
খাবারের তালিকায় গরুর ভুঁড়ি অনেকেরই পছন্দের। কারও কাছে এটি মুখরোচক খাবার, আবার কারও কাছে কিছুটা অরুচিকর। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খাদ্যসংস্কৃতিতে ভুঁড়ির রয়েছে বিশেষ জায়গা। এই খাবারকে উদ্যাপন করতেই প্রতিবছর ২৪ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব ট্রাইপ দিবস।
ট্রাইপ বলতে গবাদিপশুর পাকস্থলীর খাওয়ার উপযোগী অংশকে বোঝায়। বিশেষ করে গরুর ভুঁড়ি এ নামে পরিচিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে রান্না করা হয় এই খাবার। কোথাও এটি ঐতিহ্যবাহী পদ, আবার কোথাও রাস্তার পাশের জনপ্রিয় খাবার।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খাবার, রান্নার সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাপন তুলে ধরার জন্য পরিচিত মার্কিন শেফ, লেখক ও টেলিভিশন উপস্থাপক অ্যান্থনি বোর্ডেইন মনে করতেন, দামি ও অভিজাত মাংস রান্নার চেয়ে ভুঁড়ি কিংবা পশুর ঘাড়ের মাংসের মতো তুলনামূলক অবহেলিত উপকরণ দিয়ে সুস্বাদু খাবার তৈরি করতে পারাই একজন রাঁধুনির দক্ষতার পরিচয়।
অনেকের কাছে ভুঁড়ি খাওয়ার বিষয়টি অরুচিকর মনে হলেও সঠিকভাবে পরিষ্কার ও রান্না করলে এটি হতে পারে দারুণ সুস্বাদু খাবার। বিশ্ব ট্রাইপ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো, এই অবহেলিত খাদ্য উপকরণকে উদ্যাপন করা এবং বিভিন্ন দেশের খাদ্যসংস্কৃতিতে এর গুরুত্ব তুলে ধরা।
ইংরেজিভাষী দেশগুলোর অনেক দোকান কিংবা রেস্তোরাঁয় ট্রাইপের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। তবে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে এটি বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে ইতালির মতো দেশে ভুঁড়ি দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পদ দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। সেখানে রাস্তার পাশের খাবারের দোকানেও ট্রাইপ পাওয়া যায়। কখনো ছোট কাঁটাচামচ দিয়ে, আবার কখনো পাউরুটির ভেতরে ভরে পরিবেশন করা হয় এটি।
গরুর পাকস্থলী চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। প্রতিটি প্রকোষ্ঠ থেকে পাওয়া যায় ভিন্ন ধরনের ট্রাইপ। এর মধ্যে প্রথম প্রকোষ্ঠ থেকে পাওয়া ট্রাইপকে বলা হয় ‘ব্ল্যাঙ্কেট ট্রাইপ’। এটি মসৃণ, সমতল বা সাধারণ ট্রাইপ নামেও পরিচিত। তবে ট্রাইপপ্রেমীদের কাছে এই ধরনটি তুলনামূলক কম জনপ্রিয়।
বিশ্ব ট্রাইপ দিবস শুধু একটি খাবারকে উদ্যাপনের উপলক্ষ নয়; বরং বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী রান্না, খাদ্যসংস্কৃতি ও খাবারের অপচয় কমানোর গুরুত্ব তুলে ধরারও একটি সুযোগ। তাই ২৪ অক্টোবর ভুঁড়িপ্রেমীদের কাছে দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
আরটিভি/এসকে