ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

কফি আবিষ্কারের নেপথ্যে যে মুসলিম অজপাল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর একটি কফি। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ দিনের শুরু করেন এক কাপ কফি দিয়ে। তবে এই পানীয়ের আবিষ্কার নিয়ে রয়েছে একটি বহুল প্রচলিত কিংবদন্তি, যার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন ইথিওপিয়ার এক ছাগলপালক (অজপাল)।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, প্রায় ৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে আবিসিনিয়া (বর্তমান ইথিওপিয়া) অঞ্চলের ছাগলপালক কালদি লক্ষ্য করেন, তার ছাগলগুলো একটি অজানা গাছের লাল ফল খাওয়ার পর অস্বাভাবিকভাবে চঞ্চল হয়ে উঠছে। এমনকি রাতভর জেগে থাকছে, ঘুমাচ্ছে না।

বিষয়টি দেখে কৌতূহলী হয়ে কালদি নিজেও সেই ফলের স্বাদ নেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি নিজেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সতেজ, প্রাণবন্ত ও কর্মক্ষম অনুভব করেন। পরে তিনি বিষয়টি কাছের একটি সুফি মঠের ধর্মগুরুকে জানান।

ধর্মগুরু ওই ফল দিয়ে পানীয় তৈরি করে দেখেন, এটি দীর্ঘ সময় জেগে থেকে রাতের ইবাদত ও ধ্যান করতে সহায়তা করে। এরপর মঠের অন্য সদস্যদের মধ্যেও পানীয়টি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে এর খবর আশপাশের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে ইতিহাসবিদদের মতে, কালদির এই গল্পটি একটি জনপ্রিয় কিংবদন্তি হলেও এর ঐতিহাসিক সত্যতা নিশ্চিত নয়। ১৬৭১ সালে রোমে প্রকাশিত কফিবিষয়ক অন্যতম প্রাচীন গ্রন্থ De Saluberrima Potione Cahue Seu Cafe Nuncupata Discurscus-এ প্রথম এই কাহিনির উল্লেখ পাওয়া যায়।

ঐতিহাসিকভাবে কফি পান করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় ১৫শ শতকে ইয়েমেনের সুফি মঠগুলোতে। সে সময় ইথিওপিয়া থেকে কফির ফল ইয়েমেনে নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা এবং পরে সেখানেই এর চাষ শুরু হয়।

সুফি সাধকেরা দীর্ঘ সময় ইবাদত ও ধ্যানের সময় জেগে থাকার জন্য কফি পান করতেন। ইতিহাসবিদ আবদুল কাদির আল-জাজিরির বর্ণনায় জানা যায়, প্রতি সোমবার ও শুক্রবার রাতে বড় মাটির পাত্রে কফি প্রস্তুত করা হতো এবং ধর্মীয় আচার পালনের সময় তা সবার মধ্যে বিতরণ করা হতো।

আরও পড়ুন

ইয়েমেন থেকে কফি প্রথমে মক্কা ও মদিনায়, পরে দামেস্ক, বাগদাদ, কায়রো এবং কনস্টান্টিনোপলে ছড়িয়ে পড়ে। ১৬শ শতকের মধ্যে মিসর, সিরিয়া ও ইস্তাম্বুলে গড়ে ওঠে অসংখ্য কফি হাউস, যা দ্রুতই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আড্ডাকেন্দ্রে পরিণত হয়।

পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা পেরিয়ে কফি ইউরোপে পৌঁছায়। সেখান থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে কফি শুধু একটি পানীয় নয়, বরং বৈশ্বিক সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ
আরও পড়ুন
আজ পুলিশের সঙ্গে এক কাপ কফি খাওয়ার দিন
আজ আন্তর্জাতিক কফি দিবস: দেশের পাহাড়ে কফির নতুন গল্প 
গরম গরম চা-কফি পান করছেন? ভয়ংকর ঝুঁকির কথা জানাল গবেষণা
বাবা আসবে ভেবেছিল ৩ মেয়ে, ফিরলেন কফিনে