ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

নির্বাচিত সরকার এসেছে, কিন্তু প্রশাসনের পুরোনো বাজার কী বন্ধ হয়েছে

মো. আনোয়ারুল ইসলাম শামীম

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
লেখক: মো. আনোয়ারুল ইসলাম শামীম। সৌজন্য ছবি

৫ আগস্ট ২০২৪ বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু একটি সরকারের পতনের দিন ছিল না, সেই দিনটির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার একটি বড় প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছিল। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পেরিয়ে দেশে নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ছিল—এবার কি রাষ্ট্রের চেয়ারগুলো আবার রাষ্ট্রেরই হবে?
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সেই প্রশ্নটিকেই নতুন করে সামনে আনছে।

আমি একে বলছি ‘বিনিময় প্রথা’।

এটি অর্থনীতির প্রাচীন ‘বার্টার সিস্টেম বা পণ্য বিনিময় প্রথা’ নয়। এখানে বিনিময়ের অভিযোগ আরও ভয়ংকর—অর্থ, তদবির, প্রভাব বা আনুগত্যের বিনিময়ে যদি পদায়ন, বদলি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার পাওয়া যায়, তাহলে প্রশাসনিক পদ আর দায়িত্ব থাকে না, সেটি বিনিয়োগে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।

আর চেয়ার যখন বিনিয়োগ হয়, তখন জনগণই শেষ পর্যন্ত তার মূল্য দেয়।

সাম্প্রতিক একটি অডিও ঘিরে সেই প্রশ্ন আরও গুরুতর হয়েছে। ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসানের বলে চিহ্নিত একটি কথোপকথনে ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পাশাপাশি শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার প্রসঙ্গও উঠে আসে। অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি এবং প্রত্যাহারের সরকারি আদেশে কারণ বলা হয়েছে ‘প্রশাসনিক’।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। ডিসেম্বরের কথা শুধু ওই অডিওতেই আসেনি। গত ১০ জুলাই রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিজেই বলেছিলেন, তিনি ও তার দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান।

তাই প্রশ্নটি ‘একজন ওসি ডিসেম্বরের খবর পেলেন কোথা থেকে?’—এত সরল নয়।

প্রশ্নটি বরং আরও গভীর-

একটি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কীভাবে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন ভাষায় কথা বলার অবস্থানে পৌঁছান? আর একই কথোপকথনে যদি ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠে আসে, তাহলে বিষয়টি আর একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মন্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তখন রাষ্ট্রকে দেখতে হয়—পদায়নের ব্যবস্থাটি কতটা স্বচ্ছ?

কারণ রাষ্ট্রের সবচেয়ে স্পর্শকাতর চেয়ারগুলোর একটি থানার ওসির চেয়ার। একজন ওসির হাতে মামলা, গ্রেপ্তার, তদন্ত, জননিরাপত্তা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার বিপুল ক্ষমতা থাকে। সেই চেয়ার যদি যোগ্যতার পরিবর্তে অর্থ, তদবির বা অন্য কোনো অস্বচ্ছ বিনিময়ে পাওয়া যায়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—তিনি দায়িত্ব পালন করবেন সংবিধান ও আইনের প্রতি, নাকি যে ব্যবস্থার মাধ্যমে চেয়ারটি পেয়েছেন তার প্রতি?

এই প্রশ্ন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয় বরং যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তার জন্য একই প্রশ্ন প্রযোজ্য। আর এখানেই নির্বাচিত সরকারের দায় আরও বেশি।

কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাবদ্ধতার যুক্তি থাকতে পারে, কিন্তু জনগণের ভোটে দায়িত্ব নেওয়া সরকারের কাছে প্রত্যাশা হলো প্রতিষ্ঠানকে নিয়মে ফিরিয়ে আনা। সরকারের নিজের নির্দেশনাতেও নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

তারপরও যদি পুলিশ প্রশাসনের ভেতর থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত ধরনের বক্তব্য শোনা যায়, তাহলে শুধু একজন ওসিকে প্রত্যাহার করলেই প্রশ্ন শেষ হয় না। অডিও সত্য হলে অভিযোগগুলোও তদন্ত করতে হবে। আর অডিও মিথ্যা বা বিকৃত হলে সেটিও জনগণকে জানাতে হবে।

কে টাকা দিয়েছে?
কে টাকা নিয়েছে?
কে মধ্যস্থতা করেছে?
কোন পদায়নে করেছে?
কোন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়েছে?

প্রমাণ না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নামও পরিষ্কার করতে হবে। আর প্রমাণ পাওয়া গেলে দায় শুধু নিচের একজন কর্মকর্তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিলে চলবে না।

কারণ ঘুষ দিয়ে চেয়ার কেনা এবং ঘুষ নিয়ে চেয়ার দেওয়া একই বাজারের দুই প্রান্ত।

রাষ্ট্র যদি শুধু ক্রেতাকে ধরে, বিক্রেতাকে না ধরে—বাজার বন্ধ হবে না।

৫ আগস্টের পর আমরা বহুবার ‘রাষ্ট্র সংস্কার’ শব্দটি শুনেছি। কিন্তু রাষ্ট্র সংস্কারের সবচেয়ে সহজ পরীক্ষা সংবিধানের বড় বড় অনুচ্ছেদে নয়, পরীক্ষা থানার একটি চেয়ারেও।

একজন ওসি কীভাবে ওসি হন?
একজন এসপি কীভাবে এসপি হন?
একজন ডিসি কীভাবে ডিসি হন?

এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর যদি জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে দেওয়া যায়, তাহলে সংস্কারের অনেক বক্তৃতার প্রয়োজন হবে না। আর উত্তর যদি অস্বচ্ছ থাকে, তাহলে ‘বিনিময় প্রথা’ নিয়ে প্রশ্নও থামবে না। ৫ আগস্টের পর মানুষ শুধু ক্ষমতার মুখ পরিবর্তন দেখতে চায়নি, মানুষ চেয়েছিল ক্ষমতা ব্যবহারের পদ্ধতির পরিবর্তন।

সরকার বদলেছে—এটি ইতিহাস। কিন্তু চেয়ার পাওয়ার নিয়ম বদলেছে কি না—সেটিই হবে সংস্কারের পরীক্ষা। কারণ রাষ্ট্রের চেয়ার যদি অর্থ বা প্রভাবের বিনিময়ে পাওয়া যায়, তাহলে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রশ্নটি থেকেই যায়— তাহলে কর্মকর্তা চেয়ারটির কাছে ঋণী, তিনি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ হবেন কীভাবে?

লেখক: মো. আনোয়ারুল ইসলাম শামীম
সভাপতি, বাংলাদেশ রিফ্রিজারেন্ট গ্যাস অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (ব্রামা)

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সন্ধিক্ষণ...
মহালয়া আসলে কোনো নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, মানুষের অস্তিত্বের ভেতরে বারবার ফিরে আসা এক সন্ধিক্ষণের নাম।
সন্ধিক্ষণ...
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শঙ্কায় আছেন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদী কার্যকালের দুই বছর পর ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
আজ মহান শিক্ষক দিবস। জীবনের এই বিশেষ দিনে সবার আগে গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই আমার জীবনের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক—আমার আম্মুকে। আমার জীবনের প্রতিটি ভালো অর্জনের পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। তার ভালোবাসা, শাসন, ত্যাগ ও নিরন্তর অনুপ্রেরণাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই। এরপর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমার স্কুলজীবনের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের—প্রধান শিক্ষক দীন ইসলাম স্যার, ফরিদা ইয়াসমিন (আমার চাচি), নিপা মেম, হেলানা মেম ও ফাতেমা মেমকে। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও স্নেহেই চতুর্থ শ্রেণিতে আমার জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করেছিল। তাদের শেখানো অনেক কথাই আজও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যখন মাধ্যমিক জীবনে পা রাখলাম, তখন নতুন করে কিছু মানুষ আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাদের স্নেহ, শাসন ও অনুপ্রেরণায় পেয়েছি নতুন পথের সন্ধান। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রেহানা মেম, শিলা মেম, তানিয়া মেম, দোলা মেম, হুজুর স্যার ও রাসেল স্যার অন্যতম। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই পেয়েছি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। এরপর এলো কলেজজীবন। জীবনের এই অধ্যায়েও কিছু মানুষ আমার স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলেছেন। রাবেয়া মেম, দীপ্তি মেম, শামীম স্যার, দেলোয়ার স্যার ও আবুবকর স্যার—তাদের নাম আমি কখনোই ভুলতে পারব না। তারা আমাকে শুধু পড়াননি; বরং স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছেন এবং বিশ্বাস করিয়েছেন—‘আমি পারব।’ তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার ফলেই আজ আমি দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তাদের অনুপ্রেরণায়ই ঢাবিতে (কলা অনুষদের নরমাল সাবজেক্টে), রাবি ও চবিতে ভর্তির সুযোগ হয়েছিল। আমার জীবনের সেই সময়ে তাদের উৎসাহ ও বিশ্বাস আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পথচলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদানও আমি কখনো ভুলব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের যে স্নেহ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা—তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং জীবনকে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে হয়, সেটিও শেখার সুযোগ পাচ্ছি। শিক্ষাজীবনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদের বাইরেও আমার জীবনে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আমার চাচাতো বড় বোন মিম আপুর। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে অনেক অঙ্ক অনুশীলন করিয়েছেন। তার সেই পরিশ্রম ও সময় দেওয়ার সুফল আমি আজও পাচ্ছি। অনেক সময় একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে থাকেন না, কিন্তু তার শেখানোটা সারাজীবন আমাদের সঙ্গে থেকে যায়—মিম আপু আমার জন্য তেমনই একজন। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আমার শেখার জগৎকে আরও বিস্তৃত করেছে। সাংবাদিকতা করার সুবাদে আরটিভির অনলাইন ইনচার্জ আজাদ ভাই এবং শিফট ইনচার্জ ইমতিয়াজ ভাইয়ের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি। সংবাদকে কীভাবে দেখতে হয়, তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা— এসব বিষয়ে তাদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা আমার ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রতিও রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, আমার জীবনের প্রতিটি ধাপে কোনো না কোনো শিক্ষক আমার হাত ধরে সামনে এগিয়ে দিয়েছেন। কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে ভালো মানুষ হতে হয়, কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে কঠিন সময়ে হাল না ছেড়ে এগিয়ে যেতে হয়, আবার কেউ আমার ওপর বিশ্বাস রেখে আমাকে নিজের ওপর বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। আজ আমি যে পরিচয়ে পরিচিত, তার পেছনে আমার বাবা-মায়ের পাশাপাশি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের দেওয়া শিক্ষা, শাসন, স্নেহ, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। আমার জীবনের পথচলায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা। শিক্ষক শুধু একটি পেশার নাম নয়; একজন শিক্ষক একটি জীবন বদলে দিতে পারেন। আর জীবনের এই দীর্ঘ পথে কিছু মানুষ শিক্ষক না হয়েও আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যান। তাই এই মহান দিবসে আমার শিক্ষকদেরসহ বিশ্বের সকল শিক্ষকের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা। শুভ শিক্ষক দিবস। আবুবকর সম্পদ জবি সংবাদদাতা, আরটিভি আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি আরটিভি/এমএইচজে
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একটি পরিবারের জন্য বড় সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অর্থ, সময়, মানসিক চাপ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—চিকিৎসা নিয়ে প্রত্যাশা। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার কাছে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়—দ্বিতীয় মতামত নেওয়া। দ্বিতীয় মতামত মানে প্রথম চিকিৎসককে অবিশ্বাস করা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্তের আগে আরেকজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের মতামত জানা। এতে রোগী ও পরিবার রোগের অবস্থা, চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দেশে বা বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। আমাদের দেশে কোনো জটিল রোগ ধরা পড়লেই অনেক পরিবার প্রথমে বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবেন। আবার কেউ পরিচিত কারও অভিজ্ঞতাকে নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্তের ভিত্তি করেন। কিন্তু একই রোগ হলেও প্রতিটি রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ঝুঁকি এক নয়। তাই একজনের ভালো অভিজ্ঞতা অন্যজনের জন্য একই ফল নিশ্চিত করে না। আমার দৃষ্টিতে, বিদেশে যাওয়ার আগে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—“আমার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া কি সত্যিই প্রয়োজন?” এর উত্তর পেতে কয়েকটি বিষয় জানা দরকার। রোগটি ঠিক কী? চিকিৎসার উদ্দেশ্য কী? দেশে এই চিকিৎসার উপযুক্ত সক্ষমতা আছে কি না? বিদেশে গেলে অতিরিক্ত কী সুবিধা পাওয়া যাবে? সম্ভাব্য খরচ কত? আর চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ কীভাবে হবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসক ও রোগীর যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে। চিকিৎসার মান শুধু একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না; নিরাপত্তা, রোগীকেন্দ্রিকতা, সময়োপযোগিতা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জটিল বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে গিয়ে একটি চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে আসার পর পরবর্তী চিকিৎসা কোথায় হবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কোথায় হবে এবং চিকিৎসার তথ্য স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে—এসবও সিদ্ধান্তের অংশ হওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া মানেই চিকিৎসা পরিবর্তন করতে হবে—এমন নয়। অনেক সময় দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত প্রথম চিকিৎসা পরিকল্পনাকেই আরও পরিষ্কার করে। আবার কখনো নতুন কোনো বিকল্প সামনে আসতে পারে। মূল বিষয় হলো—রোগী যেন নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া ভুল—এমন কথা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিদেশে গেলেই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণাও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক চিকিৎসার জন্য দেশের মধ্যেই উপযুক্ত সক্ষমতা থাকতে পারে। তাই আমার কাছে বিদেশে চিকিৎসার প্রশ্নটি “দেশ না বিদেশ”—এভাবে দেখার চেয়ে “প্রয়োজনের জন্য সঠিক জায়গা কোথায়?”—এই প্রশ্নে দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো স্বাস্থ্যব্যবস্থা রোগীকে কোনো একটি সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় না। বরং তাকে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় বিকল্প এবং যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ দেয়। শেষ পর্যন্ত রোগী বিদেশে যাবেন, নাকি দেশে চিকিৎসা নেবেন—সিদ্ধান্তটি তার। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাকে যথেষ্ট তথ্য ও আস্থার সুযোগ দেওয়া। কারণ চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কখনো কখনো আরেকজন বিশেষজ্ঞের মতামত শুধু একটি অতিরিক্ত পরামর্শ নয়— এটি হতে পারে আরও সচেতন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। লেখক: মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম। আরটিভি/ এসকেডি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের কেন্দ্রে (হাব) পরিণত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর থেকে বাড়ি উপহার পেলেন সেই গোলাপি বেগম 
প্রতিবাদই কি কাল হলো
বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বাংলাদেশ গড়বে: আযম খান
‘কারাগার থেকে পালানো ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক, তথ্য নেই ১৬৬ জনের’