ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতের বিমান সংস্থাগুলোর জন্য দুঃসংবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে ভারতের বিমান খাতে। জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির শীর্ষ এয়ারলাইন্সগুলো।

প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ভারতের বিমান খাতের ৯৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী তিনটি এয়ারলাইন্স এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো ও স্পাইসজেট জানিয়েছে, ভারতের বিমানশিল্প বন্ধ করে দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

এ ছাড়া ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স (এফআইএ) ভারত সরকারকে অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (এটিএফ) মূল্য পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

তাদের মতে, একটি এয়ারলাইন্সের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়। ফলে দাম বাড়লে পুরো খাতই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এ ছাড়া দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে আকাশসীমার বিধিনিষেধের কারণে বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেছে।

সোমবার ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য আলাদা করে এবং অযৌক্তিকভাবে অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের দাম বাড়ানো এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য অসহনীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে বিমান গ্রাউন্ডিং ও ফ্লাইট বাতিলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বর্তমান সংকট মোকাবিলা করে কার্যক্রম চালু রাখার জন্য এফআইএ চিঠি দিয়ে দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও নীতিগত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনটি জানায়, দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা ‘ক্র্যাক ব্যান্ড’ নামে পরিচিত আগের একটি জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি পুনর্বহালের প্রস্তাব দিয়েছে, যা অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত এটিএফের দামের মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান কমিয়ে রাখে।

বর্তমানে সরকার দেশীয় ফ্লাইটের জন্য এটিএফের দাম প্রতি লিটারে ১৫ রুপি পর্যন্ত বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ রাখলেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে তা ৭৩ রুপি পর্যন্ত বেড়েছে, যা বৈষম্য তৈরি করছে বলে অভিযোগ এয়ারলাইন্সগুলোর।

এছাড়া এটিএফের ওপর আরোপিত ১১ শতাংশ আবগারি শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিতের দাবিও জানিয়েছে তারা। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি রুপির অবমূল্যায়নের কারণে এই শুল্কের চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে, যা এয়ারলাইন্সগুলোর ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ রুটে যেকোনো বিঘ্ন সরাসরি জ্বালানি বাজার এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্প, বিশেষ করে বিমান খাতে গুরুতর প্রভাব ফেলছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে থাকা পাকিস্তান ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) ২০২৬’-এ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর রেকর্ড করেছে।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) ‘নো সিকিউরিটি উইদাউট ফুড সিকিউরিটি’ (খাদ্য নিরাপত্তা ছাড়া নিরাপত্তা নেই) শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে ক্ষুধা সূচকের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।  এটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে ‘ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফ’, রুহর ইউনিভার্সিটি বোখুমের ‘ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ল অব পিস অ্যান্ড আর্মড কনফ্লিক্ট’ এবং সুইজারল্যান্ডের সংস্থা ‘হেলভেটাস’। খবর দ্য ডনের। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা পরিস্থিতির অগ্রগতি ব্যাপকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের পর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তানে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং খাদ্যপণ্যের তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং খাদ্যের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। দেশটিতে অপুষ্টির হার ২০১৮ সালের ‘নিম্ন’ স্তর থেকে বেড়ে ‘মাঝারি’ স্তরে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার উচ্চ পর্যায়ের দিকে এগিয়েছে। পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই খাদ্য সংকট এখনও গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে, যার আঞ্চলিক স্কোর ২৩ দশমিক ৫। যদিও ২০০০ সালের অতি আশঙ্কাজনক ৩৭ দশমিক ৫ স্কোর থেকে পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হয়েছিল, তবে তার অধিকাংশ অগ্রগতিই ঘটেছে ২০১৮ সালের আগে।  ২০০০ সালের পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অতি আশঙ্কাজনক স্তর থেকে নেমে কিছুটা উন্নতি দেখালেও এসব দেশে শিশুদের খর্বকায়তা এখনো অনেক বেশি। পাকিস্তানে শিশুদের খর্বকায়তার হার ধীরে ধীরে কমলেও ২০১৮ সালের পর থেকে আফগানিস্তানে এটি কিছুটা বেড়েছে। তবে দুটি দেশেই ২০০০ সালের অতি উচ্চ শিশু মৃত্যুর হার বর্তমানে মাঝারি স্তরে নেমে এসেছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় চরম খাদ্য নিরাপত্তার উচ্চ ঝুঁকি বজায় থাকবে। ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কিছু কিছু জায়গায় স্থানীয়ভাবে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে গড় বৃষ্টির চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং বাড়তি তাপমাত্রার কারণে আফগানিস্তানের ২০২৬ সালের শস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইরানসহ দক্ষিণ এশিয়ার ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপুষ্টির শিকার হয়েছেন, যা বৈশ্বিক মোট সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, প্রায় দুই দশকের অগ্রগতির পর আবারও বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১, যা ২০১৮ সালের ১৭ দশমিক ৬ স্কোরের চেয়ে খারাপ। ২০১৮ সালের পর থেকে বিশ্বের ৩২টি দেশে ক্ষুধা বেড়েছে এবং ৫৭টি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুদ্রতম স্তরের ক্ষুধা কমানোর লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করতে পারবে না। সূচকের চারটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটি- অপুষ্টি, শিশুদের খর্বাকৃতি ও শিশুদের তীব্র অপুষ্টির অবনতি ঘটেছে। কেবল শিশু মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংঘাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো এবং ঘন ঘন চরম আবহাওয়া সম্পর্কিত ঘটনা বৈশ্বিক এই অবনতির মূল কারণ। ইরানের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদাব প্রণালিতে নৌ-পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার কারণে জ্বালানি, পরিবহণ এবং সারের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ছে। পাশাপাশি ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে রফতানি বিধিনিষেধের কারণে গমের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের দরিদ্র মানুষের কাছে মৌলিক খাদ্যপণ্যকে নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট আরও ঘনীভূত করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার অভাব। খাদ্য নিরাপত্তায় বৈশ্বিক ব্যয় ২০১৬-২০১৭ সালের স্তরে নেমে এসেছে, যার ফলে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি ও জরুরি ত্রাণ বরাদ্দে কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা।  ভবিষ্যতেও বিশ্বজুড়ে এই ধরনের চরম সংকট প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা এবং উপাত্ত সংগ্রহের বাজেটে দেওয়া কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রতিবেদনটি। আরটিভি/এসআর
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করার পরপরই দুই শহরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স।
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
বড় অঙ্কের অর্থ জমা বা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের বিনিময়ে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নতুন কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু, নিহতদের বেশির ভাগই শিশু
পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের ছাদ ধসে অন্তত ২৭ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। 
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু, নিহতদের বেশির ভাগই শিশু
আরও পড়ুন
‘যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে মেরেছে, জামা টেনে খুলে দিয়েছে’, দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ
বয়ফ্রেন্ডকে খুনের অভিযোগ অস্বীকার, পলাতক ইনফ্লুয়েন্সারের ভিডিও বার্তা
রোগীর মাকে দিয়ে হাসপাতালের মেঝে পরিষ্কার, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে সমালোচনা
‘শাশুড়ি চায় বেতন, শ্বশুর ফ্ল্যাট’, ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিলেন নারী প্রযুক্তিবিদ