
পশ্চিম আকাশের সন্ধ্যায় আজ যখন ছিল রক্তিম আভার মতো লাল অবায়ব তখনই পূর্ব আকাশে দেখা গিয়েছে সোনালি উজ্জ্বল রঙের গোলকের মতো একটা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অত্যন্ত ২০ মিনিট আগেই উদিত হওয়া একটা চাঁদ। আজকের উদিত হওয়া এই বিশেষ চাঁদটির নাম ‘হারভেস্ট মুন’।
জ্যেতির্বিজ্ঞানের ভাষায়, যখন পৃথিবী তার নিজের অক্ষ বা অক্ষরেখায় সোজা হয়ে না থেকে প্রায় ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি কোণে হেলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে তখন পৃথিবীতে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হয়ে যায়। বছরে দুই মাস মার্চ ও সেপ্টেম্বর মাসে এরকম দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হয়ে যায়। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের সময়ে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হয়ে যাওয়াকে বলে শরৎকালীন বিষুব বা অটমনাল ইকুইনক্স। আর এই সময়ে বা এই সময়ের কাছাকাছি যে পূর্ণিমাটি ঘটে তাকেই বলা হয় হারভেস্ট মুন বা ‘ফসল কাটার চাঁদ’।
চাঁদের এমন নামকরণের পিছনে রয়েছে একটি কৃষিভিত্তিক ইতিহাস। বিদ্যুৎ আবিষ্কারের আগে শরৎকালের এই উজ্জ্বল পূর্ণিমার আলোয় কৃষকেরা সূর্যাস্তের পরও রাত পর্যন্ত ক্ষেতে কাজ করতে পারতেন। এই অতিরিক্ত আলোর কারণেই ঐতিহ্যগতভাবে একে ফসল কাঁটার চাঁদ বা হারভেষ্ট মুন নামে ডাকা হয়। তবে উত্তর আমেরিকার কোথাও কোথাও একে Corn moon বা Barley moon নামেও ডাকা হয়।
সুপারমুন ও হারভেস্ট মুন এক জিনিস নয়। সুপার মুন আর হারভেষ্ট মুনের মধ্যে পার্থক্য হলো সুপার মুন বছরে একাধিক বার হতে পারে। আর এসময় চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি চলে আসে। অপরদিকে হারভেষ্ট মুন বছরে কেবল এই সময়ই দেখা যায়। তাছাড়া দিগন্তের কাছে থাকার সময় এক ধরনের অপটিক্যাল ইলিউশন (Moon Illusion)-এর কারণে চাঁদকে স্বাভাবিকের তুলনায় বড় মনে হয়।
বাংলাদেশ থেকে আজ ২৬ সেপ্টেম্বর আকাশে খালি চোখেই দেখা যাচ্ছে হারভেষ্ট মুন। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৫টা ৪৯ মিনিটে চাঁদ পূর্ণিমার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে চাঁদপ্রেমীরা আজ সারারাতই এই সুন্দর চাঁদের স্নিগ্ধ আলো উপভোগের সুযোগ পাবেন।
লেখক: আতিক মাহবুব তানজিম, শিক্ষার্থী- রসায়ন বিভাগ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
আরটিভি/এমএইচজে



