ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ইরানের সভ্যতা মুছে ফেলার হুমকি সত্যিই অগ্রহণযোগ্য: পোপ চতুর্দশ লিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে পোপ চতুর্দশ লিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরল সমালোচনা করে বলেছেন, ইরানের পুরো সভ্যতা মুছে ফেলার হুমকি দেওয়াটা সত্যিই অগ্রহণযোগ্য।

তবে পোপ সরাসরি প্রেসিডেন্টের নাম উল্লেখ না করলেও তিনি কাকে ইঙ্গিত করছেন, তা ছিল স্পষ্ট।

আরও পড়ুন

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ইতালিতে সাংবাদিকদের পোপ বলেন, আজ যেমনটি আমরা সবাই জানি, ইরানের পুরো জাতির বিরুদ্ধে একটি হুমকি দেওয়া হয়েছে। আর এটি সত্যিই অগ্রহণযোগ্য।

ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে পোপ এই মন্তব্য করেন। পোপ চতুর্দশ লিও আরও বলেন, এখানে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন রয়েছে। তবে তার চেয়েও বড় বিষয় হলো, এটি একটি নৈতিক প্রশ্ন, যা সামগ্রিকভাবে একটি জাতির মঙ্গলের সঙ্গে জড়িত।

এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে যাতায়াত করতে না দেয়, তবে তিনি ইরানের প্রতিটি সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেবেন। আন্তর্জাতিক আইনে বেসামরিক অবকাঠামো উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধ্বংস করা নিষিদ্ধ। ট্রাম্পের এই হুমকি ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি জাতিসংঘ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়ে।

পোপ হিসেবে তার প্রথম বছরে চতুর্দশ লিও সরাসরি মার্কিন রাজনীতি নিয়ে কথা এড়িয়ে চললেও তিনি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ এবং সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কেউ কেউ এই যুদ্ধকে খ্রিষ্টীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করার যে চেষ্টা চালিয়েছিলেন, পোপ তা-ও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

গত মার্চে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মার্কিনদের প্রতি ‘যিশুখ্রিষ্টের নামে’ যুদ্ধে জয় ও সৈন্যদের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এরপরই পোপ যুদ্ধের জন্য যিশুর নাম ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, যারা যুদ্ধ করে তাদের প্রার্থনা যিশু শোনেন না, বরং তা প্রত্যাখ্যান করেন।

গত সপ্তাহে ইস্টার পূর্ববর্তী এক বিশেষ প্রার্থনায় লিও বলেছিলেন, খ্রিষ্টীয় আদর্শকে আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা দিয়ে বিকৃত করা হয়েছে, যা যিশুখ্রিষ্টের পথের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

এরপর ইস্টারে গত রোববার পোপ আবারও শান্তির আহ্বান জানান। সেন্ট পিটার্স স্কোয়ারে হাজার হাজার ভক্তের সামনে তিনি বলেন, উৎসবের এই দিনে আসুন আমরা সংঘাত, আধিপত্য ও ক্ষমতার সব আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করি এবং যুদ্ধের জর্জরিত এই বিশ্বে শান্তির জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি।

আরও পড়ুন

ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প, অন্যথায় ধ্বংসযজ্ঞের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। কিন্তু পোপ লিও কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, টেবিলে ফিরে আসুন। কথা বলুন। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান খুঁজুন।

এর কয়েক ঘণ্টা পর, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে আছেন। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ছয় মাসের চাকরি, আকাশেই কেটে গেল ৬৩ বছর!
মাত্র ছয় মাসের জন্য বিমানসেবিকার চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন ক্যারল ফেয়ার। পরিকল্পনা ছিল, এরপর বিয়ে করে সংসার শুরু করবেন।
ছয় মাসের চাকরি, আকাশেই কেটে গেল ৬৩ বছর!
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়েছেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিক আবদুল এল-সায়েদ। দেশটির মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই প্রার্থী। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম ব্যক্তি নির্বাচিত সিনেটর হতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন তিনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফল ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পূর্বাভাসে তার বিজয় নিশ্চিত করা হয়। মিশিগানের বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে জয় পেয়েছেন তিনি। মিশরীয় পরিবারে জন্ম, বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে আবদুল এল-সায়েদের পূর্ণ নাম আবদুলরহমান মোহাম্মদ এল-সায়েদ। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসে তার জন্ম। তার বাবা-মা দুজনই মিশরীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসী। তার বাবা মোহাম্মদ এল-সায়েদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায়। উচ্চশিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ডেট্রয়েটের ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করেন। তার মা ফাতেন এল-কোমি পেশায় একজন নার্স প্র্যাকটিশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে কর্মরত। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষে তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে ভর্তি হন। সেখানে জীববিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময় তিনি মর্যাদাপূর্ণ রোডস স্কলারশিপ লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমডি ডিগ্রিও অর্জন করেন। জনস্বাস্থ্য থেকে রাজনীতির মাঠে পেশাগত জীবনে আবদুল এল-সায়েদ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মহামারিবিদ ও প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শহরটির আর্থিক সংকটের পর স্বাস্থ্য বিভাগ পুনর্গঠন এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করে তিনি পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবসেবা ও ভেটেরানস সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সে নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। তবে রাজনীতিতে তার সক্রিয়তা অব্যাহত থাকে। ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন তিনি। এরপর সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটের আসনটি নিজের করে নেন। নীতিগত অবস্থান ও ঐতিহাসিক বিজয় নির্বাচনী প্রচারে আবদুল এল-সায়েদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবাকে সবার জন্য সহজলভ্য করা এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থ ও প্রভাব সীমিত করা। তিনি সবার জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা বা ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে তার বক্তব্য তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলে। তার এই বিজয় শুধু মিশিগানের রাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর মুসলিম ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর মধ্য দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নির্বাচিত প্রতিনিধি যুক্ত হতে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত আবদুল এল-সায়েদের দায়িত্ব গ্রহণের কথা ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সদস্য নির্বাচিত হওয়া আবদুল এল-সায়েদের এই অর্জন অভিবাসী পরিবারগুলোর নতুন প্রজন্মের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আরটিভি/টিআর
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন অ্যামি অ্যাক্টন
ওহাইওর পরবর্তী গভর্নর হওয়ার লড়াইয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. অ্যামি অ্যাক্টন। তিনি বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন অ্যামি অ্যাক্টন
নিউইয়র্কের আইনসভায় নির্বাচিত হলেন প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস।
নিউইয়র্কের আইনসভায় নির্বাচিত হলেন প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর ডেব হাল্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ডেব হাল্যান্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর ডেব হাল্যান্ড
আরও পড়ুন
‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’, তেহরানে বিশাল বিলবোর্ডে ইরানের হুমকি
নির্বাচনে ভরাডুবির পেছনে ইরান যুদ্ধকে দায়ী করলেন ট্রাম্প
হঠাৎ ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছে পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচার উপায়
নতুন করে হামলার পরও ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় আশাবাদী ভ্যান্স