ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের ১১৪ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক চিঠি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫২ এএম
ছবি: সংগৃহীত

নোবেল পুরস্কারের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক ও যুক্তিবিদ বার্ট্রান্ড রাসেলের মধ্যকার ১১৪ বছরের পুরনো একটি অত্যন্ত বিরল ও ঐতিহাসিক চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে।

দুই নোবেলজয়ীর মধ্যকার এই অমূল্য চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর তা বিশ্বজুড়ে গবেষক ও সাহিত্যপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

নোবেল প্রাইজ কর্তৃপক্ষ চিঠিটির ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছে, সাহিত্যে নোবেলজয়ী বার্ট্রান্ড রাসেল এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মধ্যকার ১১৪ বছরের পুরনো এই চিঠিপত্রটির দিকে একবার নজর দিন।

কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরির বার্ট্রান্ড রাসেল আর্কাইভস থেকে সংগৃহীত এই চিঠি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের দর্শনের এক অনন্য সেতুবন্ধন।

১৩ অক্টোবর, ১৯১২ সালে লেখা এই চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ রাসেলকে জানান যে, তিনি সম্প্রতি রাসেলের লেখা বিখ্যাত প্রবন্ধ দ্য এসেন্স অব রিলিজিয়ন (ধর্মের সারকথা) পড়া শেষ করেছেন।

রবীন্দ্রনাথ চিঠিতে উল্লেখ করেন, রাসেলের এই প্রবন্ধটি তাকে সনাতন ধর্মের পবিত্র উপনিষদের একটি শ্লোকের কথা মনে করিয়ে দেয়। উপনিষদ হলো প্রাচীন সংস্কৃতে রচিত আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক গ্রন্থ, যা বহু হিন্দু ঐতিহ্যের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯১২ সালের শুরুর দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন, তখন সেখানে বার্ট্রান্ড রাসেলের সাথে তার ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই মূলত এই দুই যুগান্তকারী মনীষীর মধ্যে গভীর চিন্তাভাবনার আদান-প্রদান শুরু হয়েছিল।

চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ সরাসরি রোমান হরফে মূল সংস্কৃত শ্লোকটি উদ্ধৃত করেন এবং এর ইংরেজি অনুবাদ ও নিজস্ব দর্শন ব্যাখ্যা করে রাসেলকে বুঝিয়েছিলেন যে, মানুষ যখন নিজের সংকীর্ণ বা সসীম সত্তার দেয়াল ভেঙে অসীমের জীবনের আনন্দ লাভ করতে পারে, তখনই সে সব রকমের জাগতিক ভয় থেকে মুক্তি পায়।

এই চিঠি লেখার ঠিক এক বছর পর, ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কাব্যের জন্য প্রথম অ-ইউরোপীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করে বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস গড়েন।

এর ঠিক ৩৭ বছর পর, ১৯৫০ সালে বার্ট্রান্ড রাসেলও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে এই চিঠিটি প্রকাশের মাধ্যমে দুই মহান নোবেলজয়ীর মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধন এবং দর্শনচর্চাকে বর্তমান বিশ্ববাসীর কাছে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলো।


আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ
আরও পড়ুন
অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড
নোবেল পুরস্কার না পেয়ে নরওয়েকে হুমকি ট্রাম্পের
শান্তিতে নোবেল জয়ী নাভি পিল্লাইকে অভিনন্দন জানালেন ড. ইউনূস
শান্তিতে নোবেল জয়ী কে এই নাভি পিল্লাই