ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

টিপস নিচ্ছে রোবট, টাকা যাচ্ছে কার পকেটে?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রেস্তোরাঁয় খাবার শেষে ভালো সেবার জন্য ওয়েটারকে টিপস দেওয়া বহুদিনের প্রচলিত রীতি। কিন্তু সেই টিপসের জায়গা যদি নেয় রোবট? মানুষের বদলে রোবট সেবা দিচ্ছে এটা প্রযুক্তির অগ্রগতির স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠলেও, রোবটের সামনে ডিজিটালভাবে টিপস দেওয়ার অনুরোধ অনেক গ্রাহকের কাছেই তৈরি করছে নতুন প্রশ্ন টাকাটা শেষ পর্যন্ত যাচ্ছে কার পকেটে?

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও কফিশপে ইতোমধ্যে রোবট ব্যবহার শুরু হয়েছে। কোথাও রোবট পানীয় তৈরি করছে, কোথাও খাবার পরিবেশন করছে, আবার কোথাও স্বয়ংক্রিয় মেশিনই গ্রাহকের কাছ থেকে টিপস চেয়ে বসছে।

বিবিসির কলাম লেখক থমাস জারমেইন এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। লাস ভেগাসের ভেনেশিয়ান হোটেলের ‘দ্য টিপসি রোবট’ বারে গিয়ে তিনি দেখেন, দুটি রোবটিক বাহু স্বয়ংক্রিয়ভাবে ককটেল তৈরি করছে। ১৭ ডলারের একটি মার্গারিটা অর্ডার করার পর তিনি বিলের সঙ্গে ১০ শতাংশ সার্ভিস ফি দেখতে পান। এর পরও রোবটের পক্ষ থেকে চাওয়া হয় টিপস।

জারমেইনের এমন অভিজ্ঞতা অবশ্য নতুন নয়। নিউইয়র্কের আর্টলি কফিতেও রোবট বারিস্তা তাকে টিপস দেওয়ার অনুরোধ করেছিল। এমনকি নিউইয়র্কের লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি স্বয়ংক্রিয় চেকআউট মেশিনে পানির বোতল কেনার সময়ও টিপসের অপশন সামনে এসেছিল।

মানুষের সেবার ক্ষেত্রে টিপস দেওয়াকে স্বাভাবিক মনে হলেও রোবটের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় পড়ছেন অনেকেই। কারণ টিপস দেওয়ার প্রচলিত যুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভালো সেবার পুরস্কার দেওয়া কিংবা তুলনামূলক কম মজুরির কর্মীদের আর্থিকভাবে সহায়তা করা। রোবটের ক্ষেত্রে সেই যুক্তিগুলো কতটা প্রযোজ্য সেটিই বড় প্রশ্ন।

দ্য টিপসি রোবট ও আর্টলি কফির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে পাওয়া টিপস মানব কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয় এবং কোম্পানি এর কোনো অংশ নেয় না। তবে সব প্রতিষ্ঠানে একই নিয়ম আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের লিহাই ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ও ‘গ্র্যাচুইটি’ বইয়ের সহলেখক হোলোনা ওকস মনে করেন, কিছু অসাধু নিয়োগকর্তা রোবটের জন্য দেওয়া টিপস নিজেদের কাছে রেখে দিতে পারেন।

তার মতে, বড় প্রশ্ন হলো এই টিপস থেকে কে লাভবান হচ্ছে এবং এর মূল্য কে দিচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের দেওয়া টিপস থেকে মালিক বা ব্যবস্থাপনার অংশ নেওয়ার ওপর আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু টিপস যদি সরাসরি কোনো যন্ত্র বা রোবটকে দেওয়া হয়, সেখানে আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। রোবটের জন্য দেওয়া টিপসের প্রকৃত মালিক কে এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট আইনি মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

করোনাভাইরাস মহামারির পর যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে টিপস চাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বিল পরিশোধের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিপসের অপশন সামনে চলে আসে।

অনেক ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত টিপসের হারও বাড়ছে। ফলে গ্রাহকদের একাংশ এটিকে এক ধরনের ‘আবেগগত চাপ’ হিসেবে দেখছেন।

এই পরিস্থিতিতে রোবটের জন্য টিপস চাওয়ার বিষয়টি বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ রোবটকে টিপস দেওয়ার ক্ষেত্রে ভালো সেবা, সামাজিক চাপ কিংবা কর্মীর আর্থিক সহায়তার মতো প্রচলিত কারণগুলো অনেকটাই অনুপস্থিত।

তবে রোবটের ব্যবহার মানেই যে মানুষের চাকরি চলে যাবে এমনটা মনে করছেন না সংশ্লিষ্ট সবাই। আর্টলি কফির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোবট ব্যবহারের উদ্দেশ্য মানুষকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া নয়। বরং শ্রমিক সংকটের সময় মানুষের কাজকে সহজ করতে প্রযুক্তি সহায়তা করতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের অভিযোগের পর রোবটের মাধ্যমে টিপস চাওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করেছে এবং কর্মীদের বেতনও বাড়িয়েছে। এখন সেখানে কিছু জায়গায় সরাসরি টিপস রাখার জার রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, টিপসের পুরো অর্থই মানব কর্মীদের কাছে যায়।

অন্যদিকে মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্যাটেরিনা বেরেজিনার মতে, রোবট বা প্রযুক্তির জন্য নেওয়া সার্ভিস চার্জ কিংবা টিপসের অর্থ রোবট পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও হালনাগাদের মতো কাজেও ব্যয় হতে পারে। তাই এটিকে সব সময় শুধু অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

তবে ‘ওয়ান ফেয়ার ওয়েজ’-এর মতো অধিকারভিত্তিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, রোবটের ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে কম মজুরির ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার কৌশল হতে পারে। তাদের মতে, কম মজুরিই রেস্তোরাঁ খাতে শ্রমিক সংকটের অন্যতম কারণ।

কর্নেল ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ‘দ্য সাইকোলজি অব টিপিং’ বইয়ের লেখক মাইকেল লিন মনে করেন, রোবটকে টিপস দেওয়ার যৌক্তিকতা খুবই কম।

তার মতে, মানুষ সাধারণত ভালো সেবার পুরস্কার হিসেবে, কর্মীর কম মজুরি কিছুটা পূরণ করতে কিংবা সামাজিক চাপ ও স্বীকৃতির কারণে টিপস দেন। এসব কারণ রোবটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

এক গবেষণায় অংশ নেওয়া মানুষের মাত্র প্রায় ১১ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তারা রোবট বারটেন্ডারকে টিপস দিতে আগ্রহী। তবে রোবটের মাধ্যমে দেওয়া টিপস যদি মানব কর্মীদের কাছে পৌঁছায়, তখন প্রায় ৪২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী তাঁদের মত পরিবর্তন করেন।

অর্থাৎ, রোবটকে নয় মানুষকে টিপস দেওয়া হবে কি না, সেটিই এখনো গ্রাহকদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোবট হয়তো আরও বেশি জায়গায় মানুষের হয়ে সেবা দেবে। কিন্তু রোবটের হাতে ডিজিটাল টিপসের অপশন দেখলেই গ্রাহকের মনে যে প্রশ্নটি উঠছে, সেটি আপাতত থেকেই যাচ্ছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ
আরও পড়ুন
খাবার ডেলিভারির রোবটের ক্যামেরায় মুখের ছবি, উঠল তথ্য চুরির অভিযোগ
রেস্তোরাঁর পেছনে নিরবকে কুপিয়ে চলে যায় ১২ জন
কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে রোবট জব্দ
রোবট দিয়ে কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ