ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

১৯৫২ সালে মহাসাগরে আছড়ে পড়া বিমান নিয়ে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

উড্ডয়নের মাত্র ৯ মিনিটের মাথায় আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছিল প্যান আমেরিকান এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী বিমান। দুর্ঘটনার ৭৪ বছর পর অবশেষে সমুদ্রের প্রায় দুই হাজার ফুট গভীরে মিলেছে সেই বিমানের ধ্বংসাবশেষ। আধুনিক সোনার প্রযুক্তি ও পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন ব্যবহার করে এই ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করেছে অনুসন্ধানকারী দল।

১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১১ মিনিটে পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ানের ইসলা গ্রান্দে বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে প্যান আমেরিকান এয়ারওয়েজের ডগলাস ডিসি-৪ ফ্লাইট ৫২৬এ। উড্ডয়নের মাত্র ৯ মিনিট পর বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে আছড়ে পড়ে।

বিমানটিতে ৬৪ জন যাত্রী এবং পাইলটসহ পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। দুর্ঘটনার পর মাত্র ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। বাকিরা আটলান্টিক মহাসাগরে প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার তিন মিনিটের মধ্যেই বিমানটি সমুদ্রের গভীরে তলিয়ে যায়।

দীর্ঘ ৭৪ বছর পর ডিসকভারি চ্যানেলের ‘এক্সপেডিশন আননোন’ দলের সদস্যরা বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশন’ এবং ‘ডিপ সি ভিশন’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সভাপতি রাস ম্যাথিউস বলেন, 'এই আবিষ্কারে আমরা যেমন বিস্মিত, তেমনই উচ্ছ্বসিত। এত বছর আগে এই জায়গায় যা ঘটেছিল, তা বিনম্র ভাবে স্মরণ করছি।'

অনুসন্ধানকারীরা জানিয়েছেন, সমুদ্রের প্রায় দুই হাজার ফুট গভীরে ধ্বংসাবশেষটি শনাক্ত করা হয়েছে। ১৯৫২ সালের দুর্ঘটনার পর একাধিকবার অনুসন্ধান চালানো হলেও এত দিন কোনো সাফল্য মেলেনি। এবার উচ্চ রেজল্যুশনের সোনার প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের ড্রোন ব্যবহার করে ধ্বংসাবশেষের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

ডিসকভারি চ্যানেল জানিয়েছে, পুয়ের্তো রিকোর উত্তর উপকূল থেকে কিছু দূরে আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।

তদন্তে জানা যায়, বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানের তিন নম্বর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। তখন বিমানটির উচ্চতা ছিল মাত্র ৩৫০ ফুট। পরিস্থিতি বুঝে পাইলট ক্যাপ্টেন জন সি. বার্ন বিমানটি আবার পুয়ের্তো রিকোয় ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বিমানটির দিক পরিবর্তন করে ৫৫০ ফুট পর্যন্ত ওপরে তুলতে সক্ষম হন। কিন্তু ঠিক তখনই চার নম্বর ইঞ্জিনও বিকল হয়ে যায়। এরপর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে সমুদ্রে পড়ে যায়।

অভিজ্ঞ পাইলট জন সি. বার্ন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সমুদ্রে বিমান অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডকে জানান, ইসলা গ্রান্দে বিমানবন্দর থেকে প্রায় সাত মাইল উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে তিনি পানিতে অবতরণ করবেন।

দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বিমানটি সমুদ্রে নামে। আঘাতের সময় সেটি দুই টুকরো হয়ে গেলেও শুরুতে অনেক যাত্রী জীবিত ছিলেন। তারা বিমানের ভাঙা অংশ ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন। পরে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তাল ঢেউ ও ঠান্ডা পানির কারণে অনেক যাত্রী লাইফবোটে উঠতে পারেননি। ফলে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এই দুর্ঘটনার পর সমুদ্রপথে চলাচলকারী বিমানের যাত্রীদের জন্য জরুরি পরিস্থিতিতে বাঁচার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়। একই সঙ্গে উড্ডয়নের আগে নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া, জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে তা দেখিয়ে দেওয়া এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বিধিও বাধ্যতামূলক করা হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, দীর্ঘদিন বিমানের ইঞ্জিনগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। কয়েকটি যন্ত্রাংশে ত্রুটি ছিল, যা উড্ডয়নের আগে শনাক্ত করা হয়নি। তদন্তকারীরা শেষ পর্যন্ত যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিকেই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। যদিও দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ক্যাপ্টেন জন সি. বার্নকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন

দুর্ঘটনার পর থেকে বিমানের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আগ্রহ ছিল। বহুবার অনুসন্ধান চালিয়েও সেটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ২০২৪ সালেও একটি অভিযান ব্যর্থ হয়েছিল। অবশেষে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ধ্বংসাবশেষটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অনুসন্ধানকারীরা সমুদ্রের তলদেশে ধ্বংসাবশেষের অন্তত সাড়ে তিন লাখ ছবি তুলেছেন। তবে দুর্ঘটনায় নিহতদের দেহাবশেষ উদ্ধারের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই।

আরটিভি /এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পানির বাইরে ডাঙায়ও বেঁচে থাকে যেসব মাছ
সাধারণত মাছের বেঁচে থাকার জন্য পানি অপরিহার্য। তবে প্রকৃতিতে এমন কিছু মাছ রয়েছে, যারা পানির বাইরে ডাঙায় উঠে চলাফেরা করতে পারে
পানির বাইরে ডাঙায়ও বেঁচে থাকে যেসব মাছ
ট্রাকের পেছনে কেন লেখা থাকে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’
সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের পেছনে নানা ধরনের স্লোগান, উপদেশ ও মজার কথা লেখা দেখা যায়। কোথাও লেখা থাকে ‘মায়ের দোয়া’, কোথাও ‘ধাক্কা দিবেন না, আমি ছোট আমাকে মারবেন না’।
ট্রাকের পেছনে কেন লেখা থাকে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’
অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে বিরল হ্যামারহেড হাঙরের দল, ড্রোনে মিলল নতুন তথ্য
অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের জনপ্রিয় সৈকতগুলোর অগভীর পানিতে একসঙ্গে দেখা মিলেছে ডজন ডজন বিরল স্ক্যালপড হ্যামারহেড হাঙরের।
অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে বিরল হ্যামারহেড হাঙরের দল, ড্রোনে মিলল নতুন তথ্য
আজকের দিনটি ব্যর্থদের জন্য
সব সময়তো শুনেছেন বা পত্রিকায় লেখা পড়েছেন ‘সফলতাকে উৎযাপন’ করার কথা।
আজকের দিনটি ব্যর্থদের জন্য
সমকামী পুরুষদের মধ্যে এইচআইভির ঝুঁকি বেশি কেন?
পায়ুপথে যৌনসম্পর্কের জৈবিক ঝুঁকি, কনডমের অনিয়মিত ব্যবহার ও সামাজিক বৈষম্য অন্যতম কারণ; প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে এইচআইভি বা হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে সংক্রমণ গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে এইডস হতে পারে। তবে আধুনিক চিকিৎসায় এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত চিকিৎসা নিয়ে সংক্রমিত ব্যক্তিরাও দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপনকারী পুরুষদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি। এর পেছনে রয়েছে কিছু জৈবিক কারণের পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য, যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবা পেতে নানা বাধা। তবে সমকামী হওয়া মানেই এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিশ্চিতভাবে বেশি, এমন নয়। যৌন অভিমুখিতা নিজে সংক্রমণ ঘটায় না। বরং যৌনসম্পর্কের ধরন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, সঙ্গীর এইচআইভি সংক্রমণের অবস্থা এবং চিকিৎসা গ্রহণের মতো বিষয়গুলো ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। পায়ুপথে যৌনসম্পর্কে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি সমকামী পুরুষদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ পায়ুপথে যৌনসম্পর্ক। পায়ুপথের ভেতরের আবরণ সংবেদনশীল হওয়ায় যৌনসম্পর্কের সময় সেখানে ক্ষুদ্র ক্ষত তৈরি হতে পারে। এর ফলে সংক্রমিত সঙ্গীর বীর্য বা মলদ্বারের তরলের মাধ্যমে ভাইরাস শরীরে প্রবেশের সুযোগ পায়। বিশেষ করে পায়ুপথে প্রবেশকারী যৌনাঙ্গ গ্রহণকারী সঙ্গীর সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তবে অন্য সঙ্গীরও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পায়ুপথে যৌনসম্পর্ক শুধু সমকামী পুরুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; নারী-পুরুষের মধ্যেও এমন যৌনসম্পর্ক হতে পারে। সঙ্গীর সংক্রমণ সম্পর্কে অজ্ঞতা কোনো ব্যক্তির চেহারা বা শারীরিক অবস্থা দেখে তিনি এইচআইভিতে আক্রান্ত কি না, তা বোঝার উপায় নেই। অনেকের ক্ষেত্রে সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণও দেখা যায় না। ফলে পরীক্ষা না করালে একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন নিজের সংক্রমণ সম্পর্কে জানতে নাও পারেন। যে জনগোষ্ঠীতে এইচআইভির বিস্তার তুলনামূলক বেশি, সেখানে সংক্রমিত সঙ্গীর সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই জনগোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্যের সংক্রমণের ঝুঁকি সমান। নিয়মিত এইচআইভি পরীক্ষা, সঙ্গীর সঙ্গে যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কনডম ব্যবহার না করা যৌনসম্পর্কের সময় কনডম ব্যবহার না করলে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে পায়ুপথে যৌনসম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিবার সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার করা জরুরি। প্রতিবার নতুন কনডম ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি কনডমের মেয়াদ ও প্যাকেটের অখণ্ডতা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কনডম ছিঁড়ে গেলে বা সরে গিয়ে সম্ভাব্য সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কনডম এইচআইভি ও অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে ঝুঁকি আরও কমাতে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্যান্য প্রতিরোধব্যবস্থাও গ্রহণ করা যেতে পারে। একাধিক যৌনসঙ্গী ও অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণ একাধিক যৌনসঙ্গী থাকলেই এইচআইভি সংক্রমণ হবে, এমন নয়। তবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ছাড়া একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক হলে সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এ ছাড়া সিফিলিস, গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া ও হারপিসের মতো যৌনবাহিত সংক্রমণ যৌনাঙ্গ বা আশপাশের টিস্যুতে প্রদাহ ও ক্ষত তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষত বা প্রদাহের কারণে কিছু পরিস্থিতিতে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা, প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো এবং সংক্রমণ শনাক্ত হলে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। সামাজিক বৈষম্যও বাড়াতে পারে ঝুঁকি এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকির পেছনে সামাজিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দেশে সমকামী ও উভকামী পুরুষেরা যৌন অভিমুখিতার কারণে বৈষম্য, অপমান ও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা করেন। এ কারণে কেউ কেউ চিকিৎসকের সঙ্গে যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে চান না। কেউ এইচআইভি পরীক্ষা করাতে দেরি করেন, আবার কেউ সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পরও চিকিৎসা শুরু করা বা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়েন। ফলে সংক্রমণ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে দেরি হতে পারে। তাই গোপনীয়তা রক্ষা করে বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এইচআইভি প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এইচআইভি প্রতিরোধে কী করবেন? এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে। কনডম ব্যবহার: প্রতিবার যৌনসম্পর্কে সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। নিয়মিত পরীক্ষা: যৌনসম্পর্কের ধরন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি অনুযায়ী এইচআইভি পরীক্ষা করানো উচিত। সম্ভাব্য সংক্রমণের পরপরই পরীক্ষা করলে সব ক্ষেত্রে সংক্রমণ শনাক্ত নাও হতে পারে। তাই পরীক্ষার উপযুক্ত সময় সম্পর্কে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিতে হবে। PrEP গ্রহণ: প্রি-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস বা PrEP হলো এইচআইভি সংক্রমণের আগে ঝুঁকি কমানোর জন্য ব্যবহৃত ওষুধ। এইচআইভি নেই, এমন ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিরা চিকিৎসকের পরামর্শে এটি গ্রহণ করতে পারেন। PEP গ্রহণ: সম্ভাব্য সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ সংস্পর্শের পর পোস্ট-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস বা PEP প্রয়োজন হতে পারে। এটি যত দ্রুত সম্ভব শুরু করতে হয়, সাধারণত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। চিকিৎসকের পরামর্শে নির্ধারিত কোর্স সম্পন্ন করা জরুরি। নিয়মিত চিকিৎসা: এইচআইভি শনাক্ত হলে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি বা ART নিয়মিত গ্রহণের মাধ্যমে ভাইরাসের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। চিকিৎসায় ভাইরাসের মাত্রা ধারাবাহিকভাবে শনাক্তকরণের সীমার নিচে থাকলে যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়ায় না। এটি ‘আনডিটেক্টেবল ইকুয়ালস আনট্রান্সমিটেবল’ বা U=U নামে পরিচিত। সাধারণ স্পর্শে কি এইচআইভি ছড়ায়? না। হাত মেলানো, আলিঙ্গন করা, একই টেবিলে খাওয়া, একই টয়লেট ব্যবহার করা কিংবা পাশাপাশি বসার মাধ্যমে এইচআইভি ছড়ায় না। সাধারণ চুম্বন, লালা, ঘাম বা মশার কামড়ের মাধ্যমেও ভাইরাসটি ছড়ায় না। সাধারণত সংক্রমিত রক্ত, বীর্য, মলদ্বারের তরল, যোনির তরল ও বুকের দুধের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়াতে পারে। তবে সংক্রমণের ঝুঁকি নির্ভর করে এসব তরলের সংস্পর্শের ধরন ও পরিস্থিতির ওপর। তাই এইচআইভিতে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করে তাঁর চিকিৎসা, গোপনীয়তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। সচেতনতাই প্রতিরোধের অন্যতম উপায় সমকামী পুরুষদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির পেছনে পায়ুপথে যৌনসম্পর্কের জৈবিক ঝুঁকি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ঘাটতি, সংক্রমণ সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। তবে যৌন অভিমুখিতা দিয়ে কারও সংক্রমণের অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না। নিয়মিত পরীক্ষা, কনডম ব্যবহার, প্রয়োজন অনুযায়ী PrEP বা PEP গ্রহণ এবং সংক্রমণ শনাক্ত হলে নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে এইচআইভির ঝুঁকি কমানো ও ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সূত্র: ভেরি ওয়েল হেল্থ আরটিভি/এসকে
সমকামী পুরুষদের মধ্যে এইচআইভির ঝুঁকি বেশি কেন?
আরও পড়ুন
ছয় আরোহীসহ নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ মিলল আটলান্টিকে
এক ভুতুড়ে জাহাজের রহস্য উদঘাটন, সময় লাগল ১৫৪ বছর