ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

মঞ্চ একই, সময় আলাদা: জাতিসংঘে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
জাতিসংঘের মঞ্চে বক্তব্য দিয়েছেন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া; এবার ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে এবার আলোচনায় বাংলাদেশের জিয়া পরিবার। এই পরিবারের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছেন, তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একই মঞ্চে বক্তব্য রেখেছেন। এবার তাদের ছেলে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।

তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে তার প্রথম ভাষণ।

বিশ্বমঞ্চে একই পরিবারের একাধিক প্রজন্মের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার ঘটনা বিরল হলেও একেবারে নজিরবিহীন নয়। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও আমেরিকার বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক পরিবারে এমন উদাহরণ রয়েছে।

জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাদশ বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। জাতিসংঘের সরকারি নথিতেও ওই ভাষণের রেকর্ড রয়েছে। সেখানে তাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

খালেদা জিয়াও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একাধিকবার ভাষণ দিয়েছেন। ১৯৯৫ ও ২০০৫ সালের অধিবেশনের সরকারি নথিতে তার বক্তব্যের রেকর্ড রয়েছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ দেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৪ সালে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন। পরে তার মেয়ে শেখ হাসিনাও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একাধিকবার জাতিসংঘের একই মঞ্চে ভাষণ দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বুশ পরিবারেও বাবা ও ছেলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিয়েছেন। জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪১তম প্রেসিডেন্ট। তিনি ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে একাধিকবার জাতিসংঘে বক্তব্য দেন। তার ছেলে জর্জ ডব্লিউ বুশ ছিলেন দেশটির ৪৩তম প্রেসিডেন্ট এবং ২০০১ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে প্রতি বছর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন।

শ্রীলঙ্কার বন্দরনায়েকে পরিবারেও রয়েছে একই ধরনের নজির। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এস ডব্লিউ আর ডি বন্দরনায়েকে ১৯৫৬ সালে জাতিসংঘে ভাষণ দেন। তার স্ত্রী সিরিমাভো বন্দরনায়েকে বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একাধিকবার বক্তব্য রাখেন। পরে তাদের মেয়ে চন্দ্রিকা বন্দরনায়েকে কুমারাতুঙ্গা শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি হিসেবে ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে জাতিসংঘের মঞ্চে ভাষণ দেন।

পাকিস্তানের ভুট্টো পরিবারেও বাবা ও মেয়ের এমন নজির রয়েছে। জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি—দুই পরিচয়েই ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে জাতিসংঘে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তার মেয়ে বেনজীর ভুট্টো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৮৯ ও ১৯৯৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন।

ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ন পরিবারেও একই ধরনের উদাহরণ রয়েছে। দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট আহমদ সুকর্ন ১৯৬০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১৫তম অধিবেশনে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ২০২৩ সালে ইউনেস্কো তার ওই ভাষণকে বিশ্বস্মৃতি কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করে। পরে তার মেয়ে মেঘবতী সুকর্নপুত্রি ইন্দোনেশিয়ার পঞ্চম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ২০০১ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন।

ইন্দোনেশিয়ার জোযোহাদিকুসুমো পরিবারেও রয়েছে এমন নজির। অধ্যাপক সুমিত্রো জোযোহাদিকুসুমো দেশটির স্বাধীনতার শুরুর দিকে জাতিসংঘে ইন্দোনেশিয়ার কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। পরে তার ছেলে প্রাবোও সুবিয়ান্তো ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রথমবার ভাষণ দেন।

থাইল্যান্ডের শিনাওয়াত্রা পরিবারেও ভাই-বোনের জাতিসংঘের মঞ্চে উপস্থিতির নজির রয়েছে। থাকসিন শিনাওয়াত্রা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বৈঠকে থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন। তার বোন ইংলাক শিনাওয়াত্রাও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন।

মালয়েশিয়ার রাজাক পরিবারেও বাবা ও ছেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছেন। তুন আবদুল রাজাক ছিলেন দেশটির দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী। তার ছেলে নাজিব রাজাক ছিলেন ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। মালয়েশিয়ার সরকারি নথিতে নাজিবের ২০১০, ২০১৩ ও ২০১৪ সালের সাধারণ পরিষদের ভাষণের রেকর্ড রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যেও এমন রাজনৈতিক পরিবারের নজির রয়েছে। জর্ডানের হাশেমি রাজপরিবারের বাদশাহ হুসেইন বিন তালাল এবং তার ছেলে বর্তমান বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ—দুজনই জাতিসংঘের মঞ্চে জর্ডানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

কাতারের আল থানি পরিবারেও বাবা ও ছেলে আমির হিসেবে জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছেন। সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি এবং বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি—দুজনই বিশ্বমঞ্চে কাতারের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

সিরিয়ার আসাদ পরিবারেও বাবা ও ছেলের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের নজির রয়েছে। হাফেজ আল-আসাদ ও তার ছেলে বাশার আল-আসাদ—দুজনই রাষ্ট্রপতি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

ভারতের নেহরু-গান্ধী পরিবারেও তিন প্রজন্মের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার জাতিসংঘের মঞ্চে দেখা গেছে। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ১৯৪৮ ও ১৯৬০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। তার মেয়ে ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৬৮ ও ১৯৮৫ সালে বক্তব্য রাখেন। পরে ইন্দিরার ছেলে রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৮৫ ও ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন।

আফ্রিকাতেও এমন কয়েকটি রাজনৈতিক পরিবারের উদাহরণ রয়েছে। গ্যাবনের বংগো পরিবার, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের কাবিলা পরিবার এবং টোগোর নাসিংবে পরিবারে বাবা ও ছেলে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সব মিলিয়ে, জাতিসংঘের মঞ্চে একই পরিবারের একাধিক প্রজন্মের উপস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে এমন পরিবারের উদাহরণও রয়েছে। এবার জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে তারেক রহমানের জাতিসংঘের মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার বিষয়টি সেই তালিকায় নতুন একটি অধ্যায় যোগ করছে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বছরে ১৬০ রাত বিদ্যুতের ঝলকানি, কোথায় দেখা যায় প্রকৃতির এই বিস্ময়?
রাতের আকাশজুড়ে একের পর এক বিদ্যুতের ঝলকানি। কখনও কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে, কখনও আবার এক মিনিটে কয়েক ডজন বার। প্রকৃতির এমনই এক বিস্ময়কর দৃশ্যের দেখা মেলে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায়। মারাকাইবো হ্রদের ওপর সংঘটিত এই বিরল প্রাকৃতিক ঘটনাটি পরিচিত ‘কাটাতুম্বো বজ্রপাত’ নামে। বছরে প্রায় ১৪০ থেকে ১৬০ রাত এই অঞ্চলে বজ্রঝড়ের দেখা মেলে বলে গবেষকদের পর্যবেক্ষণ। কোথায় দেখা যায় এই বিরল দৃশ্য? ভেনেজুয়েলার মারাকাইবো হ্রদের পশ্চিম দিকে, কাটাতুম্বো নদী যেখানে হ্রদে মিশেছে, সেই আশপাশের জলাভূমি অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এই বজ্রপাত। স্থানীয় বারি জনগোষ্ঠীর ভাষায় ‘কাটাতুম্বো’ শব্দের অর্থ ‘বজ্রের ঘর’। নামের সঙ্গে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের রয়েছে অদ্ভুত মিল। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনও কোনও রাতে প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। এক মিনিটে ১৬ থেকে ৪০ বার পর্যন্ত বজ্রপাতের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। স্যাটেলাইটভিত্তিক পরিসংখ্যানেও এই অঞ্চলকে বিশ্বের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন এত ঘন ঘন বজ্রপাত হয়? এই অস্বাভাবিক ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে অঞ্চলের বিশেষ ভূপ্রকৃতি ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি। মারাকাইবো হ্রদ ও সংলগ্ন জলাভূমি থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প বাতাসে মিশে যায়। অন্য দিকে, আন্দিজ়-সহ আশপাশের পর্বতশ্রেণি স্থানীয় বায়ুপ্রবাহকে প্রভাবিত করে। উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাসের সঙ্গে তুলনামূলক ঠান্ডা বাতাসের সংঘাতে বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর ফলে গড়ে ওঠে শক্তিশালী বজ্রঝড়। ঝড়ের মেঘের মধ্যে বৈদ্যুতিক চার্জ জমতে থাকলে ঘন ঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। এই অঞ্চলে বজ্রপাতের বড় অংশই মেঘের অভ্যন্তরে ঘটে। তবে কাটাতুম্বোতেই কেন এমন ঘটনা এত বেশি ঘটে, তার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা এখনও মেলেনি। স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, ঋতু পরিবর্তন এবং এল নিনোর মতো বৃহত্তর জলবায়ুগত প্রভাব এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন গবেষকেরা। কখন বেশি দেখা যায় এই বজ্রপাত? সারা বছর সমান তীব্রতায় বজ্রপাত হয় না কাটাতুম্বো অঞ্চলে। ঋতু ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে এর ঘনত্বও ওঠানামা করে। ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই অঞ্চলে বজ্রপাত উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গিয়েছিল। সে সময়ে খরার প্রভাবকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমনকি এই প্রাকৃতিক ঘটনা স্থায়ী ভাবে বন্ধ হয়ে গেল কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছিল। পরে অবশ্য আবার বজ্রপাতের ঘটনা দেখা যায়। গবেষকদের মতে, স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ ও বৃহত্তর জলবায়ুগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে কয়েক মাস আগেও এই অঞ্চলে বজ্রপাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া সম্ভব। তবে নির্দিষ্ট কোনও রাতে কতটা বজ্রপাত হবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। ‘মারাকাইবোর বাতিঘর’ নাম কেন? কাটাতুম্বো বজ্রপাতের ইতিহাস বহু পুরনো। ঔপনিবেশিক আমলের বিভিন্ন বিবরণেও এই প্রাকৃতিক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। ১৮২৬ সালে প্রুশীয় প্রকৃতিবিদ ও অভিযাত্রী আলেকজান্ডার ভন হামবোল্ট এবং ১৮৪১ সালে ইতালীয় ভূগোলবিদ অগাস্টিন কোডাজ্জিও এই অঞ্চলের বিদ্যুতের ঝলকানির বর্ণনা দেন। রাতের আকাশে বহু দূর থেকেও এই আলো দেখা যেত বলে একসময় একে ‘মারাকাইবোর বাতিঘর’ বলা হত। নাবিকদের কাছে এই দৃশ্য ছিল পরিচিত। ভেনেজুয়েলার জুলিয়া রাজ্যের সংস্কৃতি ও প্রতীকেও এই বজ্রপাতের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। স্থানীয় ওয়ায়ু, ইউকপা ও বারি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি এবং বিশ্বাসের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এই প্রাকৃতিক ঘটনা। পর্যটকদের কাছে কেন আকর্ষণীয়? রাতের অন্ধকারে হ্রদের জলরাশির ওপর একের পর এক বিদ্যুতের ঝলকানি, দূরের জলাভূমি আর ঝড়ের মেঘ সব মিলিয়ে কাটাতুম্বো অঞ্চলের দৃশ্য অনন্য। প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে তাই এই অঞ্চল বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। তবে বজ্রঝড়ের সময় সেখানে অবস্থান করা বিপজ্জনক। এই দৃশ্য দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস, নিরাপত্তা নির্দেশিকা এবং অভিজ্ঞ গাইডের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। প্রকৃতি ও ভূপ্রকৃতির বিশেষ সমন্বয়ে কী ভাবে তৈরি হতে পারে এমন বিস্ময়কর দৃশ্য, তারই এক অনন্য উদাহরণ ভেনেজুয়েলার কাটাতুম্বো বজ্রপাত। বছরের পর বছর ধরে রাতের আকাশে এই বিদ্যুতের খেলা মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীতে এখনও এমন অনেক প্রাকৃতিক রহস্য রয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের কাছেও গবেষণার বিষয়। আরটিভি/এসকে
বছরে ১৬০ রাত বিদ্যুতের ঝলকানি, কোথায় দেখা যায় প্রকৃতির এই বিস্ময়?
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
জমি কিনে দলিল করার আগে যাচাই জরুরি ৭ বিষয়
জমি কেনাকে নিরাপদ একটি বিনিয়োগ মনে করেন অনেকেই। তবে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়া দলিল তৈরি বা নিবন্ধন করলে এই নিরাপদ বিনিয়োগই ভবিষ্যতে হয়ে ওঠে কান্নার কারণ; আইনি জটিলতার পাশাপাশি সম্মুখীন হতে হয় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির।
জমি কিনে দলিল করার আগে যাচাই জরুরি ৭ বিষয়
নদী থেকে সোনার কণা সংগ্রহ করে প্রেমিকার জন্য আংটি বানালেন যুবক
প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে বাজার থেকে আংটি না কিনে নিজেই সোনা সংগ্রহ করে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর এক যুবক। কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন নদী থেকে সোনার কণা সংগ্রহ করে সেসব দিয়ে তৈরি করেছেন দীর্ঘদিনের প্রেমিকার জন্য বাগদানের আংটি। ভালোবাসার এই অনন্য উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার প্রেমিকা জোয়ান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ‘দ্য পিপল’-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলোরাডোর হুইট রিজ এলাকার বাসিন্দা জ্যাক ভলকানি প্রেমিকা জোয়ানকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। এ সময় বাজার থেকে আংটি কেনার পরিবর্তে নিজের হাতে তৈরি করার চিন্তা আসে তার মাথায়। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কলোরাডোর বিভিন্ন নদী থেকে সোনার কণা সংগ্রহ শুরু করেন তিনি। ভলকানি জানান, প্রথমে কাজটি শেষ করতে অনেক সময় লাগবে বলে মনে হয়েছিল তার। তবে সেই কঠিন চ্যালেঞ্জই তাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করে। মাসের পর মাস পরিশ্রম করে একপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সোনা সংগ্রহ করতে সক্ষম হন তিনি। পরে সংগৃহীত সোনা নিয়ে হুইট রিজের গয়না নির্মাতা জ্যাক অ্যালেনের কাছে যান ভলকানি। তার অনুরোধে সোনা গলিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা হয় বাগদানের আংটি। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগে আগ্রহী হয়ে আংটিটি তৈরির কাজ করেন অ্যালেন। আংটি তৈরি হওয়ার পর প্রেমিকাকে চমকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন ভলকানি। একদিন জোয়ানকে নিয়ে পাহাড়ি পথে হাঁটতে বের হন তিনি। সেখানে তাকে নদী থেকে সোনার কণা সংগ্রহের বিভিন্ন মুহূর্ত নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও দেখান। প্রথমে ভিডিওটির উদ্দেশ্য বুঝতে পারেননি জোয়ান। তবে ভিডিওর মাঝামাঝি গিয়ে বুঝতে পারেন, প্রেমিকের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পেছনে রয়েছে তার জন্য বাগদানের আংটি তৈরির পরিকল্পনা। বিষয়টি উপলব্ধি করেই আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। জোয়ান বলেন, ভিডিওতে প্রেমিককে নদী থেকে সোনা সংগ্রহ করতে দেখে প্রথমে তার কাছে বিষয়টি বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়েছিল। কিন্তু কেন তাকে ভিডিওটি দেখানো হচ্ছে, তা বুঝতে পারছিলেন না। পরে যখন উপলব্ধি করেন, এই সোনা দিয়েই তার জন্য আংটি তৈরি করা হয়েছে, তখন আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। জোয়ানের মতে, ভলকানির এই উদ্যোগ তাদের সম্পর্কের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। প্রেমিকের এমন আন্তরিক প্রচেষ্টা তাকে বুঝিয়েছে, জীবনসঙ্গী হিসেবে তিনি সঠিক মানুষটিকেই বেছে নিয়েছেন। এদিকে, আংটি তৈরির পরও কিছু সোনা অবশিষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভলকানি। সেই সোনা দিয়ে নিজের জন্যও একটি আংটি তৈরির পরিকল্পনা করছেন তিনি। তার বিশ্বাস, দুজনের আঙুলে একই স্মৃতিবিজড়িত আংটি থাকলে দূরে থাকলেও তাদের মধ্যে ভালোবাসার বন্ধন অটুট থাকার অনুভূতি জাগবে। ভলকানির এই উদ্যোগ যেন ভালোবাসার প্রকাশে দামি উপহারের চেয়ে সময়, শ্রম ও আন্তরিকতার গুরুত্বই নতুন করে তুলে ধরেছে। আরটিভি/এসকে
নদী থেকে সোনার কণা সংগ্রহ করে প্রেমিকার জন্য আংটি বানালেন যুবক
যে কারণে দিনে দিনে ছোট হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিয়ের আয়োজন
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের বদলে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান করছেন দম্পতিরা।
যে কারণে দিনে দিনে ছোট হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিয়ের আয়োজন
আরও পড়ুন
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার তুমুল বাগবিতণ্ডা, ‘এটা আমেরিকা’ বলে চিৎকার
জোর করে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ রাশিয়ার
কপ৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের একক ও জোরালো অবস্থানের আহ্বান শামা ওবায়েদের
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের সংস্কার সমর্থন করে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী