ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

রিও সিনেমার সেই নীল পাখি কি সত্যিই বিলুপ্ত

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০১ এএম
রিও সিনেমার নীল পাখি। ছবি: সংগৃহীত

অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘রিও’র মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া নীল রঙের টিয়া পাখি ‘স্পিক্স ম্যাকাও’। সিনেমার প্রধান দুই চরিত্র ব্লু ও জুয়েল এই প্রজাতির পাখিকে প্রতিনিধিত্ব করে। তবে বাস্তব জীবনে এই দৃষ্টিনন্দন পাখির অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন। বন্য পরিবেশে স্পিক্স ম্যাকাও এখন আর টিকে নেই।

স্পিক্স ম্যাকাওয়ের বৈজ্ঞানিক নাম Cyanopsitta spixii। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) ২০১৯ সালে প্রজাতিটিকে বন্য পরিবেশে ‘বিলুপ্ত’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। এর অর্থ, প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় এই প্রজাতির কোনো পাখির অস্তিত্ব নেই।

ব্রাজিলের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে একসময় স্পিক্স ম্যাকাওয়ের বিচরণ ছিল। বিশেষ করে শুষ্ক বনাঞ্চলের ক্যারাইবা গাছের ওপর নির্ভর করে তারা বাসা বাঁধত ও বংশবিস্তার করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ব্যাপক বন উজাড়ের কারণে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হতে থাকে।

এর পাশাপাশি পোষা পাখির আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ শিকার ও পাচারের শিকার হয় স্পিক্স ম্যাকাও। আবাসস্থল ধ্বংস এবং অবৈধ বাণিজ্য এই দুইয়ের প্রভাবে বন্য পরিবেশে প্রজাতিটির সংখ্যা দ্রুত কমে যায়। ২০০০ সালের পর থেকে বন্য অবস্থায় স্পিক্স ম্যাকাওয়ের কোনো নিশ্চিত অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

তবে বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত হলেও প্রজাতিটি পুরোপুরি পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়নি। বিভিন্ন সংরক্ষণকেন্দ্র, প্রজননকেন্দ্র ও চিড়িয়াখানায় থাকা পাখিদের নিয়ে চলছে নিয়ন্ত্রিত প্রজনন কর্মসূচি।

এর লক্ষ্য হলো স্পিক্স ম্যাকাওয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে ভবিষ্যতে তাদের ব্রাজিলের আদি আবাসস্থলে পুনরায় অবমুক্ত করা।

সংরক্ষণবিদদের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি তৈরি করেছে। তবে একটি স্থিতিশীল ও স্বনির্ভর বন্য জনসংখ্যা প্রতিষ্ঠা করা এখনো দীর্ঘমেয়াদি ও চ্যালেঞ্জিং কাজ।

‘রিও’ সিনেমার মাধ্যমে যে নীল পাখি কোটি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে, তার বাস্তব গল্প তাই অনেকটাই ভিন্ন। স্পিক্স ম্যাকাওয়ের বর্তমান অবস্থা একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বন সংরক্ষণ এবং অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য বন্ধের গুরুত্বও তুলে ধরে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ