ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

‘অন্ধ হতে পারেন দেশের ১০ লাখ মানুষ’, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
প্রতীকী ছবি

দেশে অন্ধত্বের প্রায় ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী ছানি। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ছানি অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে ছানি অস্ত্রোপচারে দক্ষ সার্জনের সংখ্যা মাত্র ২ হাজার ২০০। ফলে চিকিৎসাযোগ্য এই রোগটি দীর্ঘদিন ধরে অনেক মানুষের দৃষ্টিহীনতার কারণ হয়ে আছে।

বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, দেশে নিবন্ধিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি হলেও ছানি অস্ত্রোপচারে সক্রিয় ও অভিজ্ঞ সার্জন রয়েছেন মাত্র ৪০০ থেকে ৮০০ জন। সে হিসাবে অপেক্ষমাণ প্রতি ৮৩৩ রোগীর বিপরীতে রয়েছেন একজন দক্ষ সার্জন। এর মধ্যে প্রতিবছর নতুন করে ছানির রোগী যুক্ত হচ্ছেন এক লাখের বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সার্জনের ঘাটতির পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসাসেবা না পৌঁছানো, রোগ শনাক্তকরণে দুর্বলতা, সচেতনতার অভাব এবং নারী-পুরুষের চিকিৎসা পাওয়ার বৈষম্য ছানি চিকিৎসার বড় বাধা।

আজ (৮ অক্টোবর) দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘লাভ ইউর আইস’ বা চোখকে ভালোবাসুন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা ব্যবহার এবং ছানি দেখা দিলে দ্রুত অস্ত্রোপচার করানো গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও চক্ষুরোগ ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ছানিজনিত অন্ধত্বের দীর্ঘ ব্যাকলগে রয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে বছরে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ ছানি অস্ত্রোপচারের সক্ষমতা রয়েছে। তবে প্রতিবছর নতুন রোগী যুক্ত হওয়ায় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।

তার মতে, আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছর অতিরিক্ত অন্তত ২ লাখ ছানি অস্ত্রোপচার করা না গেলে বিদ্যমান ব্যাকলগ কমানো কঠিন হবে। এ জন্য রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে জেলা হাসপাতালগুলোকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে সক্ষম করে তুলতে হবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ২৫০ শয্যার জনবল কাঠামো দিয়ে এত বিপুল রোগীর চাপ সামলাতে প্রতিষ্ঠানটিকে হিমশিম খেতে হয়। সেখানে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৩০ জনের ছানি অস্ত্রোপচার করা হয়। রোগীদের প্রয়োজনীয় লেন্সও বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রেজওয়ানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ২৫০ শয্যার জনবল কাঠামো নিয়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। বয়স বাড়ার সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়াকে অনেকে স্বাভাবিক বিষয় মনে করেন। অথচ ছানি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক দৃষ্টি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

তিনি বলেন, চোখের প্রাকৃতিক লেন্স ঘোলা হয়ে গেলে দৃষ্টি ঝাপসা বা কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে যায়। তীব্র আলো কিংবা গাড়ির হেডলাইটের সামনে দেখতে সমস্যা হওয়া ছানির অন্যতম লক্ষণ। অনেকের ক্ষেত্রে রাতে বা কাছের জিনিস দেখতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ডা. রেজওয়ানুর রহমান জানান, ছানি রোগীদের বড় অংশ বয়স্ক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর। হাসপাতালে যাতায়াতের খরচ, সঙ্গে কাউকে নেওয়ার প্রয়োজন এবং চিকিৎসা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেকে অস্ত্রোপচার করাতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে নারীরা আরও পিছিয়ে রয়েছেন।

দেশের আট জেলায় ২১ হাজার ৫৯৬ জনের ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ছানি অস্ত্রোপচারের হার পুরুষদের মধ্যে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

জাতীয় অন্ধত্ব জরিপ-২০২০ অনুযায়ী, দেশে ৩০ বছর ও এর বেশি বয়সীদের মধ্যে অন্ধত্বের হার প্রায় ১ শতাংশ। এ বয়সী জনগোষ্ঠীর প্রতি ১০০ জনের প্রায় পাঁচজন কোনো না কোনো মাত্রার দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। আনুমানিক ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৩ জন অন্ধত্ব নিয়ে বসবাস করছেন। এর মধ্যে ছানিজনিত অন্ধত্বে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখের বেশি।

২০০০ সালের জরিপে বয়স ও লিঙ্গ সমন্বয় করা অন্ধত্বের হার ছিল ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ২০২০ সালে তা কমে ১ শতাংশে নেমে আসে। অর্থাৎ দুই দশকে অন্ধত্বের হার কমেছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার কমলেও চিকিৎসাযোগ্য অন্ধত্বের বোঝা এখনও বড়। গুরুতর দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণও ছানি।

শুধু ছানি নয়, চশমার অভাবেও দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ দৃষ্টিসমস্যায় ভুগছেন। ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের কোনো না কোনো ধরনের দৃষ্টিত্রুটি থাকলেও চশমা ব্যবহারের সুযোগ পান মাত্র ২৬ শতাংশ।

বয়স বাড়ার সঙ্গে চালসে, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি ও গ্লুকোমার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি স্কুলশিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের মধ্যেও অনেক সময় দৃষ্টিসমস্যা শনাক্ত হয় না।

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা গণমাধ্যমকে বলেন, গত ২০ বছরে অন্ধত্ব নিরসনে বড় সাফল্য এসেছে। ধীরে ধীরে এই সংখ্যা আরও কমবে বলে আশা করা যায়। সরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং বেসরকারি হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে ছানি অস্ত্রোপচার ও চোখের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রান্তিক অঞ্চলে জুনিয়র কনসালট্যান্টদের পদায়নের মাধ্যমে চশমার পাওয়ার নির্ধারণ, ছানি ও নেত্রনালির রোগ শনাক্তকরণ এবং অস্ত্রোপচারের মতো মৌলিক সেবা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, আগামী পাঁচ বছরে ছানি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে—এমন সব রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনা।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৯ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে অর্ধশত মৃত্যু
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি অক্টোবরের প্রথম ৯ দিনে ৫০ জনের মৃত্যু হলো। 
৯ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে অর্ধশত মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন রোগী ১৩৪৯
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৪৯ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন রোগী ১৩৪৯
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর প্রাণহানি
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪২৮ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর প্রাণহানি
আরও পাঁচজনের প্রাণ কেড়ে নিলো ডেঙ্গু, ৭ দিনে ৪৯ মৃত্যু
একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি মাসের প্রথম সাত দিনে ৪৯ জনের প্রাণ কেড়ে নিলো ডেঙ্গু।
আরও পাঁচজনের প্রাণ কেড়ে নিলো ডেঙ্গু, ৭ দিনে ৪৯ মৃত্যু
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন ২০২৬: কমবে বিদেশমুখিতা, সাশ্রয় হবে চিকিৎসা ব্যয়
‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন-২০২৬’-এ নিকটাত্মীয়ের বাইরে ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা নিঃস্বার্থবাদী দাতার অঙ্গ দানের আইনি সুযোগ তৈরি হওয়ায় দেশে লিভার ও কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতিস্থাপনে নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন ২০২৬: কমবে বিদেশমুখিতা, সাশ্রয় হবে চিকিৎসা ব্যয়
আরও পড়ুন
চোখে হঠাৎ অন্ধকার দেখছেন? যে বিপদের সংকেত হতে পারে
ঘটতে যাচ্ছে বিরল ঘটনা, ৬ মিনিটের বেশি অন্ধকারে ডুববে যেসব শহর
পূর্ণ সূর্যগ্রহণে নামবে অন্ধকার, দেখা মিলবে বিরল সূর্যাস্ত
‘৫ বছরের মধ্যে ছানিজনিত অন্ধত্ব নির্মূলের লক্ষ্য সরকারের’