ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

মুসলিমদের থেকে হিন্দুরাই বেশি গরু খায়: অভিনেত্রী ঝিলিক

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
ঝিলিক’খ্যাত অভিনেত্রী তিথি বসু। ছবি: সংগৃহীত

প্রকাশ্যে গরুর মাংস খাওয়ার কথা বলে বিতর্কে জড়িয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এরই মধ্যে অভিনেতার সমর্থনে কথা বলে বিতর্কে জড়িয়েছেন ‘মা’ ধারাবাহিকের জনপ্রিয় চরিত্র ‘ঝিলিক’খ্যাত অভিনেত্রী তিথি বসু।

সম্প্রতি বাংলাদেশে আতিথেয়তা ও খাবারের প্রশংসা করে একটি সাক্ষাৎকারে কথা বলেন বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। সেখানে ঢাকার গরুর মাংস ও ইলিশের প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা জানান তিনি। ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার মুখে পড়েন এই অভিনেতা।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্বজিতের পাশে দাঁড়িয়ে একটি ভিডিও বার্তা দেন তিথি বসু। সেখানে তিনি বলেন, বিশ্বজিৎ কাকু একজন সিনিয়র অভিনেতা এবং মানুষ হিসেবেও অসাধারণ। নিজের সততা থেকেই তিনি সত্যি কথাটি বলেছেন। বাংলাদেশে গিয়ে কে কী খাবেন বা খাবেন না, সেটি একান্তই ব্যক্তিগত বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিথি আরও দাবি করেন, কলকাতার চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনের অনেকেই আড়ালে-আবডালে কিংবা প্রকাশ্যেই গরুর মাংস খান। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের ধারাবাহিকেও এমন অনেক ব্রাহ্মণ শিল্পী-অভিনেতা ছিলেন, যারা সেটে বসে গরুর মাংস নিয়ে গল্প করতেন।

অভিনেত্রীর দাবি, কলকাতার বিভিন্ন জনপ্রিয় জায়গায় গরুর মাংস বিক্রি হলে সেখানে অনেক হিন্দুকেও যেতে দেখেছেন তিনি। ২০১০ সাল নাগাদ বহু জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও চ্যানেল কর্মকর্তাকেও বিফ খেতে যেতে দেখেছেন বলে জানান তিথি।

এরপরই আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেন ‘ঝিলিক’খ্যাত এই অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, প্রচুর মানুষ গরুর মাংস খান এটাই বাস্তব। এমনকি মুসলিমদের তুলনায় হিন্দুরাই বেশি বিফ খান বলেও দাবি করেন তিনি। যারা প্রকাশ্যে এ কথা বলেন না, তাদের মধ্যেও অনেকে গোপনে গরুর মাংস খান বলে মন্তব্য করেন তিথি।

তিনি আরও বলেন, কার কী ধর্ম বা খাদ্যাভ্যাস, সেটি একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। একজনের খাদ্যাভ্যাস অন্য কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলেও মত দেন তিনি।

তিথির এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক। কেউ তার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ খাদ্যাভ্যাসকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখার পক্ষে মত দিয়েছেন। অনেকে তার মন্তব্যকে ‘অপরিণত’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।

এদিকে, গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আমার পেট, আমার মন, আমার হাত আবার খাবার যে খাব, সে জন্য যে টাকা খরচ হবে, সেটাও তো আমারই! তাহলে আমি কী খাব, কতটা খাব সেটা ঠিক করে দেবে অন্য কেউ? বললেই হলো নাকি?

বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ৪ তারিখ গিয়েছিলাম বাংলাদেশ। ৫ তারিখ দেশে ফিরেও এসেছি। ওইটুকু তো সময়। যাই হোক, আমার এক বোনের জন্মদিনের অনুষ্ঠান উপলক্ষেই গিয়েছিলাম। যেমন আতিথেয়তা পেয়েছি, আমি অভিভূত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষের পর আইনি পদক্ষেপের বিষয়েও কথা বলেন বিশ্বজিৎ। তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনি মামলা করেছেন। বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন হওয়ায় এ নিয়ে আর বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না বলেও জানান বর্ষীয়ান এই অভিনেতা।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বয়স হলেই বিয়ে করতে হবে, মানতে নারাজ কৌশানি
বেশ কয়েক বছর ধরে অভিনেতা বনি সেনগুপ্তের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন ভারতের টালিউড অভিনেত্রী কৌশানি মুখোপাধ্যায়।
বয়স হলেই বিয়ে করতে হবে, মানতে নারাজ কৌশানি
তৃণমূল ছেড়ে রাজ্যসভায় বিজেপির প্রার্থী হলেন কোয়েল মল্লিক
সকল জল্পনার অবসন ঘটিয়ে ভারতের রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য রোববার (৪ অক্টোবর) বিজেপি প্রার্থী হিসেবে নাম এলো টিলিউড নায়িকা কোয়েল মল্লিকের।
তৃণমূল ছেড়ে রাজ্যসভায় বিজেপির প্রার্থী হলেন কোয়েল মল্লিক
ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারেন না ‘দুষ্টু কোকিল’
অভিনেত্রী হিসেবে ক্যারিয়ারে দীর্ঘ সময় পার করলেও নতুন সিনেমার শুটিং শুরুর আগে অজানা এক ভয় কাজ করে দুষ্টু কোকিল খ্যাত ভারতের টালিউড নায়িকা মিমি চক্রবর্তীর মনে।
ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারেন না ‘দুষ্টু কোকিল’
রাজের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত ‘ভুল’ ছিল না: পরীমণি
২০২১ সালে বিয়ে করার পর ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হয়ে যান শরীফুল রাজ ও চিত্রনায়িকা পরীমণি। তবে সম্প্রতি রাজ নিয়ে পরীমণির একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার নতুন করে স্যোশাল মিডিয়ায় আলোচনায় এসেছে।  জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’-তে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে পরীমণি তার অতীত সম্পর্ক, বিচ্ছেদ এবং সাবেক স্বামী শরীফুল রাজকে নিয়ে নানা খোলামেলা মন্তব্য করেন।  এসময় বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, রাজের সঙ্গে বিয়ে বা তার জীবনের কোনো সিদ্ধান্তকেই তিনি ‘ভুল’ মনে করেন না। জীবনের প্রতিটি ঘটনাকেই তিনি একেকটি অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখেন।  তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে অন্যান্য প্রাক্তনের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার সময়েও অসৌজন্যমূলক পরিস্থিতি কিংবা আত্মসম্মানে আঘাত লাগার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে সুন্দরভাবে বিচ্ছেদ ঘটেছিল, যাতে ভবিষ্যতে কোথাও দেখা হলে মুখোমুখি হতে কোনো অস্বস্তি না থাকে।  তবে প্রাক্তন স্বামী শরীফুল রাজের বিষয়টি একদম ভিন্ন ছিল বলে জানান এই আলোচিত নায়িকা।  আক্ষেপের সুরে পরী বলেন, যার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা পাওয়ার কথা ছিল, সেই প্রাক্তনের কাছ থেকেই তিনি সবচেয়ে বেশি অপমানিত হয়েছেন। অথচ বিচ্ছেদটি আরও অনেক সুন্দর ও সম্মানজনক হতে পারত বলেই তিনি মনে করেন।  ২০২১ সালে বিয়ে করার পর ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হয়ে যান শরীফুল রাজ ও পরীমণি। বিচ্ছেদের পর ছেলে শাহীম মোহাম্মদ পুণ্যকে একাই লালন-পালন করছিলেন এই অভিনেত্রী। পরবর্তীতে তিনি সাফিরা সুলতানা প্রিয়ম নামে একটি কন্যাসন্তান দত্তক নেন।  আরটিভি/এসআর
রাজের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত ‘ভুল’ ছিল না: পরীমণি
‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ খ্যাত অভিনেতা বিজয় হাসপাতালে
কালজয়ী সিনেমা ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এ ‘রইছ’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পাওয়া অভিনেতা বিজয় চৌধুরী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের সিংগাইরে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান শেষে স্ত্রী সালমা চৌধুরীকে নিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন বিজয় চৌধুরী। পরে তাকে দ্রুত জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রথমে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে আইসিইউ থেকে সাধারণ বেডে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাবার অসুস্থতার খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তার মেয়ে ফিওনা চৌধুরী। বিজয় চৌধুরীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার বাবা আবু আজাদ চৌধুরী (বিজয়) বর্তমানে অনেক অসুস্থ। তিনি এখন হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন এবং চিকিৎসাধীন। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং সব বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন।’ উল্লেখ্য, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৯৭ সালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ সিনেমাটি নির্মাণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম। এই চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে ‘রইছ’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়েন বিজয় চৌধুরী। আরটিভি/এসআর
‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ খ্যাত অভিনেতা বিজয় হাসপাতালে