ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

মৃত্যুর ৯৫ বছর পরও লিবিয়ায় অমর ‘মরুর সিংহ’ ওমর আল-মুখতার

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
ইতালীয় দখলদারদের হাতে গ্রেপ্তারের পর ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হচ্ছে লিবিয়ার প্রতিরোধ নেতা ওমর আল-মুখতারকে। ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুর ৯৫ বছর পরও লিবিয়ার মানুষের মনে অমর হয়ে আছেন ওমর আল-মুখতার। ইতালীয় ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২০ বছর সশস্ত্র প্রতিরোধের নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতা আজও লিবিয়ায় প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে স্মরণীয়।

আজকের (১৬ সেপ্টেম্বর) এই দিনে ১৯৩১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ৭৩ বছর বয়সে ইতালীয় দখলদারদের হাতে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড হয় ওমর আল-মুখতারের। আত্মসমর্পণের শর্ত মেনে নিতে অস্বীকার করায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সেই থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম লিবীয়দের কাছে তিনি হয়ে আছেন ‘মরুর সিংহ’—অন্যায়ের বিরুদ্ধে অসম লড়াইয়ের এক প্রতীক।

ধর্মীয় শিক্ষায় বেড়ে ওঠা

ওমর আল-মুখতার ১৮৬২ সালে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের জাওয়িয়াত জানজুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল-মানফাহ গোত্রের সদস্য ছিলেন। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারান। পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় যাওয়ার পথে তার বাবা মারা যান।

বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী ধর্মীয় স্কলার শেখ হুসেইন ঘারিয়ানি তাকে লালন-পালন করেন। তার কাছেই কোরআন শিক্ষা নেন ও পুরো কোরআন মুখস্থ করেন।

পরে তিনি পূর্ব লিবিয়ার আল-জাগবুব মরূদ্যানে যান। সে সময় এটি ছিল সেনুসি ধর্মীয় আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেখানে প্রায় আট বছর ইসলামি জ্ঞান ও ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন করেন।

১৮৯৭ সালে সেনুসি আন্দোলনের নেতা আল-মাহদি আল-সেনুসি তাকে জাওয়িয়াত আল-কুসুরের দায়িত্ব দেন। সেখানে ন্যায়বিচার, বিচক্ষণতা ও বিরোধ মীমাংসার দক্ষতার জন্য তিনি মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তখন থেকেই তিনি ‘সিদি ওমর’ নামে পরিচিতি পান। পরে তিনি সুদানেও দায়িত্ব পালন করেন।

ধর্মীয় নেতা থেকে প্রতিরোধযোদ্ধা

একসময় ধর্মীয় পণ্ডিত ওমর আল-মুখতার হয়ে ওঠেন ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে যোদ্ধা। প্রথম দিকে তিনি লিবিয়ার সীমান্ত এলাকায় ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেন। ১৯০০ সালে দক্ষিণ সুদান ও চাদে ফরাসি ঔপনিবেশিক বাহিনীর বিরুদ্ধেও যুদ্ধে অংশ নেন।

১৯১১ সালে ইতালি উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে লিবিয়ায় আক্রমণ চালালে ওমর আল-মুখতার প্রায় এক হাজার যোদ্ধাকে সংগঠিত করেন। পরে তিনি লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

১৯১২ সালে ইতালি লিবিয়াকে নিজেদের উপনিবেশ ঘোষণা করে। এরপর প্রায় দুই দশক তিনি ইতালীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যান। মরুভূমির ভৌগোলিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অতর্কিত হামলা ও দ্রুত সরে যাওয়ার কৌশল ব্যবহার করতেন তার যোদ্ধারা। এতে ইতালীয় বাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে।

চশমা দেখে পরিচয়, এরপর গ্রেপ্তার

ওমর আল-মুখতারের পরিচিতির অন্যতম প্রতীক ছিল তার ধাতব ফ্রেমের চশমা। ১৯৩০ সালে একটি বড় সংঘর্ষের পর ইতালীয় বাহিনী তার ঘোড়া ও সেই চশমা খুঁজে পায়। এরপর ইতালীয় সেনা কর্মকর্তা রোদলফো গ্রাজিয়ানি তাকে ধরার ব্যাপারে প্রকাশ্যে আত্মবিশ্বাস দেখান।

১৯৩১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ইতালীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ওমর আল-মুখতারের দুটি ঘোড়া নিহত হয়। পরে যোদ্ধাদের একজন তাকে ‘সিদি ওমর’ বলে সম্বোধন করলে ইতালীয় বাহিনী তার পরিচয় নিশ্চিত করে এবং তাকে আটক করে।

গ্রেপ্তারের তিন দিন পর বেনগাজিতে তার বিচার শুরু হয়। পরদিন তাকে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

বিচারের সময় ইতালীয় কর্তৃপক্ষ তাকে দেশ ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। শর্ত ছিল, তিনি তার যোদ্ধাদের সশস্ত্র লড়াই বন্ধ করতে বলবেন। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

‘আমরা আত্মসমর্পণ করব না’

ওমর আল-মুখতার তখন বলেন, নামাজে আল্লাহর একত্ব ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রাসুল হওয়ার সাক্ষ্য দেওয়া যে আঙুল, তা দিয়ে তিনি মিথ্যার কোনো শব্দ লিখতে পারবেন না। তিনি আত্মসমর্পণ করবেন না এবং বিজয়ী হবেন, অথবা মৃত্যুবরণ করবেন—এমন দৃঢ় অবস্থান জানান।

১৯৩১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার সালুক শহরে তাকে হাতকড়া পরিয়ে ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ তার মৃত্যুর সাক্ষী হন। মৃত্যুর আগে তিনি শাহাদাত পাঠ করেন।

সিনেমাতেও উঠে এসেছে তার জীবন

ওমর আল-মুখতারের জীবন ও ইতালীয় দখলদারদের বিরুদ্ধে তার লড়াই নিয়ে ১৯৮০ সালে নির্মিত হয় ‘মরুর সিংহ’ নামের চলচ্চিত্র। এতে তার চরিত্রে অভিনয় করেন অ্যান্থনি কুইন।

ওমর আল-মুখতারের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার নিয়ে ইতালিতেও দীর্ঘদিন সংবেদনশীলতা ছিল। চলচ্চিত্রটি ইতালিতে ২০০৯ সাল পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছিল।

মৃত্যুর এত বছর পরও লিবিয়ার মানুষের কাছে ওমর আল-মুখতার শুধু একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তি নন; তিনি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে আছেন।

সূত্র: দ্য মিড্যাল ইস্ট মনিটর


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশে যে ১০ সাপ বেশি দেখা যায়
সাপ দেখলেই সেটি বিষধর এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেকে। সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটে। তবে বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের বড় একটি অংশই বিষধর নয়।
বাংলাদেশে যে ১০ সাপ বেশি দেখা যায়
কী ঘটেছিল ইতিহাসে আজকের দিনে
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে চলি। সে জন্য আমাদের অতীতের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি জানা দরকার।
কী ঘটেছিল ইতিহাসে আজকের দিনে
আজ আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস
আজ ১৫ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস।
আজ আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস
বিশ্বে সর্বোচ্চ সরকারি ছুটির দেশ মিয়ানমার, দ্বিতীয় বাংলাদেশ
বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সরকারি ছুটির সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। শীর্ষে আছে মিয়ানমার। আর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলঙ্কা।
বিশ্বে সর্বোচ্চ সরকারি ছুটির দেশ মিয়ানমার, দ্বিতীয় বাংলাদেশ
টিপস নিচ্ছে রোবট, টাকা যাচ্ছে কার পকেটে?
রেস্তোরাঁয় খাবার শেষে ভালো সেবার জন্য ওয়েটারকে টিপস দেওয়া বহুদিনের প্রচলিত রীতি। কিন্তু সেই টিপসের জায়গা যদি নেয় রোবট? মানুষের বদলে রোবট সেবা দিচ্ছে এটা প্রযুক্তির অগ্রগতির স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠলেও, রোবটের সামনে ডিজিটালভাবে টিপস দেওয়ার অনুরোধ অনেক গ্রাহকের কাছেই তৈরি করছে নতুন প্রশ্ন টাকাটা শেষ পর্যন্ত যাচ্ছে কার পকেটে? যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও কফিশপে ইতোমধ্যে রোবট ব্যবহার শুরু হয়েছে। কোথাও রোবট পানীয় তৈরি করছে, কোথাও খাবার পরিবেশন করছে, আবার কোথাও স্বয়ংক্রিয় মেশিনই গ্রাহকের কাছ থেকে টিপস চেয়ে বসছে। বিবিসির কলাম লেখক থমাস জারমেইন এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। লাস ভেগাসের ভেনেশিয়ান হোটেলের ‘দ্য টিপসি রোবট’ বারে গিয়ে তিনি দেখেন, দুটি রোবটিক বাহু স্বয়ংক্রিয়ভাবে ককটেল তৈরি করছে। ১৭ ডলারের একটি মার্গারিটা অর্ডার করার পর তিনি বিলের সঙ্গে ১০ শতাংশ সার্ভিস ফি দেখতে পান। এর পরও রোবটের পক্ষ থেকে চাওয়া হয় টিপস। জারমেইনের এমন অভিজ্ঞতা অবশ্য নতুন নয়। নিউইয়র্কের আর্টলি কফিতেও রোবট বারিস্তা তাকে টিপস দেওয়ার অনুরোধ করেছিল। এমনকি নিউইয়র্কের লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি স্বয়ংক্রিয় চেকআউট মেশিনে পানির বোতল কেনার সময়ও টিপসের অপশন সামনে এসেছিল। মানুষের সেবার ক্ষেত্রে টিপস দেওয়াকে স্বাভাবিক মনে হলেও রোবটের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় পড়ছেন অনেকেই। কারণ টিপস দেওয়ার প্রচলিত যুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভালো সেবার পুরস্কার দেওয়া কিংবা তুলনামূলক কম মজুরির কর্মীদের আর্থিকভাবে সহায়তা করা। রোবটের ক্ষেত্রে সেই যুক্তিগুলো কতটা প্রযোজ্য সেটিই বড় প্রশ্ন। দ্য টিপসি রোবট ও আর্টলি কফির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে পাওয়া টিপস মানব কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয় এবং কোম্পানি এর কোনো অংশ নেয় না। তবে সব প্রতিষ্ঠানে একই নিয়ম আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের লিহাই ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ও ‘গ্র্যাচুইটি’ বইয়ের সহলেখক হোলোনা ওকস মনে করেন, কিছু অসাধু নিয়োগকর্তা রোবটের জন্য দেওয়া টিপস নিজেদের কাছে রেখে দিতে পারেন।  তার মতে, বড় প্রশ্ন হলো এই টিপস থেকে কে লাভবান হচ্ছে এবং এর মূল্য কে দিচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের দেওয়া টিপস থেকে মালিক বা ব্যবস্থাপনার অংশ নেওয়ার ওপর আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু টিপস যদি সরাসরি কোনো যন্ত্র বা রোবটকে দেওয়া হয়, সেখানে আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। রোবটের জন্য দেওয়া টিপসের প্রকৃত মালিক কে এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট আইনি মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়নি। করোনাভাইরাস মহামারির পর যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে টিপস চাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বিল পরিশোধের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিপসের অপশন সামনে চলে আসে। অনেক ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত টিপসের হারও বাড়ছে। ফলে গ্রাহকদের একাংশ এটিকে এক ধরনের ‘আবেগগত চাপ’ হিসেবে দেখছেন। এই পরিস্থিতিতে রোবটের জন্য টিপস চাওয়ার বিষয়টি বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ রোবটকে টিপস দেওয়ার ক্ষেত্রে ভালো সেবা, সামাজিক চাপ কিংবা কর্মীর আর্থিক সহায়তার মতো প্রচলিত কারণগুলো অনেকটাই অনুপস্থিত। তবে রোবটের ব্যবহার মানেই যে মানুষের চাকরি চলে যাবে এমনটা মনে করছেন না সংশ্লিষ্ট সবাই। আর্টলি কফির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোবট ব্যবহারের উদ্দেশ্য মানুষকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া নয়। বরং শ্রমিক সংকটের সময় মানুষের কাজকে সহজ করতে প্রযুক্তি সহায়তা করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের অভিযোগের পর রোবটের মাধ্যমে টিপস চাওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করেছে এবং কর্মীদের বেতনও বাড়িয়েছে। এখন সেখানে কিছু জায়গায় সরাসরি টিপস রাখার জার রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, টিপসের পুরো অর্থই মানব কর্মীদের কাছে যায়। অন্যদিকে মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্যাটেরিনা বেরেজিনার মতে, রোবট বা প্রযুক্তির জন্য নেওয়া সার্ভিস চার্জ কিংবা টিপসের অর্থ রোবট পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও হালনাগাদের মতো কাজেও ব্যয় হতে পারে। তাই এটিকে সব সময় শুধু অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তবে ‘ওয়ান ফেয়ার ওয়েজ’-এর মতো অধিকারভিত্তিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, রোবটের ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে কম মজুরির ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার কৌশল হতে পারে। তাদের মতে, কম মজুরিই রেস্তোরাঁ খাতে শ্রমিক সংকটের অন্যতম কারণ। কর্নেল ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ‘দ্য সাইকোলজি অব টিপিং’ বইয়ের লেখক মাইকেল লিন মনে করেন, রোবটকে টিপস দেওয়ার যৌক্তিকতা খুবই কম। তার মতে, মানুষ সাধারণত ভালো সেবার পুরস্কার হিসেবে, কর্মীর কম মজুরি কিছুটা পূরণ করতে কিংবা সামাজিক চাপ ও স্বীকৃতির কারণে টিপস দেন। এসব কারণ রোবটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এক গবেষণায় অংশ নেওয়া মানুষের মাত্র প্রায় ১১ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তারা রোবট বারটেন্ডারকে টিপস দিতে আগ্রহী। তবে রোবটের মাধ্যমে দেওয়া টিপস যদি মানব কর্মীদের কাছে পৌঁছায়, তখন প্রায় ৪২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী তাঁদের মত পরিবর্তন করেন। অর্থাৎ, রোবটকে নয় মানুষকে টিপস দেওয়া হবে কি না, সেটিই এখনো গ্রাহকদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোবট হয়তো আরও বেশি জায়গায় মানুষের হয়ে সেবা দেবে। কিন্তু রোবটের হাতে ডিজিটাল টিপসের অপশন দেখলেই গ্রাহকের মনে যে প্রশ্নটি উঠছে, সেটি আপাতত থেকেই যাচ্ছে। আরটিভি/এসকে
টিপস নিচ্ছে রোবট, টাকা যাচ্ছে কার পকেটে?