ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

আহসানউল্লাহ মাস্টার বেঁচে থাকবেন মানুষের অন্তরে

কাজী আরিফ বিল্লাহ

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২১, ১১:১৩ পিএম

প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা ও গাজীপুর-২ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ মাস্টার স্যারের ৭১তম জন্মদিন মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর)। ১৯৫০ সালের এ দিনে তিনি গাজীপুরের হায়দরাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

ভাওয়াল বীর রাজনীতির শুদ্ধ পুরুষ নন্দিত জননেতা শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্যারের শুভ জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। কায়মনে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমিন।

আর্দশের কখনো মৃত্যু হয় না। গাজীপুরের মাটি ও মানুষের প্রিয় নেতা শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্যার আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু রয়েছে তার কর্ম, তার জীবনাদর্শ। তিনি ছিলেন সৎ, নির্লোভ নিরহংকার একজন নীতিবান মানুষ। তিনি সারাজীবনই সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ায় তাকে অকালে মৃত্যু বরণ করতে হয়েছিল। তবে তিনি বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন মানুষের অন্তরে।

১৯৬৬- র ছয়দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০- এর নির্বাচন, ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ সহ সব আন্দোলন সংগ্রামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে আহসানউল্লাহ মাস্টার স্যার সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতের দেরাদুনে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি মুজিব বাহিনীতে যোগদান করেন এবং পাক আর্মির বিরুদ্ধে একাধিক সফল অপারেশন পরিচালনা করেন।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতস্বরূপ দেশ স্বাধীনের পর তাকে ভালো চাকরির সুযোগ দেয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। তিনি শিক্ষকতার মতো মহান পেশা বেছে নিয়েছিলেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধের সফল সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা জাতীয় এ নেতাকে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২১ এ ভূষিত করা হয়।

শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্থান ও কালোত্তীর্ণ একজন মানুষ। ভাবতে অবাক লাগে, তিনি ছিলেন একাধারে বরেণ্য রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আদর্শ শিক্ষক। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আর্দশের একজন অকুতোভয়ী সৈনিক। তিনি কখনোই অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করেন নি। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির কাছে মাথা নত করেন নি।

গভীর দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আর সামাজিক মূল্যবোধ এ তিনটি বিরল গুণের অভূতপূর্ব সম্মিলন ঘটেছিল আমাদের সবার প্রিয় আহসানউল্লাহ মাস্টার স্যারের চরিত্রে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বপ্ন ও আদর্শ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, সেই স্বপ্ন ও আর্দশের ধারক ও বাহক ছিলেন শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার। বঙ্গবন্ধুর মতোই তিনি কখনো ভাবতেই পারেন নাই তাকে হত্যা করা হতে পারে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, তাকে নির্মম ভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হয়েছে। তাই তার রেখে যাওয়া আদর্শ ও কর্মকে বুকে ধারণ করে দেশ সেবায় আমাদের কে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

লেখক || জনসংযোগ কর্মকর্তা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতীয় আরকাইভস আইন : প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার ১০৩, এলিফ্যান্ট রোডে আরকাইভস ও গ্রন্থাগার পরিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন। সরকারের স্থায়ী রেকর্ডসমূহ ও আরকাইভস সামগ্রী সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত বা আনুষঙ্গিক বিষয়াদি পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস প্রতিষ্ঠাকল্পে ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দের ১৮ আগস্ট The National Archives Ordinance, 1983 (Ordinance No. XXXIX of 1983) প্রণীত হয়। উক্ত অধ্যাদেশটি ১৩ অক্টোবর ২০১১ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় অনুবাদ আকারে প্রকাশিত হয়।  অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২৭ জুন ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৯ আগস্ট ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস আইন প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ ১৪ বৎসরের প্রচেষ্টায় সরকার The National Archives Ordinance, 1983 রহিতক্রমে প্রয়োজনীয় সংশোধনপূর্বক পরিমার্জনরূপে ও যুগোপযোগী করে তা নতুনভাবে প্রণয়ন করা সমীচীন ও আবশ্যক বিবেচনায় ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রিস্টাব্দে ‘বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস আইন, ২০২১ (২০২১ সনের ২১ নং আইন) প্রণয়ন করে।                       আইনটি প্রণয়নের ইতিহাস অনুসন্ধানে দেখা যায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা-বৈঠক কর্তৃক ১৬ মার্চ ২০২০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস আইন, ২০২০-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদিত হয় এবং ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ খ্রিস্টাব্দে উক্ত আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। এভাবে ইতোপূর্বে আইন প্রণয়নের সকল আনুষ্ঠানিকতা প্রতিপালনপূর্বক ০৬ জুন ২০২১ খ্রিস্টাব্দে আইনটি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বা. জা. স. বিল নং ১৩/২০২১ আকারে সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কে এম খালিদ এমপি মহান জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন। বিলের উপর সংশোধনী প্রস্তাবসহ নাতিদীর্ঘ আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শেষে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রিস্টাব্দে বিলটি মহান জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত বা কণ্ঠভোটে পাস হয়। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রিস্টাব্দে উক্ত বিলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দেন এবং আইনটি সর্বসাধারণের অবগতির জন্য বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।   বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস আইন, ২০২১ পর্যালোচনায় দেখা যায়, আইনের প্রকৃতি হলো বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির মূল উপাত্ত, ঐতিহাসিক গুণসম্পন্ন নথিপত্র, দলিল-দস্তাবেজ, পাণ্ডুলিপি এবং জাতির মেধা-সম্পদ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন এবং গবেষণা ও তথ্যসেবার সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখা। এককথায় দেশের সরকারি এবং ব্যক্তিগত রেকর্ড ও আরকাইভ সামগ্রী সুষ্ঠুভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা। সরল পাঠে বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস আইন, ২০২১ দেখা যায়, মূলত আইনটি তিনটি অংশে বিভক্ত: ক) প্রারম্ভিক অংশ : বলবৎকরণ ও প্রস্তাবনা; খ) মূল অংশ : ধারা-২৬টি ও উপধারা-৭৪টি; এবং গ) শেষ অংশ : তপশিল-১টি। বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস আইন, ২০২১ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আইনের মূলত আটটি প্রকৃতি লক্ষ্যণীয় : প্রথমত রেকর্ড ও আরকাইভ সামগ্রী চিহ্নিতকরণ; দ্বিতীয়ত রেকর্ড ও আরকাইভ সামগ্রী সংগ্রহ; তৃতীয়ত রেকর্ড ও আরকাইভ সামগ্রীর ব্যবস্থাপনা; চতুর্থত রেকর্ড ও আরকাইভ সামগ্রী সংরক্ষণ; পঞ্চমত আরকাইভ প্রশাসন পরিচালনা; ষষ্ঠত রেকর্ড ও আরকাইভ সামগ্রীতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রয়োগ; সপ্তমত রেকর্ড ও আরকাইভ সামগ্রীর ব্যবহার তথা তথ্য সরবরাহ বা সেবা প্রদান; অষ্টমত রেকর্ড ও আরকাইভ সামগ্রীর উন্মুক্ত প্রদর্শনী বা গণপ্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা।     জাতীয় আরকাইভসের প্রধান কার্যাবলি তথা ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক অথবা সাহিত্যিক মূল্যসম্পন্ন দলিল-দস্তাবেজ, পাণ্ডুলিপি এবং সরকারি ও ব্যক্তিগত রেকর্ড ও আরকাইভ সামগ্রী সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও তথ্য সরবরাহ করা যা আইনে ফুটে উঠেছে। আইনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা দপ্তরের প্রশাসনিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন দলিল-দস্তাবেজ, পাণ্ডুলিপি, মানচিত্র, বই-পুস্তক, পত্রিকা, চিঠি, প্রতিবেদন, নিবন্ধনবহি, গেজেট, গেজেটিয়ার, নকশা, আলোকচিত্র, অডিও-ভিজ্যুয়ালসামগ্রীসহ নথিপত্র ও আরকাইভ সামগ্রী সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন এবং তথ্যসেবা প্রদান করা। আইনটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো, আইনে জাতীয় আরকাইভস অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর আলোকে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভসকে সরকারের ‘কেন্দ্রীয় রেকর্ড সংরক্ষণাগার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে (ধারা ৪)। আইনে সরকারি আরকাইভস, ব্যক্তিগত আরকাইভস, সরকারি রেকর্ড, ব্যক্তিগত রেকর্ড এবং পাণ্ডুলিপিকে পৃথক পৃথকভাবে চিহ্নিত করে সরকারি রেকর্ডের ক্ষেত্রে ২৫ বৎসর এবং ব্যক্তিগত রেকর্ডের ক্ষেত্রে ৩০ বৎসরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে (ধারা ২)। আইনে জাতীয় আরকাইভসের জন্য ১৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদ সরকারি ও ব্যক্তিগত আরকাইভস চিহ্নিতকরণ, স্থানান্তর, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ প্রদান করবেন (৫,৬,৭)।  আইনে মহাপরিচালকের কার্যাবলি, দায়িত্ব ও কর্তব্য সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে (ধারা ৮)। দেশের যেখানেই সরকারি রেকর্ড রয়েছে সেখানে মহাপরিচালকের প্রবেশের অধিকার ও উক্ত রেকর্ডের তালিকাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা এবং অন্যূন ২৫ (পঁচিশ) বৎসরের পুরাতন রেকর্ডপত্র স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য জাতীয় আরকাইভসে স্থানান্তর করার বিধান রাখা হয়েছে (ধারা ১০)। আইনে Commissions of Inquiry Act, 1956 এর অধীন যেকোনো তদন্ত কমিশন, তদন্ত কমিটি, তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত সকল রেকর্ড ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতীয় আরকাইভসে জমা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে (ধারা ১৪)। আইনে নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে জনসাধারণের জন্য গবেষণা ও তথ্যসেবাসহ অন্যান্য সেবা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে (ধারা ১৩)। আইনে রেকর্ড ও আরকাইভ সামগ্রী জাতীয় আরকাইভস হতে অন্য কোথাও স্থানান্তর করতে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে (ধারা ১৮)। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে আইনে জাতীয় আরকাইভসের বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণে অনলাইন ডিজিটাল সেবাসহ অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে (ধারা ১৯)। আইনে আরকাইভ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল তৈরিতে আরকাইভস বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কোর্স বা ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনার বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে (ধারা ২০)। আইনে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং সাহিত্যিক মূল্যসম্পন্ন পুরাতন পাণ্ডুলিপি, দলিল-দস্তাবেজ ও রেকর্ড বিদেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। (ধারা ১৫)। আইনে রেকর্ড ও আরকাইভ সামগ্রীর ক্ষতি সাধন ও অন্যান্য অপরাধের জন্য যুগোপযোগী শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো রেকর্ডকে বিকৃত, দাগান্বিত, ছিঁড়ে ফেললে, ডিজিটাল তথ্য মুছে ফেললে বা হ্যাক করলে এককথায় কোনো রেকর্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করলে তিন বৎসরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আবার কোনো রেকর্ড আত্মসাৎ করলে বা দেশে অথবা বিদেশে পাচার করলে বা জাতীয় আরকাইভস ভবনের বাহিরে স্থানান্তর করলে পাঁচ বৎসরের কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে (ধারা ২২)। সর্বোপরি, আইনের মাধ্যমে সার্বিকভাবে অধিদপ্তরসহ বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভসের ভিত্তিমূল শক্তিশালীকরণসহ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিশেষে, দেশের সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস আইন প্রণয়ন করা সরকারের একটি কার্যকরী পদক্ষেপ। এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে আরকাইভিং কার্যক্রম বা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হবে। আইনটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। আইনটির সঠিক অনুশীলনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ নিশ্চিত হবে যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সঠিক ইতিহাস বিনির্মাণে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। সর্বোপরি ইতিহাস বিকৃতি রোধ পাবে। ফলে জাতীয় সংস্কৃতি সমৃদ্ধি লাভ করবে। এতে করে রাষ্ট্রের সর্বস্তরের জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত হবে।  এ বিষয়ে জাতীয় আরকাইভসের উপপরিচালক (আরকাইভস) জনাব তাহমিনা আক্তার বলেন “বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস আইন, ২০২১ প্রণয়ন করতে আমরা কঠোর ও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। এখন এই আইনের সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের সময় হয়েছে। আমরা চাই, এই আইনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতীয় সংস্কৃতি উন্নতি লাভ করুক যার সুফল সাধারণ জনগণ পাবে।”  লেখক : মোখলেছুর রহমান, পিএইচ.ডি গবেষক, ইতিহাস বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা-১৩৪২।              
জাতীয় আরকাইভস আইন : প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য
খুনি হয়ে কেউ শিক্ষাঙ্গনে আসে না, শিক্ষাঙ্গনের অসুস্থ পরিবেশই খুনি তৈরি করে
দেশের সবচেয়ে মেধাবীরাই পড়ালেখার সুযোগ পান সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে। এর পেছনে রয়েছে প্রতিটি মা-বাবার শ্রম, সাধনা, ত্যাগ-তিতিক্ষা। একেকটি পরিবারের তিল তিল করে জমানো স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকে এই মেধাবীদেরই। দেশের প্রত্যন্ত এলাকার এসব মেধাবী শিক্ষার্থীরাও অনেক কাঠ খড়ি পুড়িয়ে সুযোগ পান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। যাদের কেউই খুনি বা সন্ত্রাসী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে না।    কিন্তু আমাদের দেশের অসুস্থ ছাত্র রাজনীতি আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের খামখেয়ালি, প্রশাসনিক অদক্ষতা এসব মেধাবীদের খুনি বানিয়ে দিচ্ছে। নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন মেধাবী অনেক শিক্ষার্থী। যাদেরই একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। ফাহাদের মা বাবার মতন অসংখ্য সন্তান হারা মা বাবা এক চাপা কষ্ট বুকে নিয়ে জীবন পার করছেন।  এদেশে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে হত্যাকাণ্ডের বিচার খুব কমই হয়েছে। বেকসুর খালাস, বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকা, আদালতের এজলাস থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়া ও পরে দেশ ত্যাগের ঘটনাও ঘটেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারগুলো বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান। কিন্তু পান না কাঙ্ক্ষিত বিচার। ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নির্মমভাবে খুন হন মেধাবী ছাত্র আবু বকর। এ ঘটনায় করা মামলায় পরে এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাইদুজ্জামান ফারুকসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় শাহবাগ থানা পুলিশ। পরে বাদীর নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর আদালতের নির্দেশে মাশলাটি অধিকতর তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এতে আগের আটজনসহ আরও দুইজনকে অভিযুক্ত করা হয়। আসামিরা সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায়ে ২০১৭ সালের ৭ মে ছাত্রলীগের সাবেক ১০ নেতাকর্মীর প্রত্যেকেই বেকসুর খালাস পান। ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল ভেটেরিনারি অনুষদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশের সঙ্গে ছাত্রলীগের অন্য অংশের সংর্ঘষ চলাকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাকারিয়া ও কৃষি বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হাসান মিল্টন নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে একটি ও দুই পরিবারের পক্ষ থেকে কোর্টে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। একাধিকবার এসব মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু একটি মামলাও আলোর মুখ দেখেনি।  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি ছাত্রলীগের কর্মী জুবায়েরকে কুপিয়ে জখম করে তারই সংগঠনের একটি পক্ষ। পরদিন ভোরে মারা যান জুবায়ের। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচজনকে ফাঁসি ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। তবে আজও কাযকর হয়নি সে রায়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় এ হত্যা মামলার চার আসামি আদালতের কাঠগড়া থেকে পালিয়ে যান।  ফলে এটা স্পষ্ট যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিবার হত্যাকাণ্ডের বিচার পান না। তবে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ২০ জনকে মৃত্যু দণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের যে রায় আদালত দিয়েছেন, তা শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়ন হয় সেটিই দেখার বিষয়। বুধবার রায় ঘোষণার পর আসামি পক্ষের অন্যতম আইনজীবী ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট না। আমরা উচ্চ আদালতে যাব।’ ফলে এ রায় কবে বাস্তবায়ন হবে বা আধেও বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই।   অন্যদিকে যে সব শিক্ষার্থীরা খুন করছেন তাদের পরিবারও সমাজে নিগৃহীত হচ্ছেন। অনেক স্বপ্ন বুকে নিয়ে তিল তিল করে বড় করা প্রিয় সন্তান হচ্ছেন ফেরারি আসামি। চোখের সামনে ধ্বংস হচ্ছে সন্তানের সোনালি ভবিষ্যৎ। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ এসব বিদ্যাপীঠকে সন্ত্রাসী ও খুনি তৈরির উর্বর স্থানে পরিণত করেছে যারা তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।  আমাদের দেশের পাবলিক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অসুস্থ ছাত্র রাজনীতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও সরাসরি রাজনীতিতে জড়িয়ে পরেছেন। শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলোতে চলে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের রাজত্ব। সেখানে নামেমাত্র হল প্রশাসন থাকে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে হলের চাবিকাঠি থাকে ছাত্র সংগঠনের হাতে। কে হলে থাকবে কে থাকবে না। কে কোন রুমে থাকতে পারবে কে পারবে না। এসব কিছুই হলের ছাত্র সংগঠনের নেতাদের হাতে।   বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই মেধাবী শিক্ষার্থীদের নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বাস করতে হয়। ইচ্ছা না থাকলেও দলীয় মিছিল মিটিং ও সমাবেশে অংশ নিতে হয়, এক হলের নেতা কর্মীদের সঙ্গে অন্য হলের নেতাকর্মীদের বিরোধে অনিচ্ছা সত্ত্বেও হাতে তুলে নিতে হয় অস্ত্র। বিশেষ করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ চিত্র সবখানেই। সময়ের ব্যবধানে অনেকে নিজেকে প্রকাশ্য রাজনীতির বাইরে রাখতে পারলেও অনেকে নেতা বনে যান। ক্ষমতার স্বাদ তাদের দিন দিন করে তোলে হিংস্র হায়েনার মতন। এদের মধ্যে অনেকে আবার আসক্ত হয়ে পড়েন মাদকের নেশায়। সুস্থ স্বাভাবিক জীবন থেকে অনেকটাই দূরে সরে যান তারা। যাদের অনেকে শিক্ষাজীবনও শেষ করতে পারে না। আর এই মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেখভালের দায়িত্বে থাকেন যে শিক্ষকরা, তারাও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন না। আবাসিক হলের অনেক প্রভোস্ট খোঁজই রাখেন না তার শিক্ষার্থীরা কে কী করছেন। আবার অনেক প্রভোস্ট খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন এমন নজিরও রয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের হয়েছে চরম অবনতি।  দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের এ দৈন্যদশা নতুন কিছু নয়। সকলের জানা থাকলেও পরিস্থিতির উন্নয়নে এগিয়ে আসে না কেউ। বছরের পর বছর একই পরিস্থিতির মধ্যে চলছে শিক্ষাঙ্গনগুলো। দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল হয়। কিন্তু বদলায় না দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের পরিবেশ। বিদ্যাপীঠ হোক মেধা বিকাশের তীর্থস্থান, খুনি ও সন্ত্রাসী তৈরির উর্বর ভূমি নয়।  এনএইচ/টিআই
খুনি হয়ে কেউ শিক্ষাঙ্গনে আসে না, শিক্ষাঙ্গনের অসুস্থ পরিবেশই খুনি তৈরি করে
আহা, আজ কী আনন্দ অপার, শুভ শুভ জন্মদিন দেশরত্ন শেখ হাসিনার
আহা, আজ কী আনন্দ অপার শুভ শুভ জন্মদিন দেশরত্ন শেখ হাসিনার জয় জয় জয় জয় বাংলার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বপ্নবাহু তাঁর বাঙালির জন্য রাষ্ট্র দিয়েছেন শেখ মুজিব। আর রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর ভিত গড়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সাল। এদিন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের পাঁচ সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়। দেশ স্বাধীন হলেও স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত শক্তি বিদেশি মদদপুষ্ট ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুর বিরূদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করে। ফলস্বরূপ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে স্বদেশে ফিরে আসেন। তাকেও অসংখ্য বার হত্যার চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিবারই তিনি প্রাণে বেঁচে যান। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা আমাদের আশার বাতিঘর। আস্থার ঠিকানা। বেঁচে থাকার অবলম্বন। সম্প্রীতির ধারক ও বাহক। পথ চলার অনন্ত প্রেরণা। তিনি বাংলার মানুষকে আপন করে ভালোবেসে মুক্তির মিছিলে ছিলেন আশৈশব। তাকে যেন আমরা বাংলার ষড়ঋতুতে খুঁজে পাই। তার স্নেহ, মায়া-মমতার পরশে দুঃখী মানুষ খুঁজে পায় শান্তির ঠিকানা। তেমনি আবার তার অদম্য সাহস আর সংগ্রামী চেতনায় জেগে উঠে মুক্তিকামী মানুষ। শেখ হাসিনা ১৯৯৬-২০০১ সালে প্রথমবার, ২০০৯-২০১৩ সালে দ্বিতীয়বার, ২০১৪-২০১৮ সালে তৃতীয়বার এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর ৭ জানুয়ারি ২০১৯ সালে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করে যাচ্ছেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। শেখ হাসিনা কোনোরকমে বেঁচে গেলেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ নৃশংসভাবে নিহত হন ২৪ জন। আর আহত হন শত শত কর্মী। সামনের কণ্টকাকীর্ণ বন্ধুর পথ আছে জেনেও তিনি পিতার আর্দশের রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি। দেশ ও দেশের মানুষের উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করে চলেছেন এখনও। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কল্যাণকর রাষ্ট্রগঠনের প্রবক্তা। রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছে তার প্রজ্ঞাময় দূরদৃষ্টি। এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়ন, ধর্মনিরপেক্ষতা, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক মুক্তি, শিক্ষা, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন, নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন, নারী উদ্যোক্তা তৈরি, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, বেকারত্ব দূরীকরণ, বাল্যবিবাহ রোধ, গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা, সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা চালু, তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারী ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন, সাধারণ মানুষের জীবনমান পরিবর্তন, তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা, টেক্সই উন্নয়নে আইসিটির ব্যবহার, সম্প্রীতি-সদ্ভাব, পরিবেশ রক্ষা, তৃণমূল পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির বহুল ব্যবহার, লিঙ্গসমতা, দুর্নীতি দমন, রপ্তানিমুখি শিল্পাঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে অর্থনৈতিক সূচক বৃদ্ধিসহ নানামুখি উন্নয়ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিশ্রমের ফসল। ইতোমধ্যে তার গৃহীত নানামুখি প্রকল্পের সুফল আমরা পাচ্ছি। এভাবে তিনি বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।   বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্থান করে নেয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিশ্বদরবারে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। তার সুদূর প্রসারী রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতায় দুর্বারগতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তার জন্যই বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশেষ অবদানের জন্যে তিনি লাভ করেন অনেক বিদেশি সম্মাননা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশের গৌরবময় পথ চলা শুরু, যা এখনও চলমান। যেমন- সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ ৯৫,৫৭৪ কোটি টাকা, খাদ্য উৎপাদন ৪২১ লাখ মেট্রিক টন, অতি দারিদ্র্যের হার ১০.৫%, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার, রেমিটেন্স আয় ২২৮৪ কোটি মার্কিন ডলার, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ২০,০০০ (প্রস্তাবিত), রপ্তানি আয় ৩৫১৮ মিলিয়ন ডলার, গড় আয়ু ৭২.৬ বছর, মাথাপিছু আয় ২২২৭ মার্কিন ডলার, দারিদ্র্যের হার ২০.৫%, মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫১২ কিলোওয়াট/ঘণ্টা, কৃষি ভর্তুকি প্রদান ৯,৫০০ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৫,২২৭ মেগাওয়াট, মোট বিদ্যুৎ কেন্দ্র ১৪৯টি এবং বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী ৯৯%। বঙ্গবন্ধু বলতেন, “এ স্বাধীনতা আমার ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত খেতে না পায়। এ স্বাধীনতা পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এদেশের মানুষ-যারা আমার যুবক শ্রেণী আছে তারা চাকরি না পায় বা কাজ না পায়।” বঙ্গবন্ধুর এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন তথা সোনার বাংলা বিনির্মাণে শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মানবতার মা হিসেবে তিনি মুজিববর্ষে সারাদেশে ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে পাকা বাড়ি নির্মাণ এবং রোহিঙ্গাদের দেশে আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব ইতিহাসে নজির সৃষ্টি করেছেন। করোনাকালীন সময়ে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস ও শক্তি যোগানোর পাশাপাশি ভ্যাকসিন, খাদ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেছেন। এ ধরনের মহান মানবিক উদ্যোগ বিশ্বে খুব কমই চোখে পড়ে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী চিন্তায় বাংলাদেশে আমূল পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। তার নেতৃত্বেই আকাশ এবং সমুদ্র বিজয় হয়েছে। শহর ও গ্রামের রাস্তার ব্যাপক উন্নয়ন দৃশ্যমান। বাণিজ্যিক রাজধানী বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও নির্মিত হচ্ছে ফ্লাইওভার। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন বিশিষ্ট টানেল নির্মিত হচ্ছে তার নির্দেশনায়। এই টানেল নির্মাণ শেষ হলে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পূর্বপ্রান্তে গড়ে উঠবে পর্যটন শহর। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ এখন শেষ পর্যায়ে। রাজধানীতে নির্মিত মেট্রোরেল, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যান্য মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পথে। মহামারি করোনাকালীন সময়েও শেখ হাসিনা সামনে থেকে প্রশংসনীয় সফল ও দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ সময়ে মানুষের জীবন-জীবিকার চাকা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই দেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বে টিকা প্রস্ততে সক্ষম দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর মতো তিনিও সাদাসিধে মোহহীন জীবনযাপন করে দেশের উন্নয়নে অবিরত কাজ করে যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও পিতার মতো দেশ গড়ার কাজে সর্বশক্তি নিয়োগ করে নিজেকে উৎসর্গ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়ন, মানবিকতা, উদারতা, অসাম্প্রদায়িকতা, ত্যাগের আদর্শ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞাদীপ্ত চিন্তাধারা আজ বিশ্ব দরবারে স্বীকৃতি পেয়েছে। সবশেষে কবির ভাষায় বলি- আলোক ছড়ায় আলোকিত জন উন্নত শির কর্মে তোমার অবদান কতই মহান অনুভব করি মর্মে। রাকিবুজ্জামান আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ লালমনিরহাট জেলা। এমএন
আহা, আজ কী আনন্দ অপার, শুভ শুভ জন্মদিন দেশরত্ন শেখ হাসিনার
বছরে ৪ লাখ জনবল নেবে কানাডা
কানাডায় ফেডারেল নির্বাচন একেবারে নাকের ডগায়। চলতি মাসের ২০ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। ইতিমধ্যে চলছে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার প্রচারণা। রাজনৈতিক ইশতেহারও ঘোষণা করেছে দলগুলো।   বিশ্ব মহামারীর এই সংকটময় মুহূর্তে কানাডার হঠাৎ নির্বাচনের পাশাপাশি আচমকা যুক্ত হয়েছে আফগান শরণার্থী সংকট। আফগানিস্তানে তালেবান শাসকদের  প্রত্যাবর্তনের সাথে সাথে ট্রুডো সরকার ইতোমধ্যেই ২০ হাজার আফগান শরনার্থীকে কানাডায় নিয়ে পুনর্বাসনের ঘোষণা দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিনে প্রায় ৪ হাজার আফগানকে বিমানযোগে কানাডা নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে আরো আফগান শরণার্থী নিয়ে আসার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। কানাডার এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশটির ইমিগ্রেশন পলিসি ফেডারেল নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কানাডা দিন দিন আরো বেশি অভিবাসীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার খুবই কম। উপরন্তু বয়স্ক লোকের সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে, দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে অনেক বেশি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দরকার। বিশাল বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারকে স্বাস্থ্য খাতে অনেক খরচ করতে হচ্ছে। কারণ কানাডার স্বাস্থ্য খাতের সম্পূর্ণ খরচ সরকার বহন করে। আর সরকারের এই অর্থের যোগান হয় জনগণের দেয়া ট্যাক্স থেকে। করোনা মোকাবিলায় এবং দেশটির অধিকাংশ জনগোষ্ঠীকে ডাবল ভ্যাকসিনেটেড করার বিষয়ে কানাডার সাফল্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে। বিশ্ব মহামারীর সময়ে কানাডার লং টার্ম কেয়ার হোমগুলোতে যে পরিমান প্রাণহানি ঘটেছে এবং সেখানে জনবলের যে অভাব তা আমাদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। বিশ্ব মহামারীর সময়ে কানাডিয়ানদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চালানোর জন্য কানাডায় জনবলের তা প্রকটভাবে ধরা পড়ে। ফলে কানাডা প্রতি বছর কমপক্ষে ৪ লাখ দশ হাজার নতুন ইমিগ্রান্ট আনার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করেছে। কানাডার ইতিহাসে এযাবতকালের সবচেয়ে বেশি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা এটি। একমাত্র ১৯১৩ সালে কানাডাতে ৪ লাখ ১ হাজার ইমিগ্রান্ট আনা হয়। কানাডিয়ানদের স্বাস্থ্য সেবাসহ  ইনফরমেশন টেকনোলজি, ফুড সেক্টর, এগ্রোফুড এবং ফার্মিংসহ অন্য সব ক্ষেত্রেই কোভিড-১৯ এর ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে কানাডার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চায় সরকার। এজন্য নতুন জব সৃষ্টিতে বেশি বেশি সংখ্যায় ইমিগ্রান্ট আনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।   মহামারী পরবর্তী কানাডার চলমান ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াকে আরো বেশি ফলপ্রসূ করার জন্য নতুন ইমিগ্রান্টদের চাকরি পাওয়া এবং সেটেলমেন্টে বিশেষ সহযোগিতা করতে হবে। ইমিগ্রেশন এন্ড শরণার্থী কাউন্সিল, সেটেলমেন্ট অর্গানাইজেশন, গবেষক, ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠান, মিউনিসিপাল, প্রভিন্সিয়াল এবং ফেডারেল গভমেন্ট এসব বিষয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নারী, শিশু এবং শরণার্থীদের জন্য আরো অনেক বেশি সুযোগ সুবিধা তৈরী হওয়া দরকার। বিসনেস ইমিগ্রেশন ঢেলে সাজানো দরকার। ২০১৪ সালের পরে কোনো আধুনিক বিসনেস ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া না থাকায় এবং কুইবেক ইনভেস্টর প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায়, ফেডারেল স্টার্ট আপ ভিসা বা উদ্যোক্তাদের ভিসার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে কানাডা অনেক বিসনেস ইমিগ্রান্টদের হারাচ্ছে। এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে পিএনপির মতো ইন্ডাস্ট্রি এন্ড অকুপেশন স্পেসিফিক ড্র হতে পারে। স্পাউসল এন্ড ফ্যামিলি স্পনসরশিপ প্রক্রিয়াকে তরান্নিত করা প্রয়োজন। ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এবং টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কারদের ভিসা প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা জরুরী। বর্তমান পরিস্থিতিতে আফগান শরণার্থীদের নিয়ে আসার এবং পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। কানাডার ইমিগ্রেশন পদ্ধতি প্রতিনিয়ত আধুনিক এবং পরিবর্তিত হচ্ছে। এক্সপ্রেস এন্ট্রি এবং মাল্টিইয়ার ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া চালু করে কানাডা বেশি সংখ্যক ইমিগ্রান্ট আনার সদিচ্ছার প্রমাণ রেখেছে। বিশ্ব মহামারীর এই সংকটকালে কানাডা যেভাবে তাদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া চালু রেখেছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। লেখিকা: মাহমুদা নাসরিন,  প্রিন্সিপাল কনসালট্যান্ট, ক্যানবাংলা ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস, ২০৫/৩০৯৮ ড্যানফোর্থ এভেনিউ, টরেন্টো,  শিক্ষক ও সমাজকর্মী। সাবেক সহযোগী অধ্যাপক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ও কিং খালেদ বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব। [email protected]
বছরে ৪ লাখ জনবল নেবে কানাডা
হলি আর্টিজান ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া
সমসাময়িক সময়ে ভারতীয় চিত্রনির্মাতা হানসাল মেহতার ঘোষিত নতুন চলচ্চিত্র ‘ফারায’ কঠোর সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। চলচ্চিত্রটি ২০১৬ সালের ১লা জুলাই ঢাকার গুলশানে অবস্থিত ‘হলি আর্টিজান বেকারী’ হামলার ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে - যেখানে একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর হামলায় ২২ নিরীহ মানুষ নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়। চলচ্চিত্র নির্মানের সংবাদটি ইতোমধ্যে হামলায় নিহতদের পরিবার-পরিজনের কাছে অত্যন্ত বেদনার কারণ হওয়ায় তারা চলচ্চিত্রটির নির্মাণে কঠোর আপত্তি প্রকাশ করছে। নির্মিত চলচ্চিত্রটি হামলায় নিহতদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন করবে, পাশাপাশি পরোক্ষভাবে বাংলাদেশকে একটি চরমপন্থী রাষ্ট্র হিসাবে এটি বিশ্বের দরবারে দেশের সুনাম ক্ষুন্ন করবে। “সেই ভয়াবহ রাতের ঘটনাটি কোনো অবস্থাতেই আমাদের দেশ, আমাদের জাতি ও আমাদের ধর্মকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারে না, বরং এরকম একটি ঘটনার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পুনরাবৃত্তি মানুষের বিশ্বাসে বিরূপ ধারণার জন্ম দিবে যা সর্বোপরি আমাদের দেশের প্রতি অবিচার এবং দেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করবে”- একজন নিহতের পরিবারের দাবী। ছবিটির প্রকাশিত টিজার ও নাম থেকে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়, যেখানে চলচ্চিত্রটি সেই রাতের ঘটনায় নিহত ‘ফারায’ কে কেন্দ্র করে নির্মিত - যিনি ঘটনার সময়ে তাঁর দুজন বন্ধু অবিন্তা কবির ও তারিশি জৈনের সাথে ক্যাফেতে উপস্থিত ছিলেন। তারা তিনজন একই সাথে ঘটনার নির্মমতার শিকার হয়ে সেই রাতে প্রাণ হারান। অবিন্তা কবির ও তারিশি জৈন এর পরিবার চলচ্চিত্রটি নির্মাণ কাজ অনতিবিলম্বে বন্ধ করার জন্যে নির্মাতা হানসাল মেহতা ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক নির্মাতাদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। তারা বিবৃতি দেন যে, “সেই রাতের ঘটনা আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য শোকের কারণ, যা আমরা প্রতিনিয়ত বহন করে চলেছি। এরকম একটি ঘটনা যা জনমানুষের আবেগ ও অনুভূতিতে কঠিন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়ায়, অবিলম্বে এর চিত্রায়ন চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিৎ”। উপরন্তু, চলচ্চিত্রটি নির্মাণের পূর্বে নির্মাতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রডাকশন হাউজ - হামলায় নিহত ব্যক্তিদের কারো পরিবারের কাছ থেকে কোনো প্রকার সম্মতি গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বিশেষত, অবিন্তা কবির ও তারিশি জৈন এর পরিবারের কাছ থেকে কোনো প্রকার অনুমতি গ্রহণ করা হয়নি - যেখানে তাদের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া এটির নির্মাণ অসম্ভব। অবিন্তা কবির এর শোকসন্তপ্ত মা রুবা আহমেদ জানান, “এরকম একটি ঘটনা যা জাতিকে রাতারাতি স্তব্ধ করে তুলেছিল - এটির চিত্রায়ন কখনো কোনো অবস্থাতেই সমীচীন নয়”। তিনি আরো জানান, চলচ্চিত্রটি নির্মাণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট প্রডাকশন হাউজটির হামলায় নিহতদের পরিবারের কাছ থেকে কোনো প্রকার বৈধ অনুমোদন গ্রহণ না করার মত অসংবেদনশীল আচরণ - তাকে চরমভাবে হতাশ করেছে। “নিহত ফারায’কে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গেলে এটাই স্বাভাবিক যে আমার মেয়ে (অবিন্তা কবির), তুলিকার মেয়ে (তারিশি জৈন) এবং ঘটনায় অন্যান্য নিহত সকলেই দৃশ্যপটে চলে আসবে। এটা কি করে সম্ভব হয় - যেখানে আমাদের মধ্যে থেকে কারো কাছেই সম্মতি চাওয়া হয়নি? এটি বাস্তব ঘটনার ওপর নির্মাণ করার কথা বলা হয়েছে, সুতরাং শুধুমাত্র একজনের চরিত্র তুলে ধরতে গিয়ে বাকি ২১ জন নিহতদের করুণ বাস্তবতাকে তুচ্ছ করা নয়? যারা একই ঘটনার শিকার, এটা কেমন মানবতা? অবিন্তা কবির ও তারিশি জৈন এর পরিবারবর্গ নির্মাতা মেহতা এবং অন্যান্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছে সেই রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার শিল্পকর্ম নির্মাণ না করার জন্যে তাদের আপত্তি পেশ করেছেন। নির্মাতাদের তারা অনুরোধ জানান, যাতে পরবর্তী সময়ে তারা এরকম কিছুর পুনরাবৃত্তি না ঘটান - যা তাদের এবং অন্যান্য নিহতদের পরিবারকে সেই ভয়াল রাতের স্মৃতিচারণ করতে বাধ্য করে। নিউজিল্যান্ড এর ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে ১৫ মার্চ ২০১৯ সালের গোলাগুলির ঘটনাটির উপর ভিত্তি করে পরিচালক এন্ডরু নিকল তাঁর “দে আর আস” নামক চলচ্চিত্রের নির্মাণ কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যেখানে একজন শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীর হাতে ৫১ জন মুসলমান নিহত হওয়ার ঘটনাটি উঠে আসে। এই খবর প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যেখানে তারা চলচ্চিত্রটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবিসহ প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন এমন একটি আপত্তিকর বিষয় নিয়ে নির্মাতাদের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য। পরিচালক নিকল প্রতিবাদের জেরে চলচ্চিত্রটি স্থগিত করতে বাধ্য হন, এবং বিবৃতি দেন যে, “তার এই উদ্যোগের কারণে নিহতদের পরিবারকে অনাকাঙ্খিতভাবে কষ্ট দেওয়ার জন্যে তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন”। একই মনোভাব মেহতা এবং ‘ফারায’ চলচ্চিত্রের সংশ্লিষ্ট অন্যদের কাছেও কাম্য। এমন একটি চলচ্চিত্র যার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান, যা ইসলাম ধর্মকে অপব্যাখা করে এবং সর্বোপরি ১লা জুলাই হামলায় নিহতদের আত্মত্যাগের স্মৃতির প্রতি অসম্মানজনক - এটি বিশ্বদরবারে মুক্তির আগে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের দ্বারা এর পরিপূর্ন যাচাইকরণ অত্যাবশকীয়। এমএন
হলি আর্টিজান ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া
আরও পড়ুন
আহসানউল্লাহ মাস্টারের পক্ষে স্বাধীনতা পদক নিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রাসেল