ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

যে সাত কৌশলে জো বাইডেনের জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২০, ০৬:২৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

করোনা মহামারীর মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে এবার নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ছিল নজিরবিহীন। অনলাইনে নির্বাচনী প্রচারণা ছিল ব্যাপক। ডিজিটাল প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি রাজনীতির ৫০ বছরের কলাকৌশল কাজে লাগিয়েছেন জো বাইডেন। জনগণের মনের ভাষা বুঝতে পেরেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল তার। অবশেষে চেষ্টায় সফল হলেন তিনি। সাতটি কারণ জয়ে সাহায্য করেছে তার।

১. কোভিড

করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুই লাখ ত্রিশ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এতে মানুষের জীবনযাত্রা ও রাজনীতি বদলে গেছে। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় করোনাভাইরাসের বিষয়ে উইসকনসিনে নির্বাচনী র‌্যালিতে বলেছিলেন, ফেক নিউজে সবকিছুই কোভিড, কোভিড, কোভিড, কোভিড। এই মন্তব্য ট্রাম্পের জনসমর্থন কিছুটা হলেও বিপক্ষে চলে যায়। অন্যদিকে জো বাইডেন কোভিড ইস্যুতে যে অবস্থান সেটি তাকে এগিয়ে নিয়েছিল গত মাসের এক জনমত জরিপ এমনটি প্রকাশ হয়। এই জরিপে ট্রাম্পের তুলনায় জো বাইডেন ১৭ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন।

২. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তখন থেকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির দিকে নজর রেখেছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে সেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধস নেমেছে। অর্থনৈতিক এই ক্ষতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণা কৌশলকে বাধাগ্রস্ত করেছে। অন্যদিকে জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিষয়টি তুলে ধরতে পারলে জনমত তার দিকে সমর্থন জানায়। গ্রীষ্মকালে করা আর এক জরিপে দেখা গিয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্পের রেটিং ৩৮ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

৩. নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের শুরু থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার তুলনায় জো বাইডেনের নির্বাচনী কৌশল ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। ট্রাম্প যখন নির্বাচনী প্রচারণায় বিতর্কমূলক বক্তব্য দিতেন তখন জো বাইডেন ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপরীতে জনগণকে ধৈর্য্য ধারণ করতে বলেছেন।

৪. যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জো বাইডেনের হিসেব কষে এগোনো

জো বাইডেনের ৫০ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে হিসেব কষে এগোনোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেই হিসেবেও মাঝে মাঝে গণ্ডগোলের সৃষ্টি করেছে। তার দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে ভুল বক্তব্য ও অসমীচীন কাজের জন্য বিশেষ পরিচিতি পেয়েছিলেন। যেসব ভুল তাকে প্রায়শই বিপদগ্রস্ত করেছে। ১৯৮৭ সালের নির্বাচনে এমন ভুল তার হারের কারণ ছিল। ২০০৭ সালে আবার যখন তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন সেবার তার তেমন একটা সম্ভাবনাই ছিল না। কিন্তু তৃতীয়বার যখন ওভাল অফিসের জন্য লড়েছেন তখন তিনি বক্তব্য দেবার সময় যথেষ্ট কম হোঁচট খেয়েছেন। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে তার লাগামহীন অসামঞ্জস্যপূর্ণ নানা বক্তব্যের কারণে নিয়মিত খবরের উৎস ছিলেন। বাইডেন ক্যাম্প বরং ট্রাম্পকে তার মুখ খোলার সুযোগ দিয়েছে যা শেষ পর্যন্ত কাজে লেগেছে।

৫. যুক্তরাষ্ট্রে আর যেই হোক ট্রাম্প নয়

জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার কৌশলে একটি স্লোগান কাজে লেগেছিল ‘আর যেই হোক ট্রাম্প নয়’। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে জো বাইডেন ক্যাম্প তাদের সর্বশেষ টেলিভিশন বিজ্ঞাপন প্রচার করে। এক বছর জো বাইডেন প্রার্থী হিসেবে যখন মনোনীত হন এবং যেদিন তার প্রচারণা শুরু করেন সে সময়কার বক্তব্যের সাথে এই বিজ্ঞাপনের বক্তব্যে বেশ লক্ষণীয় সাদৃশ্য ছিল। কৌশল ছিল বাইডেনের প্রচারণায়। জো বাইডেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নন, এমন বার্তা দেয়া হয়েছে ভোটারদের।

৬. মধ্যপন্থী অবস্থান

প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হবার লড়াইয়ে জো বাইডেনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বার্নি স্যান্ডার্স, যিনি বামপন্থী হিসেবে পরিচিত। আর একজন ছিলেন এলিজাবেথ ওয়ারেন। যার ক্যাম্পেইনে বেশ ভালো অর্থের যোগান ছিল। এই দুজনের যেকোনো সভায় রক গানের কনসার্টের মতো মানুষ জড়ো হতো। কিন্তু জো বাইডেন উদারপন্থীদের চাপের মুখেও মধ্যপন্থী অবস্থান বজার রেখেছেন। তিনি সরকারি স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা, বিনামূল্যে কলেজ শিক্ষা ও ধনীদের জন্য বেশি কর আরোপ করার নীতিগুলোতে সমর্থন দেননি। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে জো বাইডেন আলোচনা করেছেন। জলবায়ু ইস্যু দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে আকর্ষণ করেছেন।

৭. বেশি অর্থ, কম সমস্যা

যেকোনো নির্বাচনে অর্থ একটি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থ ছাড়া নির্বাচনে নামা যেন অনর্থক। কিন্তু অর্থের সঙ্গে থাকতে হবে কৌশল। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের শুরুতে জো বাইডেনের প্রচারণা তহবিল প্রায় শূন্য ছিল। ট্রাম্পের বিপক্ষে তার সীমাবদ্ধতা ছিল এটি। ট্রাম্পের প্রচারণা ছিল শত কোটি ডলারের বিষয়। কিন্তু এপ্রিল মাসে এসে তহবিল গঠনে জোরালোভাবে লেগে পড়ে বাইডেন ক্যাম্প। অন্যদিকে ট্রাম্পের পদ্ধতি হচ্ছে বাড়াবাড়ি অপচয়। নির্বাচনী প্রচারণার শেষের দিকে এসে ট্রাম্প ক্যাম্পের চেয়ে বড় তহবিল গড়েছিলেন বাইডেন। অক্টোবর মাসে ট্রাম্পের চেয়ে ১৪৪ মিলিয়ন ডলার বেশি ছিল বাইডেনের তহবিলে। যা ব্যবহার করে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে রিপাবলিকানদের জর্জরিত করে ফেলা হয়। সূত্র: বিবিসি।
এফএ/পি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
নতুন বছরের শুরু থেকে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকবে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় হাইকমিশন। হাইকমিশনের দূতাবাস প্রধান রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশটির সরকারি বিধি-নিষেধ অনুযায়ী কুয়ালালামপুরের আম্পাং শাখার পাসপোর্ট অফিসের কার্যালয় শুক্রবার (১ জানুয়ারি) থেকে পরবর্তী রোববার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত সাময়িকভাবে সবধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার পর পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম আরও বেগবান করার মাধ্যমে প্রত্যাশীদের সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, যারা অ্যাপয়ন্টমেন্ট নিয়ে রেখেছেন তাদের নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়। এক্ষেত্রে ১০ জানুয়ারির পর কাছাকাছি সময়ে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন পুনরায় নির্ধারণ করে যথাসময়ে অবহিত করা হবে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ২ ও ৩ জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়ার জহুর বারু প্রদেশে পাসপোর্ট ডেলিভারি সেবার কার্যক্রম অব্যহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এফএ
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভারতের আসাম প্রদেশে ৭০০ মাদরাসাকে স্কুলে রূপান্তর করবে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি সরকার বলছে, মসজিদের ঈমামের চেয়ে ভারতে ডাক্তার, পুলিশ, আমলা ও শিক্ষক বেশি প্রয়োজন। তাই মাদরাসার সিলেবাসকে নিম্নমানের শিক্ষা আখ্যায়িত করে স্কুলে রূপান্তরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।  এই সংক্রান্ত একটি বিল বৃহস্পতিবার আসামের আইনসভায় পাস হয়েছে। আসামের শিক্ষামন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস শর্মা প্রাদেশিক আইনসভাকে জানিয়েছেন, নতুন বছরের এপ্রিলের মধ্যে ৭০০ এর অধিক মাদরাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর গার্ডিয়ান। হেমন্ত বিশ্বাসের দাবি মাদ্রাসায় পার্থিব বা বৈষয়িক কোনো বিষয় পড়ানো হয় না। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট দেশে মোদি সরকারের মুসলিমবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। ওয়াজেদ আলী চৌধুরী নামে কংগ্রেসের একজন আইনপ্রণেতা বলেন, ‘এটা মুসলিমদের শেকড় উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত।’ এফএ
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে বেশ কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে নিজেদের তৈরি করা ভয়ংকর অত্যাধুনিক চতুর্থ প্রজন্মের  যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থানডার ব্লক-৩ প্রদর্শন করলো পাকিস্তান। গেলো বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটির বিমানবাহিনীর দূরবর্তী উচ্চ রাডার প্রযুক্তি ও ফায়ারিং ক্ষমতা সম্পন্ন ১৪টি যুদ্ধবিমান পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স হস্তান্তর করা হয়। পাকিস্তানের প্রভাবশালী মিডিয়া ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মুজাহিদ আনোয়ার খান জানান, জাতীয় বহরে দেশের ইতিহাসে এটি গুরুত্বর্পূণ মাইলফলক। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনী যখন আঞ্চলিক ভূখণ্ড লঙ্ঘন করে, সেসময় জেএফ-১৭ থানডার যুদ্ধবিমান যুদ্ধক্ষেত্রে তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।   একই সঙ্গে পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উৎপাদন ও চীনা বিমান শিল্পের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন। এম
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
মহামারি করোনা ভাইরাসকে সাথে করেই পেছনে ফেলতে হচ্ছে আরও একটি বছর। শুরু হবে নতুন বছর। ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করার জন্য বিভিন্ন রকম রীতি রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। অবাক করার বিষয় হল, বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের বর্ষবরণ উদযাপনের রীতি একদমই ব্যতিক্রম। আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য ব্যতিক্রমী বর্ষবরণ উদযাপনের রীতিনীতি তুলে ধরা হল নিচে- ১. কলম্বিয়ায় খালি স্যুটকেস নিয়ে বেরিয়ে পড়া: দেশটির মানুষ ঘুরতে অনেক ভালোবাসেন। তাদের কাছে ভ্রমণ এতটাই পছন্দ যে, নতুন বছর উদযাপনেও তাদের প্রত্যাশা থাকে ঘুরতে যাওয়া। থার্টি ফাস্ট নাইটে রাত ১২টা বাজলে কলম্বিয়ার মানুষ একটি খালি স্যুটকেস হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। বাড়ির চারপাশে হাঁটাহাঁটি করেন তারা। নতুন বছরের কোনো এক সময় এই খালি স্যুটকেস পূর্ণ হবে- এ আশাতেই পালন করেন এই রীতি। ২. জাপানে প্রাকৃতিক সাজসজ্জা : জাপানে নতুন বর্ষবরণ করাকে বলা হয় ‘ওশোগাতসু’। দেশটিতে এই উৎসবটি পরিবারের সাথে উদযাপন করা হয়। সেখানে পরিবারের সবাই একসাথে ঘরকে পরিষ্কার এবং সজ্জিত করে। এরপর তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য  প্রাকৃতিক সাজসজ্জা যেমন পাইন শাখা, বরই ফুল এবং বাঁশগুলি প্রস্তুত করতে থাকে। ৩. ইকুয়েডরে বিখ্যাতদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো : ইকুয়েডরের মানুষরা বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর রাতে রাস্তায় বের হয়ে ‘কুশপুত্তলিকা’ পুড়িয়ে থাকে। দেশের রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড় এবং অভিনয়শিল্পীসহ বিখ্যাত সকল ব্যক্তিদের কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে উল্লাস করা হয়। আগামী বছর এ উদযাপন ভাগ্য ফেরাবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৪. চীনে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা : দেশটিতে নতুন বছরে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা হয়ে থাকে। দেশটিতে লাল রঙকে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে ধরা হয়। আর এভাবেই দেশটিতে বরণ করা হয় নতুন বছর। ৫. জার্মানিতে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হয় সিসার টুকরায় : জার্মানিতে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য বছরের শেষ মুহূর্তে সবাই ভাগ্য পরীক্ষার খেলায় মেতে উঠেন। ভাগ্য পরীক্ষার এই প্রক্রিয়াটিও ব্যতিক্রম। শুরুতে সিসার টুকরা গরম করে গলিয়ে তাতে পানি ঢেলে ঠাণ্ডা করা হয়। পরে সিসার আকৃতি অনুযায়ী ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে বিশ্বাস জার্মানদের। সিসা হৃদয়ের মত হলে ভালোবাসা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর মুকুটের মত হলে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হবেন- এমনটাই বিশ্বাস করেন তারা। ৬. সুইজারল্যান্ডে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রাখা : দেশটির মানুষজনের নতুন বছর উদযাপন এক অদ্ভুত সাংস্কৃতির। তারা নতুন বছর উপলক্ষে না খেয়ে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রেখে দেয় এবং তাদের বিশ্বাস নতুন বছরে ঐশ্বর্য আসবে। ৭. লাতিন আমেরিকায় অন্তর্বাসের রঙের ওপর ভাগ্য নির্ধারণ : লাতিন আমেরিকার দেশ অর্থাৎ মেক্সিকো, ব্রাজিল, বলিভিয়া ইত্যাদি দেশগুলোয় বছরের শেষ মুহূর্তে নতুন অন্তর্বাস কেনার জন্য সবাই মার্কেটে ভিড় জমায়। তাদের বিশ্বাস, বর্ষ বরণে নতুন অন্তর্বাস পড়নে থাকলে নতুন বছরে ভালো কিছু আসবে। তবে এই অন্তর্বাসের জন্য নির্দিষ্ট দুটি রঙও রয়েছে- লাল ও হলুদ রঙ। লাল পড়লে ভালোবাসা পাবে এবং হলুদ বয়ে আনবে সফলতা। ৮. ফিলিপাইনে অদ্ভুত খাবার খাওয়া : ফিলিপাইনে নতুন বর্ষবরণে সকল বয়সী মানুষ গোলাকার খাবার খায়। এছাড়াও তারা এদিন পকেটে মুদ্রা রাখে এবং প্রচুর পোশাক পড়েন। গোলাকার আকৃতি মূলত নতুন বছরে আর্থিক উৎসাহ বৃদ্ধি করবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৯. ইতালিতে ঘরের আসবাব ছুড়ে ফেলা: ইতালিতে নববর্ষে দেশটির নেপলস শহরবাসীরা উদ্ভটভাবে নতুন বর্ষকে বরণ করেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, তারা বছরের শেষ দিন ঘরের আসবাব, রান্নাঘরের থালা-বাসনসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র বাইরে ছুড়ে ফেলেন। পুরাতন সব কিছু ফেলে দিয়ে নতুন কিছু বরণ করে নেওয়ার প্রতীকী অর্থে এসব করেন ওই শহরের বাসিন্দারা। ১০. স্পেনে আঙুর খেয়ে বর্ষবরণ: স্পেনের নাগরিকদের বর্ষবরণ বলা যেতে পারে অনেক স্বাস্থ্যসম্মত। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ১২টি করে আঙুর খেয়ে থাকেন স্প্যানিশরা। নতুন বছরে উন্নতি হবে এমন আশায় নির্দিষ্ট-সংখ্যক আঙুর খাওয়ার রীতি পালন করে থাকেন তারা। ১৯০৯ সাল থেকে দেশটির আলিকান্তে শহরের ওয়াইন প্রস্তুতকারীরা ব্যতিক্রমী এই রীতি চালু করেন। যা এখনো প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে। এসআর/এমকে
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় রয়েছেন করোনা ভ্যাকসিনের টিকা প্রস্তুতকারী ফার্ম ও বোতলজাত পানি ব্যবসায়ী ঝং শানশান। ই–কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মাকে পেছনে ফেলেছে। ২০২০ সালেই ঝংয়ের সম্পদ বেড়েছে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। ঝং শানশানের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ৭ হাজার ৭৮০ কোটি মার্কিন ডলার। সূত্র বিবিসি ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় ঝং শানশান। যিনি বিশ্বের ১১তম শীর্ষ ধনী। ঝং পরিচিত বেশি লোন উলফ নামে। ঝংয়ের কর্মজীবন বেশ বৈচিত্র্যময়। সাংবাদিকতা, মাশরুমের চাষ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করেছেন তিনি। এপ্রিলে ভ্যাকসিন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনার তিন মাস পর হংকংয়ের শেয়ারবাজারে আনেন তার বোতলজাত পানির প্রতিষ্ঠান নোংফু স্প্রিংকে। ১৯৯৬ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশে এটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বাজারে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে নোংফুর শেয়ার। বেইজিং ওয়ানটাই বায়োলজিক্যালের শেয়ার বেড়েছে দুই হাজার শতাংশের বেশি। করোনার ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো এটি। ৬৬ বছর বয়সী ঝং শানশান সেপ্টেম্বরে জ্যাক মাকে সরিয়ে চীনের শীর্ষ ধনীর অবস্থান নেন। এবার মুকেশ আম্বানিকে সরিয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন। এফএ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
আরও পড়ুন
কে হবেন হাজীগঞ্জ পৌরসভার পরবর্তী মেয়র
জেনারেল সোলাইমানি হত্যায় ব্রিটিশ নিরাপত্তা কোম্পানি জড়িত: ইরান
উপসাগরীয় অঞ্চলে ফের মার্কিন বোমারু বিমান
যুক্তরাষ্ট্র তিন হাজার স্মার্ট বোমা দিচ্ছে সৌদিকে