাঙ্গনা চরিত্রে অভিনয় করেছি। এটা আমার জন্য অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি এটার উপরে অনেক পড়াশুনা করেছি, মুক্তিযুদ্ধের উপরে নির্মিত অনেক চলচ্চিত্র দেখেছি। এমনকি সিনেমায় নিজের চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার জন্য বীরাঙ্গনাদের নিয়ে অনেক বইও পড়েছি। যেগুলো এই ছবির চরিত্রের সঙ্গে মিশে যেতে অনেক সহায়তা করেছে আমাকে।
তিনি আরও বলেন, শুটিংয়ে যখন পাক হানাদার বাহিনী আমাকে বীরাঙ্গনা করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলো। তখন আমার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গিয়েছিলো। কারণ, শুটিংয়ের জন্য যে ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছিলো, যাদেরকে পাক হানাদার বাহিনী বানানো হয়েছিলো আমাকে নির্যাতন করার জন্য। সব দেখে সে সময় আমি সত্যিই কান্না করে দিয়েছিলাম। তখন ডিরেক্টর আমকে বলেছিলো, তুমি কেন কান্না করছ, এটা তো শুটিং। আমার শুটিং করতে গিয়েই এতো কষ্ট হচ্ছিলো। সে সময় আসলে যে নারীদের বীরাঙ্গনা করা হয়েছিলো, তাদের কতটুকু কষ্ট হয়েছিলো। এটা ভেবেই বার বার শিউরে উঠছিলাম তখন।
অভিনেত্রী বলেন, এই সিনেমার শুটিংয়ের সময় আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছিল। আমার অনেক জায়গায় কেটে গিয়েছিলো। ওরা আমাকে এমনভাবে শক্ত করে ধরেছিল, টানা হেঁচড়া করেছিলো। ওদের প্রত্যেকটা হাতের ছাপ নীল দাগ হয়ে গিয়েছিলো আমার হাতে। তবে ছবিটি নিয়ে অনেক আশাবাদী বলে জানান এই অভিনেত্রী।
প্রসঙ্গত, ‘বীরাঙ্গনা ৭১’ ছবিটি প্রযোজনা করেছেন এসএস ফিল্ম ইন্টারন্যাশনাল। এতে শিলা এবং শাহেদ ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন, সুমনা সোমা, ইমতু রাতিশ, প্রাণ রায়, আহমেদ সাব্বীর রোমিও, মৌরি মাহাদি, মুনমুন আহমেদ, ফজলুল রাহমান বাবু, ঝুনা চৌধুরী, নুপুর, আশরাফ কবিরসহ প্রমুখ।




