ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

বন্ধু: যে সম্পর্কের কোনো রক্তের বন্ধন নেই, তবু হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের

নুর ইসলাম

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
ছবি: এআই তৈরি

জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্কগুলোর কিছু আমাদের জন্মের সঙ্গে আসে, আর কিছু আমরা নিজেরাই গড়ে তুলি। জন্মসূত্রে পাওয়া সম্পর্ক আমাদের পরিচয় দেয়, কিন্তু জীবনের পথে চলতে চলতে কিছু মানুষ ধীরে ধীরে হৃদয়ের এতটাই কাছাকাছি চলে আসে যে, তারা আর শুধু পরিচিত থাকে না—হয়ে ওঠে আপন। রক্তের কোনো বন্ধন নেই, সামাজিক কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবু অনেক সময় একজন বন্ধু পরিবারের বাইরেও সবচেয়ে নির্ভরতার মানুষ হয়ে ওঠেন।

বন্ধু মানেই শুধু আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা কিংবা একসঙ্গে ছবি তোলা নয়। বন্ধু মানে এমন একজন মানুষ, যার সামনে নিজের ভাঙাচোরা মনটাও নির্দ্বিধায় মেলে ধরা যায়। যে আপনার নীরবতার ভেতরেও অজস্র অপ্রকাশিত কথা শুনতে পায়, চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রুর ভাষা পড়ে ফেলে। পৃথিবীতে এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয়। তাই একজন সত্যিকারের বন্ধু জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদগুলোর একটি।

WhatsApp_Image_2026-08-02_at_20.00.34
দুই বন্ধু। ছবি: সংগৃহীত

অফিস শেষে পরিচিত চায়ের দোকানে এক কাপ চা ভাগ করে নেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে উদ্দেশ্যহীন হাঁটা, গভীর রাতে হঠাৎ ফোন করে বলা—'ঘুমাসনি তো?' কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্পে হারিয়ে যাওয়া—এসব মুহূর্ত তখন খুব সাধারণ মনে হয়। অথচ একদিন ফিরে তাকালে বোঝা যায়, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলো ঠিক এই সাধারণ মুহূর্তগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে ছিল।

বন্ধুর প্রকৃত পরিচয় মেলে জীবনের কঠিন সময়ে। কঠিন পরিস্থিতিতে কাঁধে হাত রেখে সাহস দেওয়া, কিংবা নিজের ব্যস্ততা ভুলে শুধু একটি বাক্য বলা—'চিন্তা করিস না, আমি আছি।' অনেক সময় সমস্যার সমাধানের চেয়েও বেশি প্রয়োজন হয় একজন মানুষের উপস্থিতি। আর সেই উপস্থিতির নামই বন্ধু।

আরও পড়ুন

আজকের পৃথিবীতে পরিচিত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু নির্ভর করার মানুষের সংখ্যা যেন কমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শত শত নাম থাকলেও গভীর রাতে ভেঙে পড়লে কজন মানুষকে নির্দ্বিধায় ফোন করা যায়? সুখবর পেলে সবার আগে কার কথা মনে পড়ে? যে মানুষটির কথা তখন প্রথম মনে আসে, যে মানুষটিকে কোনো সংকোচ ছাড়াই ডাকতে পারেন—সেই মানুষটিই আপনার প্রকৃত বন্ধু।

একজন ভালো বন্ধু শুধু প্রশংসা করেন না। ভুল হলে থামিয়ে দেন, ব্যর্থ হলে সাহস জোগান, সাফল্যে অহংকার এলে বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দেন। কারণ বন্ধুত্ব মানে অন্ধ সমর্থন নয়; প্রয়োজনে সত্য কথাটি বলার সাহসও বন্ধুত্বেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বিশ্ব বন্ধু দিবস আমাদের শুধু শুভেচ্ছা জানাতে শেখায় না; কৃতজ্ঞ হতেও শেখায়। সেই মানুষটির প্রতি, যিনি কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশা না করেই আমাদের জীবনের আনন্দ, দুঃখ, সাফল্য আর ব্যর্থতার নীরব সাক্ষী হয়ে থাকেন। যিনি হয়তো কখনো দামি উপহার দেননি, কিন্তু সবচেয়ে প্রয়োজনের সময় নিজের সময়, নিজের কাঁধ আর নিজের বিশ্বাসটুকু উজাড় করে দিয়েছেন।

WhatsApp_Image_2026-08-02_at_20.00.34_(1)
দুই বন্ধু। ছবি: সংগৃহীত

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষ তার অর্জনের হিসাবের চেয়ে স্মৃতির হিসাবই বেশি করে। সেখানে পদ-পদবি কিংবা অর্থের অঙ্ক নয়, ভেসে ওঠে কিছু প্রিয় মুখ, কিছু বিকেলের আড্ডা, কিছু অসমাপ্ত গল্প, কিছু অকারণ হাসি এবং একজন মানুষের মুখ—যার নাম বন্ধু।

জন্ম আমাদের অনেক সম্পর্ক উপহার দেয়, কিন্তু একজন সত্যিকারের বন্ধু জীবন নিজেই উপহার দেয়। তাই বন্ধু এমনই এক সম্পর্ক, যার কোনো রক্তের বন্ধন নেই, তবু হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ
আরও পড়ুন
মুখ খুলতে শুরু করেছেন তাহসিফের ‘বন্ধু’ দীপ, প্রকাশ্যে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
তাহসিফের ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে বাসা থেকে নিয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
‘পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন সহযোগী জাপান’
নতুন বন্ধু বানানোর দিন আজ