
রহস্যময় ব্যাধি কিংবা জিনগত পরীক্ষার মাধ্যমে ২০২৭ সালে একদল মানুষ অতিপ্রাকৃতিক বা ‘সুপারহিউম্যান’ ক্ষমতা অর্জন করবেন এমনই এক অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বুলগেরিয়ার অন্ধ রহস্যবাদী নারী বাবা ভাঙ্গাকে নিয়ে।
প্রচলিত দাবি অনুযায়ী, কোনও এক রোগ বা পরীক্ষার প্রভাবে অনেক মানুষ আক্রান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত অল্প কয়েকজন বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী হবেন। তবে সেই ক্ষমতা কী ধরনের হবে, কীভাবে তা অর্জিত হবে বা ছড়িয়ে পড়বে এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাবা ভাঙ্গার অনুসারীরা দাবি করেন, করোনা মহামারি, ৯/১১ হামলা এবং লেডি ডায়ানার মৃত্যুর মতো একাধিক বৈশ্বিক ঘটনার পূর্বাভাস তিনি দিয়েছিলেন। যদিও এসব ভবিষ্যদ্বাণী তিনি সত্যিই করেছিলেন কি না, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। ফলে বিষয়টি এখনও রহস্য ও বিশ্বাসের পর্যায়েই রয়েছে।
২০২৬ সাল ঘিরেও নানা দাবি
চলতি ২০২৬ সাল নিয়েও বাবা ভাঙ্গার নামে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো, এ বছর পূর্বাঞ্চল থেকে একটি নতুন বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে তা পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়বে। ফরাসি জ্যোতিষী নস্ট্রাডামুসের নামেও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে একই ধরনের পূর্বাভাস প্রচার করা হয়।
এছাড়া রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্বনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন এবং ‘বিশ্বের অধিপতি’ হয়ে উঠবেন এমন দাবিও রয়েছে। তবে এই ভবিষ্যদ্বাণীর পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনও প্রমাণ নেই।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়েও বাবা ভাঙ্গার নামে বিভিন্ন পূর্বাভাস ছড়িয়েছে। ২০২৬ সালে ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া, জাপান ও ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং নেপাল ও তিব্বতে আকস্মিক বন্যার মতো ঘটনাগুলোকে অনেকে তার ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে তার কথিত পূর্বাভাসের সরাসরি সম্পর্কেরও কোনও নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
এআই ও ভিনগ্রহীদের আগমন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের কারণে বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানে পরিবর্তন ও ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতার সঙ্গে বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচলিত কিছু ভবিষ্যদ্বাণীকেও অনেকে মিলিয়ে দেখছেন।
তবে তার নামে প্রচারিত আরেকটি দাবি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বলা হচ্ছে, ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে একটি বিশাল মহাকাশযান পৃথিবীতে আসবে এবং কোনও এক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ভিনগ্রহীদের বা এলিয়েনদের আগমন ঘটবে। ফলে এই দাবি সত্যি হয় কি না, তা নিয়ে অনুসারীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।
তবে বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচলিত এসব ভবিষ্যদ্বাণীর বেশিরভাগই নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক সূত্রে যাচাই করা যায় না। তাই এগুলোকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ঘটনা হিসেবে না দেখে রহস্যবাদী বিশ্বাস ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।
সূত্র: উইয়ন নিউজ
আরটিভি/এসকে


