ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন বেতন স্কেল: সরকারি কর্মচারীর আয় বাড়ল, সাধারণ মানুষের কী

সানজিদা জান্নাত পিংকি

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
সানজিদা জান্নাত পিংকি। সৌজন্য ছবি

মাসের শেষ দিকে বাজারের ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষের হিসাবটা খুব জটিল নয়। চাল, ডাল, মাছ, সবজি, বাসাভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা, সব মিলিয়ে মাসের আয় থেকে কতটা বাঁচবে, সেই হিসাবই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সময়ে একজন সরকারি কর্মচারীও হয়তো নতুন বেতন কাঠামোয় তার আয় কতটা বাড়বে, তা নিয়ে হিসাব করছেন। দুই মানুষের হিসাবের জায়গা আলাদা হলেও প্রশ্নটি একই, আয় বাড়ছে কি না, আর বাড়লে সেই বাড়তি আয়ে জীবনটা কতটা স্বস্তির হবে? জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর তাই শুধু সরকারি কর্মচারীদের বেতন কত বাড়ল, সেই প্রশ্নে থেমে থাকলে পুরো বিষয়টি দেখা হবে না। বরং আরও বড় প্রশ্ন হলো, এই বেতন বৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবন, বাজার ও রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কীভাবে পড়বে?

সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর এক দশকের বেশি সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ এ বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বেড়েছে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ। নতুন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে এবং মূল বেতন তিন ধাপে ১ জুলাই ২০২৭ এর মধ্যে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

নতুন কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বেতন বৈষম্য কিছুটা কমানোর চেষ্টা। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল বেতনের অনুপাত আগের ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা এবং সব গ্রেডের কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার আওতা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তও রয়েছে। ফলে নতুন বেতন কাঠামোকে শুধু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধির কাঠামো হিসেবে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার চাপও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তবে এই হিসাবের অন্য পাশে আছে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৬ এ দেশে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ০২ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। একই সময়ে জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ গড় মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে সামান্য কম ছিল। এই ব্যবধানটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কাগজে কারও আয় কিছুটা বাড়লেও যদি একই সময়ে পণ্য ও সেবার দাম আরও দ্রুত বাড়ে, তাহলে প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে না, অনেক ক্ষেত্রে কমেও যেতে পারে। তাই সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে হলে শুধু বেতন বৃদ্ধির শতাংশ নয়, বাস্তবে সেই অর্থ দিয়ে কতটা পণ্য ও সেবা কেনা যাচ্ছে, সেটিও দেখতে হবে।

এখানেই সাধারণ মানুষের প্রশ্নটি সামনে আসে। সরকারি চাকরিতে বেতন নির্ধারণের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আছে। বেতন কমিশন হয়, পর্যালোচনা হয়, গ্রেড নির্ধারণ করা হয়, ভাতা নির্ধারণ করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কাঠামো কার্যকর হয়। কিন্তু দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীর ক্ষেত্রে এমন নিশ্চয়তা নেই। পোশাকশ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক, দোকানের কর্মচারী, গৃহকর্মী, পরিবহনশ্রমিক, দিনমজুর কিংবা ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয় অনেক সময় বাজারের ওপর নির্ভরশীল। তাদের জীবনেও একই মূল্যস্ফীতি, একই বাড়িভাড়া, একই চিকিৎসা ব্যয় এবং সন্তানের শিক্ষার একই চাপ। কিন্তু তাদের আয় বৃদ্ধির সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সম্পর্কটি রাষ্ট্রীয় বেতন কাঠামোর মতো সরাসরি নিয়ন্ত্রিত নয়। ফলে নতুন বেতন স্কেলের সবচেয়ে বড় সামাজিক প্রশ্নটি সম্ভবত এখানেই, রাষ্ট্র কীভাবে অর্থনীতির অন্যান্য অংশের মানুষের প্রকৃত আয় ও জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে?

একজন আইন শিক্ষার্থী হিসেবে বিষয়টি দেখলে আরও একটি প্রশ্ন সামনে আসে, রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে ন্যায্যতার ধারণাটি কীভাবে কাজ করছে? বাংলাদেশের সংবিধানের ২০ অনুচ্ছেদে কাজকে অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ২৭ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং ২৮ অনুচ্ছেদে বৈষম্যবিরোধী নীতির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব বিধানের অর্থ এই নয় যে সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারীদের বেতন অবশ্যই সমান হতে হবে। সরকারি চাকরির দায়িত্ব, নিয়োগব্যবস্থা, চাকরির নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় সেবা প্রদানের ভূমিকা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণের যৌক্তিকতা থাকতে পারে। কিন্তু বৃহত্তর সাংবিধানিক ও সামাজিক ন্যায্যতার প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে সমতা ও বৈষম্যহীনতার বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে এবং অর্থনীতির বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ওপর সুবিধা ও ব্যয়ের ভার কীভাবে বণ্টিত হচ্ছে।

এখানে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো সরল অভিযোগ তোলাও ঠিক হবে না। একজন সরকারি কর্মচারীও বাজারের একই দামে খাবার কেনেন, বাড়িভাড়া দেন, সন্তানের শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করেন। দীর্ঘদিন একই বেতন কাঠামোতে থাকার পর জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন পুনর্নির্ধারণের দাবি স্বাভাবিক। বরং নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে রাষ্ট্রের কাছ থেকে আরেকটি প্রত্যাশা তৈরি হয়, বেতন ও আর্থিক সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি সরকারি সেবার মানও আরও উন্নত হবে। ভূমি অফিসে একটি সেবা পেতে মানুষকে অযথা ঘুরতে হবে না, সরকারি হাসপাতালে সেবার মান বাড়বে, নাগরিক সনদ বা প্রশাসনিক সেবা পেতে হয়রানি কমবে, কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সরকারি সহায়তা পেতে আরও সহজ পথ পাবেন, এমন পরিবর্তনই মানুষের কাছে বেতন বৃদ্ধির সামাজিক মূল্যকে অর্থবহ করতে পারে। এটি কোনো সরাসরি আইনগত বিনিময় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের সঙ্গে জবাবদিহি ও সুশাসনের একটি স্বাভাবিক প্রত্যাশা।

কারণ শেষ পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের বেতনও আসে রাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা থেকে। রাষ্ট্রের রাজস্ব আসে মূলত নাগরিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সংগৃহীত করসহ বিভিন্ন উৎস থেকে। ২০২৬ থেকে ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা খাতে ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। বাজেট প্রণয়নের সময় নতুন বেতন কাঠামোর জন্য আলাদা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়নি বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। পরে সরকার নতুন কাঠামো অনুমোদন করে এবং ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অতিরিক্ত ব্যয়ের অর্থ কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবস্থাপনা করা হবে, রাজস্ব আদায় বাড়িয়ে, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে, নাকি বাজেটের অন্য খাত পুনর্বিন্যাস করে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ ২৫ হাজারের বেশি পেনশনভোগী ও অন্যান্য সুবিধাভোগী যুক্ত হবেন। অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণও ছোট নয়। ফলে এটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এর সঙ্গে রাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, মূল্যস্ফীতি এবং ভবিষ্যৎ বাজেটের ওপরও প্রভাবের প্রশ্ন জড়িত। সরকার নিজেও এ কারণে একযোগে পুরো কাঠামো বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথ বেছে নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারের বিবেচনার মধ্যে ছিল আর্থিক সক্ষমতা, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়।

অবশ্য সরকারি বেতন বাড়লেই বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, এমন সরল সমীকরণও ঠিক নয়। মূল্যস্ফীতির পেছনে উৎপাদন, সরবরাহব্যবস্থা, আমদানি ব্যয়, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ, বিনিময় হার, মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতিসহ নানা বিষয় কাজ করে। তবে বড় অঙ্কের সরকারি ব্যয় অর্থনীতিতে কীভাবে প্রবাহিত হবে এবং তার বিপরীতে উৎপাদন ও সরবরাহ কতটা বাড়ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। শুধু মানুষের হাতে টাকা বাড়ালেই হবে না, সেই টাকার বিনিময়ে বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

আমার কাছে তাই নতুন বেতন স্কেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি ‘সরকারি কর্মচারীর বেতন কত বাড়ল’ নয়, বরং ‘এই বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে রাষ্ট্রের দায়িত্ব কতটা বাড়ল’, সেটি। একজন সরকারি কর্মচারীর আয় বাড়া তার ব্যক্তিগত জীবনে স্বস্তি আনতে পারে। সেটি অর্থনীতিতেও চাহিদা তৈরি করতে পারে। কিন্তু একই সময়ে একজন বেসরকারি কর্মচারী যদি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয় বাড়াতে না পারেন, একজন দিনমজুর যদি বাড়তি খাবারের খরচ সামলাতে না পারেন, একজন নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার যদি চিকিৎসা ব্যয়ে সঞ্চয় হারাতে থাকে, তাহলে সামগ্রিক অর্থনীতির স্বস্তির ছবি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি শুধু সরকারি কর্মচারীর বেতন কত বাড়ল, সেই সংখ্যা দিয়ে মাপা যায় না। মানুষের প্রকৃত আয়, ক্রয়ক্ষমতা, সঞ্চয়, চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ, কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্রীয় সেবা পাওয়ার অভিজ্ঞতা, সব মিলিয়েই অর্থনীতির বাস্তব চিত্র তৈরি হয়। নতুন জাতীয় বেতন স্কেল সেই অর্থে সরকারের জন্য শুধু বেতন পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নয়, এটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, জনসেবা এবং সামাজিক ন্যায্যতার ওপরও একটি পরীক্ষা। সরকারি কর্মচারীর আয় বাড়বে, এটি স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু সেই সঙ্গে যদি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চাপও কমে, আয় ও ক্রয়ক্ষমতার ব্যবধানও কমে এবং সরকারি সেবার মানও বাড়ে, তখনই নতুন বেতন স্কেলের সুফলকে বৃহত্তর অর্থে রাষ্ট্রের সাফল্য বলা যাবে। শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের প্রশ্ন খুব সহজ, সরকারি কর্মচারীর বেতন বাড়ল, কিন্তু আমার জীবনটা কি একটু সহজ হলো?

লেখা: সাবেক সভাপতি, গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি,
শিক্ষানবিশ আইনজীবি।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রধানমন্ত্রীর মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পাঠ
একটি শিশু জন্মগ্রহণ করে খালি হাতে। কোনো মূল্যবোধ নিয়ে সে জন্মায় না। বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে চারপাশের মানুষ আর পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার ভেতর দিয়ে তার মনে জন্ম নেয় সহানুভূতি। জন্ম নেয় দায়িত্ববোধ।
প্রধানমন্ত্রীর মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পাঠ
নির্বাচিত সরকার এসেছে, কিন্তু প্রশাসনের পুরোনো বাজার কী বন্ধ হয়েছে
৫ আগস্ট ২০২৪ বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু একটি সরকারের পতনের দিন ছিল না, সেই দিনটির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার একটি বড় প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছিল।
নির্বাচিত সরকার এসেছে, কিন্তু প্রশাসনের পুরোনো বাজার কী বন্ধ হয়েছে
সাক্ষাৎকার / ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিসিক
ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।
ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিসিক
প্রতিবাদই কি কাল হলো
কখনও কখনও একটি হত্যাকাণ্ড শুধু একটি হত্যাকাণ্ড থাকে না। একটি ঘটনা তার তাৎক্ষণিক পরিণতিকে অতিক্রম করে সমাজ, রাষ্ট্র এবং আমাদের সম্মিলিত বিবেকের সামনে এমন কিছু প্রশ্ন রেখে যায়, যেগুলোর উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনের নির্মম মৃত্যু তেমনই একটি ঘটনা। ঘটনার শুরু হয়েছিল খুবই তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত আটটার দিকে নিজের ছোট কারখানার কাছে অবস্থান করছিলেন আলতাফ হোসেন। তার পাশেই একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক প্রবীণ গ্যারেজ মালিক কালামকে ঘিরে ধরেছিল কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল যুবক। একটি রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির পাশ কাটানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বাগ্‌বিতণ্ডা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একজন বয়স্ক মানুষকে প্রকাশ্যে হেনস্তা হতে দেখে তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন পরিস্থিতি শান্ত করতে। এটাই ছিল তার ‘অপরাধ’। তিনি হয়তো তখন ভাবেননি যে একজন মানুষকে অন্যায়ের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা তাকে নিজের জীবন দিয়ে মূল্য দিতে হবে। হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করলে তারা উল্টো তার ওপর চড়াও হয়। তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। যে পরিচয় শুনে সাধারণত একজন অপরাধীর থেমে যাওয়ার কথা, সেটিই সেদিন যেন কোনো অর্থ বহন করল না। তাকে চড় মারা হলো। আঘাতে তার কানে রক্তপাত হলো। পরিস্থিতি আরও খারাপ বুঝতে পেরে তিনি নিজের কারখানার ভেতরে চলে গেলেন। কিন্তু হামলাকারীদের ক্ষোভ সেখানে শেষ হয়নি। কিছুক্ষণ পর একটি প্রাইভেট কার এসে কারখানার সামনে থামে। এরপর সেখানে জড়ো হয় আরও বহু মানুষ। কারও হাতে লাঠি, কারও হাতে দেশীয় অস্ত্র। তারা কারখানার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। একজন মানুষের ওপর হামলা করতে গিয়ে তারা তার সন্তানকেও রেহাই দেয়নি। আলতাফ হোসেনের ছোট ছেলে আরিফুলকে মেঝেতে ফেলে মারধর করা হয়; মাথায় আঘাত করে তাকে সংজ্ঞাহীন করে দেওয়া হয়। এরপর আলতাফ হোসেনের ওপর নেমে আসে একের পর এক আঘাত। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে এখনো হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এখানে থেমে গিয়ে আমাদের প্রথম প্রশ্নটি করা উচিত: একটা তুচ্ছ বাগ্‌বিতণ্ডা কীভাবে এত বড় সহিংসতায় পরিণত হলো? এর উত্তর কেবল কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল যুবকের চরিত্রে খুঁজলে ভুল হবে। কারণ ব্যক্তি অপরাধের পেছনে প্রায়ই একটা সামাজিক পরিবেশ কাজ করে। যে পরিবেশে অপরাধ ছোট হতে হতে বড় হয়, প্রতিবাদ ধীরে ধীরে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, আর আইনকে পাশ কাটিয়ে দলবদ্ধ শক্তিকে ‘ক্ষমতা’ বলে মনে করা শুরু হয়। আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যখন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলা, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, মাদক সেবন, কিশোর গ্যাং এবং স্থানীয় সন্ত্রাস—এসব আর কেবল বিচ্ছিন্ন খবর নয়। এগুলো অনেক এলাকায় সামাজিক বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত অনেক তরুণের মধ্যে অপরাধবোধের জায়গাটি যেন ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। তারা জানে, দলবদ্ধ হলে ভয় তৈরি করা যায়; ভয় তৈরি করতে পারলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায়; আর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারলে আইনকে পাশ কাটানো সম্ভব। এই মানসিকতার সঙ্গে রাষ্ট্রের দুর্বলতার ধারণা যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনী একটি জটিল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অতীতে রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পক্ষপাতের অভিযোগ এবং আন্দোলন দমনে বাহিনীর কিছু সদস্যের ভূমিকা— এসব কারণে পুলিশের প্রতি মানুষের একাংশের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষোভের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি রয়েছে। সেটিকে অস্বীকার করে পুলিশের প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা রয়েছে। পুলিশের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করা এক বিষয়, আর সেই ক্ষোভকে ব্যবহার করে পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা, কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াকে বৈধতা দেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। পুলিশও নয়, বরং পুলিশের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে অতীতের ভুল, অপব্যবহার ও জবাবদিহিতার ঘাটতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও মনে রাখতে হবে, একটি রাষ্ট্রে আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়লে তার ক্ষতি শেষ পর্যন্ত শুধু পুলিশের হয় না; ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের। কারণ অপরাধীর কাছে একবার যদি এই বার্তা পৌঁছে যায় যে, সংঘবদ্ধ শক্তি দিয়ে আইনকে ভয় দেখানো যায়, তখন সেই শক্তির পরবর্তী লক্ষ্য নির্ধারণের কোনো সীমা থাকে না। আলতাফ হোসেনের মৃত্যু আসলে রাষ্ট্র বনাম আইনহীনতার প্রশ্ন। আর এই জায়গাটিই আমাদের সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে বুঝতে হবে। কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশের কাজ জনগণের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করা নয়; পুলিশের কাজ হলো আইনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশকে যেমন জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে, তেমনি রাষ্ট্রকেও তাদের পেশাগত নিরাপত্তা ও কার্যকর আইন প্রয়োগের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। যে পুলিশ সদস্য অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজেই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েন, সেখানে শুধু পুলিশের দুর্বলতা নয়, রাষ্ট্রের সক্ষমতার প্রশ্নও উঠে আসে। আলতাফ হোসেনের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের কারখানার পাশের একটি ফাঁকা জায়গায় প্রায়ই কিছু যুবক এসে আড্ডা দিত এবং মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকত। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলেই নাকি চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হতো তাদের। অভিযোগগুলো তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে বিষয়টি আরও গভীর উদ্বেগের কারণ হবে। কারণ একটি সমাজে অপরাধের সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায় তখনই শুরু হয়, যখন মানুষ অপরাধকে শুধু দেখতে পায় না, বরং তার সঙ্গে বসবাস করতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। প্রকাশ্য মাদক সেবনকে আমরা ‘ছেলেপেলেদের দুষ্টুমি’ বলে এড়িয়ে যাই। স্থানীয় বখাটেদের উৎপাতকে ‘এলাকার ব্যাপার’ বলে পাশ কাটাই। অস্ত্র প্রদর্শনকে গুরুত্ব দিই না। তারপর একদিন সেই একই শক্তি যখন বড় কোনো অপরাধ করে বসে, তখন আমরা বিস্মিত হই। অথচ অপরাধের বড় বিস্ফোরণের আগে তার ছোট ছোট শব্দগুলো বহুদিন ধরেই শোনা যায়। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা কি আবারও কয়েক দিন আলোচনা করে বিষয়টি ভুলে যাব? কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হবে, সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ছড়াবে, তারপর ধীরে ধীরে সবকিছু অন্য খবরের নিচে চাপা পড়ে যাবে। যদি এমন হয়, তবে আলতাফ হোসেনের মৃত্যু থেকে আমরা কিছুই শিখলাম না। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু বিচার মানে শুধু কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা নয়। হামলায় কারা সরাসরি অংশ নিয়েছে, কারা হামলাকারীদের সংগঠিত করেছে, কারা অস্ত্র সরবরাহ করেছে, কারা পরিকল্পনা বা উসকানির সঙ্গে যুক্ত ছিল—তদন্তের মাধ্যমে প্রতিটি স্তর খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচারের অর্থ প্রতিশোধ নয়; ন্যায়বিচারের অর্থ সত্য উদ্‌ঘাটন এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ। এর পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর সংস্কারও এখন আর ঐচ্ছিক কোনো বিষয় নয়। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, পেশাদার, দক্ষ এবং জবাবদিহিমূলক পুলিশ ব্যবস্থা ছাড়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পুলিশকে শুধু শক্তিশালী করলেই হবে না; তাদের বিশ্বাসযোগ্যও হতে হবে। জনগণের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে দৃঢ়তা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই একটি কার্যকর পুলিশ বাহিনী তৈরি হয়। একইভাবে সমাজকেও নিজের দায়িত্ব নিতে হবে। কিশোর গ্যাং তৈরি হওয়ার পর তাদের দমন করার চেয়ে তারা কেন তৈরি হচ্ছে, সেই প্রশ্নটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে নজরদারির অভাব, শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, মাদকের বিস্তার, কর্মসংস্থানের সংকট, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং স্থানীয়ভাবে অপরাধীদের প্রশ্রয়— সবকিছুর সঙ্গে এই সমস্যার যোগসূত্র রয়েছে। তাই সমাধানও হতে হবে বহুমাত্রিক। তরুণদের হাতে যদি আমরা শুধু নিষেধাজ্ঞা তুলে দিই, কিন্তু বিকল্প কোনো স্বপ্ন না দিই, তাহলে শূন্যস্থানটি অন্য কেউ পূরণ করবে। মাদকব্যবসায়ী, অপরাধী গোষ্ঠী কিংবা কিশোর গ্যাং সেই শূন্যস্থান দখল করবে। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি তরুণদের জন্য খেলাধুলা, সংস্কৃতি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের বাস্তব সুযোগ তৈরি করতে হবে। একটি প্রজন্মকে অপরাধ থেকে দূরে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তাদের সামনে সম্মানজনক জীবনের পথ খুলে দেওয়া। সবশেষে ফিরে আসি আলতাফ হোসেনের কাছে। তিনি হয়তো কোনো বড় রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না। তার হাতে ছিল না কোনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। তিনি ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি নিজের চোখের সামনে একজন প্রবীণ মানুষকে হেনস্তা হতে দেখে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তার সেই সিদ্ধান্ত হয়তো খুব সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু একটি সুস্থ সমাজের ভিত্তি গড়ে ওঠে ঠিক এমন ছোট ছোট মানবিক সিদ্ধান্তের ওপর। একজন অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। একজন দুর্বল মানুষকে রক্ষা করতে আরেকজন এগিয়ে আসবেন, এটাই সভ্যতার লক্ষণ। কিন্তু সেই প্রতিবাদ যদি প্রাণের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়, তবে বুঝতে হবে সমাজের কোথাও বড় ধরনের অসুখ তৈরি হয়েছে। আলতাফ হোসেনের মৃত্যু সেই অসুখেরই রক্তাক্ত উপসর্গ। আমিনবাজারে যে রক্ত ঝরেছে, সেটি আমাদের রাষ্ট্রের আয়নায় উঠে আসা এক কঠিন প্রতিচ্ছবি। সেই আয়নায় আমরা কী দেখতে চাই— একটি ভীত, বিভক্ত ও আইনহীন সমাজ, নাকি এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষ জানেন যে আইন তার পাশে আছে? সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের, সমাজের এবং আমাদের প্রত্যেকের। লেখক: সাংবাদিক, দি ডেইলি সান আরটিভি/এসএস
প্রতিবাদই কি কাল হলো
বিরোধী দলের লংমার্চ, রাষ্ট্রের সহনশীলতা গণতন্ত্রের নতুন পাঠ
একটি লং মার্চ। বিশাল মানুষের অংশগ্রহণ। রাজপথে রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল, স্লোগান সবই আছে। কিন্তু এর মধ্যেও সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি চোখে পড়ছে, তা হলো বড় কোনো প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা নেই, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অযাচিত বাধার অভিযোগ নেই।
বিরোধী দলের লংমার্চ, রাষ্ট্রের সহনশীলতা গণতন্ত্রের নতুন পাঠ
আরও পড়ুন
নতুন পে-স্কেলে প্রাথমিকের শিক্ষকদের জন্য দুঃসংবাদ!
নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, কার বেতন কত হলো
পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনের দিনক্ষণ নিয়ে সবশেষ যা জানা যাচ্ছে
নতুন পে-স্কেলে গ্রেডভেদে বাড়ছে চিকিৎসা, যাতায়াত ও মোবাইল ভাতা