
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা দীর্ঘক্ষণ সিপিআর দিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
নানা পাটেকারের মৃত্যুতে শুধু বলিউড বা মারাঠি সিনেমা নয়, ভারতীয় অভিনয়জগতেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তবে অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই অভিনেতা। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের খরাপীড়িত কৃষক ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তিনি পেয়েছেন আলাদা পরিচিতি।
২০১৫ সালে অভিনেতা মকরন্দ অনাসপুরের সঙ্গে মিলে NAAM Foundation প্রতিষ্ঠা করেন নানা পাটেকার। কৃষক আত্মহত্যা, খরা, জলসংকট ও গ্রামীণ দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে কাজ করাই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ অবশ্য হঠাৎ করে শুরু হয়নি। মহারাষ্ট্রের খরাপীড়িত কৃষক পরিবারগুলোর দুর্দশা দেখে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু করেছিলেন নানা ও মকরন্দ। পরে সেই ব্যক্তিগত উদ্যোগই সাংগঠনিক রূপ নেয়।
সময়ের সঙ্গে NAAM Foundation-এর কার্যক্রমও বিস্তৃত হয়। কৃষক পরিবারকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি জল সংরক্ষণ, জলাধার ও খাল পুনরুজ্জীবন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষিনির্ভর মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ শুরু করে সংগঠনটি।
নানা পাটেকারের কাছে কৃষকের পাশে দাঁড়ানো ছিল শুধু তাৎক্ষণিক সাহায্যের বিষয় নয়। জলসংকট ও কৃষকের দুর্দশার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাই তার সমাজসেবার বড় অংশজুড়ে ছিল পানি সংরক্ষণ ও গ্রামীণ উন্নয়ন।
অভিনয়জগতেও নানা পাটেকার ছিলেন স্বতন্ত্র এক নাম। প্রচলিত অর্থে নায়ক না হয়েও নিজের অভিনয়গুণে অসংখ্য চরিত্রকে নায়কোচিত করে তুলেছেন তিনি। কখনও তার কণ্ঠে ফুটে উঠেছে রাগ, কখনও প্রতিবাদ, আবার কখনও অসহায় মানুষের আর্তি। বাস্তব জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার ছাপ তার অভিনয়কে দিয়েছে আলাদা গভীরতা।
অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক ও লেখক হিসেবেও কাজ করেছেন নানা পাটেকার। সেনাবাহিনীর সঙ্গেও তার ছিল বিশেষ সম্পর্ক। তবে কৃষক ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক ভূমিকা তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
তাই নানা পাটেকার চলে যাওয়া শুধু একজন শক্তিমান অভিনেতার বিদায় নয় একই সঙ্গে একজন সমাজসেবী ও কৃষকের অকৃত্রিম সহযাত্রীরও বিদায়। অভিনয়ের পর্দার বাইরেও মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া নানা পাটেকার এই অধ্যায়ই হয়তো তাকে দীর্ঘদিন আলাদা করে মনে রাখার অন্যতম কারণ হয়ে থাকবে।
আরটিভি/এসকে


