
নিজের শরীরকে চাকার মতো ঘুরিয়ে দ্রুত পালাতে পারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক প্রজাতির ছোট্ট সাপ। স্বাভাবিকভাবে এঁকেবেঁকে চলার তুলনায় এই কৌশলে তার গতি প্রায় চার গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
সাপের চলাফেরা বলতে সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে এঁকেবেঁকে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। কিন্তু বিপদের মুখে এক ছোট্ট সাপ এমন এক কৌশল অবলম্বন করে, যা বিজ্ঞানীদেরও অবাক করেছে। শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে নিজের শরীরকে চাকার মতো ঘুরিয়ে গড়িয়ে পালিয়ে যায় এই সাপ।
সাপটির নাম ডোয়ার্ফ রিডস্নেক। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দেখা মেলে এই প্রজাতির। জাপানের তোহো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা একাধিক দিক থেকে ভিডিও ধারণ করে সাপটির চলাফেরা বিশ্লেষণ করেছেন। তাতেই সামনে এসেছে তার এই অস্বাভাবিক গতির রহস্য।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গড়িয়ে চলার সময় সাপটির সর্বোচ্চ গতি ছিল প্রতি সেকেন্ডে ১.৭২ থেকে ৩.৬৯ মিটার। স্বাভাবিকভাবে এঁকেবেঁকে চলার সর্বোচ্চ গতির তুলনায় এই গতি প্রায় চার গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
গড়িয়ে যাওয়ার সময় সাপটি শরীরের এক পাশ মাটিতে রেখে অন্য অংশ বাঁকিয়ে মাথার পাশ দিয়ে নামায়। এরপর একই প্রক্রিয়া বিপরীত দিকেও ঘটায়। এভাবে শরীরের দুই দিক পালা করে ঘুরিয়ে সামনে এগিয়ে যায় সাপটি।
এই কৌশলের আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক রয়েছে। শরীরের পিছনের অংশ দ্রুত ঘুরতে থাকলেও সাপটির মাথা মোটামুটি সামনের দিকেই স্থির থাকে। একই সঙ্গে মাথার উচ্চতাও খুব বেশি ওঠানামা করে না। ফলে দ্রুত পালানোর সময় সামনে এগোনোর দিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই কৌশল সাহায্য করতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
শুধু তা-ই নয়, মাত্র ২০ সেন্টিমিটার চওড়া পথ দিয়েও গড়িয়ে এগিয়ে যেতে পারে সাপটি। অর্থাৎ, সরু জায়গার মধ্যেও এই অস্বাভাবিক চলন কার্যকর হতে পারে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে কারেন্ট বায়োলজি বিজ্ঞান সাময়িকীতে। তবে এই ধরনের চলন সব সাপের মধ্যে দেখা যায় না। ডোয়ার্ফ রিডস্নেকের এই বিশেষ কৌশল দেখিয়ে দিয়েছে, বিপদের মুখে টিকে থাকার জন্য প্রকৃতি প্রাণীদের কত বিচিত্র উপায় তৈরি করে দিয়েছে।
সাধারণ চোখে সাপের শরীরের গঠন পরিচিত হলেও, সেই শরীরকেই চাকার মতো ব্যবহার করে দ্রুত পালানোর এই পদ্ধতি প্রাণীদের চলনবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণায় নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।
আরটিভি/এসকে


