ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভিয়েতনামে ২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
কাল্পনিক ছবি

ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি বিড়াল চুরি করে মাংসের জন্য বিক্রির অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে বিড়াল ধরার ফাঁদ, পশম তোলার মেশিন ও ডিজিটাল স্কেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

অনলাইন পোর্টাল ভিএনএক্সপ্রেস ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৯ বছর বয়সী লু থান বিনকে চক্রটির মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। সম্পত্তি চুরির অভিযোগে বিন ও তার ১১ সহযোগীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

পুলিশের অভিযোগ, চক্রটির সদস্যরা রাতে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মোটরসাইকেলে বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। যেসব বাড়িতে বিড়াল পোষা হতো, সেসব বাড়ির আশপাশে মাছ দিয়ে ফাঁদ পেতে বিড়াল ধরতেন তারা। প্রতিটি দল প্রতি রাতে চার থেকে ১০টি পর্যন্ত বিড়াল চুরি করত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ৮ জুলাই ডং থান কম্যুনে অভিযান চালিয়ে চক্রটির সন্ধান পায় পুলিশ। এ সময় ৫০টি বিড়াল, ৫৫টি ফাঁদ ও দুটি ডিজিটাল স্কেল উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ১২ জন প্রায় ২ হাজার ৭০০টি বিড়াল চুরি করে বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে চক্রটি ঠিক কত দিন ধরে সক্রিয় ছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিড়াল চুরির পাশাপাশি বিন অন্যান্য স্বাধীন বিক্রেতাদের কাছ থেকেও বিড়াল কিনতেন। জুলাইয়ে উদ্ধার হওয়া ৫০টি বিড়ালের মধ্যে ১৩টিকে শনাক্ত করে তাদের প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভিয়েতনামে বিশেষ করে দেশটির উত্তরাঞ্চলের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর একটি অংশের মধ্যে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। অনেকের বিশ্বাস, বিড়ালের মাংস খেলে ভাগ্য ভালো হয়। দেশটির কিছু রেস্তোরাঁয় প্রকাশ্যেই এসব মাংসের খাবার বিক্রি করা হয়। তবে এ ধরনের ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রাণীর উৎসের যথাযথ অনুমোদনপত্র থাকার নিয়ম রয়েছে।

এদিকে, কুকুর ও বিড়ালের মাংসের ব্যবসা বন্ধের দাবিতে ২০২৪ সালে ভিয়েতনামে আড়াই লাখের বেশি মানুষ একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেন। এর আগে ২০২১ সালে দেশটির হোই আন শহর কুকুর ও বিড়ালের মাংস বিক্রি ও খাওয়া বন্ধের অঙ্গীকার করেছিল।

সূত্র: এনডিটিভি

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাপানে হঠাৎ মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ জারি
বুধবার (৭ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
জাপানে হঠাৎ মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ জারি
ছেলের আসক্তি ছাড়াতে গিয়ে নিজেই জনপ্রিয় গেমার, তারকা খ্যাতি পেলেন বৃদ্ধা মা
ছেলের ভিডিও গেমের আসক্তি কাটাতে গিয়ে নিজেই অনলাইন গেমিং জগতের জনপ্রিয় তারকা হয়ে উঠেছেন ৬০ বছর বয়সী এক চীনা নারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আন্টি জুয়ান’ নামে পরিচিত ঝোং জুয়ানজুয়ান এখন প্রতিদিন হাজারো তরুণের সামনে গেম খেলেন। দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের মেইঝৌ শহরের শহরতলিতে বসবাস করেন ঝোং। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার বছর আগে ভিডিও গেম খেলা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তার গেমিং লাইভ-স্ট্রিম দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শক যুক্ত হন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করা ঝোং জীবনের বিভিন্ন সময়ে সেলস ও শিশু পরিচর্যাসহ বিভিন্ন খণ্ডকালীন কাজ করেছেন। প্রায় এক দশক আগে কর্মজীবন থেকে অবসর নেন তিনি। তবে গেমিংয়ের সঙ্গে ঝোংয়ের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল অনেক আগেই ছেলের আসক্তিকে ঘিরে। প্রায় দুই দশক আগে মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় তাঁর ছেলে সোদে ভিডিও গেমে মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েন। এতে তার পড়াশোনায় ব্যাপক অবনতি ঘটে। ছেলেকে গেম থেকে দূরে রাখতে সে সময় প্রায়ই স্থানীয় ইন্টারনেট ক্যাফেতে ছুটে যেতেন ঝোং। কখনো কখনো সেখান থেকে ছেলেকে ধরে বাড়িতেও নিয়ে আসতেন। ২০২০ সালে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর সোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাড়িতে বসে গেম খেলতে শুরু করেন। গেমের প্রতি তরুণদের এমন আকর্ষণের কারণ বুঝতে এবার নিজেই গেমিংয়ের জগতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন ঝোং। মায়ের এই সিদ্ধান্তে শুরুতে অবাক হয়েছিলেন সোদে। তবে পরে ধৈর্য ধরে মাকে গেম খেলার নিয়মকানুন শেখাতে শুরু করেন তিনি। ৬০ বছর বয়সে এসে গেম শেখা অবশ্য সহজ ছিল না ঝোংয়ের জন্য। বয়সের কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং হাত-চোখের প্রতিক্রিয়ার গতি ধীর হওয়ায় শুরুতে নানা সমস্যায় পড়তে হয় তাকে। গেমের চরিত্রকে সোজা পথে হাঁটানোও তাঁর জন্য কঠিন ছিল। দেয়ালে ধাক্কা খাওয়া কিংবা ডিজিটাল সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার মতো সাধারণ বিষয়ও আয়ত্ত করতে সময় লেগেছে। তবে কোনো বাধাই তাকে থামাতে পারেনি। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গেমিংয়ে দক্ষ হয়ে ওঠেন ঝোং। ২০২২ সাল থেকে নিজের গেম খেলার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ-স্ট্রিম করা শুরু করেন তিনি। সাধারণ মানের কম্পিউটার ও গেমিং সরঞ্জাম ব্যবহার করেও তার দক্ষতা নজর কাড়ে দর্শকদের। এ পর্যন্ত অনলাইন গেমে ৮ হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় কাটিয়েছেন তিনি। কৌশলভিত্তিক শুটিং গেমই তার সবচেয়ে পছন্দের। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক গেমিং অঙ্গনেও পরিচিতি পান ঝোং। সে সময় জনপ্রিয় শুটিং গেম ‘কাউন্টার-স্ট্রাইক: গ্লোবাল অফেন্সিভ’ (CS)-এর একটি বিশেষ অনলাইন প্রদর্শনী ম্যাচে খেলার আমন্ত্রণ পান তিনি। ছেলের গেমিং আসক্তি ছাড়ানোর চেষ্টা থেকেই যে যাত্রার শুরু, তা আজ ঝোংকে পরিণত করেছে জনপ্রিয় গেমার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তারকায়। হাজারো তরুণ দর্শকের কাছে ‘আন্টি জুয়ান’ এখন বয়সকে হার মানানো অধ্যবসায়, ধৈর্য ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক। আরটিভি/এসকে
ছেলের আসক্তি ছাড়াতে গিয়ে নিজেই জনপ্রিয় গেমার, তারকা খ্যাতি পেলেন বৃদ্ধা মা
ভাঙারি কুড়িয়ে চলা বৃদ্ধের ব্যাংকে ৭৭ লাখ টাকা
২১ বছর ধরে ভাঙারি কুড়িয়ে জীবন চালিয়েছেন চীনের ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। অর্থকষ্ট, ঋণ আর স্বজনদের সঙ্গে দূরত্ব সব মিলিয়ে একসময় নিজের শহর ছেড়ে অন্য শহরে চলে যান তিনি।
ভাঙারি কুড়িয়ে চলা বৃদ্ধের ব্যাংকে ৭৭ লাখ টাকা
মায়ের পেটে থাকা শিশুর অস্ত্রোপচার, চিকিৎসকদের অসাধারণ সাফল্য
মায়ের পেট থেকে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই অস্ত্রোপচার করে এক অনাগত শিশুর জীবন বাঁচিয়েছেন চীন ও হংকংয়ের চিকিৎসকরা। গর্ভে থাকা শিশুটির বুকে দ্রুত বেড়ে ওঠা টিউমারে সফলভাবে মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশন করেছেন তারা। শেনজেনের বাওয়ান ওমেনস অ্যান্ড চিলড্রেনস হসপিটাল এবং চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের চিকিৎসকদের একটি দল এ জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন চলতি বছরের ২০ আগস্ট ‘আলট্রাসাউন্ড ইন অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনিকোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়। চিকিৎসকদের হাতে অস্ত্রোপচারের সময় ছিলেন ৪০ বছর বয়সী এক নারী। তিনি তখন ২২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। পরীক্ষায় তার গর্ভে থাকা শিশুর মাইক্রোসিস্টিক কনজেনিটাল পালমোনারি এয়ারওয়ে ম্যালফরমেশন (সিপিএএম) শনাক্ত হয়। এটি একটি বিরল জন্মগত সমস্যা। এতে ভ্রূণের ফুসফুসের স্বাভাবিক টিস্যুর পরিবর্তে অসংখ্য ছোট ছোট সিস্ট বা তরলপূর্ণ থলি তৈরি হয়। দ্রুত বাড়তে থাকলে এ ধরনের টিউমার ভ্রূণের হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে হার্ট ফেইলিওর এবং শরীরে অতিরিক্ত তরল জমার মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে। স্ক্যানে দেখা যায়, শিশুটির বুকের ডান পাশের প্রায় পুরো অংশজুড়ে ৫ সেন্টিমিটার আকারের একটি টিউমার রয়েছে। টিউমারটির চাপে শিশুটির হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। একই সঙ্গে শিশুটির পেটে বিপজ্জনক মাত্রায় তরল জমে অ্যাসাইটিস দেখা দেয়। সাধারণত এ ধরনের ক্ষেত্রে বড় তরলপূর্ণ সিস্ট খালি করে দেওয়া কিংবা টিউমারের প্রধান রক্ত সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। তবে এই শিশুর টিউমারটি ছিল অসংখ্য ক্ষুদ্র সিস্টে গঠিত এবং এর কেন্দ্রে কোনো বড় রক্তনালী ছিল না। ফলে প্রচলিত পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা ছিল কম। এ অবস্থায় চিকিৎসকরা বেছে নেন অভিনব একটি পদ্ধতি। হাই-ডেফিনিশন ও রিয়েল-টাইম আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে টিউমারে পৌঁছানোর নিরাপদ পথ নির্ধারণ করা হয়। এরপর মায়ের পেট, জরায়ুর দেয়াল এবং ভ্রূণের বুকের দেয়াল ভেদ করে একটি সূক্ষ্ম অ্যাবলেশন নিডল সরাসরি টিউমারের কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হয়। এরপর মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির মাধ্যমে টিউমারের ভেতরের পানির অণুগুলোকে দ্রুত উত্তপ্ত করে টিস্যু ধ্বংস করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে সময় লাগে মাত্র দুই মিনিট। অস্ত্রোপচারের পুরো সময় আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে টিউমারে ছড়িয়ে পড়া তাপের মাত্রা ও পরিসর পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসকরা, যাতে অনাগত শিশুর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। অস্ত্রোপচারের মাত্র তিন দিন পরই এর সুফল দেখা যায়। টিউমারের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে এবং নতুন করে তরল জমাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ৩৭ সপ্তাহ পর্যন্ত সফলভাবে গর্ভধারণের পর ওই নারী সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল ২ দশমিক ৯ কেজি। নবজাতকের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের অ্যাপগার স্কেলে শিশুটি পায় পূর্ণ ১০ নম্বর। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জন্মের চার মাস পরও শিশুটির শরীরে টিউমার পুনরায় বেড়ে ওঠার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। চিকিৎসকদের এই সাফল্য গর্ভে থাকা শিশুর জটিল জন্মগত রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট আরটিভি/এসকে
মায়ের পেটে থাকা শিশুর অস্ত্রোপচার, চিকিৎসকদের অসাধারণ সাফল্য
‘কিডনি আবার গজাবে’ দালালের প্রতারণায় যে গ্রাম হয়ে ওঠে কিডনি ভ্যালি
দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে কিডনি বিক্রির ফাঁদে ফেলা হয়েছিল নেপালের একটি গ্রামের অসংখ্য মানুষকে। দালালদের প্রলোভন আর মিথ্যা আশ্বাসে একসময় গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কেউ না কেউ কিডনি বিক্রি করেন।
‘কিডনি আবার গজাবে’ দালালের প্রতারণায় যে গ্রাম হয়ে ওঠে কিডনি ভ্যালি
আরও পড়ুন
পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামের কাছে দ্বিতীয় স্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ: ফারুক হাসান
ভিয়েতনামে চলন্ত বাসে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৭
জবাই করতে নেওয়া হচ্ছিল চুরি করা শত শত বিড়াল, অতঃপর...
নামে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অথচ চলে না কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট!