ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বর্ষায় বরিশাল গেলে যেসব জায়গায় বেড়াবেন 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৫ এএম

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সৌন্দর্যের কথা উঠলে বরিশালের নাম সবার আগে আসে। নদী, খাল-বিল, সবুজ প্রকৃতি আর বর্ষার থইথই পানিতে বরিশাল যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে। তাই বর্ষাকালই বরিশাল ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই অঞ্চলে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান, যা যেকোনো ভ্রমণপিপাসীকে মুগ্ধ করবে।

অশ্বিনীকুমার টাউন হল
বরিশাল সদরের প্রাণকেন্দ্রে মূল সড়কে অবস্থিত এই লাল রঙের প্রাচীন ভবনটিকে শহরের সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বরিশালের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অশ্বিনীকুমার দত্তের নামানুসারে এ ভবনের নামকরণ করা হয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯২১ সালে দেড় বিঘা জমির ওপর এই টাউন হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন অশ্বিনীকুমার দত্ত। ভবন তৈরির কাজ শেষ হয় ১৯৩০ সালে। শতবর্ষী এই ভবনে এখন সংস্কারকাজ চলছে।

বিবির পুকুর
বরিশাল শহরের প্রাণকেন্দ্রে এই জলাশয়ও শতবর্ষী ও ঐতিহ্যবাহী। কথিত আছে, ১৯০৮ সালে জিন্নাত বিবি নামে একজন দয়ালু নারী শহরের পানির সংকট দূর করতে এই পুকুর খনন করেন। এর চারপাশের এলাকা বিবির মহল্লা নামে পরিচিত। পুকুরটি এখন গ্রিলে ঘেরা হলেও এর চারপাশের ওয়াকওয়ে শহরের একটি অন্যতম আড্ডাস্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে।

৩০ গোডাউন
কীর্তনখোলা নদীর তীরে ৩০ গোডাউন নামের এই জায়গায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী গড়ে তুলেছিল দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম সামরিক ক্যাম্প ও নির্যাতনকেন্দ্র। একাত্তরে প্রায় ৩ হাজার বাঙালিকে এখানে হত্যা করে কীর্তনখোলা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। নির্যাতন করা হয় আরও হাজার হাজার মানুষকে।

আরও পড়ুন

কীর্তনখোলার তীরে শহীদদের রক্তে স্নাত ৩০ গোডাউন বধ্যভূমিতে গড়ে তোলা হয়েছে একটি স্মৃতিসৌধ। যে উঁচু জায়গা থেকে লাশগুলো খালে ফেলা হতো সেটাও সংরক্ষণ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক বটবৃক্ষ ও স্মৃতিসৌধটির পাশেই কীর্তনখোলা নদীর তীরে পাকা রাস্তায় চায়ের স্টল ও ওয়াকওয়েতে বসে কিছু সময় কাটানো যায়।

অক্সফোর্ড মিশন চার্চ
বরিশাল শহরের সবচেয়ে সুন্দর স্থাপনা ১১৩ বছরের পুরোনো অক্সফোর্ড মিশন চার্চ। ধারণা করা হয়, এটি এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম গির্জা। এই গির্জার নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯০৩ সালে। ব্রিটেনের রাজার পক্ষ থেকে ব্রাদারহুড অব এপিফ্যানি সংগঠন এই গির্জা গড়ে তোলে বলে এর আরেক নাম অক্সফোর্ড এপিফ্যানি গির্জা।

৩৫ একর জমির ওপরে অবস্থিত কমপ্লেক্সটিতে চার্চ ছাড়াও আছে ১৩টি ছোট-বড় পুকুর, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আবাসিক ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেল, ফাদার ও সিস্টারদের আবাসন, পাঠাগার ও হাসপাতাল।

গ্রিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই গির্জা টেরাকোটা রঙের লালচে ইট দিয়ে তৈরি। বিশাল প্রার্থনাকক্ষের মূল বেদিতে রাখা ক্রুশটি বেথলেহেম থেকে এসেছে। সবুজ মাঠ, পুকুর, অপূর্ব সুন্দর বাগান—সব মিলিয়ে এই এপিফ্যানি গির্জায় যতক্ষণ থাকবেন, হৃদয় দিয়ে এর সৌন্দর্য ও পবিত্রতা উপলব্ধি করতে পারবেন।

সেন্ট পিটার্স ক্যাথেড্রাল
শহরের সদর রাস্তায় সাদা রঙের আরেক দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা হলো এই সেন্ট পিটার্স ক্যাথেড্রাল। ১৮৬৪ সালে এটি প্যারিশ হিসেবে শুরু হয় এবং পরে ক্যাথেড্রালে উন্নীত হয় (প্যারিশ হলো নির্দিষ্ট এলাকার স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের গির্জা, এবং ক্যাথেড্রাল হলো কোনো অঞ্চলের প্রধান বিশপের বসার নির্দিষ্ট আসন বা প্রধান গির্জা)। প্রার্থনাকক্ষটি ঘুরে দেখার পর বিকেলে পাশের শান্ত–সুন্দর পুকুরঘাটে বসে থাকতেই অসাধারণ লাগছিল।

মুকুন্দ দাসের কালীবাড়ি
বরিশালের নথুল্লাপাড়ায় প্রধান বাসস্ট্যান্ডের কাছেই আরেকটি শতাব্দীপ্রাচীন স্থাপনা চারণ কবি মুকুন্দ দাসের কালীবাড়ি। স্থানীয় ভক্তদের কাছে এটি পবিত্র জাগ্রত পীঠ হিসেবে বিবেচিত। এখানে ধুমধাম করে শ্যামাপূজা হয়। স্বদেশি আন্দোলনখ্যাত চারণ কবি মুকুন্দ দাস মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

আরও পড়ুন

ব্রজমোহন কলেজ
বিএম কলেজ বা ব্রজমোহন কলেজের বয়সও ১৩৫ বছর ছাড়িয়ে গেছে। শিক্ষানুরাগী অশ্বিনীকুমার দত্ত ১৮৮৯ সালে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তখন কলেজটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল দুই বাংলায়। বিশাল এলাকাজুড়ে স্থাপিত এই কলেজে অশ্বিনীকুমার দত্ত ও কবি জীবনানন্দ দাশের নামে দুটি হল আছে। বিএম কলেজে অধ্যাপনা করতেন কবি জীবনানন্দ দাশ। আরেক প্রিয় কবি আবুল হাসানও যে এই কলেজের ছাত্র ছিলেন, তা পুকুরপাড়ে হাঁটতে গিয়ে মনে পড়ল।

বরিশাল শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে বরিশাল-স্বরূপকাঠি সড়কে অবস্থিত দুর্গাসাগর দিঘি দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম জলাশয়। ১৭৮০ সালে পানীয় জলের সংকট দূর করতে রাজা জয় নারায়ণের মা রানি দুর্গাবতী এটি খনন করান এবং নিজের

নামানুসারে এর নাম রাখেন দুর্গাসাগর। দিঘিটির মোট আয়তন প্রায় ২৫ হেক্টর বা প্রায় ৬২ একর। বিকেলের মনোরম আলোয় দিঘির স্বচ্ছ সবুজাভ জল আর চারপাশের ঘন সবুজ গাছপালা অসাধারণ লাগছিল।

বর্ষায় থই থই পানিতে অপরূপা, আবার শীতে এখানে এসে বাসা বাঁধে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি। ২৫০ বছরের পুরোনো এই দিঘি দেখতে ৩০ টাকার টিকিট কেটে যে কেউ প্রবেশ করতে পারেন।

সাতলার বিল
বরিশাল শহর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে উজিরপুরে সাতলার বিল যেন শাপলা আর পদ্মের রাজ্য। ভরা বর্ষায় গোটা বিল শাপলায় ঢেকে যায়, তখন লাল রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। ঘাট থেকে একটা নৌকা নিয়ে বিলের মাঝ পর্যন্ত যেতেই শুরু হলো বৃষ্টি। পানিতে শাপলা, ঝিরঝির বৃষ্টির ফোঁটা, মেঘবরণ আকাশ আর উতল হাওয়া মিলে পরিবেশটা অপার্থিব হয়ে উঠেছিল। সাতলার বিলে যেতে হবে খুব ভোরে; কারণ, রোদ উঠলে শাপলা পদ্মগুলো বুজে যেতে শুরু করে।

ভাসমান পেয়ারা বাজার
বরিশালে বর্ষার সত্যিকারের সৌন্দর্য দেখতে হলে ভোরবেলা রওনা দিতে হবে ঝালকাঠির ভীমরুলিতে ভাসমান পেয়ারা বাজারের উদ্দেশে। বর্ষায় আঁকাবাঁকা এই জলপথে সকালবেলা বসে ভাসমান বাজার।

নামে পেয়ারার বাজার হলেও নানা ধরনের সবজি, আমড়া, কাঁঠাল, পেঁপেসহ আরও অনেক কিছু বিক্রি হচ্ছে নৌকায়। আটঘর স্কুলের সামনে থেকে একটা নৌকা নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে ঘন সবুজ বনের ভেতর দিয়ে এঁকেবেঁকে পৌঁছাতে হয় বাজারে।

যাত্রাপথটিই অসাধারণ সুন্দর। দুধারে নানা রকমের গাছ, বেশির ভাগই পেয়ারা ও অন্যান্য ফলের, কোনো কোনোটির ডালপালা ঝুঁকে এসে নৌকা স্পর্শ করছে, পাখিরা ওড়াউড়ি করছে নির্ভয়ে, পানকৌড়ি বসে আছে গাছের মাথায়। থাইল্যান্ডের ফ্লোটিং মার্কেটের চেয়েও সুন্দর আমাদের এই ভাসমান বাজার।

মনে রাখবেন, অপূর্ব এই জলপথে পানির বোতল, প্লাস্টিকের প্যাকেট ফেলা যাবে না; হাত বাড়িয়ে পেয়ারা ছিঁড়ে খাবেন না। এ অঞ্চলের মানুষ এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল, তাই তাঁদের বিরক্ত করবেন না।

প্রকৃতির শান্ত সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও জলপথের বৈচিত্র্য একসঙ্গে উপভোগ করতে চাইলে বর্ষায় বরিশাল হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণের সেরা ঠিকানা।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজকের দিনটি ব্যর্থদের জন্য
সব সময়তো শুনেছেন বা পত্রিকায় লেখা পড়েছেন ‘সফলতাকে উৎযাপন’ করার কথা।
আজকের দিনটি ব্যর্থদের জন্য
সমকামী পুরুষদের মধ্যে এইচআইভির ঝুঁকি বেশি কেন?
পায়ুপথে যৌনসম্পর্কের জৈবিক ঝুঁকি, কনডমের অনিয়মিত ব্যবহার ও সামাজিক বৈষম্য অন্যতম কারণ; প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে এইচআইভি বা হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে সংক্রমণ গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে এইডস হতে পারে। তবে আধুনিক চিকিৎসায় এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত চিকিৎসা নিয়ে সংক্রমিত ব্যক্তিরাও দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপনকারী পুরুষদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি। এর পেছনে রয়েছে কিছু জৈবিক কারণের পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য, যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবা পেতে নানা বাধা। তবে সমকামী হওয়া মানেই এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিশ্চিতভাবে বেশি, এমন নয়। যৌন অভিমুখিতা নিজে সংক্রমণ ঘটায় না। বরং যৌনসম্পর্কের ধরন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, সঙ্গীর এইচআইভি সংক্রমণের অবস্থা এবং চিকিৎসা গ্রহণের মতো বিষয়গুলো ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। পায়ুপথে যৌনসম্পর্কে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি সমকামী পুরুষদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ পায়ুপথে যৌনসম্পর্ক। পায়ুপথের ভেতরের আবরণ সংবেদনশীল হওয়ায় যৌনসম্পর্কের সময় সেখানে ক্ষুদ্র ক্ষত তৈরি হতে পারে। এর ফলে সংক্রমিত সঙ্গীর বীর্য বা মলদ্বারের তরলের মাধ্যমে ভাইরাস শরীরে প্রবেশের সুযোগ পায়। বিশেষ করে পায়ুপথে প্রবেশকারী যৌনাঙ্গ গ্রহণকারী সঙ্গীর সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তবে অন্য সঙ্গীরও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পায়ুপথে যৌনসম্পর্ক শুধু সমকামী পুরুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; নারী-পুরুষের মধ্যেও এমন যৌনসম্পর্ক হতে পারে। সঙ্গীর সংক্রমণ সম্পর্কে অজ্ঞতা কোনো ব্যক্তির চেহারা বা শারীরিক অবস্থা দেখে তিনি এইচআইভিতে আক্রান্ত কি না, তা বোঝার উপায় নেই। অনেকের ক্ষেত্রে সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণও দেখা যায় না। ফলে পরীক্ষা না করালে একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন নিজের সংক্রমণ সম্পর্কে জানতে নাও পারেন। যে জনগোষ্ঠীতে এইচআইভির বিস্তার তুলনামূলক বেশি, সেখানে সংক্রমিত সঙ্গীর সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই জনগোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্যের সংক্রমণের ঝুঁকি সমান। নিয়মিত এইচআইভি পরীক্ষা, সঙ্গীর সঙ্গে যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কনডম ব্যবহার না করা যৌনসম্পর্কের সময় কনডম ব্যবহার না করলে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে পায়ুপথে যৌনসম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিবার সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার করা জরুরি। প্রতিবার নতুন কনডম ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি কনডমের মেয়াদ ও প্যাকেটের অখণ্ডতা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কনডম ছিঁড়ে গেলে বা সরে গিয়ে সম্ভাব্য সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কনডম এইচআইভি ও অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে ঝুঁকি আরও কমাতে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্যান্য প্রতিরোধব্যবস্থাও গ্রহণ করা যেতে পারে। একাধিক যৌনসঙ্গী ও অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণ একাধিক যৌনসঙ্গী থাকলেই এইচআইভি সংক্রমণ হবে, এমন নয়। তবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ছাড়া একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক হলে সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এ ছাড়া সিফিলিস, গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া ও হারপিসের মতো যৌনবাহিত সংক্রমণ যৌনাঙ্গ বা আশপাশের টিস্যুতে প্রদাহ ও ক্ষত তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষত বা প্রদাহের কারণে কিছু পরিস্থিতিতে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা, প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো এবং সংক্রমণ শনাক্ত হলে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। সামাজিক বৈষম্যও বাড়াতে পারে ঝুঁকি এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকির পেছনে সামাজিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দেশে সমকামী ও উভকামী পুরুষেরা যৌন অভিমুখিতার কারণে বৈষম্য, অপমান ও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা করেন। এ কারণে কেউ কেউ চিকিৎসকের সঙ্গে যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে চান না। কেউ এইচআইভি পরীক্ষা করাতে দেরি করেন, আবার কেউ সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পরও চিকিৎসা শুরু করা বা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়েন। ফলে সংক্রমণ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে দেরি হতে পারে। তাই গোপনীয়তা রক্ষা করে বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এইচআইভি প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এইচআইভি প্রতিরোধে কী করবেন? এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে। কনডম ব্যবহার: প্রতিবার যৌনসম্পর্কে সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। নিয়মিত পরীক্ষা: যৌনসম্পর্কের ধরন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি অনুযায়ী এইচআইভি পরীক্ষা করানো উচিত। সম্ভাব্য সংক্রমণের পরপরই পরীক্ষা করলে সব ক্ষেত্রে সংক্রমণ শনাক্ত নাও হতে পারে। তাই পরীক্ষার উপযুক্ত সময় সম্পর্কে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিতে হবে। PrEP গ্রহণ: প্রি-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস বা PrEP হলো এইচআইভি সংক্রমণের আগে ঝুঁকি কমানোর জন্য ব্যবহৃত ওষুধ। এইচআইভি নেই, এমন ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিরা চিকিৎসকের পরামর্শে এটি গ্রহণ করতে পারেন। PEP গ্রহণ: সম্ভাব্য সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ সংস্পর্শের পর পোস্ট-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস বা PEP প্রয়োজন হতে পারে। এটি যত দ্রুত সম্ভব শুরু করতে হয়, সাধারণত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। চিকিৎসকের পরামর্শে নির্ধারিত কোর্স সম্পন্ন করা জরুরি। নিয়মিত চিকিৎসা: এইচআইভি শনাক্ত হলে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি বা ART নিয়মিত গ্রহণের মাধ্যমে ভাইরাসের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। চিকিৎসায় ভাইরাসের মাত্রা ধারাবাহিকভাবে শনাক্তকরণের সীমার নিচে থাকলে যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়ায় না। এটি ‘আনডিটেক্টেবল ইকুয়ালস আনট্রান্সমিটেবল’ বা U=U নামে পরিচিত। সাধারণ স্পর্শে কি এইচআইভি ছড়ায়? না। হাত মেলানো, আলিঙ্গন করা, একই টেবিলে খাওয়া, একই টয়লেট ব্যবহার করা কিংবা পাশাপাশি বসার মাধ্যমে এইচআইভি ছড়ায় না। সাধারণ চুম্বন, লালা, ঘাম বা মশার কামড়ের মাধ্যমেও ভাইরাসটি ছড়ায় না। সাধারণত সংক্রমিত রক্ত, বীর্য, মলদ্বারের তরল, যোনির তরল ও বুকের দুধের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়াতে পারে। তবে সংক্রমণের ঝুঁকি নির্ভর করে এসব তরলের সংস্পর্শের ধরন ও পরিস্থিতির ওপর। তাই এইচআইভিতে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করে তাঁর চিকিৎসা, গোপনীয়তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। সচেতনতাই প্রতিরোধের অন্যতম উপায় সমকামী পুরুষদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির পেছনে পায়ুপথে যৌনসম্পর্কের জৈবিক ঝুঁকি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ঘাটতি, সংক্রমণ সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। তবে যৌন অভিমুখিতা দিয়ে কারও সংক্রমণের অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না। নিয়মিত পরীক্ষা, কনডম ব্যবহার, প্রয়োজন অনুযায়ী PrEP বা PEP গ্রহণ এবং সংক্রমণ শনাক্ত হলে নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে এইচআইভির ঝুঁকি কমানো ও ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সূত্র: ভেরি ওয়েল হেল্থ আরটিভি/এসকে
সমকামী পুরুষদের মধ্যে এইচআইভির ঝুঁকি বেশি কেন?
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস আজ / প্রতি ৩ সেকেন্ডে বাল্যবিয়ের শিকার এক কন্যাশিশু
বিশ্বে প্রতি তিন সেকেন্ডে একজন কন্যাশিশুর বিয়ে হচ্ছে।
প্রতি ৩ সেকেন্ডে বাল্যবিয়ের শিকার এক কন্যাশিশু
‘মৎস্যকন্যা-জলপরী’ মানুষের পৃথিবীতে এলো যেভাবে?
শুধু বাংলাদেশেই নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনও মানুষ জলপরীর অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন এবং এ নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন। পৃথিবীর নানা প্রান্তে এই জলপরীর পরিচিতি নানা নামে— কোথাও মারমেইড, কোথাও মাদার অফ ওয়াটার বা জলের মা, কোথাও সাইরেন, আবার কোথাও মৎস্যকন্যা। 
‘মৎস্যকন্যা-জলপরী’ মানুষের পৃথিবীতে এলো যেভাবে?
কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে ঢাকার কাছেই যেসব জায়গায় ঘুরে আসতে পারেন
শরৎ এলেই নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল জানান দেয় ঋতু বদলের। ব্যস্ত রাজধানীর কংক্রিটের ভিড়েও এই সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে না নগরবাসীকে।
কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে ঢাকার কাছেই যেসব জায়গায় ঘুরে আসতে পারেন
আরও পড়ুন
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস, টানা ৫ দিন ৩ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা 
উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসবের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর
বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ, অনুতপ্ত হয়ে টাকা ও চিরকুট রেখে গেলেন যাত্রী
অন্যের স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে ৭ মাসের ‘সংসার’ মসজিদের ইমামের