ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

সারিগানের সুর ও বৈঠার ছন্দে নদ-নদীতে ‘প্রাণের উৎসব’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩১ পিএম

শরতের নীল আকাশ আর বর্ষার বিদায়ী ঢলে নদী-নালা যখন কানায় কানায় পূর্ণ, তখন গ্রামবাংলা মেতে ওঠে তার চিরচেনা লোক-উৎসবের এক অদম্য উন্মাদনায়। নদীর বুকে শত বৈঠার এক সুর, এক ছন্দ আর তীরের লাখো মানুষের করতালির সেই চিরন্তন আবহ— ‘নৌকা বাইচ’। যান্ত্রিক সভ্যতার এই যুগেও ঐতিহ্য আর গতির এই মেলবন্ধন ম্লান হয়নি একটুও।

সম্প্রতি সারিগানের চেনা সুর আর পানির বুকে শত বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে আবারও প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে দেশের নদ-নদী। দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে এ বছর গত ১৮ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের ঘোড়াউত্রা নদী কিংবা ২১ আগস্ট ঢাকার বুড়িগঙ্গা ও ৩২ বছর পর পুরান ঢাকার নবাব বাড়ির ঐতিহ্যবাহী গোল তালাব, ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস ও ১৮ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের কুমার নদ থেকে শুরু করে কুষ্টিয়ার গড়াই নদী- সবখানেই মাঝিদের সারিগানের সুরে আর বৈঠার ছন্দে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য ‘নৌকা বাইচ’। আধুনিক বিনোদনের ভিড়েও এই জল-উৎসব ডিজিটাল স্ক্রিনকে টেক্কা দিচ্ছে এবং গ্রামীণ ও নাগরিক সম্প্রীতি আজও ধরে রেখেছে।

নৌকা বাইচ নদীমাতৃক বাংলাদেশের হাজার বছরের লোকসংস্কৃতির এক অনন্য ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। নদী এদেশের মানুষের জীবন, জীবিকা আর সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। আর এই নদীকে কেন্দ্র করেই আবহমান কাল থেকে উদযাপিত হয়ে আসছে জমকালো জল-উৎসব ‘নৌকা বাইচ’। যখন শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে নদী-নালা, খাল-বিল আর হাওর-বাঁওড় বর্ষার পানিতে টইটম্বুর থাকে, তখন গ্রামবাংলার বুক চিরে জেগে ওঠে পলিমাটির গন্ধমাখা এই উৎসবের উন্মাদনা।

উৎসের ইতিকথা ও ঐতিহ্য: নৌকা বাইচের ইতিহাস বেশ প্রাচীন। এর উৎপত্তি নিয়ে নানা লোকগাথা প্রচলিত রয়েছে। কেউ বলেন, জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রাকে কেন্দ্র করে এই উৎসবের সূচনা; আবার কারও মতে, মুসলিম নবাব ও জমিদারদের আমলে যুদ্ধের নৌ-মহড়া থেকেই এই বাইচের প্রচলন হয়। তবে এর পেছনের ইতিহাস যাই হোক না কেন, বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে এটি কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি প্রাণের মেলা, সাম্য ও মিলনের মহোৎসব।

নৌকার সাজ ও প্রকারভেদ: নৌকা বাইচের জন্য সাধারণ নৌকা ব্যবহার করা হয় না। এই বিশেষ প্রতিযোগিতার জন্য অত্যন্ত যত্ন ও কুশলতার সঙ্গে তৈরি করা হয় বিশেষ ধরনের নৌকা। এগুলোর মধ্যে ছিপ, কোষা, খেলনা, ময়ূরপঙ্খী, গয়না এবং ঘাসী নৌকা অন্যতম। একেকটি নৌকা লম্বায় ১০০ থেকে ২০০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। কাঠের ওপর খোদাই করা নকশা আর উজ্জ্বল রঙে সাজানো হয় এই তরীগুলোকে। নৌকার সামনের গলুইতে কখনও ময়ূরের মুখ, কখনো বা সিংহের অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়, যা বাইচকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়।

পানির বুকে গতির ছন্দ ও সারিগান: নৌকা বাইচের মূল আকর্ষণ হলো এর ছন্দ এবং গতি। একেকটি নৌকায় ৫০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত মাল্লা বা মাঝি থাকেন। সবার পরনে থাকে একই রঙের পোশাক, মাথায় বাঁধা থাকে রঙিন গামছা। মাঝিদের এই বিশাল দলকে পরিচালনার জন্য থাকেন একজন ‘নয়া গাঙের কাণ্ডারি’ বা দলনেতা। তিনি নৌকার মাঝখানে বা গলুইতে দাঁড়িয়ে কাঁসর-করতাল বাজিয়ে সুর তোলেন সারিগানের— ‘হেইও রে হেইও, জোয়ান ভাইসালা হেইও...’ এই গানের তালে তাল মিলিয়ে মাঝিরা পানিতে তাদের বৈঠা চালান। তখন শত বৈঠার অবিরাম ছন্দ, আর চারদিকে ছিটকে পড়া রুপালি জলের ফোঁটায় এক নান্দনিক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

উন্মাতাল লোক-উৎসব: নৌকা বাইচ যেখানে অনুষ্ঠিত হয়, তার দুই পাড়ে ঢল নামে লাখো মানুষের। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব বয়সী মানুষ নদীর তীরে এসে ভিড় জমায়। যারা তীরে জায়গা পান না, তারা ছোট ছোট ডিঙি নৌকা বা ট্রলারে করে নদীর বুকে অবস্থান নেন। ঢাক-ঢোল, কাঁসর আর করতালির শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। যখন প্রতিযোগী নৌকাগুলো তীরের বেগে ফিনিশিং লাইনের দিকে এগিয়ে যায়, তখন দর্শকদের করতালিতে নদীর জলও যেন নেচে ওঠে ছলাৎ ছলাৎ ছন্দে।

অঞ্চলভেদে বাংলার নৌকা বাইচ: লোকসংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় রূপ নদীমাতৃক বাংলাদেশের একেক অঞ্চলের নদী, হাওর আর বিলের প্রকৃতি যেমন ভিন্ন, তেমনি সেসব অঞ্চলে প্রচলিত নৌকা বাইচের ধরন ও নৌকার গঠনেও রয়েছে বৈচিত্র্যের ছোঁয়া। বর্ষার ভরা যৌবনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভিন্ন ভিন্ন নামে, ভিন্ন আঙ্গিকে এবং নিজস্ব লোকজ বৈশিষ্ট্যে যে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচগুলো অনুষ্ঠিত হয়, তা স্থানীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করে এক অনন্য রূপ নেয়।

সিলেটের হাওরাঞ্চল: সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে নৌকা বাইচ এক তুমুল জনপ্রিয় উৎসব। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর কিংবা হাকালুকি হাওরের বাইচ দেখার মতো। এই অঞ্চলে সাধারণত ‘খেলনা নৌকা’ এবং ‘সারঙ্গী নৌকা’ বেশি ব্যবহৃত হয়। লম্বায় একেকটি নৌকা প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ফুট পর্যন্ত হয়। হাওরের বিশাল জলরাশিতে যখন সারিগানের সুরে শত বৈঠা একসাথে পানিতে পড়ে, তখন এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

পাবনা ও চলনবিল অঞ্চল: উত্তরবঙ্গের পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলা জুড়ে বিস্তৃত চলনবিল অঞ্চলের নৌকা বাইচের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এই অঞ্চলে ‘ছিপ নৌকা’ এবং ‘কোষা নৌকা’ সবচেয়ে জনপ্রিয়। ছিপ নৌকাগুলো অত্যন্ত সরু এবং পানির ওপর দিয়ে তীরের বেগে ছুটে চলতে পারে। পাবনার ইছামতী নদী এবং চলনবিলের বুক চিরে যখন এই বাইচ অনুষ্ঠিত হয়, তখন উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ জনপদে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও তিতাস নদী: নৌকা বাইচের কথা বললে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর নাম স্বতঃস্ফূর্তভাবেই চলে আসে। গত ১২ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ দুই বছর পর তিতাস নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আবার রাজকীয়ভাবে ফিরে আসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাইচে ‘ময়ূরপঙ্খী’ ও ‘ছিপ’ নৌকার আধিপত্য বেশি দেখা যায়। নৌকার গলুইতে কাঠের তৈরি ময়ূরের অবয়ব এবং বাহারি রঙের কারুকাজ এই অঞ্চলের বাইচকে দারুণ নান্দনিক করে তোলে।

ফরিদপুর ও কুমার নদ: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় কুমার নদের নৌকা বাইচ এই অঞ্চলের এক গৌরবময় লোক-ঐতিহ্য বহন করে আসছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে দীর্ঘ বিরতির পর কুমার নদের বুকে এই ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ পুনরায় ফিরে আসে। এতে ‘কোষা’ ও ‘বাচারি’ নৌকার দাপট ছিল সবচেয়ে বেশি। কুমার নদের দুই পাড়ে লাখো মানুষের উপস্থিতি এবং গ্রামীণ মেলা পুরো ফরিদপুর অঞ্চলে এক অভূতপূর্ব উৎসবের আমেজ তৈরি করে।

কিশোরগঞ্জ ও ঘোড়াউত্রা নদী: কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ঘোড়াউত্রা নদীর প্রেমঘাট এলাকায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। নিকলী সিটিজেন্স সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রতিযোগিতায় বৃহত্তর সিলেট ও ময়মনসিংহের অন্তত ১২টি বিশালাকার নৌকা অংশ নেয়, যা হাওরবাসীকে মেতে তুলেছিল বাঁধভাঙা উল্লাসে।

ঢাকা ও বুড়িগঙ্গা-শীতলক্ষ্যা: ঢাকার ৪১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২১ আগস্ট ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বুড়িগঙ্গা নদীতে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। খোলামোড়া ঘাট থেকে ওয়াইজ ঘাট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আহসান মঞ্জিল সংলগ্ন নবাব বাড়ির ঐতিহাসিক গোল তালাবেও (পুকুর) দীর্ঘ ৩২ বছর পর জল-উৎসব ও প্রতীকী নৌকা বাইচের চমৎকার আয়োজন করা হয়।

মানিকগঞ্জ ও কালীগঙ্গা নদী: মানিকগঞ্জের বেউথা এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর বুকে নৌকা বাইচ এই অঞ্চলের শতবর্ষী এক লোক-ঐতিহ্যের স্মারক গত ৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক উৎসবমুখর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা, যেখানে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের ঢল নামে। এই বাইচে খেল্লা, ঘাসি, ছান্দি ও পানসি ক্যাটাগরিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ২২টি নৌকা অংশ নেয়।

প্রতিযোগিতায় কুড়িগ্রামের রৌমারী থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে আসা শালকাঠের তৈরি ‘মায়ের দোয়া’ খেল্লা নৌকাটি প্রথমবার অংশ কেড়েই চ্যাম্পিয়ন হয়ে মোটরসাইকেল জিতে নেয়। এ ছাড়া ঘাসি নৌকায় সিংগাইরের ‘বাইমাইল এক্সপ্রেস’, ছান্দিতে হরিরামপুরের ‘গায়ান বাড়ি’ এবং পানসি নৌকায় মানিকগঞ্জ সদরের ‘জাগীর জনতা এক্সপ্রেস’ প্রথম স্থান অধিকার করে। এই অঞ্চলের বাইচকে কেন্দ্র করে নদীর দু-পাড়ে বসে বিশাল লোকজ মেলা ও নাগরদোলার আয়োজন।

অঞ্চলভেদে নৌকার নাম কিংবা সারিগানের সুরে ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু পানির বুকে গতির লড়াই আর মিলনের যে মূল সুর—তা সব অঞ্চলেই এক। নৌকা বাইচ কেবল একটি অঞ্চলের সীমানায় আবদ্ধ নয়, এটি সমগ্র বাংলাদেশের একতার এবং প্রাণের উৎসব। আঞ্চলিক এই বৈচিত্র্যই মূলত আমাদের লোকসংস্কৃতিকে আরও বেশি সমৃদ্ধ ও রঙিন করে তুলেছে।

বাঙালিয়ানার মেলবন্ধন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট: আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও নৌকা বাইচের আবেদন এখনো ফুরিয়ে যায়নি। এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। এখানে নেই কোনো ভেদাভেদ, সবাই এক হয়ে মেতে ওঠে জয়ের উল্লাসে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও তীরের বেগে ছুটেছে ছিপ-কোষা-বাচারি নৌকা। জাতীয়ভাবে এবং বিভিন্ন করপোরেট স্পনসরশিপের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে, যা আমাদের এই লোকজ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখছে।

নৌকা বাইচ কেবলই একটি উৎসব নয়, এটি বাঙালির সাহসিকতা, একতা এবং শক্তির প্রতীক। যান্ত্রিক সভ্যতার এই যুগেও নদীর বুকে শত মাঝির এক সুরে বৈঠা চালনার এই দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা নদীর সন্তান, আমরা নদীর মতোই গতিশীল ও প্রাণবন্ত। বাঙালির এই নিজস্ব কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে নদীগুলোকে দূর্ষণমুক্ত রাখা এবং নিয়মিত এমন লোকজ উৎসবের আয়োজন করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মানিকগঞ্জে চোখ জুড়াবে যে ৫ দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতেই রয়েছে নানা দর্শনীয় স্থান। কোথাও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আবার কোথাও ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নানা নিদর্শন পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
মানিকগঞ্জে চোখ জুড়াবে যে ৫ দর্শনীয় স্থান
গাছে পাখি নয়, ঝুলছে শত শত পুতুল, ঘটনা কী
গাছের ডালে পাখির বদলে ঝুলছে শত শত পুরোনো পুতুল। কোনো পুতুলের চোখ নেই, কোনোটি আবার হাত-পা হারিয়েছে। রোদ-বৃষ্টিতে ক্ষয়ে যাওয়া এসব পুতুলের ফাঁকা চোখ আর অস্বাভাবিক চেহারা দেখে শিউরে ওঠেন অনেক দর্শনার্থী।
গাছে পাখি নয়, ঝুলছে শত শত পুতুল, ঘটনা কী
এআইয়ের যুগে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি: চাকরি যাচ্ছে, নাকি বদলে যাচ্ছে কাজের ধরন?
একসময় একটি সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোড লিখতে হতো। ছোট একটি ত্রুটি খুঁজে বের করতেও ডেভেলপারকে ডকুমেন্টেশন, অনলাইন ফোরাম কিংবা পুরোনো কোড ঘেঁটে দেখতে হতো। নতুন কোনো প্রোগ্রামিং ভাষা শেখার ক্ষেত্রেও সময় লাগত কয়েক সপ্তাহ কিংবা মাস। এখন সেই বাস্তবতা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বা এআই কোডিং টুল কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কোড লিখে দিতে পারছে, ভুল শনাক্ত করতে পারছে, টেস্ট কেস তৈরি করছে, ডকুমেন্টেশন লিখছে এবং পুরোনো কোডের জটিল অংশ বুঝিয়ে দিতে পারছে। এমনকি সফটওয়্যারের প্রাথমিক কাঠামো তৈরিতেও সহায়তা করছে এসব প্রযুক্তি। এর ফলে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে এআই কি সফটওয়্যার ডেভেলপারের কাজ কেড়ে নিচ্ছে, নাকি ডেভেলপারের কাজের ধরনই বদলে দিচ্ছে? বিশ্বজুড়ে পাওয়া সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। সফটওয়্যার তৈরির অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ এআইয়ের মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন হলেও সফটওয়্যার ডেভেলপারের প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি কমে যাচ্ছে এমন প্রবণতা এখনো স্পষ্ট নয়। বরং বদলে যাচ্ছে কাজের ধরন, নিয়োগে চাওয়া দক্ষতা এবং কর্মীদের দায়িত্ব। দ্রুত বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার স্ট্যাক ওভারফ্লোর ২০২৫ সালের ডেভেলপার সার্ভে অনুযায়ী, ৮৪ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের ডেভেলপমেন্ট প্রক্রিয়ায় এআই টুল ব্যবহার করছেন অথবা ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৭৬ শতাংশ। পেশাদার ডেভেলপারদের ৫১ শতাংশ প্রতিদিন এআই টুল ব্যবহার করছেন। ১৭৭টি দেশের ৪৯ হাজারের বেশি ডেভেলপার এই জরিপে অংশ নেন। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে এআইয়ের ব্যবহার শুধু কোড লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কোড তৈরি ও সম্পন্ন করা, ত্রুটি শনাক্ত ও সমাধান, সফটওয়্যার পরীক্ষা, টেস্ট কেস তৈরি, ডকুমেন্টেশন, কোডের কাঠামো পরিবর্তন, পুরোনো কোড বোঝা এবং বিভিন্ন পুনরাবৃত্তিমূলক কাজেও এআই ব্যবহার হচ্ছে। গিটহাবের ২০২৪ সালের এক জরিপেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, জার্মানি ও ভারতের ২ হাজার সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট পেশাজীবীর মধ্যে ৯৭ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, তারা কোনো না কোনো সময় এআই কোডিং টুল ব্যবহার করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ডেভেলপাররা জানিয়েছেন, এসব টুল ডেভেলপমেন্টের দক্ষতা, সফটওয়্যার পরীক্ষা, কোডের মান এবং পুরোনো কোডবেজ বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হচ্ছে। এআই ব্যবহারে সাশ্রয় হওয়া সময় সিস্টেম ডিজাইন, সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ এবং গ্রাহকের প্রয়োজন বোঝার মতো কাজে ব্যয় করা যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তারা। অর্থাৎ এআই সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের জায়গা দখল করছে এমন চিত্রের চেয়ে সফটওয়্যার তৈরির প্রক্রিয়ার ভেতরে এআই নতুন একটি সহকারী হিসেবে ঢুকে পড়ছে এমন চিত্রই বেশি স্পষ্ট। এআইয়ের ওপর পুরোপুরি আস্থা নেই ডেভেলপারদের এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও এর দেওয়া ফলাফলের ওপর ডেভেলপারদের অন্ধ আস্থা তৈরি হয়নি। স্ট্যাক ওভারফ্লোর একই জরিপে ৪৬ শতাংশ ডেভেলপার এআই টুলের ফলাফলের নির্ভুলতা নিয়ে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে ৩৩ শতাংশ এআইয়ের ফলাফলের নির্ভুলতায় আস্থা রেখেছেন। ৬৬ শতাংশ ডেভেলপার জানিয়েছেন, এআইয়ের দেওয়া সমাধান অনেক সময় প্রায় সঠিক হলেও পুরোপুরি সঠিক হয় না। আবার ৪৫ শতাংশ বলেছেন, এআই দিয়ে তৈরি কোডে ত্রুটি খুঁজে ঠিক করতে কখনো কখনো আরও বেশি সময় লাগে। অর্থাৎ এআই কোড লিখে দিতে পারলেও সেই কোড সঠিক কি না, নিরাপদ কি না এবং পুরো সফটওয়্যার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা যাচাইয়ের দায়িত্ব এখনো মানুষের কাছেই থাকছে। এখানেই সফটওয়্যার ডেভেলপারের কাজের পরিবর্তনটি সবচেয়ে স্পষ্ট। আগে একজন ডেভেলপারের বড় একটি অংশের সময় কোড লেখায় ব্যয় হতো। এখন একই ডেভেলপার এআই দিয়ে কোড তৈরি করিয়ে সেটি যাচাই, সংশোধন, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং পুরো সিস্টেমের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার কাজে বেশি সময় দিতে পারেন। নির্দিষ্ট কাজে বাড়ছে উৎপাদনশীলতা এআই সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে কী ধরনের পরিবর্তন আনছে, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় গিটহাবের গবেষণায়। গিটহাবের একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষায় নির্দিষ্ট কোডিং কাজ কপাইলট ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ দ্রুত সম্পন্ন করেছিলেন। তবে এই ফলাফলকে পুরো সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ছিল নির্দিষ্ট একটি কোডিং কাজের ওপর পরিচালিত পরীক্ষা। অন্যদিকে স্ট্যাক ওভারফ্লোর ২০২৫ সালের জরিপে ৫২ শতাংশ ডেভেলপার জানিয়েছেন, এআই টুল বা এআই এজেন্ট তাদের উৎপাদনশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৬৯ শতাংশ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। ফলে এআইয়ের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব হিসেবে চাকরি বিলুপ্তির চেয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কাজের পুনর্বণ্টনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চাকরি কি তাহলে কমে যাবে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুধু ডেভেলপারদের জরিপ নয়, বৈশ্বিক শ্রমবাজারের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০২৫ সালের গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় প্রতি চারটি চাকরির একটি কোনো না কোনো মাত্রায় জেনারেটিভ এআইয়ের সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এ ধরনের চাকরির হার প্রায় ৩৪ শতাংশ। তবে আইএলওর বিশ্লেষণ বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরো চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার চেয়ে কাজের ধরন পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। প্রায় ৩০ হাজার পেশাগত কাজ বিশ্লেষণ করে এ মূল্যায়ন তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো একটি পেশার কিছু কাজ এআইয়ের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে, কিন্তু পুরো পেশাটিই এআই দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়ে যাবে এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং মানে শুধু কোড লেখা নয়। একটি সফটওয়্যার সিস্টেম তৈরি করতে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বোঝা, আর্কিটেকচার তৈরি, ডেটাবেজ ডিজাইন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরীক্ষা, ডেপ্লয়মেন্ট, রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রাহকের ব্যবসায়িক সমস্যা বোঝার মতো কাজও থাকে। এসব কাজের বড় অংশেই মানুষের সিদ্ধান্ত ও বিচারবোধ প্রয়োজন। সফটওয়্যার ডেভেলপারের চাহিদা কি সত্যিই কমছে? যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসও ভিন্ন একটি চিত্র দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সফটওয়্যার ডেভেলপারদের কর্মসংস্থান ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময়ে প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ৭০০টি নতুন সফটওয়্যার ডেভেলপার চাকরি যুক্ত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সব ধরনের পেশা মিলিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ১ শতাংশ। তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও ডেটা বিজ্ঞানীর মতো প্রযুক্তিনির্ভর পেশাতেও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষকের কর্মসংস্থান ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ডেটা বিজ্ঞানীর ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘ফিউচার অব জবস রিপোর্ট ২০২৫’-এও সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারদের ২০২৫ থেকে ২০৩০ সময়ে দ্রুত বাড়তে থাকা চাকরির তালিকায় রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির মধ্যেও সফটওয়্যার ডেভেলপার পেশা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কোনো পূর্বাভাস নেই। তবে ভবিষ্যতের সফটওয়্যার চাকরি বর্তমানের মতো থাকবে না এ বিষয়টি ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে বড় চাপ কি জুনিয়র ডেভেলপারদের ওপর? এআইয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিচ্ছে এন্ট্রি লেভেল বা জুনিয়র সফটওয়্যার ডেভেলপারদের ক্ষেত্রে। কারণ রুটিন কোডিংয়ের বড় একটি অংশ এখন এআই টুল দিয়ে দ্রুত করা সম্ভব। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসানের অভিজ্ঞতায়, এআই ব্যবহারে আগে দুই ঘণ্টা লাগা কিছু কাজ অনেক ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ মিনিটে করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে তথ্য খোঁজা, ডকুমেন্টের খসড়া তৈরি, কোডের সমস্যা শনাক্ত করা, নতুন ধারণা বের করা এবং প্রতিবেদন বা উপস্থাপনার প্রাথমিক কাঠামো তৈরিতে সময় অনেক কমে গেছে। তবে তার মতে, এআইয়ের তৈরি ফলাফল যাচাই করতে মানুষের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা এখনো প্রয়োজন। এআইকে সরাসরি চাকরির হুমকি হিসেবে দেখার চেয়ে পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে দেখা উচিত বলেও মনে করেন তিনি। তবে পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের ক্ষেত্রে এআইয়ের প্রভাব বেশি হতে পারে বলে তার আশঙ্কা। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল আল মাহিনের অভিজ্ঞতায়, এআইয়ের কারণে কিছুটা চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার আশঙ্কা, বিশেষ করে জুনিয়র পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানগুলো কম কর্মী দিয়ে বেশি কাজ করানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে যারা এআইকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়াবে, তাদের জন্য সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি। দুই শিক্ষার্থীর বক্তব্যেই একটি বিষয় স্পষ্ট এআই নিয়ে ভয় যেমন আছে, তেমনি এআইকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আরও দক্ষ করে তোলার প্রয়োজনীয়তাও তারা অনুভব করছেন। বদলে যাচ্ছে জুনিয়র ডেভেলপারের সংজ্ঞা এআই-সহায়িত সফটওয়্যার তৈরির কারণে জুনিয়র ডেভেলপারের সংজ্ঞাও পরিবর্তিত হচ্ছে। আগে একজন সিএসই গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামিং ভাষা, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কিংবা ছোট প্রকল্পের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করতেন। এখন সেই কাজের কিছু অংশ এআই খুব দ্রুত করে দিতে পারে। মেহেদী হাসানের মতে, শুধু প্রোগ্রামিং ভাষা জানা এখন যথেষ্ট নয়। একজন ডেভেলপারের ফ্রন্টএন্ড, ব্যাকএন্ড ও ডেটাবেজের সম্পর্ক, এপিআই, গিট, ক্লাউড, ডেপ্লয়মেন্ট ও সিআই/সিডি সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সিস্টেম ডিজাইন ও সফটওয়্যার আর্কিটেকচারের প্রাথমিক ধারণা এবং এআই টুল কার্যকরভাবে ব্যবহারের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পরিবর্তনটি এখানেই। এআই যদি প্রাথমিক বা পুনরাবৃত্তিমূলক কোড লিখে দিতে পারে, তাহলে একজন নতুন ডেভেলপারের মূল্যায়ন শুধু সে কত দ্রুত কোড লিখতে পারে—এতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং সে সমস্যাটি কতটা বুঝতে পারে, এআইয়ের তৈরি কোড যাচাই করতে পারে কি না এবং পুরো সিস্টেম কীভাবে কাজ করে তা বোঝে কি না এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রেও দ্রুত বাড়ছে এআই বাংলাদেশের বাস্তবতাতেও এআই ব্যবহারের বিস্তার দেখা যাচ্ছে। টেলিনর এশিয়ার ‘ডিজিটাল লাইভস ডিকোডেড ২০২৫’ গবেষণায় বাংলাদেশের ১ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ওপর জরিপ করা হয়। এতে ৯৬ শতাংশ ব্যবহারকারী নিয়মিত এআই ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৮৮ শতাংশ। কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের হারও বেড়েছে। ২০২৫ সালে কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের হার ৬২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের বছর ছিল ৪৪ শতাংশ। এআই ব্যবহারকারীদের মধ্যে কনটেন্ট তৈরি ও তথ্য বিশ্লেষণ উল্লেখযোগ্য ব্যবহারক্ষেত্র ছিল। কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারকারীদের ৪২ শতাংশ কোড লেখার টুল ব্যবহার করেন। তবে একই গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারকারীদের মাত্র প্রায় অর্ধেক জানিয়েছেন যে তাদের প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক এআই কৌশল রয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে এআই গ্রহণের গতি অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর আনুষ্ঠানিক নীতিমালা তৈরির গতির চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি কি সংকটে? বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও আইটি সেবা খাতের আকারও ছোট নয়। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি আইটি ও আইটিইএস প্রতিষ্ঠান এবং ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি পেশাজীবী রয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যালান্স অব পেমেন্টস তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টেলিকম, কম্পিউটার ও তথ্যসেবা থেকে দেশের সেবা আয় ছিল ৭২৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ আয় ছিল ৬৭২ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। গত পাঁচ বছরের তথ্যেও বাংলাদেশের আইটি সেবা রপ্তানিতে ওঠানামার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে পুনরুদ্ধারের চিত্র দেখা যায়। ২০২০-২১ অর্থবছরে আইসিটি সেবা রপ্তানি ছিল প্রায় ৪৩৬ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ৭৩৮ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কমে হয় ৬৬৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৬৭২ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৭২৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। অর্থাৎ এআই আসার পর বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও আইটি সেবা খাত দ্রুত সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে এমন চিত্র এসব রপ্তানি তথ্য দিচ্ছে না। বরং বড় প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ কাজের ধরন কী হবে। বদলে যাচ্ছে দক্ষতার চাহিদা বাংলাদেশের ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট অথরিটির দক্ষতার ঘাটতি-সংক্রান্ত তথ্যেও নতুন দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। ১৫০টি আইটি ও আইটিইএস প্রতিষ্ঠানের ওপর করা জরিপে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, প্রোগ্রামিং ভাষা, সফটওয়্যার টেস্টিং, ডেটাবেজ এবং নেটওয়ার্ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণের চাহিদা পাওয়া গেছে। সফটওয়্যার টেস্টিং প্রশিক্ষণে ৮১ শতাংশ এবং ডেটাবেজ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ ছিল। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু কর্মী কমানোর দিকে যাচ্ছে এমন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। কর্মীদের নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট। এখানে এআই নতুন একটি স্তর যোগ করছে। এখন একজন ডেভেলপারের শুধু কোড লেখার দক্ষতা থাকলেই হচ্ছে না; এআই দিয়ে তৈরি কোড যাচাই, সিস্টেম আর্কিটেকচার বোঝা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যবসায়িক সমস্যার প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরির দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীরা কী ভাবছে? বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর করা সাম্প্রতিক গবেষণাতেও এআই নিয়ে দ্বৈত মনোভাবের চিত্র পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের জুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে করা এক গবেষণা ২০২৬ সালে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এআই যত চাকরি নষ্ট করবে তার চেয়ে বেশি চাকরি তৈরি করবে এমন মত দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। একই সময়ে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী এআইয়ের কারণে দক্ষতার অমিল বা স্কিল মিসম্যাচ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ হার ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৬ শতাংশ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে ক্যারিয়ারে সফলতার জন্য এআই-জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৪ শতাংশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৮ শতাংশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের বড় অংশ এআইকে শুধু চাকরি হারানোর কারণ হিসেবে দেখছে না; বরং ভবিষ্যৎ চাকরির বাজারে টিকে থাকার জন্য এআই-জ্ঞানকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা হিসেবেও দেখছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাব্যবস্থাতেও পরিবর্তন এআইয়ের প্রভাব শুধু সফটওয়্যার কোম্পানিতে সীমাবদ্ধ নেই। কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষাব্যবস্থাও পরিবর্তনের মুখে পড়েছে। এসিএম, আইইইই কম্পিউটার সোসাইটি এবং এএএআই-এর সিএস২০২৩ কারিকুলামে এআইকে কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষার মধ্যে আরও বিস্তৃতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও মূল কম্পিউটার বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান বাদ দেওয়া হয়নি। বরং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর মৌলিক ধারণা, এআই নৈতিকতা এবং এর সামাজিক প্রভাবের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসিএম-এর জেনারেটিভ এআই ও কারিকুলামবিষয়ক আলোচনাতেও রুটিন কোডিং বা শুধু সিনট্যাক্স শেখানোর পাশাপাশি উচ্চতর পর্যায়ের ধারণা, সমস্যা সমাধান এবং মৌলিক কম্পিউটার বিজ্ঞান জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ এআই কোড লিখতে পারলেও প্রোগ্রামিংয়ের মৌলিক জ্ঞানের প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং একজন শিক্ষার্থী এআইয়ের তৈরি কোড বুঝতে, যাচাই করতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারছে কি না সেটিই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতের ডেভেলপার কেমন হবে? সব তথ্য এক জায়গায় রাখলে সফটওয়্যার শিল্পের পরিবর্তনের একটি চিত্র স্পষ্ট হয়। আগের সফটওয়্যার ডেভেলপারের বড় দক্ষতা ছিল প্রোগ্রামিং ভাষা জানা এবং কোড লেখা। ভবিষ্যতের ডেভেলপারের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সিস্টেম আর্কিটেকচার, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটাবেজ, ক্লাউড, সমস্যা সমাধান, এআই টুল ব্যবহার, কোড যাচাই এবং মানুষের তত্ত্বাবধান। গিটহাবের গবেষণায়ও ডেভেলপাররা জানিয়েছেন, এআই ব্যবহারে সময় বাঁচিয়ে তারা সিস্টেম ডিজাইন, সহযোগিতামূলক কাজ এবং গ্রাহকের প্রয়োজন বোঝার মতো কাজে বেশি সময় দিতে পারছেন। স্ট্যাক ওভারফ্লোর জরিপে এআই ব্যবহারের হার যেমন বেড়েছে, তেমনি এআইয়ের ফলাফল যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট হয়েছে। এ কারণে ভবিষ্যতের ডেভেলপার হয়তো শুধু ‘কোড লেখক’ থাকবেন না। তিনি হয়ে উঠবেন এআই-সহায়িত সমস্যা সমাধানকারী—যিনি প্রয়োজন অনুযায়ী এআই দিয়ে কোড তৈরি করবেন, সেই কোডের ভুল ধরবেন, নিরাপত্তা যাচাই করবেন এবং পুরো সিস্টেমের কার্যকারিতা নিশ্চিত করবেন। তাহলে সংকট কোথায়? সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির সামনে কোনো সংকট নেই এমনটাও বলা যায় না। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে সেই কাজগুলোর ক্ষেত্রে, যেগুলো পুনরাবৃত্তিমূলক, পূর্বানুমানযোগ্য এবং সহজে স্বয়ংক্রিয় করা যায়। একই সঙ্গে নতুনদের শিল্পে প্রবেশের পথও বদলে যেতে পারে। যে কাজগুলো দিয়ে একজন জুনিয়র ডেভেলপার আগে অভিজ্ঞতা অর্জন করতেন, সেগুলোর কিছু অংশ এআই করে ফেলতে পারলে এন্ট্রি-লেভেল ডেভেলপারকে শুরু থেকেই আরও বিস্তৃত দক্ষতা দেখাতে হতে পারে। তবে এর বিপরীতে এআই নতুন ধরনের কাজেরও সৃষ্টি করছে। এআই ইন্টিগ্রেশন, তথ্য বিশ্লেষণ, সাইবার নিরাপত্তা, এআই-সহায়িত সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, সিস্টেম আর্কিটেকচার এবং এআইভিত্তিক পণ্যের মতো ক্ষেত্রে নতুন দক্ষতার প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে এআইয়ের কারণে কর্মী কমানোর কথা ভাবছে, অন্যদিকে এআই-সম্পর্কিত দক্ষতার কর্মী নিয়োগ এবং বিদ্যমান কর্মীদের নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করার পরিকল্পনাও করছে। শেষ পর্যন্ত এআই কী বদলাচ্ছে? সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে এআইয়ের প্রভাবকে শুধু ‘চাকরি যাবে’ কিংবা ‘চাকরি বাড়বে’ এই দুই ভাগে দেখলে বাস্তব পরিবর্তনের বড় অংশটি বাদ পড়ে যায়। বর্তমান তথ্য বরং বলছে, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের রুটিন কাজের একটি অংশ দ্রুত স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে, এআই-সহায়িত ডেভেলপমেন্টে উৎপাদনশীলতা বাড়ছে এবং একই সঙ্গে ডেভেলপারদের কাজের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বিশ্লেষণেও জেনারেটিভ এআইয়ের ক্ষেত্রে পুরো চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার চেয়ে কাজের ধরন পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সফটওয়্যার ডেভেলপারদের কর্মসংস্থানের ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের পূর্বাভাসেও পেশাটির বিলুপ্তির কোনো চিত্র নেই; বরং ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে ভবিষ্যতের সফটওয়্যার কর্মসংস্থান বর্তমানের মতো থাকবে না এটি ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। একজন ডেভেলপারের মূল্য শুধু তিনি কত দ্রুত কোড লিখতে পারেন, তার ওপর নির্ভর না করে তিনি কত ভালোভাবে সমস্যা বুঝতে পারেন, এআইয়ের ফলাফল যাচাই করতে পারেন, সিস্টেম ডিজাইন করতে পারেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন এবং প্রযুক্তিকে বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধানে কাজে লাগাতে পারেন তার ওপর আরও বেশি নির্ভর করবে। অর্থাৎ, এআই সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিকে সরিয়ে দিচ্ছে এমন প্রমাণের চেয়ে এআই সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির *কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে* এমন প্রমাণই এখন বেশি দৃশ্যমান। প্রশ্ন তাই শুধু ‘এআই কতজনের চাকরি নেবে’ নয়। বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এআইয়ের সঙ্গে কাজ করার জন্য আগামী দিনের কর্মী কতটা প্রস্তুত? আরটিভি/টিআর
406984
পায়ুপথ দিয়ে ঢুকে জেলের শরীরে ‘বাসা বাঁধল’ বাইম মাছ, অতঃপর...
২০২৪ সালে বাংলাদেশের ৫৫ বছর বয়সী এক জেলের শরীরে জীবন্ত বাইম মাছ প্রবেশের ঘটনা আন্তর্জাতিক চিকিৎসা মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাছটি তার পায়ুপথ দিয়ে শরীরে ঢুকে অন্ত্রের দেয়াল ফুটো করে মারাত্মক সংক্রমণ সৃষ্টি করে। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সার্জারি কেস রিপোর্টস-এ এ বিরল ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে।
পায়ুপথ দিয়ে ঢুকে জেলের শরীরে ‘বাসা বাঁধল’ বাইম মাছ, অতঃপর...
শত শত প্রজাতির ফুলের চাদরে ঢেকে গেছে পৃথিবীর শুষ্কতম মরুভূমি
পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমিগুলোর একটি চিলির আতাকামা।
শত শত প্রজাতির ফুলের চাদরে ঢেকে গেছে পৃথিবীর শুষ্কতম মরুভূমি
আরও পড়ুন
কলাগাছের ভেলাবাইচ দেখতে উপচে পড়া ভিড়
গোপালগঞ্জে নারীদের ব্যতিক্রমী নৌকা বাইচ
দুই বছর পর তিতাস নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ
কুড়িগ্রামের ধরলা পাড়ে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়