
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের ঘোষণার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে রুশ সেনারা। চলমান এই যুদ্ধ দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার পরেও রুশ আগ্রাসন কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। যুদ্ধ বন্ধ করতে বিশ্ব নেতাদের ব্যর্থতার পাশাপাশি দু’দেশের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠকেও কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি। তবে কি কারণে যুদ্ধবিরতিতে সায় দিচ্ছে না রাশিয়া? সে কারণ খোদ জানালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।
শুক্রবার (১৮ মার্চ) পুতিনের সঙ্গে জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শুলজের ফোনালাপ হয়। টেলিফোনে রুশ প্রেসিডেন্টকে ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান শুলজ।
জবাবে পুতিন বলেন, ইউক্রেনের কারণেই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, ইউক্রেনের বেসামরিকদের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে রুশ সেনারা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং বেলারুশে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সরকারি প্রতিনিধিরা যে বৈঠক করছেন, তা হয়তো এতদিনে সফলও হতো। কিন্তু বৈঠক যে সফল হচ্ছে না তার জন্য দায়ী ইউক্রেন।
শুলজকে পুতিন আরও বলেন, কিয়েভ বরাবরই সেই আলোচনা ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন অবাস্তব দাবি উত্থাপন করছে। তবুও রাশিয়া চেষ্টা করছে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সংকট সমাধানের জন্য।
উল্লেখ্য, চলমান এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইউক্রেন ছেড়েছেন ৩১ লাখের বেশি মানুষ। যুদ্ধে ইউক্রেনের ১৩শ’ সেনা নিহত এবং রাশিয়ার ১৪ হাজার ২০০ সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। তবে রাশিয়া বলছে, যুদ্ধে তাদের প্রায় ৫০০ সৈন্য নিহত এবং ইউক্রেনের আড়াই হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া জাতিসংঘ জানিয়েছে, রুশ অভিযানে ইউক্রেনে ৭২৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫২ শিশু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইউক্রেনে আনুমানিক ৫ থেকে ৬ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, স্পুটনিক




