ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

যানবাহন নাকি পথচারী, জেব্রা ক্রসিংয়ে অগ্রাধিকার কার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:২৬ পিএম
প্রতীকী ছবি

সড়ক দুর্ঘটনা এখন আমাদের নিত্যদিনের খবর। অসচেতনতা ও ট্রাফিক নিয়ম না মানার কারণে প্রতিদিনই ঘটছে অসংখ্য দুর্ঘটনা, যেখানে চালক ও পথচারী উভয়েরই অসতর্কতা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। অথচ একটু সচেতন হলেই এসব দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব, আর এক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার।

জেব্রা ক্রসিং হলো সড়কের ওপর আঁকা সাদা-কালো ডোরা দাগবিশিষ্ট একটি প্রতীক, যা পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পার হওয়ার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত। এটি দেখতে জেব্রার গায়ের ডোরা দাগের মতো হওয়ায় এমন নামকরণ করা হয়েছে।

ট্রাফিক আইন অনুযায়ী, সড়কের এই স্থানে পথচারীর অগ্রাধিকার যান চালকের আগে, অর্থাৎ জেব্রা ক্রসিংয়ের সামনে গাড়িচালকদের থেমে পথচারীদের নিরাপদে পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক। রাস্তার মাঝামাঝি কোনো জায়গা থেকে হঠাৎ করে বা দৌড়ে রাস্তা পার হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জেব্রা ক্রসিং পথচারীদের একটি নির্দিষ্ট ও নিরাপদ স্থান দেয়, যেখানে গাড়িচালকদেরও সতর্ক থাকার কথা। জেব্রা ক্রসিং সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে রাস্তা পারাপারে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে যেতে পারে, কারণ চালক ও পথচারী উভয়েই সেখানে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত থাকেন।

দুঃখজনক ভাবে, বাংলাদেশের অনেক শহরে জেব্রা ক্রসিংয়ের অস্তিত্ব থাকলেও এর যথাযথ ব্যবহার খুবই সীমিত। প্রায়শই দেখা যায়— পথচারীরা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার না করে যেকোনো জায়গা দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন, অন্যদিকে গাড়িচালকেরাও জেব্রা ক্রসিংয়ের সামনে থামছেন না। এমনকি অনেক স্থানে জেব্রা ক্রসিংয়ের চিহ্ন একদম দেখাই যায় না অথবা রঙ নষ্ট হয়ে অস্পষ্ট হয়ে গেছে।

এ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও পর্যাপ্ত জেব্রা ক্রসিংয়ের ব্যবস্থা নেই।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান মনে করেন, জেব্রা ক্রসিং কেবল পথচারীদের নিরাপদ রাস্তা পারাপারের উপায় নয়; এটি একটি শৃঙ্খলিত, সচেতন ও মানবিক সড়ক ব্যবস্থার প্রতীক। তিনি দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবশ্যই জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করার ওপর জোর দেন এবং বলেন যে রাজধানী ঢাকার বহু জায়গায় এখনো এই চিহ্নই নেই বা থাকলেও তা অস্পষ্ট।

আরও পড়ুন

সাইদুর রহমানের মতে, এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম— উভয় প্ল্যাটফর্মে ভিডিও কনটেন্টের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার চালানো জরুরি। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমাজের প্রতিটি স্তরে জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারের বার্তাটি পৌঁছে দিতে হবে এবং বিশেষ করে শিশুদের পরিবার থেকেই এই চিহ্ন সম্পর্কে শেখাতে হবে।

তিনি আরও মন্তব্য করেন যে সড়কে নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ট্রাফিক পুলিশকে আরও কঠোর হতে হবে, যেন কেউ জেব্রা ক্রসিং উপেক্ষা করে রাস্তা পার না হয় বা গাড়ি চালাতে না পারে।

একই সঙ্গে, সরকারকে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে পুরনো ও অস্পষ্ট চিহ্নগুলো স্পষ্ট করে নতুনভাবে আঁকার ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি চালকদের প্রশিক্ষণের সময় জেব্রা ক্রসিং সম্পর্কিত সচেতনতা তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, চালকদের শেখানো উচিত জেব্রা ক্রসিং কীভাবে ব্যবহার করতে হয় এবং পথচারী দেখলে গাড়ি থামিয়ে দেওয়া একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নৈতিক কর্তব্য। নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলাই সড়ক নিরাপত্তায় সচেতন হওয়ার প্রথম ধাপ।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৬০০ বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া মোয়া পাখিকে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান কলোসাল বায়োসায়েন্সেসের বিজ্ঞানীরা প্রায় ৬০০ বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বিশালাকার মোয়া পাখিকে আবার প্রকৃতিতে ফিরিয়ে আনার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। এটি ‘জুরাসিক পার্ক’ সিনেমার মতো কল্পকাহিনির আদলে বাস্তবায়িত হওয়ার চেষ্টা। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি প্রাগৈতিহাসিক ডায়ার উলফ বা নেকড়ে ফিরিয়ে আনার কাজেও আলোচনায় এসেছিল। মোয়া ছিল নিউজিল্যান্ডের উড়তে না পারা বিশালাকার পাখি, যার উচ্চতা প্রায় ১২ ফুট এবং ওজন ৫০০ পাউন্ডের বেশি ছিল। মাওরি জনগোষ্ঠী নিউজিল্যান্ডে বসতি স্থাপনের পর অতিরিক্ত শিকারের কারণে এই বিশালাকার পাখিটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই প্রকল্পে ‘লর্ড অব দ্য রিংস’খ্যাত পরিচালক স্যার পিটার জ্যাকসনও যুক্ত রয়েছেন এবং তিনি প্রকল্পের একজন প্রধান বিনিয়োগকারী। নিউজিল্যান্ডের নাই টাহু রিসার্চ সেন্টার, মাওরি সম্প্রদায় ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যান্টারবেরির সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মোয়া ফিরিয়ে আনা ডায়ার উলফের চেয়ে অনেক বেশি জটিল কারণ মোয়ার নিকটতম জীবিত আত্মীয় ‘টিনামু’ পাখির সঙ্গে বিবর্তনের দূরত্ব কোটি কোটি বছর। নতুন পরিকল্পনায় কোনো জীবিত পাখির ভ্রূণে জেনেটিক্যালি মোয়ার কোষ স্থাপন করা হবে, যা ডিম ও শুক্রাণু তৈরি করতে পারবে। পরবর্তীতে সেই ডিম থেকে মোয়ার ছানা জন্ম নিতে পারে। বর্তমানে ইমু পাখিকে সারোগেট হিসেবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারণ ইমুর উচ্চতা মোয়ার কাছাকাছি হলেও মোয়ার ডিম ইমুর চেয়ে অনেক বড় হওয়ায় ভ্রূণ বৃদ্ধিতে সমস্যা হতে পারে। এই প্রকল্প সফল হলে, বিলুপ্ত মোয়া পাখির পুনরুত্থান হবে এবং প্রকৃতিতে তার অবদান ফিরে আসবে। সূত্র: এনডিটিভি আরটিভি/এসকে
৬০০ বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া মোয়া পাখিকে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ
২৯ ডিসেম্বর: ইতিহাসে আজকের এই দিনে
ঘটে যাওয়া আজকের এই দিনের ঘটনা, অনেক আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তির জন্ম-মৃত্যু আমরা জানতে চাই। পাঠকের এ চাওয়া মাথায় রেখে নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’। আজ সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫। ১৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা। ঘটনাবলি ১৫০৩ - ক্যারিগনিয়ানোর যুদ্ধে স্পেনের কাছে ফ্রান্স পরাজিত হয়।১৭৭৮ - যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধ: সাড়ে তিন হাজার ব্রিটিশ সেনাসহ লেফটেন্যান্ট কর্নেল আর্চবেল্ড ক্যামবেল জর্জিয়াতে বন্দি হন। ইংরেজ সেনাবাহিনী জর্জিয়ার সাভানাহ দখল করে।১৮৬০ - ব্রিটেনের প্রথম লৌহবৃত্ত যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ওয়ারিয়র সাগরে ভাসানো হয়।১৮৯০ - যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটার ওনডেড নি খাড়িতে আন্দোলনরত আদিবাসীদের ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায় মার্কিন সেনারা। এতে ১৫৩ জন নিহত হন, যার বেশিরভাগ ছিল নারী ও শিশু। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আদিবাসীদের ভূমি রক্ষার আন্দোলনের চির সমাপ্তি ঘটে। ইতিহাসে এটি ‘ওনডেড নি হত্যাযজ্ঞ’ নামে কুখ্যাত হয়ে আছে।১৯১১ - সান ইয়াৎ সেন চীনের অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ পান। খান সাম্রাজ্য থেকে মঙ্গোলিয়ার স্বাধীনতা লাভ।১৯৩০ - স্যার মো. ইকবাল দুই দেশ ভাগ করা ও পাকিস্তান নির্মাণের জন্য একটা রূপরেখা প্রকাশ করেন।১৯৪০ - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: লন্ডনে বিমান হামলার ফলে সেকেন্ড গ্রেট ফায়ার লন্ডন সৃষ্টি হয়। এতে প্রায় ২০০ সাধারণ মানুষ নিহত হন।১৯৭২ - ভারতের কলকাতায় প্রথম মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মার্কিন পত্রিকা ‘লাইফ’-এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।১৯৭৫ - নিউইর্য়কের লা গ্রেডিয়া এয়ারপোর্টে বোমা বিস্ফোরণে ১১ জন নিহত ও ৭৪ জন আহত হন।১৯৮৯ - ১৯৪৮-এর পর চেকোস্লাভাকিয়ার প্রথম অকমিউনিস্ট প্রেসিডেন্ট হলেন ভাকলাভ হাভেল।১৯৯২ - কেনিয়ায় ২৫ বছর পর প্রথম প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।১৯৯৬ - গুয়েতামালা সরকারের সঙ্গে গুয়েতামালার গেরিলা সংগঠন গুয়েতামালা ন্যাশনাল রেভুলেশন ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করা হয়। এর ফলে দীর্ঘ ৩৬ বছরের গৃহযুদ্ধ শেষ হয়।২০০০ - বাংলাদেশে ঈদুল আজহার রাতে চাঁদপুরের মতলব উপজেলার ষাটনল এলাকায় মেঘনা নদীতে এমভি জলকপোত এবং এমভি রাজহংসী নামের দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে রাজহংসী লঞ্চটি পানিতে তলিয়ে যায়। ওই লঞ্চের ১৬২ জন যাত্রীর প্রাণহানি হয়েছিল।২০০৪ - বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টেলিটক যাত্রা শুরু করে।২০০৮ - বাংলাদেশে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিজয়ী হয়। জন্ম ৭৬৫ - আলী আর-রিদা, দ্বাদশী শিয়া মুসলমানদের অষ্টম ইমাম।১৭০৯ - পিটার দ্য গ্রেটের কন্যা এলিজাবেথ পেত্রোভনা।১৮০০ - ভলকানাইজড রাবারের উদ্ভাবক চার্লস গুডইয়ার।১৮০৮ - এন্ড্রু জন‌সন, যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তদশ প্রেসিডেন্ট।১৮৪৪ - উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় ব্যারিস্টার, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম সভাপতি।১৮৬৩ - সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠাতা।১৮৭৩ - সাহিত্যিক, সংগীতশিল্পী ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী।১৯১৪ - শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, বাংলাদেশি প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী।১৯১৭ - রামায়ণ (টেলিভিশন ধারাবাহিক) খ্যাত হিন্দি চলচ্চিত্র পরিচালক রামানন্দ সাগর।১৯২৬ - নোবেলজয়ী পাকিস্তানি পরমাণু বিজ্ঞানী আবদুস সালাম (পদার্থবিজ্ঞানী)।১৯৩৪ - নিত্যপ্রিয় ঘোষ, ভারতীয় বাঙালি প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ।১৯৪২ - রাজেশ খান্না, ভারতীয় ফিল্ম তারকা।১৯৪৯ - সৈয়দ কিরমানী, ভারতীয় ক্রিকেটার।১৯৬০ - ডেভিড বুন, অস্ট্রোলিয়ান ক্রিকেটার।২০০২ - মুসফেকুস সোয়ালেহীন ফাহাদ। তিনি বিখ্যাত সৎ মানুষ সারতাজ আরেফিনের ভাই। মৃত্যু ১৮৯১ -জার্মান গণিতবিদ লিওপল্ড ক্রোনেকার।১৯২২ - অম্বিকাচরণ মজুমদার, বাঙালি রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সমাজসেবী এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন।১৯২৬ -জার্মান কবি রাইনার মারিয়ার রিলক।১৯৭৯ - ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত, ভারতীর, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী এবং বিপ্লবী।১৯৯৫ - মোনাজাতউদ্দিন, বাংলাদেশি সাংবাদিক।২০০৩ - সালমা সোবহান, বাংলাদেশের প্রখ্যাত ব্যরিস্টার, শিক্ষক, মানবাধিকারকমী।২০০৬ - নজরুলগীতির জনপ্রিয় শিল্পী ধীরেন বসু।২০১২ - টনি গ্রেগ, ইংরেজ টেস্ট ক্রিকেটার ও ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার।২০১৫ - প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী সুবীর সেন।২০২০ - পিয়েরে কার্দিন বিশ্ব বিখ্যাত ফরাসি ফ্যাশন ডিজাইনার।২০২২ - বিশ্বখ্যাত ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো, সারা বিশ্বে যিনি পেলে নামে বিখ্যাত।  আরটিভি/একে
২৯ ডিসেম্বর: ইতিহাসে আজকের এই দিনে
বৈবাহিক সম্পর্কে প্রতারণা, জেন জি’রা কীভাবে দেখেন
২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে সম্পর্কের সংজ্ঞা বদলেছে আমূল। ল্যান্ডফোনের জমানায় বেড়ে ওঠা আশি বা নব্বই দশকের প্রজন্মের কাছে সম্পর্কের যে ব্যাকরণ ছিল সহজ ও ছকে বাঁধা, বর্তমান সময়ে তা যেন নতুন মোড়কে নতুন এক গোলকধাঁধা। সম্প্রতি একটি কোল্ডপ্লে কনসার্টে এক বিলিয়নিয়ার কোম্পানির সিইও ও তার প্রতিষ্ঠানের এইচআর প্রধানের ‘অন্তরঙ্গ’ মুহূর্ত সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও এটি ব্যক্তিগত বিষয়, কিন্তু আধুনিক যুগের সম্পর্কের জটিলতা আর প্রতারণার সংজ্ঞাকে তা আবারও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। আজকের জেন জি প্রজন্মের অভিধানে প্রেম মানে কেবলই চিরস্থায়ী বন্ধন নয়। তাদের জীবন আবর্তিত হচ্ছে সিচুয়েশনশিপ, গোস্টিং আর ব্রেডক্রাম্বিংয়ের মতো নিত্যনতুন সব শব্দের ভিড়ে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা আর পিছুটান ছাপিয়ে এখনকার সময়ে ব্যক্তিভেদে সম্পর্কের অর্থও আলাদা। ২১ বছর বয়সী নিলুফার (ছদ্মনাম) কাছে যেমন জীবনের স্বাধীনতা আর অভিজ্ঞতাই মুখ্য। তার কাছে সম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতি মানেই বিয়ে নয়, বরং সফল হওয়া এবং নিজেকে শানিয়ে তোলা। সম্পর্কের ‘সীমানা’ বিষয়েও তার দৃষ্টিভঙ্গি বেশ নমনীয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্য কাউকে লাইক দেওয়াকে সে প্রতারণা মনে করে না। এমনকি সঙ্গী অন্য কাউকে ডেটে নিয়ে গেলে সেও নিজের সুবিধা ও স্বাধীনতা অনুযায়ী চলায় বিশ্বাসী। অন্যদিকে, কর্মজীবনের ব্যস্ততা ও করপোরেট সংস্কৃতির চাপ সম্পর্কের বিশ্বস্ততাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে ঠেকেছে। ২৫ বছর বয়সী আবেদ (ছদ্মনাম), যিনি একটি বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত, তার মতে সারাদিনের দীর্ঘ সময় সহকর্মীদের সাথে কাটানোর পর আলাদাভাবে রোমান্টিক সম্পর্কে মনোযোগ দেওয়া বেশ কঠিন। তার চারপাশের বিবাহিত সহকর্মীদের দেখে তিনি বুঝেছেন, বর্তমান সময়ে স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ততার টান অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের বদলে ফারহান এখন ক্যাজুয়াল ডেটিংয়েই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আরও পড়ুন নিঃশব্দে সম্পর্ক ভেঙে দেয় যে ৩ অভ্যাস তার ভাষায়, একজনের প্রতি বিশ্বস্ত থাকাটা বেশ ঝামেলার কাজ। মজার ছলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০২৫ সালেও কি ‘সত্যিকারের ভালোবাসা’ বলে কিছু টিকে আছে? সাধারণত সম্পর্কের প্রতারণাকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হলেও বর্তমান প্রজন্মের কাছে এর সংজ্ঞা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন। আর্থিক টানাপোড়েন, পারিবারিক সমস্যা বা ব্যক্তিগত অপূর্ণতা মানুষকে অনেক সময় নতুন সঙ্গীর দিকে ঠেলে দেয়। অনেকে মনে করেন, তৃতীয় ব্যক্তির আগমনেই সম্পর্কের মৃত্যু ঘটে এবং কিছু সীমারেখা কখনোই অতিক্রম করা উচিত নয়। কিন্তু এই সীমারেখা ঠিক কোথায় টানা হবে, তা নিয়েই এখনকার প্রজন্মের সাথে আগের প্রজন্মের রয়েছে বিস্তর মতভেদ। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সম্পর্কের ধরন যত জটিল হচ্ছে, ততই বিস্ময় নিয়ে পুরনো প্রজন্ম দেখছে জেন জি’র এই বিবর্তনশীল প্রেম আর প্রতারণার নতুন সংজ্ঞায়ন। আরটিভি/এএইচ
বৈবাহিক সম্পর্কে প্রতারণা, জেন জি’রা কীভাবে দেখেন
কাটা কান পায়ের পাতায় বাঁচিয়ে রেখে মাথায় বসালেন চিকিৎসকরা
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অভিনব ও নজিরবিহীন সফলতা অর্জন করলেন চীনের শানডং প্রভিন্সিয়াল হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এক ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনায় এক নারীর বিচ্ছিন্ন হওয়া কান পায়ের পাতার ত্বকের নিচে সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করে, কয়েক মাস পর সেটি সফলভাবে আবার মাথায় প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এটি বিশ্বে প্রথম এই ধরনের অস্ত্রোপচার। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় ওই নারীর মাথার চামড়া এবং একটি কান পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মুখমণ্ডল ও ঘাড়ের ত্বকও ছিন্নভিন্ন হওয়ায় সরাসরি কান পুনঃস্থাপন সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতালের মাইক্রোসার্জারি ইউনিটের প্রধান কিউ শেনকিয়াং এক অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করেন। চিকিৎসকরা কানটি পচন থেকে রক্ষা করতে এবং রক্ত সঞ্চালন সচল রাখতে নারীর পায়ের পাতার ত্বকের নিচে সেটি প্রতিস্থাপন করেন। পায়ের রক্তনালীর মাধ্যমে কানটি সজীব রেখে রাখা হয় যতক্ষণ না মাথার ক্ষত শুকিয়ে আবার পুনঃস্থাপনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। দীর্ঘ কয়েক মাসের সংরক্ষণের পর সম্প্রতি সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কানটি পা থেকে বিচ্ছিন্ন করে আবার মাথায় বসানো হয়। বর্তমানে কানটি সুস্থ এবং সেখানে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রয়েছে। আরও পড়ুন ২৬টি মামলা জিতে অবশেষে গ্রেপ্তার ‘ভুয়া আইনজীবী’ এই অপারেশন চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে জটিল বিচ্ছিন্ন অঙ্গ পুনঃস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছে। আরটিভি/এসকে
কাটা কান পায়ের পাতায় বাঁচিয়ে রেখে মাথায় বসালেন চিকিৎসকরা
২৬টি মামলা জিতে অবশেষে গ্রেপ্তার ‘ভুয়া আইনজীবী’
কেনিয়ায় এক অবিশ্বাস্য কাহিনি সামনে এসেছে যেখানে ব্রায়ান মওয়েন্ডা ন্টউইগা নামের এক ব্যক্তি নিজেকে দক্ষ আইনজীবী পরিচয় দিয়ে টানা ২৬টি মামলা জিতে সবাইকে স্তম্ভিত করে তুলেছিলেন। কিন্তু এক রহস্য ফাঁস হলে জানা যায়, তার আইন বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ বা যোগ্যতা ছিল না। ব্রায়ান অত্যন্ত চালাক ও চতুর। তিনি হ্যাক করে কেনিয়ার ল’ সোসাইটির পোর্টালে আসল আইনজীবীদের প্রোফাইলে নিজের ছবি বসিয়ে দেন। ফলে বিচারক এবং ক্লায়েন্টরা কেউই বুঝতে পারেননি যে তিনি আসলে একজন ভুয়া আইনজীবী। তার আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য এবং কোর্টরুমে দৃঢ় উপস্থিতি তাকে দীর্ঘদিন ধরে সবাইকে বোকা বানিয়ে রাখতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু অবশেষে তার প্রতারণার ছদ্মবেশ ধরা পড়ে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে এবং এই ঘটনা এখন কেনিয়ার বিচারব্যবস্থা ও আইনজীবীদের যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ার উপর নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আরও পড়ুন এবার ক্যানসার সারাবে ব্যাঙ-গিরগিটি আইনের মতো গুরুতর ক্ষেত্রেও যথাযথ যাচাই এবং সতর্কতা জরুরি, যাতে আইনজীবীর আসল পরিচয় ও যোগ্যতা নিশ্চিত করা যায় এবং প্রতারণার সুযোগ না থাকে। আরটিভি/এসকে
২৬টি মামলা জিতে অবশেষে গ্রেপ্তার ‘ভুয়া আইনজীবী’