ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দেশের ৫০০ মেরিন ক্যাডেটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; লেখক সাবেক মেরিনার মোস্তফা আজিজ শাহীন।  ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের মেরিটাইম খাতের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে, যা এখনো আমাদের নীতিনির্ধারণী আলোচনায় যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। একদিকে জাপান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাহাজমালিকানা-অধিকারী দেশ; অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রশিক্ষিত মেরিন ক্যাডেট তৈরি করছে। এই দুই সক্ষমতার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করা গেলে বাংলাদেশের তরুণ মেরিন ক্যাডেটদের জন্য আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এই সম্ভাবনাকে একটি সুপরিকল্পিত জাতীয় উদ্যোগে রূপ দিতে পারব?

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা ইউএনসিটিএডি-এর (UNCTAD) রিভিউ অফ মেরিটাইম ট্রান্সপোর্ট ২০২৫ (Review of Maritime Transport 2025) অনুযায়ী, জাহাজমালিকানার ভিত্তিতে জাপান বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। বৈশ্বিক বাণিজ্যিক জাহাজের ধারণক্ষমতার প্রায় ৯.৯ শতাংশ জাপানি মালিকানাধীন। জাপানের আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পে রয়েছে বৃহৎ জাহাজবহর, উন্নত প্রযুক্তি এবং সুসংগঠিত মেরিটাইম ব্যবস্থাপনা। ফলে বাংলাদেশের প্রশিক্ষিত ক্যাডেটদের জন্য এই শিল্পে প্রবেশের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা যুক্তিসংগত।

তবে জাপানের বিশাল জাহাজবহরকে সরাসরি চাকরির নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাবে না। বিদেশি ক্যাডেট নিয়োগের নীতি, কোম্পানিগুলোর প্রকৃত জনবল চাহিদা, প্রশিক্ষণের মান এবং আন্তর্জাতিক সনদের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করেই এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি একটি সুস্পষ্ট প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান পরিকল্পনা।

প্রশিক্ষণ থেকে কর্মসংস্থান: একটি সমন্বিত উদ্যোগ

বাংলাদেশের মেরিন একাডেমিগুলোতে ক্যাডেটদের প্রাথমিক পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক সমুদ্র পরিবহন খাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে শুধু একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। জাহাজে প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, সমুদ্রকালীন অভিজ্ঞতা (sea time), পেশাগত যোগাযোগ, নিরাপত্তা দক্ষতা এবং নিয়োগদাতার নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনও অপরিহার্য।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় বাংলাদেশের দুটি বা তিনটি সরকারি মেরিন একাডেমিকে নিয়ে একটি বিশেষ বাংলাদেশ–জাপান মেরিটাইম অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা যেতে পারে। নির্বাচিত একাডেমিগুলোতে জাপানি শিপিং কোম্পানি ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় স্বল্পমেয়াদি বিশেষায়িত কোর্স, সিমুলেটরভিত্তিক অনুশীলন, সামুদ্রিক ইংরেজি, প্রাথমিক জাপানি ভাষা এবং আধুনিক জাহাজ পরিচালনার ওপর প্রশিক্ষণ চালু করা যেতে পারে।

এই উদ্যোগের সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি যুক্ত করতে হবে—জাহাজে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং চাকরির সম্ভাব্য পথ। কারণ প্রশিক্ষণ শেষ করার পর ক্যাডেটরা যদি সমুদ্রগামী জাহাজে প্রয়োজনীয় সমুদ্রকালীন অভিজ্ঞতা (sea time) অর্জনের সুযোগ না পান, তাহলে তাদের পেশাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

জাপানি শিপিং কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি অংশীদারত্ব

Mitsui O.S.K. Lines (MOL), NYK Line এবং Kawasaki Kisen Kaisha (K Line)-এর মতো জাপানি শিপিং কোম্পানির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। এসব কোম্পানিকে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশের ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ, জাহাজে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করা উচিত।

এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা হবে শুধু একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা নয়; বরং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতার মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা। জাপানি কোম্পানিগুলো কী ধরনের ক্যাডেট চায়, কোন যোগ্যতা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং বছরে কতজন ক্যাডেটকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দিতে পারে—এসব বিষয়ে লিখিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

জাপানের সঙ্গে নাবিক প্রশিক্ষণে সহযোগিতার ঐতিহাসিক নজিরও রয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০০৭ সালের ওডিএ (ODA) শ্বেতপত্রে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাবিক প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি কর্মসূচির উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালের মার্চ পর্যন্ত ওই কর্মসূচিতে ১ হাজার ৯৪ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছিলেন এবং তাদের অর্ধেকের বেশি জাপানি শিপিং কোম্পানিতে কর্মসংস্থান পেয়েছিলেন। এটি বর্তমান কর্মসূচির প্রমাণ নয়, তবে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানকে একসঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা।

৫০০ ক্যাডেটের কর্মসংস্থান: বাস্তবসম্মত লক্ষ্য

বাংলাদেশের জন্য প্রস্তাবিত লক্ষ্য হতে পারে, জাপানি শিপিং কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ৫০০ জন মেরিন ক্যাডেটের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুরুতেই বড় কর্মসূচি গ্রহণ না করে প্রথম পর্যায়ে ১০০ জন ক্যাডেট নিয়ে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করা যেতে পারে।

প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত ক্যাডেটদের অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ, ভাষাগত প্রস্তুতি এবং জাহাজে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এরপর নিয়োগদাতার মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণের ফলাফল এবং প্রকৃত কর্মসংস্থানের হার পর্যালোচনা করে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা জরুরি: ৫০০ জনের কর্মসংস্থান একটি প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা, কোনো জাপানি কোম্পানির নিশ্চিত নিয়োগ-প্রতিশ্রুতি নয়। কোম্পানিগুলোর লিখিত সম্মতি, জাহাজে প্রশিক্ষণের আসন এবং বাস্তব জনবল চাহিদার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত পরিকল্পনা নির্ধারণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: একটি সুযোগ

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি সহযোগিতার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানও গুরুত্ব পাওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এই প্রস্তাবটি আলোচনায় আনতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাপানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ করতে পারে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর বাংলাদেশের একাডেমিগুলোর সক্ষমতা এবং ক্যাডেটদের যোগ্যতা মূল্যায়ন করতে পারে। একই সঙ্গে জাপানি শিপিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, সমুদ্রকালীন অভিজ্ঞতা (sea time) এবং সম্ভাব্য নিয়োগের কাঠামো নির্ধারণ করা যেতে পারে।

প্রয়োজনে একটি যৌথ কর্মদল গঠন করে ছয় মাসের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই, অংশীদার প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ, ব্যয় এবং পাইলট কর্মসূচির বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রস্তুত করা যেতে পারে। এতে প্রস্তাবটি কেবল আলোচনার বিষয় না থেকে বাস্তবায়নযোগ্য নীতিগত উদ্যোগে রূপ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

এখনই নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন

মেরিটাইম শিক্ষায় বিনিয়োগের সুফল তখনই পূর্ণতা পায়, যখন প্রশিক্ষিত তরুণেরা তাদের দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ পান। আন্তর্জাতিক জাহাজে কর্মসংস্থান শুধু ব্যক্তিগত আয়ের বিষয় নয়; এটি দেশের দক্ষ জনশক্তির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, বৈদেশিক আয় এবং মেরিটাইম খাতের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

বাংলাদেশের সামনে এখন সুযোগ রয়েছে জাপানের জাহাজমালিকানা ও প্রশিক্ষণ সক্ষমতার সঙ্গে নিজেদের মেরিন একাডেমিগুলোকে যুক্ত করার। এজন্য প্রয়োজন বাস্তবসম্মত লক্ষ্য, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণ থেকে কর্মসংস্থান পর্যন্ত একটি সমন্বিত ব্যবস্থা।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর উপলক্ষে তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সুস্পষ্ট প্রশ্ন রাখা যেতে পারে: বাংলাদেশের ৫০০ মেরিন ক্যাডেটের জন্য জাপানি সমুদ্রগামী জাহাজে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব কি দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় না?

এখনই উদ্যোগ নেওয়া গেলে বাংলাদেশের মেরিন ক্যাডেটদের জন্য আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের একটি নতুন পথ উন্মুক্ত করার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।


লেখক: মোস্তফা আজিজ শাহীন
সাবেক মেরিনার; সহকারী অধ্যাপক পোর্ট অ্যান্ড শিপিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সন্ধিক্ষণ...
মহালয়া আসলে কোনো নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, মানুষের অস্তিত্বের ভেতরে বারবার ফিরে আসা এক সন্ধিক্ষণের নাম।
সন্ধিক্ষণ...
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শঙ্কায় আছেন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদী কার্যকালের দুই বছর পর ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
আজ মহান শিক্ষক দিবস। জীবনের এই বিশেষ দিনে সবার আগে গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই আমার জীবনের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক—আমার আম্মুকে। আমার জীবনের প্রতিটি ভালো অর্জনের পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। তার ভালোবাসা, শাসন, ত্যাগ ও নিরন্তর অনুপ্রেরণাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই। এরপর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমার স্কুলজীবনের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের—প্রধান শিক্ষক দীন ইসলাম স্যার, ফরিদা ইয়াসমিন (আমার চাচি), নিপা মেম, হেলানা মেম ও ফাতেমা মেমকে। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও স্নেহেই চতুর্থ শ্রেণিতে আমার জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করেছিল। তাদের শেখানো অনেক কথাই আজও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যখন মাধ্যমিক জীবনে পা রাখলাম, তখন নতুন করে কিছু মানুষ আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাদের স্নেহ, শাসন ও অনুপ্রেরণায় পেয়েছি নতুন পথের সন্ধান। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রেহানা মেম, শিলা মেম, তানিয়া মেম, দোলা মেম, হুজুর স্যার ও রাসেল স্যার অন্যতম। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই পেয়েছি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। এরপর এলো কলেজজীবন। জীবনের এই অধ্যায়েও কিছু মানুষ আমার স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলেছেন। রাবেয়া মেম, দীপ্তি মেম, শামীম স্যার, দেলোয়ার স্যার ও আবুবকর স্যার—তাদের নাম আমি কখনোই ভুলতে পারব না। তারা আমাকে শুধু পড়াননি; বরং স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছেন এবং বিশ্বাস করিয়েছেন—‘আমি পারব।’ তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার ফলেই আজ আমি দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তাদের অনুপ্রেরণায়ই ঢাবিতে (কলা অনুষদের নরমাল সাবজেক্টে), রাবি ও চবিতে ভর্তির সুযোগ হয়েছিল। আমার জীবনের সেই সময়ে তাদের উৎসাহ ও বিশ্বাস আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পথচলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদানও আমি কখনো ভুলব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের যে স্নেহ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা—তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং জীবনকে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে হয়, সেটিও শেখার সুযোগ পাচ্ছি। শিক্ষাজীবনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদের বাইরেও আমার জীবনে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আমার চাচাতো বড় বোন মিম আপুর। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে অনেক অঙ্ক অনুশীলন করিয়েছেন। তার সেই পরিশ্রম ও সময় দেওয়ার সুফল আমি আজও পাচ্ছি। অনেক সময় একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে থাকেন না, কিন্তু তার শেখানোটা সারাজীবন আমাদের সঙ্গে থেকে যায়—মিম আপু আমার জন্য তেমনই একজন। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আমার শেখার জগৎকে আরও বিস্তৃত করেছে। সাংবাদিকতা করার সুবাদে আরটিভির অনলাইন ইনচার্জ আজাদ ভাই এবং শিফট ইনচার্জ ইমতিয়াজ ভাইয়ের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি। সংবাদকে কীভাবে দেখতে হয়, তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা— এসব বিষয়ে তাদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা আমার ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রতিও রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, আমার জীবনের প্রতিটি ধাপে কোনো না কোনো শিক্ষক আমার হাত ধরে সামনে এগিয়ে দিয়েছেন। কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে ভালো মানুষ হতে হয়, কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে কঠিন সময়ে হাল না ছেড়ে এগিয়ে যেতে হয়, আবার কেউ আমার ওপর বিশ্বাস রেখে আমাকে নিজের ওপর বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। আজ আমি যে পরিচয়ে পরিচিত, তার পেছনে আমার বাবা-মায়ের পাশাপাশি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের দেওয়া শিক্ষা, শাসন, স্নেহ, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। আমার জীবনের পথচলায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা। শিক্ষক শুধু একটি পেশার নাম নয়; একজন শিক্ষক একটি জীবন বদলে দিতে পারেন। আর জীবনের এই দীর্ঘ পথে কিছু মানুষ শিক্ষক না হয়েও আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যান। তাই এই মহান দিবসে আমার শিক্ষকদেরসহ বিশ্বের সকল শিক্ষকের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা। শুভ শিক্ষক দিবস। আবুবকর সম্পদ জবি সংবাদদাতা, আরটিভি আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি আরটিভি/এমএইচজে
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একটি পরিবারের জন্য বড় সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অর্থ, সময়, মানসিক চাপ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—চিকিৎসা নিয়ে প্রত্যাশা। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার কাছে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়—দ্বিতীয় মতামত নেওয়া। দ্বিতীয় মতামত মানে প্রথম চিকিৎসককে অবিশ্বাস করা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্তের আগে আরেকজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের মতামত জানা। এতে রোগী ও পরিবার রোগের অবস্থা, চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দেশে বা বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। আমাদের দেশে কোনো জটিল রোগ ধরা পড়লেই অনেক পরিবার প্রথমে বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবেন। আবার কেউ পরিচিত কারও অভিজ্ঞতাকে নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্তের ভিত্তি করেন। কিন্তু একই রোগ হলেও প্রতিটি রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ঝুঁকি এক নয়। তাই একজনের ভালো অভিজ্ঞতা অন্যজনের জন্য একই ফল নিশ্চিত করে না। আমার দৃষ্টিতে, বিদেশে যাওয়ার আগে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—“আমার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া কি সত্যিই প্রয়োজন?” এর উত্তর পেতে কয়েকটি বিষয় জানা দরকার। রোগটি ঠিক কী? চিকিৎসার উদ্দেশ্য কী? দেশে এই চিকিৎসার উপযুক্ত সক্ষমতা আছে কি না? বিদেশে গেলে অতিরিক্ত কী সুবিধা পাওয়া যাবে? সম্ভাব্য খরচ কত? আর চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ কীভাবে হবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসক ও রোগীর যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে। চিকিৎসার মান শুধু একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না; নিরাপত্তা, রোগীকেন্দ্রিকতা, সময়োপযোগিতা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জটিল বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে গিয়ে একটি চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে আসার পর পরবর্তী চিকিৎসা কোথায় হবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কোথায় হবে এবং চিকিৎসার তথ্য স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে—এসবও সিদ্ধান্তের অংশ হওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া মানেই চিকিৎসা পরিবর্তন করতে হবে—এমন নয়। অনেক সময় দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত প্রথম চিকিৎসা পরিকল্পনাকেই আরও পরিষ্কার করে। আবার কখনো নতুন কোনো বিকল্প সামনে আসতে পারে। মূল বিষয় হলো—রোগী যেন নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া ভুল—এমন কথা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিদেশে গেলেই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণাও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক চিকিৎসার জন্য দেশের মধ্যেই উপযুক্ত সক্ষমতা থাকতে পারে। তাই আমার কাছে বিদেশে চিকিৎসার প্রশ্নটি “দেশ না বিদেশ”—এভাবে দেখার চেয়ে “প্রয়োজনের জন্য সঠিক জায়গা কোথায়?”—এই প্রশ্নে দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো স্বাস্থ্যব্যবস্থা রোগীকে কোনো একটি সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় না। বরং তাকে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় বিকল্প এবং যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ দেয়। শেষ পর্যন্ত রোগী বিদেশে যাবেন, নাকি দেশে চিকিৎসা নেবেন—সিদ্ধান্তটি তার। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাকে যথেষ্ট তথ্য ও আস্থার সুযোগ দেওয়া। কারণ চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কখনো কখনো আরেকজন বিশেষজ্ঞের মতামত শুধু একটি অতিরিক্ত পরামর্শ নয়— এটি হতে পারে আরও সচেতন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। লেখক: মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম। আরটিভি/ এসকেডি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের কেন্দ্রে (হাব) পরিণত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
আরও পড়ুন
মৃত্যু যখন অবধারিত, পরকালের প্রস্তুতি কতটা?
গবাদিপশুর শামোন্ডা ভাইরাস মানুষের শরীরে শনাক্ত, রোগীর মৃত্যু
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই অসহায় পরিবারের পাশে রাসিক প্রশাসক
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর