ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

যে কারণে দিনে দিনে ছোট হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিয়ের আয়োজন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
কাল্পনিক ছবি

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের বদলে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান করছেন দম্পতিরা। অতিথির সংখ্যা কমানো, সংবর্ধনা পিছিয়ে দেওয়া ও সঞ্চয় ধরে রাখার প্রবণতায় চাপে পড়েছে বিয়েকেন্দ্রিক ব্যবসা।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিয়ের আয়োজনের ধরনে পরিবর্তন আসছে। আগে যেখানে শত শত কিংবা হাজারো অতিথি নিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের প্রচলন ছিল, সেখানে এখন ছোট পরিসরে বিয়ে সারছেন অনেক দম্পতি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের বদলে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গিও এ প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রাখছে।

জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার পেতালিং জায়ায় গত মাসে বিয়ে করেন ২৬ বছর বয়সী আম্মার হাজিক জুলকিফলি। মূল্যস্ফীতির কারণে খাবার সরবরাহের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তিনি অতিথির তালিকা ছোট করেন। একই সঙ্গে অর্থ সাশ্রয়ের জন্য বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতার পর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেন।

আম্মারের ভাষ্য, বিয়ের মোট ব্যয় বৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি এসেছে খাবারের খরচ থেকে। ফলে অতিথির সংখ্যা কমিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।

শুধু বিয়ের আয়োজন ছোট হওয়া নয়, কয়েকটি দেশে বিয়ের সংখ্যাও কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ায় ২০২৫ সালে বিয়ের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৮০ হাজার। ১১ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল ২১ লাখ।

ফিলিপাইনের পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে দেশটিতে নিবন্ধিত বিয়ের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কমেছে। গত মার্চে এই সংখ্যা কমেছে ৮৩ শতাংশ। তবে এ পতনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।

অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে দেরিতে বিয়ে করা, অতিথির সংখ্যা সীমিত রাখা এবং নিজেদের সঞ্চয় অক্ষুণ্ন রাখার প্রবণতাও বিয়ের আয়োজনের ধরন বদলে দিচ্ছে।

থাইল্যান্ডের ক্রুংথাই কার্ড ও বিয়েবিষয়ক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সাবুইওয়েডিংয়ের এক গবেষণায় এ বছর ১৫ থেকে ৫০ জন অতিথি নিয়ে ছোট পরিসরে বিয়ের আয়োজনের প্রবণতার কথা উঠে এসেছে।

সিঙ্গাপুরের বিয়ের পোশাক প্রতিষ্ঠান দ্য অরোরা ওয়েডিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাস্টিন এনজি জানান, সেখানকার দম্পতিরা এখন জাঁকজমকের চেয়ে অতিথিদের স্বাচ্ছন্দ্য ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী আনাসা রিজকি কামালিনা গত ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় ধর্মীয় কার্যালয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। পরে বাড়ির উঠানে ছবি তুলে দিনটি স্মরণীয় করে রাখেন। তার বড় ভাইয়ের বিয়েতে ২০২০ সালে দুই হাজার অতিথি উপস্থিত থাকলেও তিনি বেছে নিয়েছেন ছোট পরিসরের আয়োজন।

বছরের শেষ দিকে ৩০০ আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুকে নিয়ে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে আনাসা ও তার সঙ্গীর। এ জন্য তাদের বাজেট ১০ কোটি ইন্দোনেশীয় রুপিয়া, যা প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকার সমান।

আনাসা বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তারা আইনগত ও ধর্মীয়ভাবে বিবাহিত। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ঋণ নিয়ে কিংবা সঞ্চয় শেষ করে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করাকে তিনি বুদ্ধিমানের কাজ মনে করেন না।

দম্পতিদের ব্যয় সংকোচনের প্রভাব পড়ছে বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসায়। ক্যাটারিং, ফটোগ্রাফি, পোশাক ভাড়া ও ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলো আগের তুলনায় ছোট বাজেটের আয়োজন পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কিছু প্রতিষ্ঠান বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের বদলে করপোরেট অনুষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছে।

অন্যদিকে, ব্যয় সামলাতে বিকল্প পথও বেছে নিচ্ছেন অনেকে। ফিলিপাইনের এক দম্পতি আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সহযোগিতায় বিয়ের খরচ মেটাচ্ছেন। তাদের কেউ খাবারের ব্যয় বহন করছেন, আবার কেউ ফটোগ্রাফিতে ছাড় দিচ্ছেন। থাইল্যান্ডে অনেক দম্পতি ব্যয়বহুল শুভদিন এড়িয়ে তুলনামূলক সাশ্রয়ী তারিখে বিয়ে করছেন।

স্থানীয় বাজারে চাপ থাকলেও পর্যটননির্ভর বিয়ের আয়োজনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বিদেশি ধনাঢ্য দম্পতি ও পরিবারের বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম।

ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ভিএনএর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কুয়াংনিন প্রদেশে বছরের প্রথম চার মাসে ছয়টি ভারতীয় ধনাঢ্য পরিবারের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন চলে কয়েক দিন ধরে এবং প্রতিটির বাজেট ছিল কয়েক মিলিয়ন ডলার।

সব মিলিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিয়ের আয়োজনের ধরন বদলাচ্ছে। একদিকে সাধারণ দম্পতিরা ব্যয় কমিয়ে আর্থিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, অন্যদিকে বিয়েকেন্দ্রিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন বাজার ও আয়ের পথ খুঁজছে। ফলে বিয়ের জাঁকজমক কমলেও এ শিল্পের ব্যবসায়িক কাঠামোতে পরিবর্তন আসছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নদী থেকে সোনার কণা সংগ্রহ করে প্রেমিকার জন্য আংটি বানালেন যুবক
প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে বাজার থেকে আংটি না কিনে নিজেই সোনা সংগ্রহ করে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর এক যুবক। কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন নদী থেকে সোনার কণা সংগ্রহ করে সেসব দিয়ে তৈরি করেছেন দীর্ঘদিনের প্রেমিকার জন্য বাগদানের আংটি। ভালোবাসার এই অনন্য উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার প্রেমিকা জোয়ান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ‘দ্য পিপল’-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলোরাডোর হুইট রিজ এলাকার বাসিন্দা জ্যাক ভলকানি প্রেমিকা জোয়ানকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। এ সময় বাজার থেকে আংটি কেনার পরিবর্তে নিজের হাতে তৈরি করার চিন্তা আসে তার মাথায়। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কলোরাডোর বিভিন্ন নদী থেকে সোনার কণা সংগ্রহ শুরু করেন তিনি। ভলকানি জানান, প্রথমে কাজটি শেষ করতে অনেক সময় লাগবে বলে মনে হয়েছিল তার। তবে সেই কঠিন চ্যালেঞ্জই তাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করে। মাসের পর মাস পরিশ্রম করে একপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সোনা সংগ্রহ করতে সক্ষম হন তিনি। পরে সংগৃহীত সোনা নিয়ে হুইট রিজের গয়না নির্মাতা জ্যাক অ্যালেনের কাছে যান ভলকানি। তার অনুরোধে সোনা গলিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা হয় বাগদানের আংটি। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগে আগ্রহী হয়ে আংটিটি তৈরির কাজ করেন অ্যালেন। আংটি তৈরি হওয়ার পর প্রেমিকাকে চমকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন ভলকানি। একদিন জোয়ানকে নিয়ে পাহাড়ি পথে হাঁটতে বের হন তিনি। সেখানে তাকে নদী থেকে সোনার কণা সংগ্রহের বিভিন্ন মুহূর্ত নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও দেখান। প্রথমে ভিডিওটির উদ্দেশ্য বুঝতে পারেননি জোয়ান। তবে ভিডিওর মাঝামাঝি গিয়ে বুঝতে পারেন, প্রেমিকের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পেছনে রয়েছে তার জন্য বাগদানের আংটি তৈরির পরিকল্পনা। বিষয়টি উপলব্ধি করেই আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। জোয়ান বলেন, ভিডিওতে প্রেমিককে নদী থেকে সোনা সংগ্রহ করতে দেখে প্রথমে তার কাছে বিষয়টি বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়েছিল। কিন্তু কেন তাকে ভিডিওটি দেখানো হচ্ছে, তা বুঝতে পারছিলেন না। পরে যখন উপলব্ধি করেন, এই সোনা দিয়েই তার জন্য আংটি তৈরি করা হয়েছে, তখন আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। জোয়ানের মতে, ভলকানির এই উদ্যোগ তাদের সম্পর্কের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। প্রেমিকের এমন আন্তরিক প্রচেষ্টা তাকে বুঝিয়েছে, জীবনসঙ্গী হিসেবে তিনি সঠিক মানুষটিকেই বেছে নিয়েছেন। এদিকে, আংটি তৈরির পরও কিছু সোনা অবশিষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভলকানি। সেই সোনা দিয়ে নিজের জন্যও একটি আংটি তৈরির পরিকল্পনা করছেন তিনি। তার বিশ্বাস, দুজনের আঙুলে একই স্মৃতিবিজড়িত আংটি থাকলে দূরে থাকলেও তাদের মধ্যে ভালোবাসার বন্ধন অটুট থাকার অনুভূতি জাগবে। ভলকানির এই উদ্যোগ যেন ভালোবাসার প্রকাশে দামি উপহারের চেয়ে সময়, শ্রম ও আন্তরিকতার গুরুত্বই নতুন করে তুলে ধরেছে। আরটিভি/এসকে
নদী থেকে সোনার কণা সংগ্রহ করে প্রেমিকার জন্য আংটি বানালেন যুবক
৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা!
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় বিলুপ্ত ডোডো পাখিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে জিনগত পরিবর্তন, প্রজনন ও ভ্রূণের বিকাশ নিয়ে রয়েছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা!
অফিসের খিটখিটে সহকর্মীদের জন্য আজ বিশেষ এক দিন
কর্মক্ষেত্রে খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীদের সঙ্গে কমবেশি সবাইকেই কাজ করতে হয়। কেউ সামান্য বিষয়েই বিরক্ত হন, কেউ আবার সকাল থেকেই থাকেন গম্ভীর।
অফিসের খিটখিটে সহকর্মীদের জন্য আজ বিশেষ এক দিন
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
হৃদয় প্রশান্ত করা আজকের পূর্ণিমার চাঁদের নাম ‘হান্টার্স মুন’
আজ ২৬ অক্টোবরের পূর্ণিমার চাঁদ পরিচিত ‘হান্টার্স মুন’ বা শিকারির চাঁদ নামে। উত্তর গোলার্ধে শরৎকালের এই পূর্ণিমার নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাচীন মানুষের শিকার, ফসল তোলা ও শীতের প্রস্তুতির ইতিহাস।
হৃদয় প্রশান্ত করা আজকের পূর্ণিমার চাঁদের নাম ‘হান্টার্স মুন’
আরও পড়ুন
ভিয়েতনামে ২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি
পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামের কাছে দ্বিতীয় স্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ: ফারুক হাসান
ভিয়েতনামে চলন্ত বাসে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৭
জবাই করতে নেওয়া হচ্ছিল চুরি করা শত শত বিড়াল, অতঃপর...