ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

মাহিরা খান-ওয়াহাজ আলীর নতুন নাটকে মজেছেন দর্শক

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খান ও অভিনেতা ওয়াহাজ আলী। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিরা খান ও ওয়াহাজ আলী অভিনীত পাকিস্তানি ধারাবাহিক মিট্টি দে বাওয়ে নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তুমুল আলোচনা চলছে। নতুন পর্বগুলো প্রচারের পর গল্পের নাটকীয় মোড়, অভিনয় এবং জাতপাতের বৈষম্যের নির্মম চিত্র দর্শকদের আবেগাপ্লুত করেছে।

গ্রিন এন্টারটেইনমেন্টে প্রচারিত ধারাবাহিকটি প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার প্রচারিত হয়। এর মধ্যে সপ্তম ও অষ্টম পর্ব প্রচারের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাটকটির গল্প ও অভিনয় নিয়ে দর্শকেরা নানা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।

ধারাবাহিকটিতে বালা চরিত্রে ওয়াহাজ আলীর অভিনয় বিশেষ প্রশংসা পাচ্ছে। অন্যদিকে বিলকিস বানু ওরফে বিল্লো চরিত্রে মাহিরা খানের অভিনয়ও দর্শকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে শুধু অভিনয় নয়, জাতপাতের বিভেদ, পারিবারিক সম্মানবোধ এবং সামাজিক ভণ্ডামির কঠিন চিত্র তুলে ধরার কারণেও নাটকটি প্রশংসিত হচ্ছে।

দুই পর্বের গল্পে বড় মোড়

সপ্তম পর্বের শেষ দিকে রেলক্রসিংয়ে গোলাগুলির ঘটনায় বালার ভাই আসলাম ওরফে আচি নিহত হয়। ভাইকে হারিয়ে বালার জীবন পুরোপুরি বদলে যায়। অষ্টম পর্বে দেখা যায়, শোকাহত বালা ধীরে ধীরে কঠোর মানসিকতার বালা গুজরাতিতে পরিণত হচ্ছে। এ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সে ফাজ্জা নামের এক গ্যাংস্টারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ফাজ্জা চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহেল আহমেদ।

ভাইয়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া বালা থেকে প্রতিশোধপরায়ণ এক কঠোর মানুষ হয়ে ওঠার দৃশ্য দর্শকদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, বালা চরিত্রটি ওয়াহাজ আলীর অভিনয়ের জন্যই তৈরি হয়েছে।

বালার স্ত্রী জারিনা চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমর খান। তার অভিনয়ও ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছে। অনেক দর্শক তাকে ধারাবাহিকটির অন্যতম আলোচিত মুখ হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে জারিনার চরিত্রের পরিস্থিতি ও মানসিক টানাপোড়েনের সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করতে পারছেন।

বিল্লোকে নিয়ে দর্শকের দ্বিধা

মাহিরা খানের অভিনীত বিল্লো চরিত্রটি নিয়েও দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। চরিত্রটির মধ্যে একই সঙ্গে নির্যাতিত ও নির্যাতনকারীর বৈশিষ্ট্য থাকায় দর্শকেরা তার অবস্থান নিয়ে দ্বিধায় পড়ছেন।

কৈশোরে বালার প্রতি ভালোবাসার কারণে বিল্লোকে পরবর্তী সময়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। একপর্যায়ে তার শ্বশুর তাকে নিজের বাড়ি থেকে বের করে দেন। ধারাবাহিকটিতে ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিকতার কথা বলা হলেও কীভাবে সেগুলো ক্ষমা করার বদলে কাউকে অপমান করতে ব্যবহার করা হয়, তা-ও তুলে ধরা হয়েছে।

জাতপাত ও পারিবারিক সম্মানের সংঘাত

মিট্টি দে বাওয়ে ধারাবাহিকটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জাতপাতের বিভেদ। শাহ ও মিরাসি সম্প্রদায়ের মধ্যকার সামাজিক ব্যবধান গল্পের নানা বিশ্বাসঘাতকতা ও দ্বন্দ্বের পেছনে ভূমিকা রাখে। শাহ বলতে প্রভু বা ক্ষমতাবান শ্রেণিকে বোঝানো হয়েছে, আর মিরাসিরা বংশপরম্পরায় সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত।

বিল্লোর অতীতকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন নৈতিকতার প্রশ্ন হিসেবে নয়, বরং নিজেদের বংশের মর্যাদা রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। অন্যদিকে বালা সারাজীবন নিজের বংশপরিচয়ের সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে।

দর্শকদের একাংশের মতে, জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য, অপূর্ণ ভালোবাসা ও সামাজিক শ্রেণিবিভেদের কারণে ধারাবাহিকটির গল্পের সঙ্গে এমিলি ব্রন্টির বিখ্যাত উপন্যাস ওয়াদারিং হাইটস-এর কিছুটা মিল রয়েছে। প্রতিশোধের নেশা কীভাবে মানুষকে অন্ধ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে, সেটিও গল্পে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

সৈয়দ ওয়াজাহাত হুসাইন পরিচালিত এবং ফায়জা ইফতিখারের লেখা এই ধারাবাহিকটি তাই কেবল প্রতিশোধের গল্পে সীমাবদ্ধ থাকছে না। শক্তিশালী অভিনয় ও সাহসী গল্প বলার মাধ্যমে জাতপাত, পারিবারিক সম্মান এবং সামাজিক ভণ্ডামি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে মিট্টি দে বাওয়ে।


সূত্র: ডাউন ইমেজ


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মাকে দেখাশোনার জন্য বিয়ে করেননি, সমু চৌধুরীর জীবনে নানা মোড়
তিন দশকের বেশি সময় ধরে টেলিভিশন, মঞ্চ ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন সমু চৌধুরী।
মাকে দেখাশোনার জন্য বিয়ে করেননি, সমু চৌধুরীর জীবনে নানা মোড়
তারকাদের দুর্গোৎসব: কারও ঘোরাঘুরি, কারও মনে মায়ের শূন্যতা
শেষ হচ্ছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
তারকাদের দুর্গোৎসব: কারও ঘোরাঘুরি, কারও মনে মায়ের শূন্যতা
চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন আগামী ২০ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে। গত ৮ অক্টোবর যৌথসভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। বাচসাসের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এরফানুল হক নাহিদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত ৮ অক্টোবর বাচসাস নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দ্বিতীয় দফায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যৌথসভায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা স্থানান্তর করা হয়।  এ সময় সভায় নির্বাচন কমিশনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কমিশনার এরফানুল হক নাহিদ বলেন, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি যথাসময়ে আমাদের দায়িত্ব স্থানান্তর করেছে। এ জন্য কমিটিকে ধন্যবাদ। আমরা এই কমিটির সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব। জমজমাট এবং উপভোগ্য নির্বাচন হবে বলে প্রত্যাশা করেন ২০২৪-২৬ মেয়াদের সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ ও সাধারণ সম্পাদক রাহাত সাইফুল। যৌথভাবে তারা বলেন, নির্বাচন নিয়ে অনেকেই মুখিয়ে আছেন আগ্রহভরে। আমরা আশা করছি, সবার অংশগ্রহণে এবারও উৎসবমুখর একটি নির্বাচন হবে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাচসাস জানায়, আগামী ২০ নভেম্বর, শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। যৌথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান রতন, অর্থ সম্পাদক রুহুল সাখাওয়াত, দপ্তর সম্পাদক রুহুল আমিন ভূঁইয়া, নির্বাহী সদস্য সাজু আহমেদ প্রমুখ। এবার বাচসাস’র প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এরফানুল হক নাহিদ। কমিশনে আরও রয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ইমরুল শাহেদ, আমিনুল ইসলাম রাজু, হাফিজুর রহমান সুরুজ ও আবুল হোসেন মজুমদার। আরটিভি/টিআর
চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা
বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন ৬০ থেকে ৭০টি, ছিলেন বিবাহিত পুরুষেরাও
পাকিস্তানের রিয়েলিটি শো ‘তামাশা ৫’-এর রানারআপ এজরা আয়েশা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৬০ থেকে ৭০টি বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি। এসব প্রস্তাবের মধ্যে কয়েকজন বিবাহিত পুরুষের প্রস্তাবও ছিল।
বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন ৬০ থেকে ৭০টি, ছিলেন বিবাহিত পুরুষেরাও
শুরু হচ্ছে নতুন কুঁড়ি জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা, আবেদন যেভাবে
বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা’ আয়োজন করতে যাচ্ছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তিনটি গ্রুপে অনুষ্ঠিতব্য এ প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী ৯ জনের জন্য মোট ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিজয়ীদের ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হবে। রোববার (১৮ অক্টোবর) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপজেলা পর্যায় থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। সেখানে বিজয়ীরা জেলা পর্যায়ে, জেলা পর্যায়ের বিজয়ীরা বিভাগীয় পর্যায়ে এবং বিভাগীয় পর্যায়ের বিজয়ীরা জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। তিনটি গ্রুপে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ‘ক’ গ্রুপে ১২ বছরের কম বয়সীরা তাজবিদসহ ১০ পারা, ‘খ’ গ্রুপে ১৫ বছরের কম বয়সীরা তাজবিদসহ ২০ পারা এবং ‘গ’ গ্রুপে ১৮ বছরের কম বয়সীরা তাজবিদসহ পবিত্র কোরআনের পূর্ণ ৩০ পারা হিফজ বিভাগে অংশ নিতে পারবেন। জাতীয় পর্যায়ে প্রতিটি গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জনকারী পাবেন দুই লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দেড় লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী পাবেন এক লাখ টাকা। বিজয়ীদের ক্রেস্ট ও সনদপত্রও দেওয়া হবে। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহীদের দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জন্মনিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ সাদা কাগজে আবেদন করতে হবে। আবেদন জমা দিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা কার্যালয়ে নাম নিবন্ধন করা যাবে। নভেম্বর মাসজুড়ে নিবন্ধন চলবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শুরু হবে। আগামী বছরের এপ্রিল মাসে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিটি গ্রুপে সর্বোচ্চ পাঁচজন প্রতিযোগী অংশ নিতে পারবেন। আরটিভি/টিআর
শুরু হচ্ছে নতুন কুঁড়ি জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা, আবেদন যেভাবে