
বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া লোমশ ম্যামথকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। এশীয় হাতির জিনে পরিবর্তন এনে ম্যামথের মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাণী তৈরির পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান কলোসাল বায়োসায়েন্সেস। তবে কবে নাগাদ এ ধরনের প্রাণীর জন্ম হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ম্যামথ ছিল বিশাল আকৃতির এক ধরনের হাতি। লম্বা বাঁকানো দাঁত ও ঘন লোমে ঢাকা শরীর ছিল তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বরফযুগে প্রচণ্ড ঠান্ডার পরিবেশে টিকে থাকতে এসব বৈশিষ্ট্য তাদের সহায়তা করত। তবে হাজার হাজার বছর আগে অধিকাংশ ম্যামথ বিলুপ্ত হয়ে যায়।
বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এশীয় হাতির জিন সম্পাদনা করে ম্যামথের মতো ঘন লোম, ঠান্ডা সহ্য করার ক্ষমতা এবং অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য তৈরি করার চেষ্টা করা হবে। এ ক্ষেত্রে জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি ও আধুনিক জীবপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
এ প্রকল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও জিনগত তথ্য বিশ্লেষণের মতো প্রযুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এশীয় হাতির জিনে পরিবর্তন আনলেই যে সম্পূর্ণ ম্যামথ তৈরি করা সম্ভব হবে, এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই। বরং বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য হলো, বিলুপ্ত ম্যামথের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হাতি তৈরি করা।
প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে ম্যামথের মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শাবকের জন্ম দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ২০৩০ সালের মধ্যে এ ধরনের প্রাণীকে পৃথিবীতে দেখা যেতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য তৈরি, প্রাণীর সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করা এবং প্রজননপ্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করা সহজ নয়। পাশাপাশি প্রচণ্ড ঠান্ডার পরিবেশে এসব প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখা এবং তাদের জন্য উপযুক্ত আবাসস্থল তৈরি করাও বড় চ্যালেঞ্জ।
বিলুপ্ত প্রজাতিকে ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ সফল হলে তা জীবপ্রযুক্তি গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বিলুপ্ত প্রাণী পুনরুদ্ধারের নৈতিকতা, প্রাণিকল্যাণ এবং পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হবে।
আরটিভি/এসকে

