ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

আজ আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
আজ ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস; মানুষের মতপ্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এ দিনে। ছবি: সংগৃহীত

আজ ১৫ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্রের অবস্থা পর্যালোচনা, মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর এ দিনটি পালন করা হয়।

২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের জাতিসংঘের মূল বার্তা হলো—প্রত্যেকের কণ্ঠস্বর গুরুত্বপূর্ণ, আর সবার অংশগ্রহণেই গণতন্ত্র কার্যকর হয়।

জাতিসংঘের মতে, এমন শাসনব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে মানুষ নিজের জীবনে প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অর্থবহভাবে অংশ নিতে পারে। আলোচনা, সহযোগিতা এবং ভিন্ন মত বোঝার মাধ্যমে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।

দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও মানুষের কণ্ঠস্বরকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও সমৃদ্ধ হবে, মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়বে এবং আরও শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংকট মোকাবিলায় সক্ষম সমাজ গড়ে উঠবে।

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের গণতন্ত্র তহবিল ও অংশীদারত্ব বিষয়ক কার্যালয় আজ জাতিসংঘের সদর দপ্তরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। সেখানে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অংশগ্রহণমূলক সভার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানুষের অংশগ্রহণ, আলোচনা ও অন্তর্ভুক্তি কীভাবে আস্থা বাড়াতে পারে এবং আরও জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হবে।

গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস বিশ্বের গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনারও একটি সুযোগ। জাতিসংঘ বলছে, গণতন্ত্র শুধু একটি লক্ষ্য নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়াও। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, সরকার, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের পূর্ণ অংশগ্রহণ ও সমর্থনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র বাস্তব রূপ পেতে পারে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রত্যেক মানুষের মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। এতে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই মতামত রাখা এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য ও ধারণা খোঁজা, গ্রহণ ও প্রকাশের অধিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গণতন্ত্রের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহি শক্তিশালী করতে জাতিসংঘ সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, নাগরিক সমাজকে সহায়তা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংবিধান প্রণয়নে সহযোগিতা করে থাকে।

২০ বছর ধরে গণতন্ত্রে জাতিসংঘের সহায়তা

জাতিসংঘের গণতন্ত্র তহবিল দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এগিয়ে নিতে কাজ করছে। নাগরিক সমাজ, মানুষের অংশগ্রহণ এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা দিয়ে আসছে এই তহবিল।

তহবিলটির বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর তুলে ধরা, নারী-পুরুষের সমতা, স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা হয়েছে। এক হাজারের বেশি উদ্যোগে সহায়তা দিয়েছে সংস্থাটি।

বিশেষ করে যেসব দেশে গণতন্ত্র দুর্বল বা হুমকির মুখে, সেখানে নাগরিক সমাজ, স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও তরুণদের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে সহায়তা দিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে জাতিসংঘের এই তহবিল।

যেভাবে শুরু আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে একটি প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে ১৫ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালনের উদ্যোগ নেয়। ২০০৮ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

প্রতিবছর দিবসটি পালনের জন্য একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন দেশের সংসদ ও প্রতিষ্ঠান দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা, কর্মশালা, বিতর্ক, শিশুদের জন্য বিভিন্ন আয়োজন এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়সহ নানা কর্মসূচি পালন করে।

আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের মতে, গণতন্ত্রে সব নাগরিকের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার, শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তায় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরার সুযোগও তৈরি করে এই দিবস।

গণতন্ত্র নিয়ে বিখ্যাত উক্তি

গণতন্ত্রের ধারণা ও গুরুত্ব নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন মনীষী ও রাষ্ট্রনায়ক বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—

আব্রাহাম লিংকন:
“গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা পরিচালিত সরকার এবং জনগণের জন্য সরকার।”

উইনস্টন চার্চিল:
“এ পর্যন্ত চেষ্টা করা অন্য সব শাসনব্যবস্থার তুলনায় গণতন্ত্র সবচেয়ে খারাপ—তবে অন্য সব ব্যবস্থাই আরও খারাপ।”

বি আর আম্বেদকর:
“গণতন্ত্র শুধু ভোট দেওয়ার বিষয় নয়; মানুষের দেওয়া ভোটের কণ্ঠস্বর শোনা নিশ্চিত করাও গণতন্ত্রের অংশ।”

ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট:
“যারা নিজেদের পছন্দ প্রকাশ করেন, তারা যদি বিচক্ষণতার সঙ্গে নির্বাচন করতে প্রস্তুত না থাকেন, তাহলে গণতন্ত্র সফল হতে পারে না। তাই গণতন্ত্রের প্রকৃত সুরক্ষা হলো শিক্ষা।”

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত্যুর ৯৫ বছর পরও লিবিয়ায় অমর ‘মরুর সিংহ’ ওমর আল-মুখতার
মৃত্যুর ৯৫ বছর পরও লিবিয়ার মানুষের মনে অমর হয়ে আছেন ওমর আল-মুখতার।
মৃত্যুর ৯৫ বছর পরও লিবিয়ায় অমর ‘মরুর সিংহ’ ওমর আল-মুখতার
বাংলাদেশে যে ১০ সাপ বেশি দেখা যায়
সাপ দেখলেই সেটি বিষধর এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেকে। সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটে। তবে বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের বড় একটি অংশই বিষধর নয়।
বাংলাদেশে যে ১০ সাপ বেশি দেখা যায়
কী ঘটেছিল ইতিহাসে আজকের দিনে
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে চলি। সে জন্য আমাদের অতীতের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি জানা দরকার।
কী ঘটেছিল ইতিহাসে আজকের দিনে
বিশ্বে সর্বোচ্চ সরকারি ছুটির দেশ মিয়ানমার, দ্বিতীয় বাংলাদেশ
বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সরকারি ছুটির সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। শীর্ষে আছে মিয়ানমার। আর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলঙ্কা।
বিশ্বে সর্বোচ্চ সরকারি ছুটির দেশ মিয়ানমার, দ্বিতীয় বাংলাদেশ
টিপস নিচ্ছে রোবট, টাকা যাচ্ছে কার পকেটে?
রেস্তোরাঁয় খাবার শেষে ভালো সেবার জন্য ওয়েটারকে টিপস দেওয়া বহুদিনের প্রচলিত রীতি। কিন্তু সেই টিপসের জায়গা যদি নেয় রোবট? মানুষের বদলে রোবট সেবা দিচ্ছে এটা প্রযুক্তির অগ্রগতির স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠলেও, রোবটের সামনে ডিজিটালভাবে টিপস দেওয়ার অনুরোধ অনেক গ্রাহকের কাছেই তৈরি করছে নতুন প্রশ্ন টাকাটা শেষ পর্যন্ত যাচ্ছে কার পকেটে? যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও কফিশপে ইতোমধ্যে রোবট ব্যবহার শুরু হয়েছে। কোথাও রোবট পানীয় তৈরি করছে, কোথাও খাবার পরিবেশন করছে, আবার কোথাও স্বয়ংক্রিয় মেশিনই গ্রাহকের কাছ থেকে টিপস চেয়ে বসছে। বিবিসির কলাম লেখক থমাস জারমেইন এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। লাস ভেগাসের ভেনেশিয়ান হোটেলের ‘দ্য টিপসি রোবট’ বারে গিয়ে তিনি দেখেন, দুটি রোবটিক বাহু স্বয়ংক্রিয়ভাবে ককটেল তৈরি করছে। ১৭ ডলারের একটি মার্গারিটা অর্ডার করার পর তিনি বিলের সঙ্গে ১০ শতাংশ সার্ভিস ফি দেখতে পান। এর পরও রোবটের পক্ষ থেকে চাওয়া হয় টিপস। জারমেইনের এমন অভিজ্ঞতা অবশ্য নতুন নয়। নিউইয়র্কের আর্টলি কফিতেও রোবট বারিস্তা তাকে টিপস দেওয়ার অনুরোধ করেছিল। এমনকি নিউইয়র্কের লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি স্বয়ংক্রিয় চেকআউট মেশিনে পানির বোতল কেনার সময়ও টিপসের অপশন সামনে এসেছিল। মানুষের সেবার ক্ষেত্রে টিপস দেওয়াকে স্বাভাবিক মনে হলেও রোবটের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় পড়ছেন অনেকেই। কারণ টিপস দেওয়ার প্রচলিত যুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভালো সেবার পুরস্কার দেওয়া কিংবা তুলনামূলক কম মজুরির কর্মীদের আর্থিকভাবে সহায়তা করা। রোবটের ক্ষেত্রে সেই যুক্তিগুলো কতটা প্রযোজ্য সেটিই বড় প্রশ্ন। দ্য টিপসি রোবট ও আর্টলি কফির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে পাওয়া টিপস মানব কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয় এবং কোম্পানি এর কোনো অংশ নেয় না। তবে সব প্রতিষ্ঠানে একই নিয়ম আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের লিহাই ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ও ‘গ্র্যাচুইটি’ বইয়ের সহলেখক হোলোনা ওকস মনে করেন, কিছু অসাধু নিয়োগকর্তা রোবটের জন্য দেওয়া টিপস নিজেদের কাছে রেখে দিতে পারেন।  তার মতে, বড় প্রশ্ন হলো এই টিপস থেকে কে লাভবান হচ্ছে এবং এর মূল্য কে দিচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের দেওয়া টিপস থেকে মালিক বা ব্যবস্থাপনার অংশ নেওয়ার ওপর আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু টিপস যদি সরাসরি কোনো যন্ত্র বা রোবটকে দেওয়া হয়, সেখানে আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। রোবটের জন্য দেওয়া টিপসের প্রকৃত মালিক কে এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট আইনি মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়নি। করোনাভাইরাস মহামারির পর যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে টিপস চাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বিল পরিশোধের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিপসের অপশন সামনে চলে আসে। অনেক ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত টিপসের হারও বাড়ছে। ফলে গ্রাহকদের একাংশ এটিকে এক ধরনের ‘আবেগগত চাপ’ হিসেবে দেখছেন। এই পরিস্থিতিতে রোবটের জন্য টিপস চাওয়ার বিষয়টি বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ রোবটকে টিপস দেওয়ার ক্ষেত্রে ভালো সেবা, সামাজিক চাপ কিংবা কর্মীর আর্থিক সহায়তার মতো প্রচলিত কারণগুলো অনেকটাই অনুপস্থিত। তবে রোবটের ব্যবহার মানেই যে মানুষের চাকরি চলে যাবে এমনটা মনে করছেন না সংশ্লিষ্ট সবাই। আর্টলি কফির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোবট ব্যবহারের উদ্দেশ্য মানুষকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া নয়। বরং শ্রমিক সংকটের সময় মানুষের কাজকে সহজ করতে প্রযুক্তি সহায়তা করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের অভিযোগের পর রোবটের মাধ্যমে টিপস চাওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করেছে এবং কর্মীদের বেতনও বাড়িয়েছে। এখন সেখানে কিছু জায়গায় সরাসরি টিপস রাখার জার রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, টিপসের পুরো অর্থই মানব কর্মীদের কাছে যায়। অন্যদিকে মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্যাটেরিনা বেরেজিনার মতে, রোবট বা প্রযুক্তির জন্য নেওয়া সার্ভিস চার্জ কিংবা টিপসের অর্থ রোবট পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও হালনাগাদের মতো কাজেও ব্যয় হতে পারে। তাই এটিকে সব সময় শুধু অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তবে ‘ওয়ান ফেয়ার ওয়েজ’-এর মতো অধিকারভিত্তিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, রোবটের ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে কম মজুরির ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার কৌশল হতে পারে। তাদের মতে, কম মজুরিই রেস্তোরাঁ খাতে শ্রমিক সংকটের অন্যতম কারণ। কর্নেল ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ‘দ্য সাইকোলজি অব টিপিং’ বইয়ের লেখক মাইকেল লিন মনে করেন, রোবটকে টিপস দেওয়ার যৌক্তিকতা খুবই কম। তার মতে, মানুষ সাধারণত ভালো সেবার পুরস্কার হিসেবে, কর্মীর কম মজুরি কিছুটা পূরণ করতে কিংবা সামাজিক চাপ ও স্বীকৃতির কারণে টিপস দেন। এসব কারণ রোবটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এক গবেষণায় অংশ নেওয়া মানুষের মাত্র প্রায় ১১ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তারা রোবট বারটেন্ডারকে টিপস দিতে আগ্রহী। তবে রোবটের মাধ্যমে দেওয়া টিপস যদি মানব কর্মীদের কাছে পৌঁছায়, তখন প্রায় ৪২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী তাঁদের মত পরিবর্তন করেন। অর্থাৎ, রোবটকে নয় মানুষকে টিপস দেওয়া হবে কি না, সেটিই এখনো গ্রাহকদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোবট হয়তো আরও বেশি জায়গায় মানুষের হয়ে সেবা দেবে। কিন্তু রোবটের হাতে ডিজিটাল টিপসের অপশন দেখলেই গ্রাহকের মনে যে প্রশ্নটি উঠছে, সেটি আপাতত থেকেই যাচ্ছে। আরটিভি/এসকে
টিপস নিচ্ছে রোবট, টাকা যাচ্ছে কার পকেটে?