ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কৃষকের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো নানার অজানা মানবিক গল্প

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা দীর্ঘক্ষণ সিপিআর দিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

নানা পাটেকারের মৃত্যুতে শুধু বলিউড বা মারাঠি সিনেমা নয়, ভারতীয় অভিনয়জগতেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তবে অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই অভিনেতা। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের খরাপীড়িত কৃষক ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তিনি পেয়েছেন আলাদা পরিচিতি।

২০১৫ সালে অভিনেতা মকরন্দ অনাসপুরের সঙ্গে মিলে NAAM Foundation প্রতিষ্ঠা করেন নানা পাটেকার। কৃষক আত্মহত্যা, খরা, জলসংকট ও গ্রামীণ দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে কাজ করাই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ অবশ্য হঠাৎ করে শুরু হয়নি। মহারাষ্ট্রের খরাপীড়িত কৃষক পরিবারগুলোর দুর্দশা দেখে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু করেছিলেন নানা ও মকরন্দ। পরে সেই ব্যক্তিগত উদ্যোগই সাংগঠনিক রূপ নেয়।

সময়ের সঙ্গে NAAM Foundation-এর কার্যক্রমও বিস্তৃত হয়। কৃষক পরিবারকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি জল সংরক্ষণ, জলাধার ও খাল পুনরুজ্জীবন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষিনির্ভর মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ শুরু করে সংগঠনটি।

নানা পাটেকারের কাছে কৃষকের পাশে দাঁড়ানো ছিল শুধু তাৎক্ষণিক সাহায্যের বিষয় নয়। জলসংকট ও কৃষকের দুর্দশার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাই তার সমাজসেবার বড় অংশজুড়ে ছিল পানি সংরক্ষণ ও গ্রামীণ উন্নয়ন।

অভিনয়জগতেও নানা পাটেকার ছিলেন স্বতন্ত্র এক নাম। প্রচলিত অর্থে নায়ক না হয়েও নিজের অভিনয়গুণে অসংখ্য চরিত্রকে নায়কোচিত করে তুলেছেন তিনি। কখনও তার কণ্ঠে ফুটে উঠেছে রাগ, কখনও প্রতিবাদ, আবার কখনও অসহায় মানুষের আর্তি। বাস্তব জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার ছাপ তার অভিনয়কে দিয়েছে আলাদা গভীরতা।

অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক ও লেখক হিসেবেও কাজ করেছেন নানা পাটেকার। সেনাবাহিনীর সঙ্গেও তার ছিল বিশেষ সম্পর্ক। তবে কৃষক ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক ভূমিকা তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

তাই নানা পাটেকার চলে যাওয়া শুধু একজন শক্তিমান অভিনেতার বিদায় নয় একই সঙ্গে একজন সমাজসেবী ও কৃষকের অকৃত্রিম সহযাত্রীরও বিদায়। অভিনয়ের পর্দার বাইরেও মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া নানা পাটেকার এই অধ্যায়ই হয়তো তাকে দীর্ঘদিন আলাদা করে মনে রাখার অন্যতম কারণ হয়ে থাকবে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সিনেমাকেও হার মানায় নানার জীবন, ৩৫ রুপি থেকে ৮০ কোটির মালিক
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকারের জীবন যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু করে অভিনয়জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন এই অভিনেতা। একসময় মাসে মাত্র ৩৫ রুপি আয় করা নানা পাটেকার পরবর্তী সময়ে কোটি কোটি রুপির সম্পদের মালিক হয়েছেন। শৈশব থেকেই আর্থিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে নানা পাটেকারকে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হলে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই কাজ শুরু করেন তিনি। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুল শেষে প্রায় আট কিলোমিটার হেঁটে মুম্বাইয়ের চুনাভাট্টিতে যেতেন সিনেমার পোস্টার আঁকতে। সেই কাজের বিনিময়ে মাসে পেতেন মাত্র ৩৫ রুপি। এর সঙ্গে মিলত দিনে এক বেলার খাবার। কঠিন সেই সময়ই তাকে জীবনের বাস্তবতা ও অর্থের মূল্য বুঝতে শেখায়। পরবর্তী সময়ে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেন নানা। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। এরপর ধীরে ধীরে অভিনয় প্রতিভা দিয়ে দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেন তিনি। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘আব তক ছাপ্পন’, ‘নটসম্রাট’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান নানা পাটেকর। হিন্দির পাশাপাশি মারাঠি চলচ্চিত্রেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। অভিনয় ক্যারিয়ারের সাফল্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তার আয়-সম্পদও। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নানা পাটেকারের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ কোটি রুপি বলে দাবি করা হয়েছে। ক্যারিয়ারের একপর্যায়ে একটি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিতেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও বিলাসী জীবনযাপনের জন্য পরিচিত নন নানা পাটেকার। মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে দীর্ঘদিন প্রায় ৭৫০ বর্গফুটের একটি এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করেছেন তিনি। কয়েক দশক আগে প্রায় ১ দশমিক ১ লাখ রুপিতে কেনা সেই ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি রুপি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের পাশাপাশি গোয়াতেও তার একটি বাড়ি রয়েছে। পুনের খাডাকওয়াসলার কাছে প্রায় ২৭ একর জমির একটি ফার্মহাউসের সঙ্গেও তার নাম জড়িত। সেখানে গম ও ধানের মতো বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বলিউডের অনেক তারকার মতো বিলাসবহুল গাড়ির বড় সংগ্রহও নেই নানা পাটেকারের। তার ব্যবহৃত গাড়ির তালিকায় রয়েছে মাহিন্দ্রা জিপ সিজে৪, মাহিন্দ্রা স্করপিও ও অডি কিউ৭। এমনকি প্রায় দেড় কোটি রুপি দামের একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার সুযোগ থাকলেও তিনি সেটি নিতে চাননি বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বরং সেই অর্থ কৃষকদের সহায়তায় ব্যয় করাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানা যায়। নানা পাটেকারের জীবন তাই শুধু একজন সফল অভিনেতার গল্প নয়, বরং কঠিন বাস্তবতা থেকে উঠে আসার অনুপ্রেরণার গল্পও। একসময় যে মানুষটি এক বেলার খাবার ও সামান্য পারিশ্রমিকের জন্য সিনেমার পোস্টার আঁকতেন, তিনিই পরবর্তী সময়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত ও সম্মানিত অভিনেতায় পরিণত হন। কোটি কোটি রুপির সম্পদের মালিক হয়েও সাধারণ জীবনযাপন, কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং অর্থের প্রতি সংযত মনোভাব নানা পাটেকারকে বলিউডের অনেক তারকার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। আরটিভি/এসকে
সিনেমাকেও হার মানায় নানার জীবন, ৩৫ রুপি থেকে ৮০ কোটির মালিক
গোয়ার ফ্ল্যাটে শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল নানা পাটেকারের, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর আসে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
গোয়ার ফ্ল্যাটে শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল নানা পাটেকারের, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
মৃত্যুর আগে শেষ অনুষ্ঠানে যা বলেছিলেন নানা পাটেকার
‘আমি জানি না, কাল আমি বেঁচে থাকব কি না। জীবনের শেষ প্রান্তে সবাইকে পৌঁছাতেই হবে। তবে তার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত যা করতে চেয়েছিলাম, তা কি করতে পেরেছি?’
মৃত্যুর আগে শেষ অনুষ্ঠানে যা বলেছিলেন নানা পাটেকার
মারা গেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার
মারা গেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালেই এলো মর্মান্তিক খবর।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। গোয়ায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
মারা গেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার
ইংরেজিতে কনটেন্ট করায় স্বামীর বকা, উৎসাহ দিয়ে ভিডিও শেয়ার করলেন প্রিয়াঙ্কা
ইংরেজিতে কনটেন্ট তৈরি করায় স্বামীর বকা খেতেন ভারতের উত্তর প্রদেশের যশোদা লোধি। তবে স্বামীর সেই আপত্তি উপেক্ষা করে ইংরেজি শেখানোর ভিডিও বানিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
ইংরেজিতে কনটেন্ট করায় স্বামীর বকা, উৎসাহ দিয়ে ভিডিও শেয়ার করলেন প্রিয়াঙ্কা
আরও পড়ুন
সিনেমাকেও হার মানায় নানার জীবন, ৩৫ রুপি থেকে ৮০ কোটির মালিক
গোয়ার ফ্ল্যাটে শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল নানা পাটেকারের, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
মৃত্যুর আগে শেষ অনুষ্ঠানে যা বলেছিলেন নানা পাটেকার