
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধংদেহী উত্তেজনার পারদ আরও উসকে দিয়ে ইরানের দিকে দ্বিতীয় একটি সামরিক নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক ভাষণে ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান, সমুদ্রপথে এই বিশাল ও শক্তিশালী রণতরী বহর এখন সরাসরি ইরানের অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রবল সামরিক চাপের মুখে তেহরান শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তে একটি নতুন সমঝোতায় পৌঁছাতে রাজি হবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন মাত্র একদিন আগেই শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও এর সহযোগী যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অবস্থান নিয়েছে। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।
তিনি আরও বলেন, ইরান সরকার ইতিমধ্যে পর্দার অন্তরালে ওয়াশিংটনের সাথে কথা বলার জন্য বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, তারা এখনই একটি চুক্তি করতে চায়। তারা জানে আমরা কী করতে পারি। তবে দ্বিতীয় এই নৌবহরটি ঠিক কত বড় বা এতে কোন কোন রণতরী রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য হোয়াইট হাউস থেকে এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ইরানের দিকে আসার আগে এই মার্কিন নৌবহরটি ভেনেজুয়েলার উপকূলে মোতায়েন ছিল। গত ৩ জানুয়ারি ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’-এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনারা গ্রেপ্তার করার পর ওই অঞ্চল থেকে এই বিশাল সামরিক শক্তি এখন পারস্য উপসাগরের দিকে সরিয়ে আনা হয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সামরিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে আকাশসীমা আংশিক বন্ধ করে ওমান সাগরের কাছে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, দেশটিতে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬ হাজার ১২৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও হাজার হাজার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেননি। ওয়াশিংটন মনে করছে, এই নৌবহর মোতায়েনের মাধ্যমে তেহরানের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে, যা তাদের আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
ইরানের ক্ষমতাধর রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, প্রতিবেশী কোনো দেশের ভূমি বা আকাশসীমা যদি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, তবে তাকে শত্রুতামূলক আচরণ হিসেবে গণ্য করে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে সৌদি আরব সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।
আরটিভি/এআর




