ঢাকা শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

শত শত প্রজাতির ফুলের চাদরে ঢেকে গেছে পৃথিবীর শুষ্কতম মরুভূমি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
চিলির আতাকামা মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকা এবার নানা রঙের বুনোফুলে ঢেকে গেছে। ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমিগুলোর একটি চিলির আতাকামা। সাধারণ সময়ে যেখানে চোখে পড়ে পাথুরে মাটি, বাদামি বালিয়াড়ি আর শুষ্কতার চিহ্ন, সেই মরুভূমিই এবার রূপ বদলে ফেলেছে। বিশাল এলাকা ছেয়ে গেছে নানা রঙের বুনোফুলে। দূর থেকে দেখলে মনে হচ্ছে, মরুভূমির ওপর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে রঙিন ফুলের চাদর।

দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্ত আসার সময় আতাকামায় মাঝেমধ্যে ফুল ফুটতে দেখা যায়। তবে এবারের দৃশ্য অনেক বেশি বিস্তৃত ও ব্যতিক্রমী। স্থানীয়ভাবে এই বিশেষ প্রাকৃতিক ঘটনাকে বলা হয় ‘দেসিয়ের্তো ফ্লোরিদো’, যার অর্থ ফুলেল মরুভূমি।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এমনটাই জানা যায়।

ভারী বৃষ্টিতেই বদলে গেল মরুভূমি

চলতি বছরের শুরুতে এল নিনোর প্রভাবে আতাকামায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়। সেই বৃষ্টির পানি পৌঁছে যায় মরুভূমির মাটির গভীরে থাকা অসংখ্য বীজ ও কন্দে। দীর্ঘদিন ধরে সুপ্ত অবস্থায় থাকা এসব বীজ ও উদ্ভিদাংশ পর্যাপ্ত পানি পেয়ে অঙ্কুরিত হয়ে ফুলে পরিণত হয়।

চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টে চিলির কয়েকটি অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিও হয়েছে। ১৯৫০-এর দশকে বৃষ্টিপাতের পরিমাপ শুরু হওয়ার পর কোনো কোনো এলাকায় এবারই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে।

কয়েক দশক পর ফুটেছে ফুল

আতাকামার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগের জীববিজ্ঞানী সেসার পিসারোর মতে, কোনো কোনো এলাকায় ১৬০, ১৮০ এমনকি ১৯০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। এর পেছনে তীব্র এল নিনোর প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই বৃষ্টিই মরুভূমির মাটিতে থাকা দীর্ঘদিনের সুপ্ত জৈব উপাদানকে সক্রিয় করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বীজ, কন্দ ও বিভিন্ন ধরনের ভূগর্ভস্থ উদ্ভিদাংশ। এমনকি বিভিন্ন অমেরুদণ্ডী প্রাণী ও সরীসৃপের ডিমও এতে সক্রিয় হতে পারে।

ফলে আতাকামার কিছু পাহাড় ও পর্বতমালায় ৩০ থেকে ৪০ বছর বা তারও বেশি সময় পর সবুজ উদ্ভিদ ও ফুল দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো জৈব উপাদান বছরের পর বছর, এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে।

২০০টির বেশি প্রজাতির ফুল

এবার আতাকামায় ২০০টিরও বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ ও ফুল দেখা যাচ্ছে। লাল ও হলুদ নানুকা, বেগুনি রক পার্সলেন, সাদা সুসপিরোস, কমলা টেরসিওপেলোসসহ বিভিন্ন রঙের ফুলে ঢেকে গেছে মরুভূমির পাহাড়, সমতলভূমি ও গিরিখাত।

মরুভূমির পরিচিত স্থানীয় উদ্ভিদ ‘গাররা দে লেওন’-এরও দেখা মিলছে। সব মিলিয়ে শুষ্ক ও বাদামি আতাকামা এখন পরিণত হয়েছে রঙিন ফুলের বিশাল প্রান্তরে।

১৯৯৭ সালের পর সবচেয়ে বড় ফুলেল মরুভূমি

চলতি বছর প্রায় ১৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় ফুলের বিস্তার ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পর এবারই সবচেয়ে তীব্র ও বিস্তৃত ‘দেসিয়ের্তো ফ্লোরিদো’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই ঘটনা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, মরুভূমির জীববৈচিত্র্যেরও এক বিরল চিত্র সামনে এনেছে।

ফুল দেখতে বাড়ছে পর্যটক

বুনোফুলে ঢেকে যাওয়া আতাকামা দেখতে এখন চিলির বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও পর্যটকেরা ছুটে আসছেন। দুর্গম ও প্রতিকূল এলাকাতেও মানুষ যাচ্ছে লাখ লাখ ফুলের এই অসাধারণ দৃশ্য দেখতে।

চিলির জাতীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক এই দৃশ্য নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আগে আতাকামা অঞ্চলে প্রায় ৩ লাখ পর্যটকের আগমন হতে পারে। ফলে এবারের ‘দেসিয়ের্তো ফ্লোরিদো’ ইতোমধ্যে আতাকামার অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিলুপ্ত লোমশ হাতি ম্যামথদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ
বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া লোমশ ম্যামথকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। এশীয় হাতির জিনে পরিবর্তন এনে ম্যামথের মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাণী তৈরির পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান কলোসাল বায়োসায়েন্সেস। তবে কবে নাগাদ এ ধরনের প্রাণীর জন্ম হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিলুপ্ত লোমশ হাতি ম্যামথদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ
আজ বিশ্ব হাসি দিবস
হাসি মানুষের যে কোনো অসুখের সবচেয়ে ভালো ওষুধ। মানবজীবনে হাসির গুরুত্ব অনেক। সময়কে সুন্দরভাবে উপভোগ করতে হাসির কোনো বিকল্প নেই। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিশ্ব হাসি দিবস। প্রতি বছর অক্টোবরের প্রথম শুক্রবার দিবসটি পালন করা হয়।চিকিৎসকদের ভাষায়, সারাদিনকে প্রাণবন্ত করে তোলার জন্য সকালের ১ মিনিটের হাসিই যথেষ্ট। হাসি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি মানসিক চাপ থেকেও দূরে রাখে। ১৯৬৩ সাল। ওরচেস্টার ম্যাসাচুসেটসের শিল্পী হার্ভে বল নিজের একটি হাসিখুশি মুখের ছবি দেন। কালক্রমে সেটাই সদিচ্ছা এবং আনন্দের প্রতীক হয়ে ওঠে। কিন্তু বাণিজ্য বড় দায়। হার্ভে দেখেন সেই হাসিখুশি মুখ এমন সব জায়গায় ব্যবহার হচ্ছে যার ফলে ধীরে ধীরে ছবির আসল মানেটাই বদলে যাচ্ছে। উদ্বিগ্ন হার্ভে ভাবেন, এক কাজ করা যাক। হাসির জন্য একটা দিন রাখলে কেমন হয়। সেই দিনটা হাসিখুশিতে কাটানো এবং সহৃদয় আচরণের জন্য উৎসর্গ করা হবে। সেই শুরু। প্রথমবার বিশ্ব হাসি দিবস পালিত হয় ১৯৯৯ সালে, উরচেস্টারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সহৃদয়তার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এর মুখ্য উদ্দেশ্য। তারপর থেকে প্রতি বছর এই দিনটা পালিত হচ্ছে। ২০০১ সালে মারা যান হার্ভে। তার স্মৃতিতে তৈরি হয় ‘হার্ভে বল ওয়ার্ল্ড স্মাইল ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশনই প্রতি বছর বিশ্ব হাসি দিবসের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করে চলেছে। হাসির জন্য একটি প্রতীকীও আছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হলুদ একটি মুখের হাসু বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় হাসি। হলুদ একটি মুখে কালো বিন্দুর দুটি চোখ, একটি চওড়া হাসি আপনার দিনটি ভালো করতে পারে। ১৯৭০ এর দশকে হাস্যোজ্জ্বল মুখ কার্টুন, কমিকস এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য ব্যবহৃত হত। আরটিভি/টিআর
আজ বিশ্ব হাসি দিবস
জাতীয় পথশিশু দিবস আজ, পথেই কাটছে যাদের শৈশব
আজ ২ অক্টোবর জাতীয় পথশিশু দিবস।
জাতীয় পথশিশু দিবস আজ, পথেই কাটছে যাদের শৈশব
আজ আন্তর্জাতিক কফি দিবস: দেশের পাহাড়ে কফির নতুন গল্প 
সকালের ঘুম কাটাতে এক কাপ গরম কফি, কাজের ফাঁকে আড্ডা কিংবা বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে বসে কফিতে চুমুক—অনেকের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে এই পানীয়।
আজ আন্তর্জাতিক কফি দিবস: দেশের পাহাড়ে কফির নতুন গল্প 
আজ স্বভাবকবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের ১০৮তম মৃত্যুবার্ষিকী
বাংলা সাহিত্যের ‘স্বভাবকবি’ হিসেবে পরিচিত গোবিন্দচন্দ্র দাসের ১০৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
আজ স্বভাবকবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের ১০৮তম মৃত্যুবার্ষিকী
আরও পড়ুন
নাতনির সঙ্গে ৭০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক
প্রকৃতির জাদুতে ‘বিশ্বের সবচেয়ে শুকনো মরুভূমি’ হয়ে উঠল ছবির মত সুন্দর
চিলিতে বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৬ 
চিলিতে পা রাখতেই উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন ভোজিনহা