ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানের দিকে যাচ্ছে আরও এক মার্কিন রণতরী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধংদেহী উত্তেজনার পারদ আরও উসকে দিয়ে ইরানের দিকে দ্বিতীয় একটি সামরিক নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক ভাষণে ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান, সমুদ্রপথে এই বিশাল ও শক্তিশালী রণতরী বহর এখন সরাসরি ইরানের অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রবল সামরিক চাপের মুখে তেহরান শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তে একটি নতুন সমঝোতায় পৌঁছাতে রাজি হবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন মাত্র একদিন আগেই শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও এর সহযোগী যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অবস্থান নিয়েছে। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, ইরান সরকার ইতিমধ্যে পর্দার অন্তরালে ওয়াশিংটনের সাথে কথা বলার জন্য বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, তারা এখনই একটি চুক্তি করতে চায়। তারা জানে আমরা কী করতে পারি। তবে দ্বিতীয় এই নৌবহরটি ঠিক কত বড় বা এতে কোন কোন রণতরী রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য হোয়াইট হাউস থেকে এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ইরানের দিকে আসার আগে এই মার্কিন নৌবহরটি ভেনেজুয়েলার উপকূলে মোতায়েন ছিল। গত ৩ জানুয়ারি ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’-এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনারা গ্রেপ্তার করার পর ওই অঞ্চল থেকে এই বিশাল সামরিক শক্তি এখন পারস্য উপসাগরের দিকে সরিয়ে আনা হয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সামরিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে আকাশসীমা আংশিক বন্ধ করে ওমান সাগরের কাছে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, দেশটিতে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬ হাজার ১২৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও হাজার হাজার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেননি। ওয়াশিংটন মনে করছে, এই নৌবহর মোতায়েনের মাধ্যমে তেহরানের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে, যা তাদের আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

ইরানের ক্ষমতাধর রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, প্রতিবেশী কোনো দেশের ভূমি বা আকাশসীমা যদি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, তবে তাকে শত্রুতামূলক আচরণ হিসেবে গণ্য করে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে সৌদি আরব সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ
নিউইয়র্কের কুইন্সের ওজন পার্কে নতুন আল ফুরকান মসজিদ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ
নিউইয়র্ক থেকে ফ্লাইট ধরবেন? জানুন এই পাঁচ নিয়ম, বাঁচবে ৩০০ ডলার!
নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য স্টেটে যাওয়ার টিকিট খুঁজতে শুধু একটি বিমানবন্দর ও নির্দিষ্ট তারিখে আটকে থাকলে কম দামের ফ্লাইট চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
নিউইয়র্ক থেকে ফ্লাইট ধরবেন? জানুন এই পাঁচ নিয়ম, বাঁচবে ৩০০ ডলার!
নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রা, রয়েছে এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে।
নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রা, রয়েছে এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা
নিউইয়র্কে তীব্র গরম মোকাবিলায় রোপণ করা হলো ১৮ হাজার গাছ
নিউইয়র্কে প্রচণ্ড গরম কেবল অস্বস্তির বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও। সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গরমের কারণে বা গরমে বিদ্যমান অসুস্থতা বেড়ে গিয়ে বছরে আনুমানিক ৫০০ নিউইয়র্কবাসীর মৃত্যু হয়।
নিউইয়র্কে তীব্র গরম মোকাবিলায় রোপণ করা হলো ১৮ হাজার গাছ
সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াইয়ে ৪ বছরের শিশু
যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের চার বছর বয়সী শিশু এলেনা। সাধারণ শিশুর মতোই খেলাধুলা আর পরিবারের সঙ্গে পাহাড়ের ট্রেইলে হেঁটে আনন্দময় শৈশব কাটছিল তার। কিন্তু হঠাৎই নিচের মাড়ির বাঁ পাশে দাঁতব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিলে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। মা সারাহ লাপোস্তাতো শুরুতে ভেবেছিলেন হয়তো নতুন দাঁত উঠছে কিংবা খাবারের কণা আটকে সাধারণ সংক্রমণ হয়েছে। তাৎক্ষণিক দন্তচিকিৎসক ও ওরাল সার্জনের শরণাপন্ন হলে এক্স-রে রিপোর্টেও তেমন আশঙ্কাজনক কিছু মেলেনি; মাড়িতে খাবারের টুকরো আটকে থাকা বা সাধারণ সিস্ট ধারণা করে ছয় সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যথা কমার বদলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ফুটবল খেলে বেড়ানো দুরন্ত শিশুটি একপর্যায়ে তীব্র ক্লান্তিতে বিছানা থেকেই উঠতে পারছিল না। এর মধ্যে চোখের চারপাশে অচেনা কালশিটে দাগ দেখা দিলে মা সারাহ দেরি না করে এলেনাকে জরুরি ভিত্তিতে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। রক্ত পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতার লক্ষণ ধরা পড়ার পর দ্রুত পাঠানো হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে নিবিড় পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য স্তব্ধ করে দেয় বাবা-মাকে—এলেনার পেটে সফটবলের সমান আকারের একটি টিউমার ধরা পড়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, সে নিউরোব্লাস্টোমা নামের একটি বিরল ও মারাত্মক ক্যানসারে আক্রান্ত। রোগ শনাক্তের সময় এলেনার শরীরে ক্যানসার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। চিকিৎসা পরিভাষায় যার তীব্রতা মাপার 'কুরি স্কোর' ছিল ৩০-এর মধ্যে ২৫। পরবর্তী এক বছর এই ছোট্ট শিশুর ওপর দিয়ে চলে চিকিৎসার এক কঠিন ঝড়। একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার, পাঁচ দফা কেমোথেরাপি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আওতায় চার দফা ইমিউনোথেরাপি, পেট থেকে টিউমার অপসারণ, দুটি স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট এবং ১২ দিনের রেডিয়েশন থেরাপি সহ্য করতে হয় তাকে। চিকিৎসার চরম সংকটময় সময়ে দুই দফা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) লড়তে হয়েছে তাকে। চিকিৎসার ব্যয়ভার ও স্বাস্থ্যবীমা সচল রাখতে মা-বাবা উভয়েই পুরো সময় চাকরি ধরে রাখেন। হাসপাতালের লম্বা সময় আর ঘরের বড় মেয়ের দেখভালের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে এক নতুন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান তারা। দীর্ঘ ও অবিরাম চিকিৎসার সুফল মিলতে শুরু করেছে এলেনার শরীরে; রেডিয়েশন শেষ হওয়ার পর তার কুরি স্কোর ২৫ থেকে নাটকীয়ভাবে নেমে এসেছে মাত্র ১-এ। বর্তমানে সে চিকিৎসার তৃতীয় ধাপে ইমিউনোথেরাপি নিচ্ছে এবং সামনের এমআইবিজি স্ক্যানে এই স্কোর শূন্যে নেমে আসবে—এমন আশাতেই বুক বাঁধছেন চিকিৎসকরা। আরটিভি/ এসকেডি
সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াইয়ে ৪ বছরের শিশু
আরও পড়ুন
ওমান উপসাগরে উত্তেজনা, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার দাবি ইরানের
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান