ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

মুক্তিযুদ্ধের চিত্র ধারণ করা ভারতীয় আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
ভারতের অন্যতম খ্যাতিমান আলোকচিত্রী রঘু রাই। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের অন্যতম খ্যাতিমান আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই। রোববার (২৬ এপ্রিল) নয়াদিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

গত দুই বছর ধরে প্রোস্টেট ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন বলে জানান তার ছেলে আলোকচিত্রী নীতিন রাই। তিনি বলেন, বাবার প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়ে দুই বছর আগে। তবে তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। এরপর তা পাকস্থলিতে ছড়িয়ে পড়ে, সেটিও নিরাময় করা হয়। সম্প্রতি ক্যানসার তাঁর মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বয়সজনিত কিছু সমস্যাও দেখা দেয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতীয় সময় আজ বিকেল চারটায় নয়াদিল্লিতে রঘু রাইয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি আলোকচিত্রীদের মধ্যে প্রথম সারিতে ছিলেন রঘু রাই। ভারতের দ্য স্টেটমেন্ট পত্রিকার প্রধান আলোকচিত্র সাংবাদিক হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের আশ্রয়শিবির ঘুরে ঘুরে উদ্বাস্তু বাংলাদেশিদের অবর্ণনীয় কষ্টের জীবনযাত্রা তুলে ধরেন তার ক্যামেরায়।

পাশাপাশি রঘু রাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ যুদ্ধের দৃশ্য, চূড়ান্ত বিজয়ের পর বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধাদের দেশে ফেরা ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দৃশ্য তার ক্যামেরায় ধারণ করেছিলেন। রঘু রাইয়ের তোলা ছবিগুলো একদিকে যেমন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল হয়ে আছে, তেমনি সেগুলো ব্যক্তিগতভাবে তাকেও আলোকচিত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছে।

1e3b181b3768a17745a0dc0a786e7d1a-69ed94448c66f
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে শরণার্থী দুর্দশা। ছবি: রঘু রাই

রঘু রাইয়ের জন্ম ১৯৪২ সালে, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের ঝাংয়ে (বর্তমানে পাকিস্তানে)। তিনি ১৯৬২ সালে তাঁর বড় ভাই আলোকচিত্রী এস পলের কাছে আলোকচিত্রের শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন।

১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে রঘু রাই তার পেশাদার জীবন শুরু করেন। তিনি ১৯৬৫ সালে নয়াদিল্লিতে দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকায় আলোকচিত্রী হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তী সময় তিনি ইন্ডিয়া টুডেসহ অন্য পত্রিকায়ও কাজ করেন।

460ed6ccfde2ad61bfb985825346f695-69ed9447c11f9
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে শরণার্থী দুর্দশা। ছবি: রঘু রাই

রঘু রাই পেশাগত জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ছবি তোলেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র অন্যতম। তা ছাড়া তিনি ইন্দিরা গান্ধী, মাদার তেরেসা, দালাই লামা, সত্যজিৎ রায়সহ অনেক আলোচিত–খ্যাতিমান ব্যক্তির আলোকচিত্র তুলেছেন।

১৯৭২ সালে ভারত সরকার রঘু রাইকে দেশটির চতুর্থ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ দেয়। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ, বাংলাদেশি শরণার্থীদের দুর্দশা, পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ নিয়ে অনবদ্য কাজের জন্য তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়।

রঘু রাই দীর্ঘ কর্মজীবনে ১৮টির বেশি বই প্রকাশ করেন। তার কাজ টাইম, লাইফ, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, নিউজউইক, দ্য নিউ ইয়র্কার-এর মতো শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ
নিউইয়র্কের কুইন্সের ওজন পার্কে নতুন আল ফুরকান মসজিদ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ
নিউইয়র্ক থেকে ফ্লাইট ধরবেন? জানুন এই পাঁচ নিয়ম, বাঁচবে ৩০০ ডলার!
নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য স্টেটে যাওয়ার টিকিট খুঁজতে শুধু একটি বিমানবন্দর ও নির্দিষ্ট তারিখে আটকে থাকলে কম দামের ফ্লাইট চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
নিউইয়র্ক থেকে ফ্লাইট ধরবেন? জানুন এই পাঁচ নিয়ম, বাঁচবে ৩০০ ডলার!
নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রা, রয়েছে এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে।
নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রা, রয়েছে এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা
নিউইয়র্কে তীব্র গরম মোকাবিলায় রোপণ করা হলো ১৮ হাজার গাছ
নিউইয়র্কে প্রচণ্ড গরম কেবল অস্বস্তির বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও। সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গরমের কারণে বা গরমে বিদ্যমান অসুস্থতা বেড়ে গিয়ে বছরে আনুমানিক ৫০০ নিউইয়র্কবাসীর মৃত্যু হয়।
নিউইয়র্কে তীব্র গরম মোকাবিলায় রোপণ করা হলো ১৮ হাজার গাছ
সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াইয়ে ৪ বছরের শিশু
যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের চার বছর বয়সী শিশু এলেনা। সাধারণ শিশুর মতোই খেলাধুলা আর পরিবারের সঙ্গে পাহাড়ের ট্রেইলে হেঁটে আনন্দময় শৈশব কাটছিল তার। কিন্তু হঠাৎই নিচের মাড়ির বাঁ পাশে দাঁতব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিলে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। মা সারাহ লাপোস্তাতো শুরুতে ভেবেছিলেন হয়তো নতুন দাঁত উঠছে কিংবা খাবারের কণা আটকে সাধারণ সংক্রমণ হয়েছে। তাৎক্ষণিক দন্তচিকিৎসক ও ওরাল সার্জনের শরণাপন্ন হলে এক্স-রে রিপোর্টেও তেমন আশঙ্কাজনক কিছু মেলেনি; মাড়িতে খাবারের টুকরো আটকে থাকা বা সাধারণ সিস্ট ধারণা করে ছয় সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যথা কমার বদলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ফুটবল খেলে বেড়ানো দুরন্ত শিশুটি একপর্যায়ে তীব্র ক্লান্তিতে বিছানা থেকেই উঠতে পারছিল না। এর মধ্যে চোখের চারপাশে অচেনা কালশিটে দাগ দেখা দিলে মা সারাহ দেরি না করে এলেনাকে জরুরি ভিত্তিতে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। রক্ত পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতার লক্ষণ ধরা পড়ার পর দ্রুত পাঠানো হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে নিবিড় পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য স্তব্ধ করে দেয় বাবা-মাকে—এলেনার পেটে সফটবলের সমান আকারের একটি টিউমার ধরা পড়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, সে নিউরোব্লাস্টোমা নামের একটি বিরল ও মারাত্মক ক্যানসারে আক্রান্ত। রোগ শনাক্তের সময় এলেনার শরীরে ক্যানসার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। চিকিৎসা পরিভাষায় যার তীব্রতা মাপার 'কুরি স্কোর' ছিল ৩০-এর মধ্যে ২৫। পরবর্তী এক বছর এই ছোট্ট শিশুর ওপর দিয়ে চলে চিকিৎসার এক কঠিন ঝড়। একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার, পাঁচ দফা কেমোথেরাপি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আওতায় চার দফা ইমিউনোথেরাপি, পেট থেকে টিউমার অপসারণ, দুটি স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট এবং ১২ দিনের রেডিয়েশন থেরাপি সহ্য করতে হয় তাকে। চিকিৎসার চরম সংকটময় সময়ে দুই দফা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) লড়তে হয়েছে তাকে। চিকিৎসার ব্যয়ভার ও স্বাস্থ্যবীমা সচল রাখতে মা-বাবা উভয়েই পুরো সময় চাকরি ধরে রাখেন। হাসপাতালের লম্বা সময় আর ঘরের বড় মেয়ের দেখভালের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে এক নতুন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান তারা। দীর্ঘ ও অবিরাম চিকিৎসার সুফল মিলতে শুরু করেছে এলেনার শরীরে; রেডিয়েশন শেষ হওয়ার পর তার কুরি স্কোর ২৫ থেকে নাটকীয়ভাবে নেমে এসেছে মাত্র ১-এ। বর্তমানে সে চিকিৎসার তৃতীয় ধাপে ইমিউনোথেরাপি নিচ্ছে এবং সামনের এমআইবিজি স্ক্যানে এই স্কোর শূন্যে নেমে আসবে—এমন আশাতেই বুক বাঁধছেন চিকিৎসকরা। আরটিভি/ এসকেডি
সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াইয়ে ৪ বছরের শিশু
আরও পড়ুন
পাকিস্তান ছেড়ে ভারতের নাগরিকত্ব নেওয়ার কারণ জানালেন আদনান সামি 
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে যা বললেন ভারতীয় হাইকমিশনার
রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের টিম ব্লুপ্রিন্টের ব্রোঞ্জ জয়
ভারতে একের পর এক ঐতিহাসিক মসজিদ ভাঙার হিড়িক