ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

গরমে শিশু ও বয়স্কদের বাইরে না নেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের

বাসস

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্কদের বাইরে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। ছবি: সংগৃহীত

তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্কদের সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করানো, হালকা ও সুতির পোশাক পরানো, দিনে ২-৩ বার গোসল করানো এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ।

তারা জানান, প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশু ও বয়স্করা। এ সময় তাদের শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দেয় এবং তাপমাত্রার প্রভাবও বেশি পড়ে। ফলে সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই এ সময়ে তাদের প্রতি বাড়তি যত্ন ও সচেতনতা জরুরি।

চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের নিয়মিত পানি পান করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা তৃষ্ণা পেলেই পানি খাবে- এমনটা না ভেবে নির্দিষ্ট সময় পরপর পানি বা তরল খাবার দিতে হবে। ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও ঘরে তৈরি ফলের রস এক্ষেত্রে বেশ উপকারী। গরমে শিশু ও বয়স্কদের সরাসরি রোদে বেশি সময় না রাখাই ভালো। বিশেষ করে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাইরে না বের করাই নিরাপদ। প্রয়োজনে বের হলে হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক ও ছাতা ব্যবহার করা উচিত।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কাদের জানান, গরমে শিশুদের হিটস্ট্রোক, জ্বর, ডায়রিয়া, বমি ও পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় তারা নিজের সমস্যার কথা স্পষ্টভাবে বলতে পারে না, ফলে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকতে হয়।

তিনি বলেন, শিশু ও বয়স্কদের ঘরের পরিবেশ ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখা উচিত। প্রয়োজনে ফ্যান বা এয়ার কুলার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সরাসরি ঠান্ডা বাতাসে দীর্ঘ সময় রাখা থেকেও বিরত থাকতে হবে। যদি শিশু ও বয়স্কদের শরীরে অতিরিক্ত গরম অনুভূত হয়, মাথা ঘোরে, বমি হয় বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এসব লক্ষণ হিটস্ট্রোকের পূর্বাভাস হতে পারে।

খাবারের বিষয়ে আব্দুল কাদের বলেন, গরমে শিশু ও বয়স্কদের পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ঘোল বা লাচ্ছি খাওয়া ভালো। এতে পানিশূন্যতা দূর হয় এবং শরীরে শক্তি যোগায়। তরমুজ, বাঙ্গি, পেঁপে, শসা ও কলার মতো সহজপাচ্য ও পানিসমৃদ্ধ ফল শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত ভাত, ডাল, শাকসবজি, মাছ ও হালকা মসলার রান্না করা খাবার শিশুর জন্য উপকারী। টক দই হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীর সতেজ রাখে।

ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, গরমে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়া, জন্ডিসসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ে। এ সময় বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বেশি হওয়ায় বাইরের খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। ফুটপাতের শরবত, ফুচকা-চটপটি ও ভাজাপোড়ায় জীবাণুর ঝুঁকি থাকে, যা দ্রুত তাদের অসুস্থ করে তুলতে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে বাসায় রান্না করা খাবারই সবার জন্য নিরাপদ।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত তেলযুক্ত ও ভারী খাবারের বদলে হালকা, সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া উচিত। ফল, সবজি ও তরল খাবার বেশি খাওয়ানো ভালো। গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়, তাই সবসময় তাজা ও পরিষ্কার খাবার নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসও গড়ে তোলা জরুরি।

ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান জানান, আমরা ইতোমধ্যেই মিটিং করে স্বাস্থ্যকর্মীদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষদের এসব পরামর্শ জানাতে বলা হয়েছে।

পরামর্শগুলো হলো: প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। চা-কফি এড়িয়ে চলা ভালো। খুব প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়া, বাইরে গেলে হালকা সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং অবশ্যই ছাতা, টুপি বা ক্যাপ ব্যবহার করা। স্যালাইন বা ডাবের পানি পান করে পানিশূন্যতা রোধ করতে হবে। শিশু ও বয়স্কদের ঘরের ভেতর রাখা এবং তাদের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।

আরও পড়ুন

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, তীব্র গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় শরীর ঠান্ডা রাখা এবং পানিশূন্যতা রোধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য বেশি করে পানি ও তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে এবং দুপুরের কড়া রোদে ও চুলার কাছে কাজ করা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শিশু ও বয়স্কদের হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেশি থাকায় তাদের ছায়াযুক্ত স্থানে রাখা এবং নিয়মিত পানি পান করানো জরুরি।

এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, লক্ষ্মীপুর, খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। একইসঙ্গে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যেখানে চিকিৎসক দরকার সেখানেই পোস্টিং হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের যেসব জায়গায় চিকিৎসকের সংকট রয়েছে সেখানেই পোস্টিং দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘হেমাটোকন : ২০২৬’- এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে আমরা ১৭ টি রেডিও থেরাপি মেশিন স্থাপন করবো। এর মধ্যে ৬ টি ঢাকায়, বাকি ১১ টি ঢাকার বাইরে। তিনি বলেন, সবাই মিলে এই দেশকে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের চেয়ে ভালো দেশ, এত সহযোগী শক্তি আর কোথাও নেই। দেশটাকে ভালোবেসে আমাদের কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, দেশের জন্য লড়াই করেছি। তখন মুক্তিযুদ্ধ আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন আমার চ্যালেঞ্জ, এই মন্ত্রণালয়ের (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) জন্য কিছু করা। মন্ত্রী বলেন, যখন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেই, তখন এটি ছিলো পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্থ। ১১ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিনের আমদানি খরচই দেখানো হয়েছে ১৮ কোটি টাকা। এই দৃশ্য ছিল সবখানেই। আমরা সেই অবস্থার পরিবর্তন করছি। হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ সভাপতি অধ্যাপক ডা. আমীন লুৎফুল কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দেশ- বিদেশের ডাক্তার ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
যেখানে চিকিৎসক দরকার সেখানেই পোস্টিং হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
‘সাত মাসে ২ কোটি শিশুকে টিকা দিয়েছে সরকার’
সংকট কাটিয়ে বর্তমান সরকারের নানা পদক্ষেপে দুই কোটিরও বেশি শিশুর কাছে সফলভাবে টিকা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
‘সাত মাসে ২ কোটি শিশুকে টিকা দিয়েছে সরকার’
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আর ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯২০
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে একদিনে মারা গেছেন আরও পাঁচজন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৩২১ জনের মৃত্যু হলো।
409572
‘কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে’
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ১১তম জাতীয় যুব সম্মেলন অন হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার’ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে’
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৩২৭
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৩২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৩২৭
আরও পড়ুন
গরম গরম চা-কফি পান করছেন? ভয়ংকর ঝুঁকির কথা জানাল গবেষণা
ঢাকায় বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, কমছে না গরম
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে খাবেন যে ৪ ডাল
তীব্র গরমে ব্যায়াম করবেন যেভাবে, শরীর থাকবে নিরাপদ