ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:১৬ এএম

বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলা সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি, গীতিকার, সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। ১৯৭০ দশকের শেষ লগ্ন থেকে অমৃত্যু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পসহ সঙ্গীত শিল্পে সক্রিয় ছিলেন।

আজ মঙ্গলবার ভোরে তিনি রাজধানীর আফতাবনগরে নিজ বাসায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৭৮ সালে মেঘ বিজলি বাদল ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। তিনি স্বাধীনভাবে গানের অ্যালবাম তৈরি করেছেন এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আব্দুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনক চাঁপাসহ বাংলাদেশি প্রায় সকল জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। তিনি নিয়মিত গান করেন ১৯৭৬ সাল থেকে।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেন। চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করে দুই বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, এগারো বার বাচসাস পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার পান।

বুলবুলের অসংখ্য গানের মধ্যে আজকের প্রেক্ষপটে উল্লেখ করতে হয়- ‘আমার সারাদেহ খেয়ো গো মাটি, চোখ দুটি মাটি খেওনা না।’

আমৃত্যু তিনি সঙ্গীত রচনা, সুর ও পরিচালনা করে বাংলা সঙ্গীত জগতে যে অবদান রেখেছেন, তা কোনও দিন শোধ হবার নয়।

আজ মাটির নিচে চলে গেছেন তিনি। মাটি তার সারা দেহই খেয়ে ফেলবে, চোখও। তার রেখে যাওয়া বাংলা সঙ্গীত জগৎ মানুষ কিভাবে আগলে রাখে সেটি যেনো পরপারে থেকেও তিনি দেখতে পান সে কামনা তার ভক্তদের।

অসংখ্য গানে সুর করেছেন বুলবুল যার অধিকাংশ গানই তার নিজের রচিত। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গান হলো-

সব কটা জানালা খুলে দাও না, মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে, সেই রেল লাইনের ধারে, ও আমার আট কোটি ফুল দেখ গো মালি, মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেব না, একতারা লাগেনা আমার দোতারাও লাগে না, আমার সারাদেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যেখানে, আমার বাবার মুখে, আমি তোমারি প্রেমও ভিখারি, ও আমার মন কান্দে, আইলো দারুণ ফাগুনরে, আমার একদিকে পৃথিবী একদিকে ভালোবাসা, আমি তোমার দুটি চোখে দুটি তারা হয়ে থাকবো, আমার গরুর গাড়িতে বৌ সাজিয়ে, পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমারই ছোঁয়াতে যেন পেয়েছি , তোমায় দেখলে মনে হয়, ঐ চাঁদ মুখে যেন লাগে না গ্রহণ, কোন ডালে পাখিরে তুই বাঁধবি আবার বাসা, একাত্তুরের মা জননী কোথায় তোমার মুক্তিসেনার দল, বিদ্যালয় মোদের বিদ্যালয় এখানে সভ্যতারই ফুল ফোটানো হয়,পৃথিবীতো দু দিনেরই বাসা, দু দিনেই ভাঙে খেলাঘর, আমার দুই চোখে দুই নদী।

আরো পড়ুন:

জেএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নতুন বছর নিয়ে কী ভাবছেন তারকারা
রাত পোহালেই নতুন বছরের আগমন। বিদায় ২০১৯। স্বাগত ২০২০ সাল। পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছর নিয়ে কী ভাবছেন তারকা। ভক্তদের এ নিয়ে জানার কৌতূহল তো থেকেই যায়। আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য তেমনি কয়েকজন জনপ্রিয় তারকার পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছে। চলুন পাঠক জেনে নেয়া যাক আপনার প্রিয় তারকার ভাবনা।        আব্দুন নূর সজল গেল বছর কম কাজ করেছি। সব পছন্দনীয় কাজ ছিল। ১২ বছর পর মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছি। এটা ভালো লাগার। বঙ্গবন্ধু বিপিএল টুর্নামেন্টকে ঘিরে ঢাকা প্লাটুনের থিম সং করেছি। এছাড়া জীন মুভিতে কাজ করেছি। ফেব্রুয়ারির কোনও এক সময় মুক্তি পাবে ছবিটি। বছরের শেষে বিগ বাজেটের একটা ওয়েব সিরিজে কাজ করেছি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেশ ভালো ছিলাম।  ভক্তদের জন্য বলবো নতুন বছরে কম কাজ করব। বাছাই করে কাজ করব। আসলে বছরের সংখ্যাটা বড় কথা না কাজ, চিন্তাভাবনাটাই আসল।   ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ে নিয়ে তিনি বলেন, জীবনের সঙ্গে এখনও কেউ জড়ায়নি। হুট করে কিছু করব না। কিছু ঘটলে সবাইকে জানিয়ে ঘটাবো। সাদিকা পারভিন পপি গতকাল ফিল্ম ক্লাবের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছি। ৩৯০ ভোটের মধ্যে প্রায় ৩৫০ পেয়েছি। গেল বছর ফিল্ম-অভিনয় নিয়ে ভালোই কেটেছে। নতুন বছরের ভাবনা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে নিয়ে। হলের সংখ্যা কমে গেছে। এছাড়া অনেক ছবি চলছে না কোন্দল ও নোংরা পলিটিক্সের কারণে। গণ্ডগোল না করে চলচ্চিত্র কীভাবে বাঁচবে এদিকে সবাই খেয়াল করব। কাজ নিয়ে তিনি বলেন, ভালো কাজ আসবে, ভালো কাজ করব। আমি আমার ক্যারিয়ারে কম টাকার কাজ ও নিম্ন কাজ করিনি। আশা করি সুস্থ ও সুন্দর বছর পার করব।   সাজু খাদেম গত বছর ২০১৯ সালের মতো কাটল, নতুন বছর ২০২০ সালের মতো কাটবে। ২০১৯ সালে অনেক কাজ করেছি। ২০২০ সালে কিছু চমক নিয়ে আসব। ভক্তদের অপেক্ষা করতে বলবো। আসলে বছর কাউন্ট করে তো কিছু হয় না। আমার মনে হয় প্রতিটা দিন মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ সেটা যদি আমি কাজে লাগাতে পারি তাহলে দর্শকরা আমাকে আরও ভালোবাসবেন। আর দর্শকরা সময়টা কাজে লাগালে জীবন সমৃদ্ধির দিকে যাবে। সাঈদ বাবু ২০১৯ সালে আমার জন্য সুখের ছিল। নাটক করেছি বেশ কিছু।  ‘ন ডরাই’ সিনেমা ছিল আমার চমক। এই সিনেমায় অনেক পরিশ্রম করেছি। ২০২০ সালে আরও ভালো কাজ উপহার দেবো। ইতোমধ্যে কয়েকটা সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছি। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে বসবো। তারপর ফলাফল জানাবো। আশা করছি ভক্তরা সুখবর পাবেন। জিএ/এম   
নতুন বছর নিয়ে কী ভাবছেন তারকারা
আল্লাহ ভাগ্যে যা রেখেছেন তাই হবে: সুজানা জাফর
দেশীয় শোবিজের অনিন্দ্য সুন্দরী মডেল-অভিনেত্রী সুজানা জাফর। বিজ্ঞাপন ও নাটকে একটা সময় টানা ব্যস্ত সময় পার করেছেন তিনি। তার অভিনীত বেশির ভাগ মিউজিক ভিডিও হয়েছে দর্শক নন্দিত। কিন্তু হাল সময়ে শোবিজ থেকে দূরে রেখেছেন নিজেকে। প্রায় দুই বছরের বিরতি ভেঙে গেল ঈদে একটি টেলিছবিতে অভিনয় করেন সুজানা জাফর। এই মুহূর্তে কী করছেন দর্শকপ্রিয় এই তারকা, তাকে নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের কমতি নেই। সুজানার হালচাল জানাচ্ছেন আরটিভি অনলাইনের বিনোদন প্রতিবেদক গাজী আনিস।  বর্তমান ব্যস্ততা আজ (৫ নভেম্বর) দেশে ফিরলাম। ব্যবসার কাজে দুবাই ছিলাম। আমার ‘সুজানাস ক্লোজেট’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ পণ্য দেশের বাইরে থেকে সংগ্রহ করি। এছাড়া বিভিন্ন বিজনেস এক্সপোতে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পণ্যের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যস্ত আছি। কিছুদিন আগে চট্টগ্রামে ওয়েডিং এক্সপোতেও প্রদর্শনী করেছি। সামাজিক কাজ প্রতিবন্ধী, এতিম শিশু ও বৃদ্ধাশ্রমের মানুষদের নিয়ে আমি কাজ করি। তারা আমার পরিবারের সদস্যদের মতো। পাঁচ-ছয় বছর ধরে আমি এই কাজ করছি। যখন মন চায় তাদের সান্নিধ্যে চলে যাই। বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট না করে আমি এসব মানুষদের সঙ্গে সময় পার করি। যখন তাদের কাছে যেতে দেরি হয় অনেকে আমাকে কল করেন, খোঁজ নেন। ঈদ, জন্মদিনের অনুষ্ঠান, বৈশাখের অনুষ্ঠানসহ বড় বড় উৎসবের দিনগুলোও আমি তাদের সঙ্গ দেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাজধানীর বনানীতে ‘সুজানাস ক্লোজেট’ নামে আমার একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। এখানে ইউনিক ইউনিক পণ্য পাওয়া যায়। অধিকাংশ পণ্য দেশের বাইরে থেকে সংগ্রহ করি। দুবাইতে নিজের ডিজাইনের অনেক পণ্য প্রস্তুত করি, তারপর দেশে নিয়ে আসি।  সবশেষ অভিনয় ‘থাকো মেঘ হয়ে’ টেলিছবিতে সবশেষ কাজ করেছি। বিপরীতে ছিলেন ইরফান সাজ্জাদ। পরিচালনা করেছেন মাহমুদুর রহমান হিমি। গেল ঈদের কাজ এটি। ফেসবুক বিড়ম্বনা গত ১৬ অক্টোবর তারিখ ঢাকায় আসি। মেবি ওইদিন কেউ ফেসবুক আইডি হ্যাক করে। ১৭ তারিখ ঘুম থেকে জেগে দেখি আইডি হ্যাক হয়েছে। রাত একটা থেকে সাতটা পর্যন্ত কেউ ঘাঁটাঘাঁটি করেছে, ইমেইলে নোটিফিকেশন দেখতে পাই। মিরপুর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। নতুন একটি ফেসবুক আইডি ওপেন করেছি। পরিচিত অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মিডিয়ায় ফেরা ব্যবসা নিয়ে বেশকিছু পরিকল্পনা আছে। ব্যবসার কাজে ইদানীং বেশি ছোটাছুটি করছি। একটু ফ্রি হয়ে আগামী বছর আবার কাজে ফিরব। বিয়ে ভাবনা বিয়েশাদি নিয়ে কখনও চিন্তা করি না। জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে আল্লাহর হাতে। হুকুম যখন হবে পৃথিবীর কেউ আটকাতে পারবে না। কোনও মেয়ে জীবনেও বলবে না বিয়ে করব না। প্রতিটি মেয়ে চায় সংসার হবে, বাচ্চা হবে। আমি যতই চাই সেটা তো আমার মর্জি মতো হবে না। অভিভাবকরা যখন বলবেন, আল্লাহর হুকুম না হলে হবে না। এখন যদি আমি কাউকে পছন্দ করি, বিয়ে করতে চাই, আমি যতই চেষ্টা করি না কেন বিয়ে হবে না।  অনেকেই পরিকল্পনা করে বিয়ে কীভাবে হবে, কী পরব এসব নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবি না। বিয়ে করলেও কখনও বড় করে অনুষ্ঠান করব না। টাকা নষ্ট না করে আমি যাদের নিয়ে কাজ করি- এতিমখানার এতিম, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধাশ্রমের মানুষদের নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করব। এটা আমার মনের ইচ্ছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ নিয়েও খুব একটা ভাবি না। বর্তমান নিয়েই ভাবনা। মহান আল্লাহ তায়ালা ভাগ্যে যা রেখেছেন তাই হবে। তবে একটাই চাওয়া যেন বাকি জীবনটা মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারি। জিএ
আল্লাহ ভাগ্যে যা রেখেছেন তাই হবে: সুজানা জাফর
নিজের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই প্রবীর মিত্রের (ভিডিও)
বরেণ্য চলচ্চিত্র অভিনেতা প্রবীর মিত্র। সেই ৬০'র দশক থেকে অভিনয় জগতে তার নিয়মিত পদচারণ। ৫০ বছরের বেশি সময়ে ৩০০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। জীবনের এই প্রান্তে এসে বেশ অসুস্থ তিনি। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। হাঁটুর ব্যথায় জন্য লাঠিতে ভর দিয়ে চলাচল করতে হয়। চার দেয়ালের মাঝে পত্রিকা পড়ে, বই পড়ে, টিভি দেখে সময় কাটে তার। সম্প্রতি আরটিভি অনলাইনের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন বাংলার মানুষের প্রিয় এই অভিনেতা। বলেছেন জীবনের অনেক প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির কথা। অভিনেতার কাছে সুখের সংজ্ঞাটা বেশ ছোট। অল্পতেই সুখী থাকতে চেয়েছেন তিনি। জীবন চলার পথে সামান্য যা পেয়েছেন তাই নিয়ে  সুখী হয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ব্যক্তি জীবনে চাওয়া পাওয়া কম ছিল, অল্পতে সন্তুষ্ট থাকতে চেয়েছি, তাতেই সুখী হয়েছি। চার সন্তানের জনক প্রবীর মিত্র। প্রতিটি ছেলে মেয়েই মাস্টার্স পাস করেছেন। সবাই ভালোভাবে জীবনযাপন করছে। এ প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া ও তাদের মানুষ হবার পেছনে শতভাগ কৃতিত্ব স্ত্রী অজন্তা মিত্রর। কারণ শুটিং এর ব্যস্ততার জন্য কোনোদিনই ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার প্রতি নজর দেবার সময় পাইনি। স্ত্রীর কথা ছিল সবাইকে মাস্টার্স শেষ করতে হবে। আর তিনি তাই করেছেন।  এর জন্য আমি গর্ববোধ করি। প্রবীর মিত্র প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। তবে তার স্ত্রী অজন্তা মুসলিম ধর্মের অনুসারী। এ বিষয়ে পরিবার থেকে কোনও বাধা পেয়েছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অভিনেতা বলেন, পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয়েছে। অজন্তা ছেলে-মেয়েদের মুসলিম রীতিতেই মানুষ করেছে। এই বিষয়ে আমার কোনও আপত্তি ছিল না। অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিনেতা বলেন, স্টেজে অনেকদিন অভিনয় করেছি। বিভিন্ন চরিত্রে কাজ করেছি। দেখা যেত একটা চরিত্রের অভিনেতা উপস্থিত হননি, তখন আমি সেই চরিত্রে কাজ করেছি, প্রক্সি দিয়েছি। এতে করে পরবর্তী জীবনে অনেকগুলো চরিত্রে অভিনয় করার ট্রেন্ড ওখান থেকে রপ্ত করতে পেরেছি। --------------------------------------------------------------- আরো পড়ুন: ভেঙে যাচ্ছে সিদ্দিক-মিমের সংসার --------------------------------------------------------------- তরুণ প্রজন্মের অভিনয়ের কথা উল্লেখ করে অভিনেতা বলেন, এখন অভিনেতাদের মধ্যে সিরিয়াসনেসের অভাব। আন্তরিকতার অভাব। যাই কিছু করি সেটা আন্তরিকভাবে করতে হবে, যেন মানুষের হৃদয়ে জায়গা পায় এমনভাবে কাজ করা উচিৎ। জনপ্রিয়তার মুহূর্ত স্মৃতি চারণ করে অভিনেতা বলেন, এক সময় অটোগ্রাফ দিতাম। ব্যস্ততা থাকলে পরে আসতে বলতাম। তাতে ভক্তরা খুশি হতো। সেগুলো তারা সযত্নে রেখে দিতো। এ অভিনেতা এখন বার্ধক্য নিয়ে সময় পার করছেন। বার্ধক্যের প্রস্তুতি বিষয়ে তিনি বলেন, বার্ধক্য তো আপনা-আপনি আসে। এক সময় শরীর অকেজো হয়ে যায়। মস্তিষ্ক অকেজো হয়ে যায়, মানুষের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হয় না। এজন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। সহকর্মীদের দেখাসাক্ষাৎ পান না অভিনেতা। সে প্রসঙ্গে বলেন, অনেক কিছুই খারাপ লাগে। আগে সবার সঙ্গে দেখা হতো কথা হতো। এখন মাসের পর মাস অনেকের সঙ্গে দেখা হয় না, কথা হয় না। কখনও কখনও টেলিফোনে কথা হয়। এটা কষ্ট দেয়, পীড়া দেয়। আমারও দেখতে ইচ্ছে হয়, তাদেরও দেখতে ইচ্ছে হয়, তবে হয়ে ওঠে না। যাই হোক, সবকিছু মেনে নিতে হয়। নবীনদের উদ্দেশে অভিনেতা বলেন, যাই করবে খুব সিরিয়াসলি করবে। হুট করে আসলাম, তারপর হুট করে চলে গেলাম এমন করলে হবে না। কাজকে সিরিয়াসলি নিতে হবে, চিন্তাভাবনা করতে হবে। তাড়াহুড়ো করলে হবে না। শেষ জীবনে কাদের বেশি মনে পড়ে এমন প্রশ্নের জবাবে অভিনেতা বলেন, স্ত্রী অজন্তা মিত্র ও ছেলে আকাশের মৃত্যু প্রায়ই কষ্ট দেয়। বাড়িতে একা থাকলে তাদের কথা বেশ মনে পড়ে। আকাশ হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ছেলেটা লেখাপড়ায়, দেখতে ও কথায় ছিল খুবই ভালো। আমি ওর জন্য সব সময় দোয়া করি ও যেনো ভালো থাকে। প্রবীর মিত্র সেগুনবাগিচায় বড় ছেলের সঙ্গে থাকেন। এক সময় যে পৈত্রিক বাড়ি ছিল সে কথা ভুলতে পারেন না। পূর্বপুরুষ জমিদার হওয়ায় অনেক বড় বাড়িতে তার শৈশব কেটেছে। কিন্তু এখন এই ছোট্ট ভাড়া বাসায় নিজেকেও ছোট মনে হয় তার। এই শহরে নিজস্ব মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই তার। কষ্ট হলেও অপেক্ষায় আছেন প্রশান্তির। জিএ/এম  
নিজের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই প্রবীর মিত্রের (ভিডিও)
আমাদের চিন্তায় ও কর্মে শৃঙ্খলার অভাব: সালাউদ্দিন লাভলু
বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা ‘সাপলুডু’ মুক্তি পেয়েছে গেল ২৭ সেপ্টেম্বর।  ঢাকা ও ঢাকার বাইরের হলগুলো প্রায় প্রতিদিন হাউজফুল হচ্ছে। এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নন্দিত অভিনেতা ও নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু। গোয়েন্দা অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। সাপলুডুসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা হয়েছে আরটিভি অনলাইনের সঙ্গে। আরটিভি অনলাইন:  কেমন আছেন?  সালাউদ্দিন লাভলু: ভালো আছি। আরটিভি অনলাইন:  আপনার বাহ্যিকভাবে কোনও পরিবর্তন দেখা যায় না, সবসময় চির তরুণ মনে হয় রহস্য কী? সালাউদ্দিন লাভলু: বাহ্যিকভাবে ও মানসিকভাবে আমি এক। মানুষের যত বেশি বয়স বাড়ে ততবেশি সে ছোট হয়ে যায়। মানসিকভাবে মানুষ সবসময় ছোটবেলার মন নিয়ে থাকে। আরটিভি অনলাইন: আপনার ‘সাপলুডু’ ছবিটা মুক্তি পেয়েছে। দর্শক আপনার অভিনয়ের প্রশংসা করছে, আপনি হলে গিয়ে ছবিটি দেখেছেন, কেমন মনে হয়েছে? সালাউদ্দিন লাভলু: দর্শকদের দারুণ সাড়া ছিল। হলে পিনপতন নিস্তব্ধতা ছিল। টিকিট কেটে দেখার মতো সিনেমা। এক নিশ্বাসে দেখার মতো ছবি এটা। একটি পরিপূর্ণ ছবি। যারা বলছেন বাংলাদেশের ছবি কেন ভালো হয় না তারা হলে এসে ছবিটি দেখবেন। আরটিভি অনলাইন:  আপনাকে অনেক মানুষ ভালোবাসে, আপনার ভক্তদের সংখ্যাও অনেক, কেমন লাগে? সালাউদ্দিন লাভলু: একটা মানুষের জীবনের চাওয়াটা হচ্ছে মানুষের ভালোবাসা পাওয়া। যে যেখানেই থাকুক, আমরা যেখানে কাজ করি না কেন আমাদের সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে মানুষের ভালোবাসা পাওয়া। সে কাজটি যদি কর্মের ফল হয় তাহলে তো ভালো লাগবে। কোনও মানুষের যদি বোধ হয় আমি আমার জীবনকে এমন কিছুতে উৎসর্গ করবো যার বিনিময় কিছুই চাই না, শুধু মানুষের ভালোবাসা পাওয়া। আমার কাছে মনে হয় মানুষের ভালোবাসা হচ্ছে দোয়া। আর এই দোয়া আল্লাহ কবুল না করে পারেন না। আমি চাই এমন কিছু কাজ করে যেতে চাই যার জন্য যেন মানুষের হৃদয়ে আজীবন থাকতে চাই। আরটিভি অনলাইন:  নাটক নিয়ে কিছু বলুন সালাউদ্দিন লাভলু: অনেকদিন ধরে ভাবছি আমাদের নাটক নিয়ে। দর্শকরাও বলেন বাংলাদেশের নাটকের গৌরবময় ঐতিহ্যের কথা। কিন্তু দর্শকদেরও হাহাকার আছে আমাদেরও আছে। আমরা গৌরবময় ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছি। এমন নয় যে আমাদের বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্যে, নাটকে যারা আছেন তারা মেধাবী নয়। কিন্তু পর্দায় গিয়ে আমরা আমাদের মেধার প্রতিফলন ঘটাতে পারছি না নানান কারণে। এক কথায় একটা শৃঙ্খলার অভাব। সৃষ্টিশীল কাজের ক্ষেত্রে আমাদের চিন্তায় ও কর্মে যে শৃঙ্খলার অভাব। এটা দিন দিন র প্রকট আকার ধারণ করছে। আরটিভি অনলাইন: আপনি তো ডিরেক্টরস গিল্টের সভাপতি, এজন্য আপনারা কী ধরণের উদ্যোগ নিয়েছেন?  সালাউদ্দিন লাভলু: আমরা এজন্য চিন্তা করেছি প্রথমত শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। এজন্য আমরা সবাই একত্রিত হয়ে সংগঠনটাকে ৪-৫ বছর ধরে মজবুত করেছি। আমি ডিরেক্টরস গিল্টের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনেক গুরু দায়িত্ব পালন করছি।  আমরা যারা সরাসরি অভিনয়ের মতো সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত আছি তাদের জন্য এরকম দায়িত্ব পালন করা অনেক কষ্টের। পর্দার সামনের কাজের সঙ্গে সঙ্গে  পেছনেও কিছু কাজ করে যেতে চাই যেন পর্দাটা সুন্দর হয়। জিএ/এম    
আমাদের চিন্তায় ও কর্মে শৃঙ্খলার অভাব: সালাউদ্দিন লাভলু
‘আমরা ভালো বাজার করেছি, রেঁধেছি’
বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত এ বছরের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা ‘সাপলুডু’ মুক্তি পাচ্ছে ২৭ সেপ্টেম্বর। সুদর্শন নায়ক আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত ছবিটি নিয়ে হৈচৈ চলছে। ‘সাপলুডু’ নিয়ে আশাবাদী ছবির পরিচালক থেকে শুরু করে শিল্পী কলাকুশলী সবাই। এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা জাহিদ হাসান। আরটিভির এক সাক্ষাৎকারে ছবিটি নিয়ে দর্শকদের আশার বাণী শুনালেন তিনি। আরটিভি অনলাইন:  কেমন আছেন? জাহিদ হাসান: ভালোই আছি। আরটিভি অনলাইন: ২৭ তারিখ সাপলুডু মুক্তি পাচ্ছে, অনুভূতি কেমন? জাহিদ হাসান: নতুন বেবি আসার আগে মায়েদের যেমন আশা-আকাঙ্ক্ষা থাকে। আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা তেমন। প্রত্যেকটা ডিরেক্টর ও শিল্পীর জন্য একই অনুভূতির। আরটিভি অনলাইন: ছবিটা নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কেমন? জাহিদ হাসান: আমার বিশ্বাস ছবিটা ভালো হবে। পরিচালক গোলাম সোহরাব দোদুল যখন আমাকে ছবির গল্প শুনিয়েছে আমি বলেছি ভালো হবে। আমরা যেটা বলি ছবিটা হিট করবে। আমি এটাই বলেছিলাম। আশা করছি তাই হবে। আরটিভি অনলাইন: সাপলুডু ছবিটা কী ধরণের উত্থান-পতনের গল্পে নির্মিত? জাহিদ হাসান: আমাদের সবার জীবনে অনেক উত্থান-পতন থাকে। মানুষের অনেক স্বপ্ন থাকে। আমার কাছে মনে হয়েছে প্রত্যেকের জীবনটা সাপলুডুর মতো। এই ভেবে পরিচালক এরকম নাম দিয়েছেন। এখানে চেষ্টা আছে, আনন্দ বেদনা আছে, আশা-আকাঙ্ক্ষা আছে। এটা পরিবারের গল্প। আরটিভি অনলাইন: পরিচালক গোলাম সোহরাব দোদুলের সঙ্গে কাজ করে কেমন লেগেছে? জাহিদ হাসান: পরিচালক আমাদের পরিবারের ছেলে। ওর সবচেয়ে ভালো গুণ হলো ও একজন ভালো পরিচালক আর সবাইকে সম্মান করে। ও রাগ-অভিমান সবগুলো নিতে পারে। আশা করছি  ভালো করবে, নতুন ছবি নিয়ে অনেক চেষ্টা করছে। আরটিভি অনলাইন: এই সিনেমার টিমটা কেমন ছিল? জাহিদ হাসান: সবাই আন্তরিক। সবাই কাজকে গুরুত্ব দিয়েছে। এই টিমের ডিরেক্টর ফটোগ্রাফিতে যে ছিল তার নাম রাজু রাজ। কাজের সময় ওর পরিবারের একটা সমস্যা চলছিল। তারপরেও কাজ করেছে। আমরা সবাই মিলে তার সঙ্গে বসেছি। সান্ত্বনা দিয়েছি। একে অপরের সহযোগিতা করেছি। আরটিভি অনলাইন: দর্শকরা সিনেমাটি কতটুকু নিতে পারবেন? জাহিদ হাসান: ধরুন, রাঁধুনি ভালো রান্না করলেন। হঠাৎ করে মনে হলো লবণ দেইনি, আরেকটু ভালোভাবে আঁচ দিলে ভালো হতো। আমরা ভালো বাজার করেছি, রেঁধেছি। তারপরেও যদি একটু সমস্যা থাকে ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে আমাদের যদি এগিয়ে নেন দেশের জন্য ভালো হবে, চলচ্চিত্রের জন্য মঙ্গল হবে। আরটিভি অনলাইন:  আমাদের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে কেমন দেখছেন? জাহিদ হাসান: আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচালক, প্রযোজক, সিনেমা হল সবকিছু একটার সঙ্গে আরেকটা পেঁচিয়ে আছে। একজন আরেকজনকে সহযোগিতা না করলে হয় না। ছোট বেলায় বিয়ের গেট ধরে যে টাকা পেতাম তা নিয়ে দলবেঁধে ঈদের সিনেমা দেখতে যেতাম। আমাদের মধ্যে একটা উৎসবের আমেজ ছিল। এখন তো সেই উৎসবের মনোভাব নেই।  এটা হয় অনেক কারণে, হয়তো ভালো ছবি আসছে না, দলবেঁধে যে ছবি দেখব, আলোচনা করব এরকম ছবি হচ্ছে না। একটার সঙ্গে একটা মিল রেখে করলে সব ঠিক হয়ে যাবে। এজন্য কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতে হবে। আমি কাউকে একক দোষ দিতে চাচ্ছি না, পারস্পারিক দোষ দিচ্ছি। আমাদের দেশের অনেকেই দেশের বাইরে গিয়ে ছবি করছেন। আমরা চাইলে ভালো কিছু করতে পারব। আরটিভি অনলাইন: ছবিটি নিয়ে দর্শকদের উদ্দেশে কী বলবেন? জাহিদ হাসান: আমি দর্শকদের বলতে চাই উপরে আল্লাহ আর নিচে আপনারা এজন্য আমি আজকের এই অবস্থানে। আমার অনুরোধ যাই করি সব আপনাদের জন্যে। ভুল মানুষের হয়, শয়তানের ভুল কম হয়। আমরা নিজেদের মানুষ মনে করি। আপনাদের জন্যে ছবিটা করেছি। সবাই দেখবেন। আমরা খুশি হব। জিএ  
‘আমরা ভালো বাজার করেছি, রেঁধেছি’
আরও পড়ুন
ন্যান্সি-রিজভী ওয়াহিদের নতুন গান
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল স্মরণে রিজভী ওয়াহিদ
বিয়োগ ব্যথা আমি নিতে পারছি না: সালমা
বুলবুল ও আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ ৩০ হাজার কণ্ঠে