
টানা ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের প্রধান এলিয়াস সিথোলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও প্রতিবেশী মোজাম্বিকে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবে বহু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় লিম্পোপো ও ম্পুমালাঙ্গা প্রদেশে এখন পর্যন্ত ৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে মোজাম্বিকে নদীগুলো উপচে পড়ে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, পানিবন্দি অবস্থায় ছাদের ওপর সন্তান প্রসবের ঘটনাও ঘটেছে।
তবে কিছু অঞ্চলে পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক, যা বন্যার কারণে বৃহস্পতিবার বন্ধ করে পর্যটকদের সরিয়ে নিতে হয়েছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকান ন্যাশনাল পার্কস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার থেকে আবার দিনের বেলা পার্কে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে দর্শনার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাপুটোর উত্তরে গাজা প্রদেশের বাসিন্দা চাউনা মাকুয়াকুয়া জানান, তার ভগ্নিপতি পরিবারসহ চার দিন ধরে একটি ছাদে আটকে ছিলেন। ওই অবস্থাতেই শনিবার রাতে তার সন্তান জন্ম হয়। তিনি বলেন, আমরা চার দিন ধরে এখানে আটকে আছি। গত রাত ১১টার দিকে আমার ভাতিজার জন্ম হয়েছে। কিন্তু এখনো মা ও শিশুর জন্য কোনো উদ্ধার বা সহায়তা পৌঁছায়নি।
নাগরিক সংগঠন ‘প্ল্যাটফর্মা ডিসাইড’-এর পরিচালক উইলকার দিয়াস জানান, একাধিক নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। তার আশঙ্কা, আগামী কয়েক ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সূত্র: ফ্রান্স টুয়েন্টি ফোর
আরটিভি/এমএইচজে/এসআর


